সংবাদ

জ্বালানি সংকটে নিট খাতের ৭% কারখানা পুরোপুরি বন্ধ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

জ্বালানি সংকটে নিট খাতের ৭% কারখানা পুরোপুরি বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানার আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো হয় তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে, নয়তো কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, এই সংকটের কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচও বাড়ছে। ফলে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কারখানা ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, ২১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকার মোট সদস্য কারখানার ২০ শতাংশের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং ৮৭ শতাংশ কারখানা নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে পারেনি। এ ছাড়া সাময়িক এ বিপত্তির কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, কারখানাগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ ঘাটতি। প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংকটের কারণে উৎপাদন খরচও বহুগুণ বেড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে বাড়তি অর্থ গুনতে হয়েছে। প্রায় একই সংখ্যক কারখানা কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রায় ৮৯ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তারা ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। আর প্রায় ৫৯ শতাংশ কারখানা ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ৭ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, পোশাক খাত এখন এক কঠিন সময় পার করছে। আমাদের অনেকেই ভালোভাবে কারখানা চালালেও কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সরকার উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা দিলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব।

জরিপের উপাত্ত অনুযায়ী, কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ৯০ শতাংশ কারখানাকে প্রভাবিত করেছে। এর বাইরে প্রায় ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে এবং প্রায় ১৪ শতাংশ কারখানা অন্যান্য উপকরণের সংকটে পড়েছে।

যেসব কারখানা গ্যাসের চাপসংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে, তাদের হিসাবে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতিও ছিল আশঙ্কাজনক। কারখানাগুলোর হিসাবে আগের চেয়ে লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

এসব বিপত্তির সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। জরিপ অনুযায়ী, নিট কাপড় বোনার উৎপাদন গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। কাপড় রং করার উৎপাদন কমেছে ৫১ শতাংশ এবং পোশাক সেলাইয়ের উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের। গাজীপুরের কারখানা ২০ শতাংশ, চট্টগ্রামের ১৮ শতাংশ, ঢাকার ১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার প্রায় ৩ শতাংশ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জ্বালানি সংকটে নিট খাতের ৭% কারখানা পুরোপুরি বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের ৫৫ শতাংশ নিট পোশাক কারখানার আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো হয় তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে, নয়তো কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, এই সংকটের কারণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে এবং উৎপাদন খরচও বাড়ছে। ফলে জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কারখানা ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, ২১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও অন্যান্য এলাকার মোট সদস্য কারখানার ২০ শতাংশের ওপর এ জরিপ চালানো হয়।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং ৮৭ শতাংশ কারখানা নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে পারেনি। এ ছাড়া সাময়িক এ বিপত্তির কারণে প্রায় ৬০ শতাংশ কারখানাকে ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, কারখানাগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা বিদ্যুৎ ঘাটতি। প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংকটের কারণে উৎপাদন খরচও বহুগুণ বেড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে বাড়তি অর্থ গুনতে হয়েছে। প্রায় একই সংখ্যক কারখানা কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রায় ৮৯ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তারা ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। আর প্রায় ৫৯ শতাংশ কারখানা ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় ৭ শতাংশ কারখানা জানিয়েছে, তাদের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, পোশাক খাত এখন এক কঠিন সময় পার করছে। আমাদের অনেকেই ভালোভাবে কারখানা চালালেও কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে সরকার উপযুক্ত নীতিগত সহায়তা দিলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারব।

জরিপের উপাত্ত অনুযায়ী, কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ৯০ শতাংশ কারখানাকে প্রভাবিত করেছে। এর বাইরে প্রায় ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে এবং প্রায় ১৪ শতাংশ কারখানা অন্যান্য উপকরণের সংকটে পড়েছে।

যেসব কারখানা গ্যাসের চাপসংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে, তাদের হিসাবে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে গেছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতিও ছিল আশঙ্কাজনক। কারখানাগুলোর হিসাবে আগের চেয়ে লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

এসব বিপত্তির সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনে। জরিপ অনুযায়ী, নিট কাপড় বোনার উৎপাদন গড়ে ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। কাপড় রং করার উৎপাদন কমেছে ৫১ শতাংশ এবং পোশাক সেলাইয়ের উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের। গাজীপুরের কারখানা ২০ শতাংশ, চট্টগ্রামের ১৮ শতাংশ, ঢাকার ১৩ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার প্রায় ৩ শতাংশ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত