সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: পুলিশের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: পুলিশের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ
ছবি : এআই

  • মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা অরাজকতা ঠেকাতে এখন থেকেই কঠোর আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ভোটকেন্দ্র নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলারক্ষা, ভোটের দিনের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা কৌশল এবং কঠোর গাইডলাইন নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপকভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে থেমে নেই আগাম গোয়েন্দা কার্যক্রমও। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মনোনয়ন পেতে নিজেদের তৎপরতা শুরু করেছেন এবং প্রশাসনও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন একাধিক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ কনস্টেবল থেকে শুরু করে একেবারে ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাল বুধবার সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের (আইজিপি) সভাপতিত্বে এই নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে পুলিশের সকল বিশেষায়িত ইউনিট, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ট্রেনিং শাখা থেকে সম্প্রতি সংক্রান্ত অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে অতিরিক্ত আইজিপিসহ ২২ জন, পুলিশ সদর দপ্তরের ৬৫ জন, এসপির ঢাকার (ডিআইজি-, অতিরিক্ত ডিআইজি-, বিশেষ পুলিশ সুপার-, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-) ১০ জন অংশ নেবেন।

এছাড়াও সিআইডি ঢাকার জন, রেঞ্জ ডিআইজি জন, মহানগরের কমিশনার জন, ডিআইজি এসপিবিএন জন, পুলিশ টেলিকম সংস্থা রাজারবাগ, ডিআইজি, অ্যাডিশনাল ডিআইজি জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ পুলিশ সুপার ট্রেনিং মিলিয়ে জন এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।

তালিকায় আরও রয়েছে কমান্ড্যান্ট পিটিসি (), টিডিএস, এএসটিএস, পিএসটিএস, স্কুল অব ইন্টেলিজেন্স ডিটিএস এর মোট জন, অধিনায়ক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) এপিবিএন-, , , ১১, ১২ ১৩ এর জন।

কমান্ড্যান্ট (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) আরআরএফ ঢাকা পুলিশ সুপার-১; জন, পুলিশ সুপার ঢাকা জেলা, মহানগরের ডিসি (অপস), কমান্ড্যান্ট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের ৩০ জন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট জন কর্মকর্তা এবং বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ডিটিএস সিআইডি ঢাকার জনসহ সর্বমোট ২১৮ জন কর্মকর্তা এই প্রথম ধাপের নির্বাচনী প্রশিক্ষণে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।

পুলিশের একজন ডিআইজি সংবাদকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, নির্বাচনী আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শেখানো এবং শতভাগ নিরপেক্ষভাবে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নানা কৌশল এই প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনে কমিশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা নির্বাচনী বিধি আইনগুলো তুলে ধরবেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে দেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ট্রেনিং সেন্টারগুলোতেও ধাপে ধাপে শুরু করা হবে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র নিয়ে থানা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা মুঠোফোনে জানান, ইতোমধ্যে গ্রাম, ইউনিয়ন পৌরসভার সম্ভাব্য মেম্বার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এলাকায় নিজেদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার পর্যন্ত দলীয় স্বতন্ত্র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা কৌশলে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা টহল কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করেছে বলে একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের কয়েকজন কর্মী সংবাদকে জানান, এখন গ্রামগঞ্জের আনাচে-কানাচে নির্বাচন নিয়ে নানা কথাবার্তা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টারে চেয়ারম্যান হিসেবে অমুক ভাইকে চাই এবং বিভিন্ন শুভকামনা জানিয়ে এলাকায় এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, কয়েকজন সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সংবাদকে বলেন, সারাদেশে জেলা পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম-ঠিকানা, রাজনৈতিক পরিচয়, স্বতন্ত্র প্রার্থিতা, কার জনপ্রিয়তা কেমন এবং কোন এলাকাগুলো বেশি সহিংসতা প্রবণতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় করণীয় ঠিক করতে গোয়েন্দারা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা গোয়েন্দারা জাতীয় নির্বাচনে যে সুনির্দিষ্ট কঠোর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন, ঠিক সেই আদলেই স্থানীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু, অবাধ সুন্দর করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সদস্যরা এলাকাভিত্তিক তৎপরতা শুরু করেছেন এবং সম্ভাব্য দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে গোপনে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সবার একটাই লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই প্রশাসন এখন হার্ডলাইনে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্থানীয় সরকার নির্বাচন: পুলিশের দক্ষতা-সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

  • মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা অরাজকতা ঠেকাতে এখন থেকেই কঠোর আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ভোটকেন্দ্র নির্বাচনী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলারক্ষা, ভোটের দিনের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা কৌশল এবং কঠোর গাইডলাইন নিয়ে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাপকভিত্তিক বিশেষ প্রশিক্ষণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে থেমে নেই আগাম গোয়েন্দা কার্যক্রমও। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মনোনয়ন পেতে নিজেদের তৎপরতা শুরু করেছেন এবং প্রশাসনও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন একাধিক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত করা গেছে।

পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশ কনস্টেবল থেকে শুরু করে একেবারে ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ পেশাগত দক্ষতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাল বুধবার সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের (আইজিপি) সভাপতিত্বে এই নির্বাচনী প্রশিক্ষণের বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে পুলিশের সকল বিশেষায়িত ইউনিট, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ট্রেনিং শাখা থেকে সম্প্রতি সংক্রান্ত অফিসিয়াল চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে অতিরিক্ত আইজিপিসহ ২২ জন, পুলিশ সদর দপ্তরের ৬৫ জন, এসপির ঢাকার (ডিআইজি-, অতিরিক্ত ডিআইজি-, বিশেষ পুলিশ সুপার-, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-) ১০ জন অংশ নেবেন।

এছাড়াও সিআইডি ঢাকার জন, রেঞ্জ ডিআইজি জন, মহানগরের কমিশনার জন, ডিআইজি এসপিবিএন জন, পুলিশ টেলিকম সংস্থা রাজারবাগ, ডিআইজি, অ্যাডিশনাল ডিআইজি জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ পুলিশ সুপার ট্রেনিং মিলিয়ে জন এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন।

তালিকায় আরও রয়েছে কমান্ড্যান্ট পিটিসি (), টিডিএস, এএসটিএস, পিএসটিএস, স্কুল অব ইন্টেলিজেন্স ডিটিএস এর মোট জন, অধিনায়ক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) এপিবিএন-, , , ১১, ১২ ১৩ এর জন।

কমান্ড্যান্ট (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) আরআরএফ ঢাকা পুলিশ সুপার-১; জন, পুলিশ সুপার ঢাকা জেলা, মহানগরের ডিসি (অপস), কমান্ড্যান্ট ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের ৩০ জন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট জন কর্মকর্তা এবং বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ডিটিএস সিআইডি ঢাকার জনসহ সর্বমোট ২১৮ জন কর্মকর্তা এই প্রথম ধাপের নির্বাচনী প্রশিক্ষণে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন।

পুলিশের একজন ডিআইজি সংবাদকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে কীভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, নির্বাচনী আইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শেখানো এবং শতভাগ নিরপেক্ষভাবে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নানা কৌশল এই প্রশিক্ষণে হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনে কমিশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা নির্বাচনী বিধি আইনগুলো তুলে ধরবেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার পর এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া পর্যায়ক্রমে দেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ট্রেনিং সেন্টারগুলোতেও ধাপে ধাপে শুরু করা হবে।

মাঠপর্যায়ের চিত্র নিয়ে থানা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা মুঠোফোনে জানান, ইতোমধ্যে গ্রাম, ইউনিয়ন পৌরসভার সম্ভাব্য মেম্বার চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এলাকায় নিজেদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার পর্যন্ত দলীয় স্বতন্ত্র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা কৌশলে প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা টহল কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করেছে বলে একাধিক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিশ্চিত করেছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনের কয়েকজন কর্মী সংবাদকে জানান, এখন গ্রামগঞ্জের আনাচে-কানাচে নির্বাচন নিয়ে নানা কথাবার্তা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টারে চেয়ারম্যান হিসেবে অমুক ভাইকে চাই এবং বিভিন্ন শুভকামনা জানিয়ে এলাকায় এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, কয়েকজন সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সংবাদকে বলেন, সারাদেশে জেলা পর্যায়ে গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম-ঠিকানা, রাজনৈতিক পরিচয়, স্বতন্ত্র প্রার্থিতা, কার জনপ্রিয়তা কেমন এবং কোন এলাকাগুলো বেশি সহিংসতা প্রবণতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় করণীয় ঠিক করতে গোয়েন্দারা মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা গোয়েন্দারা জাতীয় নির্বাচনে যে সুনির্দিষ্ট কঠোর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে থাকেন, ঠিক সেই আদলেই স্থানীয় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু, অবাধ সুন্দর করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ তৎপরতা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সদস্যরা এলাকাভিত্তিক তৎপরতা শুরু করেছেন এবং সম্ভাব্য দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্পর্কে প্রকাশ্যে গোপনে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সবার একটাই লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন করা। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই প্রশাসন এখন হার্ডলাইনে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত