সংবাদ

উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর: ৫০ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্প


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর: ৫০ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্প

দেশের প্রান্তিক বেকার জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ তহবিল প্রকল্প’-এর উদ্বোধন ও ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ব্যাংকের নতুন প্রকল্পটির আওতায় দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এটি ৫০ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্প। যারা ব্যাংকে যেতে ভয় পায় তাদের ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থানে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির জন্যই কর্মসংস্থান ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।"

​দেশের প্রান্তিক প্রতিভাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সরকার নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল অর্থনীতি। প্রান্তিক সৃজনশীল মানুষকে শুধু ঋণ দেওয়া হচ্ছে না, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্যের ব্র্যান্ডিংও করা হচ্ছে। মার্কেটিং ব্র্যান্ডিংও করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান ব্যাংককেও বলবো এমন কর্মসূচি হাতে নিতে। এটা জিডিপি, চ্যারিটি নয়। এমনকি গানসহ বিভিন্ন সৃজনশীলতা যাদের আছে তাদেরও প্রমোট করা যায়। তারাও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। সরকার এসবকে মনিটাইজ করতে চায়। সেক্ষেত্রে তাদের ভ্যালু অ্যাড করে মার্কেটেবল করতে চায়। তাদের অর্থনীতির মূল স্রোতে আনতে চায়। সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে মনোযোগ দিতে চায়, সহায়তা করতে চায়। এটা করতে পারলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।"

​ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা এনপিএল ৪ থেকে ১ বা ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে ভালো হবে। ব্যাংকটি ভালো করছে, প্রফিটও করছে।"

​কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারী বেকারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য জামানতবিহীন সহজ ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোট ঋণগ্রহীতার অন্তত ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাত্র ৬ শতাংশ নির্ধারিত সুদে ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে, যা পরিশোধের মেয়াদ ৬ থেকে ২৪ মাস। প্রাথমিক পর্যায়ে শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও বরগুনা জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর: ৫০ কোটি টাকার পাইলট প্রকল্প

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের প্রান্তিক বেকার জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংক আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ তহবিল প্রকল্প’-এর উদ্বোধন ও ঋণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, "উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। কর্মসংস্থান ব্যাংকের নতুন প্রকল্পটির আওতায় দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এটি ৫০ কোটি টাকার একটি পাইলট প্রকল্প। যারা ব্যাংকে যেতে ভয় পায় তাদের ঋণ দিয়ে কর্মসংস্থানে নিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির জন্যই কর্মসংস্থান ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়।"

​দেশের প্রান্তিক প্রতিভাকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, "সরকার নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল অর্থনীতি। প্রান্তিক সৃজনশীল মানুষকে শুধু ঋণ দেওয়া হচ্ছে না, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পণ্যের ব্র্যান্ডিংও করা হচ্ছে। মার্কেটিং ব্র্যান্ডিংও করা হচ্ছে। কর্মসংস্থান ব্যাংককেও বলবো এমন কর্মসূচি হাতে নিতে। এটা জিডিপি, চ্যারিটি নয়। এমনকি গানসহ বিভিন্ন সৃজনশীলতা যাদের আছে তাদেরও প্রমোট করা যায়। তারাও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। সরকার এসবকে মনিটাইজ করতে চায়। সেক্ষেত্রে তাদের ভ্যালু অ্যাড করে মার্কেটেবল করতে চায়। তাদের অর্থনীতির মূল স্রোতে আনতে চায়। সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে মনোযোগ দিতে চায়, সহায়তা করতে চায়। এটা করতে পারলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।"

​ব্যাংকিং খাতের দক্ষতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা এনপিএল ৪ থেকে ১ বা ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে ভালো হবে। ব্যাংকটি ভালো করছে, প্রফিটও করছে।"

​কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুন কুমার চৌধুরী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই বিশেষ পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারী বেকারদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এলাকার জনগোষ্ঠীর জন্য জামানতবিহীন সহজ ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোট ঋণগ্রহীতার অন্তত ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাত্র ৬ শতাংশ নির্ধারিত সুদে ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে, যা পরিশোধের মেয়াদ ৬ থেকে ২৪ মাস। প্রাথমিক পর্যায়ে শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও বরগুনা জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত