সংবাদ

এক বছরের মধ্যে মোদি সরকারের পতন? সাঙ্গুর থেকে রাহুলের হুঁশিয়ারি


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

এক বছরের মধ্যে মোদি সরকারের পতন? সাঙ্গুর থেকে রাহুলের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

পাঞ্জাবের সাঙ্গুর থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ নয়, বরং ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একদিকে মোদি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে রাহুলের পূর্বাভাস, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, আদানি বিতর্ক, মাদক পাচার, গ্যাংস্টারদের প্রভাব এবং পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে সাঙ্গুরের ইনসাফ র‍্যালি এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়।

প্রথমেই আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে। সত্যিই কি আগামী এক বছরের মধ্যে মোদি সরকারের পতন ঘটতে পারে? রাহুল গান্ধী সাঙ্গুরের সভায় বলেছেন, তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী আগামী এক বছরও কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার টিকবে না। তবে এই বক্তব্যকে আপাতত রাজনৈতিক পূর্বাভাস হিসেবেই দেখতে হবে, নিশ্চিত রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে নয়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৪০টি আসন পেয়েছিল। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা একা পায়নি। এনডিএর শরিকদের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়। তেলুগু দেশম পার্টির ১৬ এবং জেডিইউয়ের ১২টি আসন এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ মোদি সরকারের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে শরিকদের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু শরিক দলগুলি সমর্থন প্রত্যাহার না করলে কিংবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন না ঘটলে শুধু বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটবে না। লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যই হবে আসল পরীক্ষা। তাই রাহুলের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট সংসদীয় পরিস্থিতি।

এবার আসা যাক ২০২৭ সালের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, গোয়া এবং মণিপুর - এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। কারণ এই নির্বাচনগুলিকে কেন্দ্র করে বিজেপি, কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির রাজনৈতিক শক্তি ও জনসমর্থনের পরীক্ষা হবে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। কেন? কারণ লোকসভায় উত্তরপ্রদেশের আসন সংখ্যা ৮০, যা দেশের অন্য যেকোনও রাজ্যের তুলনায় বেশি। বিজেপির জাতীয় রাজনৈতিক শক্তির হিসাব করতে গেলে উত্তরপ্রদেশকে বাদ দেওয়া যায় না।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি পেয়েছিল ৩৩টি আসন। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল ৩৭টি এবং কংগ্রেস পেয়েছিল ৬টি আসন। এই ফলাফল দেখিয়েছিল, বিরোধী দলগুলির সমন্বয় এবং সামাজিক সমীকরণ বিজেপির সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে। তবে লোকসভা নির্বাচনের ফল সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে না। ২০২৭ সালে বিজেপির সামনে যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে, তেমনই বিরোধীদের সামনে থাকবে আসন সমঝোতা, নেতৃত্ব এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পরীক্ষা।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর নির্বাচনী লড়াইয়ের চরিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে। অন্যদিকে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি, সরকারের কাজ, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং সামাজিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অতএব উত্তরপ্রদেশকে কেন্দ্র করে এখনই কোনও পক্ষের জয় বা পরাজয় ঘোষণা করার সুযোগ নেই।

পাঞ্জাবের পরিস্থিতি আবার সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২২ সালে আম আদমি পার্টি ১১৭ আসনের বিধানসভায় ৯২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ক্ষমতা হারায়। এবার ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী সাঙ্গুর থেকেই পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলাকে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনলেন।

সাঙ্গুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে রাহুল অভিযোগ করেন, যিনি রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করবেন, তাঁর নিজের আচরণ নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সংসদে একসঙ্গে থাকার সময় ভগবন্ত মানের মুখে মদের গন্ধ পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এটিকে রাহুলের ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই দেখতে হবে, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।

কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরে পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা যে একটি বাস্তব সামাজিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, তা অস্বীকার করা যায় না। সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় মাদক পাচার, আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র, স্থানীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেশার বিস্তার - সবকটি বিষয়ই প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই রাহুল গান্ধী অমিত শাহের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করার যে লক্ষ্যের কথা বলেছেন, তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গুজরাটের আদানি পরিচালিত বন্দরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তার প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পর তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের ফল কী?

এই প্রশ্নের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত, বন্দরে মাদক উদ্ধার হলে তার উৎস, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক, অর্থের জোগান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, কোনও বন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থার নাম সামনে এলেই সেই সংস্থার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়ে যায় না। তদন্তে কারা জড়িত, কীভাবে মাদক এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসা জরুরি।

একইভাবে অমিত শাহের বিরুদ্ধে জেলে থাকা গ্যাংস্টারদের মদত দেওয়ার যে অভিযোগ রাহুল তুলেছেন, তারও স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক মঞ্চে এমন অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও অভিযোগ এবং প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রসঙ্গও এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাঞ্জাবি গায়ক ও কংগ্রেস নেতা সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছিল। কানাডাভিত্তিক গোল্ডি ব্রারকেও এই মামলায় অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২৯ মে মুসেওয়ালাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

রাহুল গান্ধী সাঙ্গুরে মুসেওয়ালার বাবাকে সামনে রেখে এই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। তার বক্তব্য, পাঞ্জাবে অপরাধী চক্রের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে প্রতিভাবান মানুষও নিরাপদ নন। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, একটি নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন এক বিষয় নয়। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার, বিচার এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকারিতা - সবকিছুর পরিসংখ্যান একসঙ্গে বিচার করতে হবে।

এবার আসা যাক মোদি, ট্রাম্প এবং আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিতর্কে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী কেন প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিবাদ করছেন না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এছাড়াও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং আদানি সংক্রান্ত মার্কিন মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল একটি রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পর আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।

তবে এই বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং মার্কিন আদালতে কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে চলা মামলা - এগুলি পৃথক আইনি ও কূটনৈতিক বিষয়। একটি ঘটনার সঙ্গে অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং সরকারি বক্তব্য প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও চুক্তির বিনিময়ে মামলা বন্ধ হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

এবার প্রশ্ন, সাঙ্গুরের এই সভা থেকে কংগ্রেস আসলে কী বার্তা দিতে চাইছে?

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস একই সঙ্গে দুটি স্তরে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিকে জাতীয় স্তরে মোদি সরকারের নীতি, আদানি বিতর্ক, বিদেশনীতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে মাদক, অপরাধ, কৃষক এবং কর্মসংস্থানের ইস্যুকে সামনে এনে নিজেদের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

সাঙ্গুরকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের রাজনৈতিক এলাকা এবং মালওয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২২ সালে এই অঞ্চলে আম আদমি পার্টির শক্তিশালী ফলাফল তাদের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে এখান থেকে কংগ্রেসের প্রচার শুরু করা নিছক একটি জনসভা নয়, বরং সরাসরি শাসক দলের রাজনৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কৌশল।

তবে কংগ্রেসের সামনেও প্রশ্ন কম নয়। শুধু সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেই ভোটারদের আস্থা ফিরে আসে না। মাদক সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা, গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা, কৃষকদের জন্য কী অর্থনৈতিক নীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য কী উদ্যোগ এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি সামলানোর রূপরেখা কী - এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে হবে কংগ্রেসকে।

অন্যদিকে আম আদমি পার্টির কাছেও ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপির সামনে রয়েছে পাঞ্জাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ ২০২৭ সালের পাঞ্জাব নির্বাচন কেবল কংগ্রেস বনাম আম আদমি পার্টির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

সবশেষে ফিরে আসি মূল প্রশ্নে - আগামী এক বছরের মধ্যে কি সত্যিই মোদি সরকারের পতন হতে পারে?

এই মুহূর্তে তার কোনও নিশ্চিত ভিত্তি নেই। তবে জোট রাজনীতির বাস্তবতায় শরিকদের অবস্থান, সংসদীয় সংখ্যার পরিবর্তন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৭ সালের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলের সাফল্য বা ব্যর্থতা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটায় না।

সাঙ্গুরের ইনসাফ র‍্যালি তাই একদিকে পাঞ্জাবের ২০২৭ সালের নির্বাচনের প্রচারের সূচনা, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের নতুন আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রকাশ। রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের পতনের পূর্বাভাস দিয়েছেন, কিন্তু সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তার উত্তর দেবে সংসদীয় অঙ্ক এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ।

ভারতের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কে কাকে আক্রমণ করছে, তা নয়। বরং রাজনৈতিক দলগুলি দেশের মানুষের সামনে বাস্তব সমস্যার কতটা কার্যকর সমাধান তুলে ধরতে পারছে, সেটাই শেষ পর্যন্ত জনসমর্থনের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


এক বছরের মধ্যে মোদি সরকারের পতন? সাঙ্গুর থেকে রাহুলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

পাঞ্জাবের সাঙ্গুর থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বক্তব্য শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আক্রমণ নয়, বরং ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একদিকে মোদি সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে রাহুলের পূর্বাভাস, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, আদানি বিতর্ক, মাদক পাচার, গ্যাংস্টারদের প্রভাব এবং পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে সাঙ্গুরের ইনসাফ র‍্যালি এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়।

প্রথমেই আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে। সত্যিই কি আগামী এক বছরের মধ্যে মোদি সরকারের পতন ঘটতে পারে? রাহুল গান্ধী সাঙ্গুরের সভায় বলেছেন, তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী আগামী এক বছরও কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার টিকবে না। তবে এই বক্তব্যকে আপাতত রাজনৈতিক পূর্বাভাস হিসেবেই দেখতে হবে, নিশ্চিত রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে নয়।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৪০টি আসন পেয়েছিল। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তারা একা পায়নি। এনডিএর শরিকদের সমর্থনে সরকার গঠিত হয়। তেলুগু দেশম পার্টির ১৬ এবং জেডিইউয়ের ১২টি আসন এই সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ মোদি সরকারের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে শরিকদের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু শরিক দলগুলি সমর্থন প্রত্যাহার না করলে কিংবা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন না ঘটলে শুধু বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণে কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটবে না। লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যই হবে আসল পরীক্ষা। তাই রাহুলের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট সংসদীয় পরিস্থিতি।

এবার আসা যাক ২০২৭ সালের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, গোয়া এবং মণিপুর - এই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে। কারণ এই নির্বাচনগুলিকে কেন্দ্র করে বিজেপি, কংগ্রেস এবং আঞ্চলিক দলগুলির রাজনৈতিক শক্তি ও জনসমর্থনের পরীক্ষা হবে।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। কেন? কারণ লোকসভায় উত্তরপ্রদেশের আসন সংখ্যা ৮০, যা দেশের অন্য যেকোনও রাজ্যের তুলনায় বেশি। বিজেপির জাতীয় রাজনৈতিক শক্তির হিসাব করতে গেলে উত্তরপ্রদেশকে বাদ দেওয়া যায় না।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি পেয়েছিল ৩৩টি আসন। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি পেয়েছিল ৩৭টি এবং কংগ্রেস পেয়েছিল ৬টি আসন। এই ফলাফল দেখিয়েছিল, বিরোধী দলগুলির সমন্বয় এবং সামাজিক সমীকরণ বিজেপির সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করতে পারে। তবে লোকসভা নির্বাচনের ফল সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে না। ২০২৭ সালে বিজেপির সামনে যেমন ক্ষমতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকবে, তেমনই বিরোধীদের সামনে থাকবে আসন সমঝোতা, নেতৃত্ব এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পরীক্ষা।

এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর নির্বাচনী লড়াইয়ের চরিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে। অন্যদিকে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি, সরকারের কাজ, মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং সামাজিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। অতএব উত্তরপ্রদেশকে কেন্দ্র করে এখনই কোনও পক্ষের জয় বা পরাজয় ঘোষণা করার সুযোগ নেই।

পাঞ্জাবের পরিস্থিতি আবার সম্পূর্ণ আলাদা। ২০২২ সালে আম আদমি পার্টি ১১৭ আসনের বিধানসভায় ৯২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ক্ষমতা হারায়। এবার ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী সাঙ্গুর থেকেই পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলাকে প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে সামনে আনলেন।

সাঙ্গুরের সভায় মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে রাহুল অভিযোগ করেন, যিনি রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করবেন, তাঁর নিজের আচরণ নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সংসদে একসঙ্গে থাকার সময় ভগবন্ত মানের মুখে মদের গন্ধ পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনও স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এটিকে রাহুলের ব্যক্তিগত দাবি হিসেবেই দেখতে হবে, প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়।

কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরে পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা যে একটি বাস্তব সামাজিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, তা অস্বীকার করা যায় না। সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় মাদক পাচার, আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র, স্থানীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেশার বিস্তার - সবকটি বিষয়ই প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এখানেই রাহুল গান্ধী অমিত শাহের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করার যে লক্ষ্যের কথা বলেছেন, তার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গুজরাটের আদানি পরিচালিত বন্দরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের প্রসঙ্গ সামনে আনেন। তার প্রশ্ন, এত বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পর তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের ফল কী?

এই প্রশ্নের দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত, বন্দরে মাদক উদ্ধার হলে তার উৎস, পাচারকারীদের নেটওয়ার্ক, অর্থের জোগান এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, কোনও বন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থার নাম সামনে এলেই সেই সংস্থার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়ে যায় না। তদন্তে কারা জড়িত, কীভাবে মাদক এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসা জরুরি।

একইভাবে অমিত শাহের বিরুদ্ধে জেলে থাকা গ্যাংস্টারদের মদত দেওয়ার যে অভিযোগ রাহুল তুলেছেন, তারও স্বাধীন প্রমাণ প্রয়োজন। রাজনৈতিক মঞ্চে এমন অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও অভিযোগ এবং প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রসঙ্গও এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। পাঞ্জাবি গায়ক ও কংগ্রেস নেতা সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছিল। কানাডাভিত্তিক গোল্ডি ব্রারকেও এই মামলায় অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২২ সালের ২৯ মে মুসেওয়ালাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

রাহুল গান্ধী সাঙ্গুরে মুসেওয়ালার বাবাকে সামনে রেখে এই হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। তার বক্তব্য, পাঞ্জাবে অপরাধী চক্রের প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে প্রতিভাবান মানুষও নিরাপদ নন। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, একটি নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং গোটা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন এক বিষয় নয়। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার, বিচার এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকারিতা - সবকিছুর পরিসংখ্যান একসঙ্গে বিচার করতে হবে।

এবার আসা যাক মোদি, ট্রাম্প এবং আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিতর্কে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ থামানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী কেন প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিবাদ করছেন না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এছাড়াও আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা এবং আদানি সংক্রান্ত মার্কিন মামলার প্রসঙ্গ তুলে রাহুল একটি রাজনৈতিক যোগসূত্রের অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার পর আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলার পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে।

তবে এই বক্তব্যের ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং মার্কিন আদালতে কোনও সংস্থার বিরুদ্ধে চলা মামলা - এগুলি পৃথক আইনি ও কূটনৈতিক বিষয়। একটি ঘটনার সঙ্গে অন্যটির সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং সরকারি বক্তব্য প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও চুক্তির বিনিময়ে মামলা বন্ধ হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

এবার প্রশ্ন, সাঙ্গুরের এই সভা থেকে কংগ্রেস আসলে কী বার্তা দিতে চাইছে?

রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেস একই সঙ্গে দুটি স্তরে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিকে জাতীয় স্তরে মোদি সরকারের নীতি, আদানি বিতর্ক, বিদেশনীতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে মাদক, অপরাধ, কৃষক এবং কর্মসংস্থানের ইস্যুকে সামনে এনে নিজেদের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।

সাঙ্গুরকে বেছে নেওয়ার মধ্যেও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের রাজনৈতিক এলাকা এবং মালওয়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২২ সালে এই অঞ্চলে আম আদমি পার্টির শক্তিশালী ফলাফল তাদের সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। ফলে এখান থেকে কংগ্রেসের প্রচার শুরু করা নিছক একটি জনসভা নয়, বরং সরাসরি শাসক দলের রাজনৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কৌশল।

তবে কংগ্রেসের সামনেও প্রশ্ন কম নয়। শুধু সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেই ভোটারদের আস্থা ফিরে আসে না। মাদক সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা, গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা, কৃষকদের জন্য কী অর্থনৈতিক নীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের জন্য কী উদ্যোগ এবং রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি সামলানোর রূপরেখা কী - এসব প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর দিতে হবে কংগ্রেসকে।

অন্যদিকে আম আদমি পার্টির কাছেও ২০২২ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। বিজেপির সামনে রয়েছে পাঞ্জাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ ২০২৭ সালের পাঞ্জাব নির্বাচন কেবল কংগ্রেস বনাম আম আদমি পার্টির লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই।

সবশেষে ফিরে আসি মূল প্রশ্নে - আগামী এক বছরের মধ্যে কি সত্যিই মোদি সরকারের পতন হতে পারে?

এই মুহূর্তে তার কোনও নিশ্চিত ভিত্তি নেই। তবে জোট রাজনীতির বাস্তবতায় শরিকদের অবস্থান, সংসদীয় সংখ্যার পরিবর্তন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ২০২৭ সালের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনও রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে কোনও দলের সাফল্য বা ব্যর্থতা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের পতন ঘটায় না।

সাঙ্গুরের ইনসাফ র‍্যালি তাই একদিকে পাঞ্জাবের ২০২৭ সালের নির্বাচনের প্রচারের সূচনা, অন্যদিকে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের নতুন আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রকাশ। রাহুল গান্ধী মোদি সরকারের পতনের পূর্বাভাস দিয়েছেন, কিন্তু সেই পূর্বাভাস বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তার উত্তর দেবে সংসদীয় অঙ্ক এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ।

ভারতের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন শুধু কে কাকে আক্রমণ করছে, তা নয়। বরং রাজনৈতিক দলগুলি দেশের মানুষের সামনে বাস্তব সমস্যার কতটা কার্যকর সমাধান তুলে ধরতে পারছে, সেটাই শেষ পর্যন্ত জনসমর্থনের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত