সংবাদ

২ জনের কৌশলে মুক্তি পায় অপহৃত বাকি ৭ শিক্ষার্থী


প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ এএম

২ জনের কৌশলে মুক্তি পায় অপহৃত বাকি ৭ শিক্ষার্থী
ছবি : সংবাদ

ছবি তুলে দেওয়া ও ১০০ টাকা করে বকশিস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বগুড়ার শেরপুর থেকে ৯ জন শিশু শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে জিম্মিদশায় থাকা দুই শিশুর চতুরতা ও বুদ্ধিমত্তায় তারাসহ বাকিরা মুক্ত হতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ অভিভাবকরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া শিশুরা হলো–মামুন (১২), ওমর ফারুক (১২), সীমান্ত (১১), হান্নান (১৩), সুমন (১২), সাব্বির (১২), সিয়াম (১১), ফয়সাল (১৩) ও রিফাত (১২)। এরা সকলেই স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থী।

এলাকাবাসী ও শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার মোতালেব নামের এক যুবক ও তার সহযোগীরা ওই ৯ শিশুকে ভালো ছবি তুলে দেওয়া এবং নগদ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে একটি ইজিবাইকে (অটো) তুলে তাদের পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর থানার ৯ মাইল এলাকার একটি নির্জন গোডাউনে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের নানা ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

বিকেল ৩টার দিকে আটক থাকা পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্র আব্দুল হান্নান ও রিফাত টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চতুরতার সঙ্গে কৌশলে পালিয়ে আসে। এরপর স্থানীয় গাড়িতে চড়ে তারা মহিপুর বাজারে পৌঁছে পরিবার ও প্রতিবেশীদের পুরো বিষয়টি জানায়। তথ্য পাওয়ার পরপরই অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাকি শিশুদের উদ্ধার করেন।

অভিভাবকদের দাবি, মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার মোতালেব, হাসান, রাব্বি, আশিক ও সাব্বির হোসেনসহ আরও কয়েকজন এ অপহরণ ও জিম্মি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগী এক শিশুর মা ফেন্সি বেগম জানান, সন্তানরা পালিয়ে এসে ঘটনা জানানোর পর সবাই মিলে গিয়ে আটকে থাকা বাকি শিশুদের উদ্ধার করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ ওঠে, সকালে বেঞ্চে বই রেখে শিশুরা চলে গেলেও শিক্ষকরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাকিলা পারভীন জানান, সোমবার তিনি ছুটিতে ছিলেন। দ্বিতীয় ক্লাসের পর কিছু ছাত্র অনুপস্থিত দেখে শিক্ষকরা অভিভাবকদের ফোনে জানান। পরে খবর পেয়ে অভিভাবকরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ লিখিত এজাহার দিতে বলে। মঙ্গলবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, প্রলোভনে পড়ে শিক্ষার্থীরা ওই চক্রের সঙ্গে গিয়েছিল। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, এক অভিভাবক ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২ জনের কৌশলে মুক্তি পায় অপহৃত বাকি ৭ শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ছবি তুলে দেওয়া ও ১০০ টাকা করে বকশিস দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বগুড়ার শেরপুর থেকে ৯ জন শিশু শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে জিম্মিদশায় থাকা দুই শিশুর চতুরতা ও বুদ্ধিমত্তায় তারাসহ বাকিরা মুক্ত হতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় সংক্ষুব্ধ অভিভাবকরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া শিশুরা হলো–মামুন (১২), ওমর ফারুক (১২), সীমান্ত (১১), হান্নান (১৩), সুমন (১২), সাব্বির (১২), সিয়াম (১১), ফয়সাল (১৩) ও রিফাত (১২)। এরা সকলেই স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থী।

এলাকাবাসী ও শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার মোতালেব নামের এক যুবক ও তার সহযোগীরা ওই ৯ শিশুকে ভালো ছবি তুলে দেওয়া এবং নগদ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে একটি ইজিবাইকে (অটো) তুলে তাদের পার্শ্ববর্তী শাজাহানপুর থানার ৯ মাইল এলাকার একটি নির্জন গোডাউনে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাদের নানা ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

বিকেল ৩টার দিকে আটক থাকা পঞ্চম শ্রেণির দুই ছাত্র আব্দুল হান্নান ও রিফাত টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চতুরতার সঙ্গে কৌশলে পালিয়ে আসে। এরপর স্থানীয় গাড়িতে চড়ে তারা মহিপুর বাজারে পৌঁছে পরিবার ও প্রতিবেশীদের পুরো বিষয়টি জানায়। তথ্য পাওয়ার পরপরই অভিভাবক ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাকি শিশুদের উদ্ধার করেন।

অভিভাবকদের দাবি, মহিপুর পিসি ভাটা এলাকার মোতালেব, হাসান, রাব্বি, আশিক ও সাব্বির হোসেনসহ আরও কয়েকজন এ অপহরণ ও জিম্মি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগী এক শিশুর মা ফেন্সি বেগম জানান, সন্তানরা পালিয়ে এসে ঘটনা জানানোর পর সবাই মিলে গিয়ে আটকে থাকা বাকি শিশুদের উদ্ধার করেন।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ ওঠে, সকালে বেঞ্চে বই রেখে শিশুরা চলে গেলেও শিক্ষকরা প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

মহিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাকিলা পারভীন জানান, সোমবার তিনি ছুটিতে ছিলেন। দ্বিতীয় ক্লাসের পর কিছু ছাত্র অনুপস্থিত দেখে শিক্ষকরা অভিভাবকদের ফোনে জানান। পরে খবর পেয়ে অভিভাবকরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ লিখিত এজাহার দিতে বলে। মঙ্গলবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, প্রলোভনে পড়ে শিক্ষার্থীরা ওই চক্রের সঙ্গে গিয়েছিল। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, এক অভিভাবক ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত