সংবাদ

বাম্পার ফলন, তবু দাম নিয়ে শঙ্কা পাটচাষিদের


প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রতিনিধি, বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ এএম

বাম্পার ফলন, তবু দাম নিয়ে শঙ্কা পাটচাষিদের
শার্শার দিগন্তজুড়ে এখন সোনালি আঁশের সমারোহ। ছবি : সংবাদ

যশোরের শার্শা উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সবুজে সয়লাব। বাতাসে দুলছে সোনালি আঁশের স্বপ্ন। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকেরা। গত বছরের তুলনায় এবার শার্শায় পাটের আবাদ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু উৎপাদন খরচ বাড়ায় কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তাদের মনে একটাই প্রশ্ন–মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো এই ‘সোনালি আঁশ’ কি শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখাবে?

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, অনুকূল আবহাওয়া আর দো-আঁশ মাটির গুনাগুণের কারণে শার্শায় এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। অর্থাৎ, এক বছরে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। মূলত সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এবার বিশেষ করে ভারতীয় ‘সেবাইন’ জাত ও বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

তবে মাঠের এই সবুজ হাসির উল্টো পিঠে রয়েছে খরচের তপ্ত দীর্ঘশ্বাস। বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আব্দুল হালিম বলেন, ‘পাটের গাছ তো ভালো হইছে, কিন্তু জনমজুরি আর তেলের যে দাম, তাতে খরচ উইঠা আসব কি না বুঝতে পারতিছি না। শ্রমিক পাওয়া দায়, তাদের মজুরিও অনেক।’

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলামের দাবি, চাষাবাদ থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ গতবারের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। বাজারের ন্যায্য দাম না পেলে ঋণের বোঝা কাঁধে চাপার ভয় পাচ্ছেন তিনি। কৃষকদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়লে হবে না, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামিয়ে সরকারকে পাটের প্রকৃত দাম নিশ্চিত করতে হবে।

অবশ্য পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয়ের সুযোগ দেখছেন স্থানীয়রা। জ্বালানি বা বেড়া দেওয়ার কাজে পাটখড়ির ভালো চাহিদা থাকায় এটি চাষিদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছি। পাটের মান ভালো করতে সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া জরুরি। পরিষ্কার পানিতে সঠিক সময়ে জাগ দিয়ে আঁশ শুকাতে পারলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। আমরা সেই লক্ষ্যেই চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

সোনালি আঁশের এই মৌসুমে শার্শার কৃষকদের এখন একটাই চাওয়া–তাদের মেহনতের ফসলের ন্যায্য পাওনা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে না যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাম্পার ফলন, তবু দাম নিয়ে শঙ্কা পাটচাষিদের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

যশোরের শার্শা উপজেলার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সবুজে সয়লাব। বাতাসে দুলছে সোনালি আঁশের স্বপ্ন। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ, আবার কোথাও জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত কৃষকেরা। গত বছরের তুলনায় এবার শার্শায় পাটের আবাদ বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু উৎপাদন খরচ বাড়ায় কৃষকের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। তাদের মনে একটাই প্রশ্ন–মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো এই ‘সোনালি আঁশ’ কি শেষ পর্যন্ত লাভের মুখ দেখাবে?

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, অনুকূল আবহাওয়া আর দো-আঁশ মাটির গুনাগুণের কারণে শার্শায় এবার পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। গত বছর যেখানে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টরে। অর্থাৎ, এক বছরে আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। মূলত সরকারি প্রণোদনা, বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এবার বিশেষ করে ভারতীয় ‘সেবাইন’ জাত ও বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

তবে মাঠের এই সবুজ হাসির উল্টো পিঠে রয়েছে খরচের তপ্ত দীর্ঘশ্বাস। বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আব্দুল হালিম বলেন, ‘পাটের গাছ তো ভালো হইছে, কিন্তু জনমজুরি আর তেলের যে দাম, তাতে খরচ উইঠা আসব কি না বুঝতে পারতিছি না। শ্রমিক পাওয়া দায়, তাদের মজুরিও অনেক।’

আরেক কৃষক রফিকুল ইসলামের দাবি, চাষাবাদ থেকে শুরু করে পাট ধোয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে খরচ গতবারের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়েছে। বাজারের ন্যায্য দাম না পেলে ঋণের বোঝা কাঁধে চাপার ভয় পাচ্ছেন তিনি। কৃষকদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়লে হবে না, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামিয়ে সরকারকে পাটের প্রকৃত দাম নিশ্চিত করতে হবে।

অবশ্য পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয়ের সুযোগ দেখছেন স্থানীয়রা। জ্বালানি বা বেড়া দেওয়ার কাজে পাটখড়ির ভালো চাহিদা থাকায় এটি চাষিদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা কৃষকদের সর্বোচ্চ সহায়তা দিচ্ছি। পাটের মান ভালো করতে সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া জরুরি। পরিষ্কার পানিতে সঠিক সময়ে জাগ দিয়ে আঁশ শুকাতে পারলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। আমরা সেই লক্ষ্যেই চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছি।’

সোনালি আঁশের এই মৌসুমে শার্শার কৃষকদের এখন একটাই চাওয়া–তাদের মেহনতের ফসলের ন্যায্য পাওনা যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে না যায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত