সংবাদ

ব্লুটুথ বন্ধ করলেই কি ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ে?


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ব্লুটুথ বন্ধ করলেই কি ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ে?

ফোনে ইন্টারনেটের গতি কমে গেলে সমাধান হিসেবে নানা কৌশল অনুসরণ করেন ব্যবহারকারীরা। রাউটার পুনরায় চালু করা, মোবাইল ডাটা বা ওয়াই-ফাই বন্ধ করে আবার সংযোগ দেওয়া-এ ধরনের পদ্ধতি বেশ প্রচলিত। এর সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি দাবি-ফোনের ব্লুটুথ বন্ধ করে দিলে নাকি ওয়াই-ফাইয়ের গতি বেড়ে যায়। তবে বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই দুটিই বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি। ওয়াই-ফাইয়ের ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ড এবং ব্লুটুথ একই ফ্রিকোয়েন্সি পরিসরে কাজ করতে পারে। ফলে আশপাশে একাধিক বেতার ডিভাইস সক্রিয় থাকলে সিগন্যালের মধ্যে পারস্পরিক হস্তক্ষেপ বা ইন্টারফেরেন্স হওয়ার সুযোগ থাকে।

বিশেষ করে ছোট জায়গায় একসঙ্গে অনেক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইয়ারবাড, স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করা হলে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ব্লুটুথ চালু থাকার কারণেই যে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যাবে, এমনটা বলা ঠিক নয়।

আধুনিক ডিভাইসে সমস্যা কম

বর্তমান সময়ের স্মার্টফোন ও রাউটারে ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় সম্ভাব্য ইন্টারফেরেন্স কমানোর প্রযুক্তি থাকে। ফলে স্বাভাবিক ব্যবহারে ব্লুটুথ চালু রাখার কারণে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথা নয়।

তবে পুরোনো ফোন বা ওয়াই-ফাই হার্ডওয়্যার ব্যবহার করলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে রাউটার যদি ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে কাজ করে এবং আশপাশে অনেক ওয়্যারলেস ডিভাইস সক্রিয় থাকে, তখন ব্লুটুথ বন্ধ করে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এতে সংযোগে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা সহজেই বোঝা যাবে।

ওয়াই-ফাই ধীর হওয়ার কারণ আরও অনেক

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে শুধু ব্লুটুথকে দায়ী করলে সমস্যার আসল কারণ বাদ পড়ে যেতে পারে। রাউটার থেকে ফোনের দূরত্ব বেশি হলে কিংবা মাঝখানে মোটা দেয়াল বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।

একই নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ডিভাইস যুক্ত থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের গতি কমতে পারে। এ ছাড়া আশপাশের একাধিক রাউটার একই ওয়াই-ফাই চ্যানেল ব্যবহার করলেও সিগন্যালের মানে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫ গিগাহার্জে মিলতে পারে ভালো সংযোগ

ফোন ও রাউটার উভয়েই সমর্থন করলে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। ২.৪ গিগাহার্জের তুলনায় এতে অনেক ক্ষেত্রে কম ভিড় পাওয়া যায় এবং কাছাকাছি দূরত্বে দ্রুতগতির সংযোগও মিলতে পারে।

পাশাপাশি রাউটার একবার রিস্টার্ট করা, অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াই-ফাই চ্যানেল পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপও কাজে আসতে পারে।

তাহলে কি ব্লুটুথ বন্ধ রাখবেন?

প্রতিবার ওয়াই-ফাই ধীর হলেই ব্লুটুথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দুই প্রযুক্তির সিগন্যালের মধ্যে ইন্টারফেরেন্স হতে পারে, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারে ব্লুটুথ বন্ধ করলেই ইন্টারনেটের গতি বেড়ে যাবে-এমন কোনো নিশ্চিত নিয়ম নেই।

তাই ওয়াই-ফাই ধীর হলে প্রথমে রাউটারের অবস্থান, সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা, সিগন্যালের শক্তি ও ব্যবহৃত ওয়াই-ফাই ব্যান্ড পরীক্ষা করাই বেশি কার্যকর। ব্লুটুথ বন্ধ করে পার্থক্য পাওয়া গেলে সেটিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, সার্বজনীন কোনো কৌশল হিসেবে নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


ব্লুটুথ বন্ধ করলেই কি ওয়াই-ফাইয়ের গতি বাড়ে?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফোনে ইন্টারনেটের গতি কমে গেলে সমাধান হিসেবে নানা কৌশল অনুসরণ করেন ব্যবহারকারীরা। রাউটার পুনরায় চালু করা, মোবাইল ডাটা বা ওয়াই-ফাই বন্ধ করে আবার সংযোগ দেওয়া-এ ধরনের পদ্ধতি বেশ প্রচলিত। এর সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় এসেছে আরেকটি দাবি-ফোনের ব্লুটুথ বন্ধ করে দিলে নাকি ওয়াই-ফাইয়ের গতি বেড়ে যায়। তবে বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়।

ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই দুটিই বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি। ওয়াই-ফাইয়ের ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ড এবং ব্লুটুথ একই ফ্রিকোয়েন্সি পরিসরে কাজ করতে পারে। ফলে আশপাশে একাধিক বেতার ডিভাইস সক্রিয় থাকলে সিগন্যালের মধ্যে পারস্পরিক হস্তক্ষেপ বা ইন্টারফেরেন্স হওয়ার সুযোগ থাকে।

বিশেষ করে ছোট জায়গায় একসঙ্গে অনেক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ইয়ারবাড, স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করা হলে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা দিতে পারে। তবে শুধু ব্লুটুথ চালু থাকার কারণেই যে ওয়াই-ফাইয়ের গতি কমে যাবে, এমনটা বলা ঠিক নয়।

আধুনিক ডিভাইসে সমস্যা কম

বর্তমান সময়ের স্মার্টফোন ও রাউটারে ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ একসঙ্গে ব্যবহারের সময় সম্ভাব্য ইন্টারফেরেন্স কমানোর প্রযুক্তি থাকে। ফলে স্বাভাবিক ব্যবহারে ব্লুটুথ চালু রাখার কারণে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কথা নয়।

তবে পুরোনো ফোন বা ওয়াই-ফাই হার্ডওয়্যার ব্যবহার করলে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে রাউটার যদি ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে কাজ করে এবং আশপাশে অনেক ওয়্যারলেস ডিভাইস সক্রিয় থাকে, তখন ব্লুটুথ বন্ধ করে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এতে সংযোগে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা সহজেই বোঝা যাবে।

ওয়াই-ফাই ধীর হওয়ার কারণ আরও অনেক

ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়ার পেছনে শুধু ব্লুটুথকে দায়ী করলে সমস্যার আসল কারণ বাদ পড়ে যেতে পারে। রাউটার থেকে ফোনের দূরত্ব বেশি হলে কিংবা মাঝখানে মোটা দেয়াল বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হতে পারে।

একই নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ডিভাইস যুক্ত থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের গতি কমতে পারে। এ ছাড়া আশপাশের একাধিক রাউটার একই ওয়াই-ফাই চ্যানেল ব্যবহার করলেও সিগন্যালের মানে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫ গিগাহার্জে মিলতে পারে ভালো সংযোগ

ফোন ও রাউটার উভয়েই সমর্থন করলে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। ২.৪ গিগাহার্জের তুলনায় এতে অনেক ক্ষেত্রে কম ভিড় পাওয়া যায় এবং কাছাকাছি দূরত্বে দ্রুতগতির সংযোগও মিলতে পারে।

পাশাপাশি রাউটার একবার রিস্টার্ট করা, অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াই-ফাই চ্যানেল পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপও কাজে আসতে পারে।

তাহলে কি ব্লুটুথ বন্ধ রাখবেন?

প্রতিবার ওয়াই-ফাই ধীর হলেই ব্লুটুথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দুই প্রযুক্তির সিগন্যালের মধ্যে ইন্টারফেরেন্স হতে পারে, কিন্তু সাধারণ ব্যবহারে ব্লুটুথ বন্ধ করলেই ইন্টারনেটের গতি বেড়ে যাবে-এমন কোনো নিশ্চিত নিয়ম নেই।

তাই ওয়াই-ফাই ধীর হলে প্রথমে রাউটারের অবস্থান, সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা, সিগন্যালের শক্তি ও ব্যবহৃত ওয়াই-ফাই ব্যান্ড পরীক্ষা করাই বেশি কার্যকর। ব্লুটুথ বন্ধ করে পার্থক্য পাওয়া গেলে সেটিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, সার্বজনীন কোনো কৌশল হিসেবে নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত