সংবাদ

এডিস মশা শনাক্তে আসছে এআই চালিত স্মার্ট ফাঁদ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

এডিস মশা শনাক্তে আসছে এআই চালিত স্মার্ট ফাঁদ
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাবি গবেষকদের নতুন উদ্ভাবন

​মারণঘাতী ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার প্রজনন ও উপস্থিতি আগেভাগে চিহ্নিত করতে এক অভিনব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তির সমন্বয়ে উদ্ভাবিত 'MAST-CloudNet' নামের একটি স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট ফাঁদের মাধ্যমে এখন থেকে দূর থেকেই জানা যাবে কোন এলাকায় এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈজ্ঞানিক সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ন্যানোইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জিনোম গাইডেড ভেক্টর কন্ট্রোল অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব যৌথভাবে এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলের অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্ভাবনটির বিবরণ আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রযুক্তি সাময়িকী 'আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট'-এ প্রকাশিত হয়েছে।

যন্ত্রটি মূলত স্ত্রী এডিস মশার ডানার শব্দের মতো বিশেষ কম্পাঙ্কের আওয়াজ সৃষ্টি করে পুরুষ মশাগুলোকে আকৃষ্ট করে হলুদ আঠালো কাগজে আটকে ফেলে। পরবর্তীতে ফাঁদের অভ্যন্তরে থাকা ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মশার প্রজাতি চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে ফলাফল ওয়েব ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শন করে।

​ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত প্রাকৃতিক প্রতিকূল আবহাওয়া; উভয় অবস্থাতেই পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা ফাঁদটির উচ্চ কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন।

তাদের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরুষ এডিস মশা মানুষকে না কামড়ালেও এরা স্ত্রী মশার আগে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং প্রজননস্থলের আশপাশেই অবস্থান করে। ফলে পুরুষ মশার আধিক্য নতুন মশার বংশবৃদ্ধির স্পষ্ট বার্তা দেয়, যা ডেঙ্গু ঝুঁকির আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দারুণ কার্যকর। প্রচলিত অন্যান্য বিদেশি মশা জরিপ যন্ত্রের তুলনায় এই স্মার্ট ফাঁদটি তৈরি ও পরিচালন খরচ প্রায় অর্ধেকেরও কম এবং বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যাটারির সহায়তায় টানা সাড়ে চার ঘণ্টা সচল থাকতে সক্ষম।

​এই সাফল্যের তাৎপর্য তুলে ধরে ঢাবি গবেষকরা জানান, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আশানুরূপ ফল পাওয়ার পর এখন এর ব্যবহারিক প্রসার ঘটানোই মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুন-জুলাই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি ফাঁদ বসিয়ে এডিস মশার বিস্তারের আগাম মানচিত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৌরশক্তি এবং ওয়াই-ফাই ছাড়া দীর্ঘ দূরত্বের রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি যুক্ত করে যন্ত্রটিকে পুরোপুরি রোদ-বৃষ্টি সহনশীল রূপ দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্ভাবনের জন্য গবেষণাকাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "কোন কোন এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা বাড়ছে, সেটি জানা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়। এডিস মশা শনাক্তকরণ যন্ত্রটি এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।"

একই সঙ্গে যন্ত্রটির কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "জীবন ঘনিষ্ঠ গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য আমি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


এডিস মশা শনাক্তে আসছে এআই চালিত স্মার্ট ফাঁদ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাবি গবেষকদের নতুন উদ্ভাবন

​মারণঘাতী ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার প্রজনন ও উপস্থিতি আগেভাগে চিহ্নিত করতে এক অভিনব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক ইন্টারনেট প্রযুক্তির সমন্বয়ে উদ্ভাবিত 'MAST-CloudNet' নামের একটি স্বয়ংক্রিয় স্মার্ট ফাঁদের মাধ্যমে এখন থেকে দূর থেকেই জানা যাবে কোন এলাকায় এডিস মশার উপদ্রব বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈজ্ঞানিক সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ন্যানোইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের জিনোম গাইডেড ভেক্টর কন্ট্রোল অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব যৌথভাবে এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলের অর্থায়নে পরিচালিত এ উদ্ভাবনটির বিবরণ আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রযুক্তি সাময়িকী 'আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট'-এ প্রকাশিত হয়েছে।

যন্ত্রটি মূলত স্ত্রী এডিস মশার ডানার শব্দের মতো বিশেষ কম্পাঙ্কের আওয়াজ সৃষ্টি করে পুরুষ মশাগুলোকে আকৃষ্ট করে হলুদ আঠালো কাগজে আটকে ফেলে। পরবর্তীতে ফাঁদের অভ্যন্তরে থাকা ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মশার প্রজাতি চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে ফলাফল ওয়েব ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শন করে।

​ল্যাবরেটরির নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত প্রাকৃতিক প্রতিকূল আবহাওয়া; উভয় অবস্থাতেই পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা ফাঁদটির উচ্চ কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন।

তাদের গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরুষ এডিস মশা মানুষকে না কামড়ালেও এরা স্ত্রী মশার আগে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং প্রজননস্থলের আশপাশেই অবস্থান করে। ফলে পুরুষ মশার আধিক্য নতুন মশার বংশবৃদ্ধির স্পষ্ট বার্তা দেয়, যা ডেঙ্গু ঝুঁকির আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দারুণ কার্যকর। প্রচলিত অন্যান্য বিদেশি মশা জরিপ যন্ত্রের তুলনায় এই স্মার্ট ফাঁদটি তৈরি ও পরিচালন খরচ প্রায় অর্ধেকেরও কম এবং বিদ্যুৎ না থাকলেও ব্যাটারির সহায়তায় টানা সাড়ে চার ঘণ্টা সচল থাকতে সক্ষম।

​এই সাফল্যের তাৎপর্য তুলে ধরে ঢাবি গবেষকরা জানান, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আশানুরূপ ফল পাওয়ার পর এখন এর ব্যবহারিক প্রসার ঘটানোই মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুন-জুলাই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি ফাঁদ বসিয়ে এডিস মশার বিস্তারের আগাম মানচিত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৌরশক্তি এবং ওয়াই-ফাই ছাড়া দীর্ঘ দূরত্বের রেডিও তরঙ্গ প্রযুক্তি যুক্ত করে যন্ত্রটিকে পুরোপুরি রোদ-বৃষ্টি সহনশীল রূপ দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য উদ্ভাবনের জন্য গবেষণাকাজে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

তিনি বলেন, "কোন কোন এলাকায় ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা বাড়ছে, সেটি জানা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হয়। এডিস মশা শনাক্তকরণ যন্ত্রটি এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।"

একই সঙ্গে যন্ত্রটির কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "জীবন ঘনিষ্ঠ গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য আমি গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত