আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পতনের ধাক্কা সামলে মূল্যবান এই ধাতুটির বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বজুড়ে সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নানা প্রত্যাশার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ।
ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির রেশ ধরে দেশের বাজারেও টানা তিন দফা কমানোর পর আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত আগস্টে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় দশ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম চার হাজার সাতশো ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার স্পট সোনার দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার চারশ চৌত্রিশ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
এর আগে বুধবার সোনার দাম প্রায় এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড কেনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাজারের চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের চড়া সুদ কমিয়ে আনা। বন্ড কেনার সরকারি এই ঘোষণার পর সুদের হার কিছুটা কমে যায় এবং একই সঙ্গে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর ফলে সোনার মতো সীমিত সরবরাহের সম্পদের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা একে ডিবেসমেন্ট ট্রেড হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। অর্থাৎ সরকারি ঋণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে মুদ্রার মান কমে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে বিনিয়োগকারীরা সোনা ও বিটকয়েনের মতো বিকল্প সম্পদে ঝুঁকছেন।
সোনার দামের এই ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভ্যানএক-এর স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুবিষয়ক পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক ইমারু কাসানোভা মনে করেন, ট্রেজারির বন্ড কেনার পরিকল্পনা বর্তমানে সোনার দামের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই ঘোষণা আসার পরই মার্কিন ডলার সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পায় এবং অন্যদিকে সোনার দাম পাঁচ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
তবে এর বিপরীতে ফেডের কঠোর অবস্থান বা হকিশ নীতি সোনার বাজারের জন্য নতুন করে উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে। জ্যাকসন হোল অর্থনৈতিক সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তার সেই বক্তব্যকে বাজার তুলনামূলক কঠোর হিসেবে গ্রহণ করায় ডলার ও প্রকৃত সুদের হার বৃদ্ধি পায়, যা সাময়িকভাবে সোনার দামে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরাই নন, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের রিজার্ভ বাড়াতে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনা অব্যাহত রেখেছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট দুইশ উনআশি টন সোনা কিনেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় বাষ্পান্ন শতাংশ বেশি। এর মধ্যে চীন ও পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল।
মর্নিংস্টারের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গোল্ড ইটিএফেও বড় অঙ্কের নিট বিনিয়োগ ফিরে এসেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মার্ক হেফেল পূর্বাভাস দিয়েছেন যে আগামী বারো মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার চারশ ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
সরকারগুলোর ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং তা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই মূল্যবান ধাতুর বাজারকে দীর্ঘ সময় ধরে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববাজারের এমন বহুমুখী পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের স্থানীয় সোনার বাজারেও। টানা তিন দফা দাম কমানোর পর দেশের বাজারে এবার সোনার গহনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি বৈঠকের পর এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৯, ৩১ আগস্ট এবং ২ সেপ্টেম্বর তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম প্রায় পনেরো হাজার আটশ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে বিশ্ববাজারের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন তা আবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম পাঁচ হাজার চারশ বিরাশি টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার তিনশ বাষ্পান্ন টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম পাঁচ হাজার দুইশ উনপঞ্চাশ টাকা বাড়িয়ে দুই লাখ ছাব্বিশ হাজার ছয়শ নব্বই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম চার হাজার চারশ একান্ন টাকা বাড়িয়ে এক লাখ চুরানব্বই হাজার ছয়শ চৌদ্দ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম তিন হাজার ছয়শ চুয়াত্তর টাকা বাড়িয়ে এক লাখ আটান্ন হাজার নয়শ আশি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম একশ ষোলো টাকা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার একশ বত্রিশ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে বড় পতনের ধাক্কা সামলে মূল্যবান এই ধাতুটির বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বজুড়ে সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নানা প্রত্যাশার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ।
ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতির রেশ ধরে দেশের বাজারেও টানা তিন দফা কমানোর পর আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস), যা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সারা দেশে কার্যকর হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গত আগস্টে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় দশ শতাংশের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম চার হাজার সাতশো ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার স্পট সোনার দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার চারশ চৌত্রিশ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
এর আগে বুধবার সোনার দাম প্রায় এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছিল। তবে মার্কিন ট্রেজারি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড কেনার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বাজারের চিত্র দ্রুত বদলাতে শুরু করে। এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের চড়া সুদ কমিয়ে আনা। বন্ড কেনার সরকারি এই ঘোষণার পর সুদের হার কিছুটা কমে যায় এবং একই সঙ্গে মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে।
এর ফলে সোনার মতো সীমিত সরবরাহের সম্পদের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা একে ডিবেসমেন্ট ট্রেড হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। অর্থাৎ সরকারি ঋণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে মুদ্রার মান কমে যাওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে বিনিয়োগকারীরা সোনা ও বিটকয়েনের মতো বিকল্প সম্পদে ঝুঁকছেন।
সোনার দামের এই ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এবং ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতির মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভ্যানএক-এর স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুবিষয়ক পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপক ইমারু কাসানোভা মনে করেন, ট্রেজারির বন্ড কেনার পরিকল্পনা বর্তমানে সোনার দামের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এই ঘোষণা আসার পরই মার্কিন ডলার সূচক উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পায় এবং অন্যদিকে সোনার দাম পাঁচ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।
তবে এর বিপরীতে ফেডের কঠোর অবস্থান বা হকিশ নীতি সোনার বাজারের জন্য নতুন করে উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে। জ্যাকসন হোল অর্থনৈতিক সম্মেলনে ফেড চেয়ারম্যান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। তার সেই বক্তব্যকে বাজার তুলনামূলক কঠোর হিসেবে গ্রহণ করায় ডলার ও প্রকৃত সুদের হার বৃদ্ধি পায়, যা সাময়িকভাবে সোনার দামে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।
শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরাই নন, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তাদের রিজার্ভ বাড়াতে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনা অব্যাহত রেখেছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মোট দুইশ উনআশি টন সোনা কিনেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় বাষ্পান্ন শতাংশ বেশি। এর মধ্যে চীন ও পোল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ছিল।
মর্নিংস্টারের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক গোল্ড ইটিএফেও বড় অঙ্কের নিট বিনিয়োগ ফিরে এসেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মার্ক হেফেল পূর্বাভাস দিয়েছেন যে আগামী বারো মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স পাঁচ হাজার চারশ ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।
সরকারগুলোর ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং তা পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই মূল্যবান ধাতুর বাজারকে দীর্ঘ সময় ধরে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্ববাজারের এমন বহুমুখী পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের স্থানীয় সোনার বাজারেও। টানা তিন দফা দাম কমানোর পর দেশের বাজারে এবার সোনার গহনার দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি বৈঠকের পর এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়।
কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৯, ৩১ আগস্ট এবং ২ সেপ্টেম্বর তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম প্রায় পনেরো হাজার আটশ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে বিশ্ববাজারের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন তা আবার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই দাম অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম পাঁচ হাজার চারশ বিরাশি টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ৩৭ হাজার তিনশ বাষ্পান্ন টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম পাঁচ হাজার দুইশ উনপঞ্চাশ টাকা বাড়িয়ে দুই লাখ ছাব্বিশ হাজার ছয়শ নব্বই টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম চার হাজার চারশ একান্ন টাকা বাড়িয়ে এক লাখ চুরানব্বই হাজার ছয়শ চৌদ্দ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম তিন হাজার ছয়শ চুয়াত্তর টাকা বাড়িয়ে এক লাখ আটান্ন হাজার নয়শ আশি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামও কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম একশ ষোলো টাকা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার একশ বত্রিশ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।

আপনার মতামত লিখুন