সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফার অর্থ প্রাপ্তিতে ব্যাংক হিসাব নম্বরের ভুলের কারণে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে।
ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়া কিংবা ফান্ড ট্রান্সফার আটকে থাকার ঝুঁকি নিরসনে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ চালু হচ্ছে ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম’ (এভিএস)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক হিসাব নম্বর যাচাই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের গতকাল দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন এই প্রযুক্তির ফলে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির অধীনে নিবন্ধিত প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহকের লেনদেন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও দ্রুততর হবে।
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় ইতিপূর্বে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের নিয়ম চালু থাকলেও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব তথ্য মেলানোর সুযোগ ছিল না। ফলে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য হুবহু সিস্টেমে সংরক্ষিত হতো এবং কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পাঠানো টাকা ফেরত আসত।
এতে তথ্য সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাতে গ্রাহকের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও ইস্যুকারী অফিসগুলোর দাপ্তরিক কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যেত। এমনকি ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি বিদ্যমান ছিল।
নতুন প্রবর্তিত এভিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় কিংবা পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে প্রদান করা হিসাব নম্বরটি মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তথ্যের সাথে যাচাই করা সম্ভব হবে।
প্রথম দফায় ব্যাংক হিসাবটি সঠিক ও সচল রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে এবং পরবর্তীতে গ্রাহকের এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের সাথে মেলানো হবে। এই দ্বিমুখী পরীক্ষার ফলে টাকা প্রেরণের আগেই যেকোনো তথ্যের অসামঞ্জস্য বা ভুল চিহ্নিত হয়ে যাবে, যা নতুন সঞ্চয়পত্র ক্রয় এবং তথ্য সংশোধনের উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হবে।
উদ্যোগটির সার্বিক প্রভাব বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, "এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর ভুক্তির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, ভোগান্তি কমবে বিনিয়োগকারীর। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজ কমবে। গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হবে।"
সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থ বিভাগ উল্লেখ করেছে, "এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কল্যাণে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে। প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেন ভুল কমিয়ে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত ও নিরাপদে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।"
বর্তমানে সরকারের ১১টি সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টিই ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত গ্রাহকের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইএফটি লেনদেন এবং প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু করার কাজ সম্পন্ন হয়।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সঞ্চয়পত্রের আসল ও মুনাফার অর্থ প্রাপ্তিতে ব্যাংক হিসাব নম্বরের ভুলের কারণে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হতে যাচ্ছে।
ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাওয়া কিংবা ফান্ড ট্রান্সফার আটকে থাকার ঝুঁকি নিরসনে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ চালু হচ্ছে ‘অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম’ (এভিএস)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর যৌথ উদ্যোগে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক হিসাব নম্বর যাচাই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের গতকাল দেওয়া এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন এই প্রযুক্তির ফলে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির অধীনে নিবন্ধিত প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহকের লেনদেন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও দ্রুততর হবে।
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় ইতিপূর্বে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের নিয়ম চালু থাকলেও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ব্যাংক হিসাব তথ্য মেলানোর সুযোগ ছিল না। ফলে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য হুবহু সিস্টেমে সংরক্ষিত হতো এবং কোনো একটি সংখ্যা ভুল হলে ইএফটির (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) মাধ্যমে পাঠানো টাকা ফেরত আসত।
এতে তথ্য সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাতে গ্রাহকের চরম ভোগান্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও ইস্যুকারী অফিসগুলোর দাপ্তরিক কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যেত। এমনকি ভুল নম্বরের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি বিদ্যমান ছিল।
নতুন প্রবর্তিত এভিএস ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় কিংবা পরবর্তী সময়ে ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে প্রদান করা হিসাব নম্বরটি মুহূর্তের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তথ্যের সাথে যাচাই করা সম্ভব হবে।
প্রথম দফায় ব্যাংক হিসাবটি সঠিক ও সচল রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে এবং পরবর্তীতে গ্রাহকের এনআইডি বা পাসপোর্ট নম্বরের সাথে মেলানো হবে। এই দ্বিমুখী পরীক্ষার ফলে টাকা প্রেরণের আগেই যেকোনো তথ্যের অসামঞ্জস্য বা ভুল চিহ্নিত হয়ে যাবে, যা নতুন সঞ্চয়পত্র ক্রয় এবং তথ্য সংশোধনের উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হবে।
উদ্যোগটির সার্বিক প্রভাব বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর জানিয়েছে, "এভিএস চালুর ফলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর ভুক্তির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে, ভোগান্তি কমবে বিনিয়োগকারীর। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজ কমবে। গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হবে।"
সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থার অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থ বিভাগ উল্লেখ করেছে, "এভিএস জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার কল্যাণে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে। প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেন ভুল কমিয়ে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত ও নিরাপদে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।"
বর্তমানে সরকারের ১১টি সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টিই ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত গ্রাহকের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইএফটি লেনদেন এবং প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু করার কাজ সম্পন্ন হয়।

আপনার মতামত লিখুন