হাইকোর্টের নির্দেশনা ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমতিপত্র থাকার পরও কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন জোয়ারদার। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বিদ্যালয়ে যোগ দিতে গেলে অন্য শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে তাকে বাধা প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরাও বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে একদল প্রভাবশালী শিক্ষকের বাধার মুখে পড়েন। পরে প্রধান ফটকের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যান ওই প্রধান শিক্ষক।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে কিছু কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তৎকালীন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ দিলারা ইয়াসমিন জোয়ারদারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। তবে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির কোনো সত্যতা মেলেনি। এরপর তিনি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করলে আদালত তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশ পাওয়ার পর বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান সভাপতি ও মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু দিলারাকে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি ইস্যু করেন।
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক দিলারা ইয়াসমিন বলেন, ‘আদালত ও প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কতিপয় শিক্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেননি। তারা গেটে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে আমি তাকে যোগদানের চিঠি দিয়েছি। কিন্তু শিক্ষকরা তাকে ঢুকতে বাধা দিয়েছেন। আমি সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’
দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষককে কাজে ফিরতে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন