দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশে কোনো রকমের বিদ্বেষ যেন অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মের ‘অবতার’ শ্রীকৃষ্ণের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় যখন নিষ্ঠুর ও স্বৈরাচারী শাসক কংসের রাজত্ব ছিল, তখন শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল দুষ্টের দমনে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের পালা।’
দেশে বর্তমানে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ বিতর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু। বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই হোক আমাদের বড় পরিচয়।’
সরকারপ্রধান আরও যোগ করেন, স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখার মূল ভিত্তি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ও বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমরা আরও বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারও সবার।’ প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সে লক্ষ্যে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নয়জন পুরোহিতের হাতে সম্মানীর চেক তুলে দেন। একই সঙ্গে সারা দেশের পুরোহিত ও সেবাইতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (এফটিএ) মাধ্যমে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আগাম শুভেচ্ছা জানান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করা হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র নানাভাবে গুজব রটাচ্ছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। দেশে কোনো রকমের বিদ্বেষ যেন অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মের ‘অবতার’ শ্রীকৃষ্ণের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় যখন নিষ্ঠুর ও স্বৈরাচারী শাসক কংসের রাজত্ব ছিল, তখন শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল দুষ্টের দমনে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে কংসের মতো এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের পালা।’
দেশে বর্তমানে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ বিতর্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইউরোপ-আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত সংখ্যালঘু। বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজে এই পরিচয় কোনো মুখ্য বিষয় নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশি—এটাই হোক আমাদের বড় পরিচয়।’
সরকারপ্রধান আরও যোগ করেন, স্বাধীনতার ঘোষকের রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখার মূল ভিত্তি।
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ও বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে—ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। আমরা আরও বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারও সবার।’ প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি। সে লক্ষ্যে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নয়জন পুরোহিতের হাতে সম্মানীর চেক তুলে দেন। একই সঙ্গে সারা দেশের পুরোহিত ও সেবাইতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (এফটিএ) মাধ্যমে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আগাম শুভেচ্ছা জানান।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা পাঠ করা হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন