সংবাদ

পলাশে নামেই বাসস্ট্যান্ড, দুই যুগ ধরে চলে না বাস


প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)
প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

পলাশে নামেই বাসস্ট্যান্ড, দুই যুগ ধরে চলে না বাস
ছবি : সংবাদ

নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশাল দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা ও প্রাণ-আরএফএল-এর মতো বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদে রাজধানী ঢাকা কিংবা জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি কোনো বাস সার্ভিস নেই। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষকে।

বর্তমানে পলাশ ও ঘোড়াশালে নামে মাত্র দুটি বাসস্ট্যান্ড থাকলেও সেখানে কোনো বাসের দেখা মেলে না। যাত্রীদের একমাত্র ভরসা এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রিকশা। অভিযোগ রয়েছে, বাস সার্ভিস না থাকায় সিএনজিচালকদের কাছে একরকম জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলে বা ঈদের সময় গুণতে হয় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪-২৫ বছর আগে এই পথে ঢাকার সরাসরি বাস যোগাযোগ ছিল। এখন জেলা শহর নরসিংদীতে যেতে হলে সিএনজিতে চড়তে হয়। আর ঢাকা যেতে হলে যাত্রীদের দুই থেকে তিনবার যানবাহন বদল করতে হয়। প্রথমে সিএনজিতে করে ঘোড়াশাল, ভেলাননগর বা পাঁচদোনা গিয়ে তারপর ঢাকার বাসে উঠতে হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রী এ এম খোরশেদ আলম বলেন, ‘পলাশের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এছাড়া চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এখানে সিএনজি ছাড়া উপায় নেই। জেলখানার মোড় বা পাঁচদোনা থেকে পলাশ আসার সিএনজি ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এত অল্প দূরত্বে দেশের কোথাও এত ভাড়া নেই।’

ভাড়ার এই নৈরাজ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এত টাকা ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিএনজিচালকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ–সবকিছুর দাম বেড়েছে। এছাড়া অটোরিকশার মালিককে প্রতিদিন যে টাকা জমা দিতে হয়, তার পরিমাণও বেড়েছে। বাধ্য হয়েই তাদের বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

পলাশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় বাস সার্ভিস না থাকা জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যাতায়াত সহজ করতে এবং ভাড়ার নৈরাজ্য কমাতে দ্রুত আবারও বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


পলাশে নামেই বাসস্ট্যান্ড, দুই যুগ ধরে চলে না বাস

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর পলাশ ও ঘোড়াশাল দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা ও প্রাণ-আরএফএল-এর মতো বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদে রাজধানী ঢাকা কিংবা জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি কোনো বাস সার্ভিস নেই। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক লাখ মানুষকে।

বর্তমানে পলাশ ও ঘোড়াশালে নামে মাত্র দুটি বাসস্ট্যান্ড থাকলেও সেখানে কোনো বাসের দেখা মেলে না। যাত্রীদের একমাত্র ভরসা এখন সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা রিকশা। অভিযোগ রয়েছে, বাস সার্ভিস না থাকায় সিএনজিচালকদের কাছে একরকম জিম্মি হয়ে পড়েছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলে বা ঈদের সময় গুণতে হয় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৪-২৫ বছর আগে এই পথে ঢাকার সরাসরি বাস যোগাযোগ ছিল। এখন জেলা শহর নরসিংদীতে যেতে হলে সিএনজিতে চড়তে হয়। আর ঢাকা যেতে হলে যাত্রীদের দুই থেকে তিনবার যানবাহন বদল করতে হয়। প্রথমে সিএনজিতে করে ঘোড়াশাল, ভেলাননগর বা পাঁচদোনা গিয়ে তারপর ঢাকার বাসে উঠতে হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রী এ এম খোরশেদ আলম বলেন, ‘পলাশের শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এছাড়া চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু এখানে সিএনজি ছাড়া উপায় নেই। জেলখানার মোড় বা পাঁচদোনা থেকে পলাশ আসার সিএনজি ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এত অল্প দূরত্বে দেশের কোথাও এত ভাড়া নেই।’

ভাড়ার এই নৈরাজ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এত টাকা ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সিএনজিচালকদের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে যন্ত্রাংশ–সবকিছুর দাম বেড়েছে। এছাড়া অটোরিকশার মালিককে প্রতিদিন যে টাকা জমা দিতে হয়, তার পরিমাণও বেড়েছে। বাধ্য হয়েই তাদের বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।

পলাশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকায় বাস সার্ভিস না থাকা জীবনযাত্রার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। যাতায়াত সহজ করতে এবং ভাড়ার নৈরাজ্য কমাতে দ্রুত আবারও বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত