তীব্র জনবল সংকট মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বড় ধরনের পদক্ষেপে এগোচ্ছে জাপান।
দেশটির ‘সোসাইটি ৫.০’ মহাপরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি খাতে তৈরি হয়েছে বিদেশি প্রকৌশলীদের বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। জাপানের এই প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতেই এখন নজর বাংলাদেশের।
দেশটির এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চার দিনের জাপান সফরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন ঘটলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন) জাপানি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিনিয়োগ পুরোপুরি কার্যকর হলে দেশের শিল্প ও সেবা খাতে অন্তত দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
জাপানের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জনসংখ্যা হ্রাস ও প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার (প্রায় ৮ লাখ) আইটি কর্মীর বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। কাজের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার স্পেসের সঙ্গে বাস্তব জগতের সমন্বয় ঘটিয়ে ‘সোসাইটি ৫.০’ গড়ে তুলতে জাপান এখন উন্মুক্তভাবে বিদেশি সফটওয়্যার, এআই, রোবোটিক্স ও ক্লাউড বিশেষজ্ঞদের খুঁজছে।
এই তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ববাজারে ভারত, ভিয়েতনাম ও নেপালের মতো দেশগুলো নিজেদের অবস্থান পোক্ত করলেও বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। যেখানে সফটওয়্যার ও আইটি আউটসোর্সিংয়ে জাপানের বার্ষিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজারের প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ একা ভিয়েতনাম দখল করে নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব এখনো নামমাত্র। একই সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ফিলিপাইনের পেশাজীবীরা জাপানের করপোরেট সংস্কৃতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ২০২৬ সালের তথ্যমতে, বর্তমানে জাপানে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন ও কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই শিক্ষার্থী, যারা ভাষা শিক্ষা বা উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায়। কিন্তু সম্ভাবনাময় এই বাজারে জাপানের মূল আইটি খাতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র হাজারখানেক বাংলাদেশি প্রকৌশলী।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, বর্তমানে রাকুতেনসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক বাংলাদেশি আইটি প্রকৌশলী কাজ করছেন। দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে সরকার এখন ‘জাপান সেল’-এর মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে জাপানের বাজারে প্রবেশ করা অসম্ভব। তাদের মতে, বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং জাপানের শ্রমবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আইটি শিক্ষার আধুনিকায়ন ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জাপানে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের জন্য জাপানে বার্ষিক ৪০ লাখ থেকে ২ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বেতনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই বাজারে টিকতে হলে কেবল ভাষাগত দক্ষতা নয়, বরং গভীর প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রায়োগিক দক্ষতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এই বিষয়ে জাপানে বসবাসকারী সিমেন্সে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাসান মাহবুব সংবাদকে বলেন, ‘বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে কারিগরি দক্ষতা থাকলে ভালো বেতনে কাজ করা সম্ভব, তবে স্থানীয় কোম্পানিতে এন-টু পর্যায়ের জাপানি ভাষা দক্ষতা জরুরি। তবে প্রযুক্তিতে অর্থাৎ কারিগরি দক্ষতায় ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে এখানে টিকে থাকা যাবে না, একদম বাস্তবসম্মত, প্রকল্পভিত্তিক ও প্রায়োগিক দক্ষতা থাকতে হবে।’
২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে টোকিও সফর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৪টি সমঝোতা স্মারক, ২টি অনুদান চুক্তি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডার তথ্য অনুযায়ী, এসব সমঝোতার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাপানি অটোমোবাইল জায়ান্ট টয়োটার বাংলাদেশে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি অ্যাসেম্বলিং কারখানা স্থাপন এবং পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর (ফাস্ট রিটেইলিং) রফতানি ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা। এছাড়া জ্বালানি খাতে ‘জেরা’ ও মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির সাথে পরিবেশবান্ধব এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।
সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (ইপিএ) ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও, বিনিময়ে বাংলাদেশকে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি শিল্পপণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। এটি দেশীয় হালকা প্রকৌশল ও অ্যাসেম্বলিং খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া জাপানি ঋণের সুদের হার আগের ০.০১% থেকে বেড়ে ক্ষেত্রবিশেষে ১% থেকে ৩% হওয়া এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা অনুদানের ফলে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে।
সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, ‘বিনিয়োগের এই প্রতিশ্রুতিগুলো যেন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। ঋণের উচ্চ সুদের হার নিয়ন্ত্রণ এবং ইপিএ চুক্তিতে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং তথাকথিত দালাল চক্র নির্মূল করে এই বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে তা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর পর এই সম্পর্ক সাম্প্রতিককালে নতুন উচ্চতা পায়। বিশেষ করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এবং মেট্রোরেল সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
তীব্র জনবল সংকট মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স ও ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে বড় ধরনের পদক্ষেপে এগোচ্ছে জাপান।
দেশটির ‘সোসাইটি ৫.০’ মহাপরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি খাতে তৈরি হয়েছে বিদেশি প্রকৌশলীদের বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। জাপানের এই প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতেই এখন নজর বাংলাদেশের।
দেশটির এই প্রযুক্তিগত বিপ্লবকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চার দিনের জাপান সফরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে, তার সঠিক বাস্তবায়ন ঘটলে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন) জাপানি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিনিয়োগ পুরোপুরি কার্যকর হলে দেশের শিল্প ও সেবা খাতে অন্তত দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে।
জাপানের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জনসংখ্যা হ্রাস ও প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার (প্রায় ৮ লাখ) আইটি কর্মীর বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। কাজের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং সাইবার স্পেসের সঙ্গে বাস্তব জগতের সমন্বয় ঘটিয়ে ‘সোসাইটি ৫.০’ গড়ে তুলতে জাপান এখন উন্মুক্তভাবে বিদেশি সফটওয়্যার, এআই, রোবোটিক্স ও ক্লাউড বিশেষজ্ঞদের খুঁজছে।
এই তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ববাজারে ভারত, ভিয়েতনাম ও নেপালের মতো দেশগুলো নিজেদের অবস্থান পোক্ত করলেও বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। যেখানে সফটওয়্যার ও আইটি আউটসোর্সিংয়ে জাপানের বার্ষিক ৩০ বিলিয়ন ডলারের বাজারের প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ একা ভিয়েতনাম দখল করে নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব এখনো নামমাত্র। একই সঙ্গে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ফিলিপাইনের পেশাজীবীরা জাপানের করপোরেট সংস্কৃতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ২০২৬ সালের তথ্যমতে, বর্তমানে জাপানে প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন ও কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজারই শিক্ষার্থী, যারা ভাষা শিক্ষা বা উচ্চতর ডিগ্রি শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের অপেক্ষায়। কিন্তু সম্ভাবনাময় এই বাজারে জাপানের মূল আইটি খাতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র হাজারখানেক বাংলাদেশি প্রকৌশলী।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, বর্তমানে রাকুতেনসহ বিভিন্ন শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে সহস্রাধিক বাংলাদেশি আইটি প্রকৌশলী কাজ করছেন। দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে সরকার এখন ‘জাপান সেল’-এর মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে জাপানের বাজারে প্রবেশ করা অসম্ভব। তাদের মতে, বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি এবং জাপানের শ্রমবাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, আইটি শিক্ষার আধুনিকায়ন ও নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই এখন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জাপানে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, এআই ও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের জন্য জাপানে বার্ষিক ৪০ লাখ থেকে ২ কোটি ইয়েন পর্যন্ত বেতনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই বাজারে টিকতে হলে কেবল ভাষাগত দক্ষতা নয়, বরং গভীর প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রায়োগিক দক্ষতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এই বিষয়ে জাপানে বসবাসকারী সিমেন্সে কর্মরত আইটি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাসান মাহবুব সংবাদকে বলেন, ‘বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে কারিগরি দক্ষতা থাকলে ভালো বেতনে কাজ করা সম্ভব, তবে স্থানীয় কোম্পানিতে এন-টু পর্যায়ের জাপানি ভাষা দক্ষতা জরুরি। তবে প্রযুক্তিতে অর্থাৎ কারিগরি দক্ষতায় ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে এখানে টিকে থাকা যাবে না, একদম বাস্তবসম্মত, প্রকল্পভিত্তিক ও প্রায়োগিক দক্ষতা থাকতে হবে।’
২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে টোকিও সফর করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৪টি সমঝোতা স্মারক, ২টি অনুদান চুক্তি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডার তথ্য অনুযায়ী, এসব সমঝোতার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাপানি অটোমোবাইল জায়ান্ট টয়োটার বাংলাদেশে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি অ্যাসেম্বলিং কারখানা স্থাপন এবং পোশাক খাতের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর (ফাস্ট রিটেইলিং) রফতানি ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা। এছাড়া জ্বালানি খাতে ‘জেরা’ ও মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির সাথে পরিবেশবান্ধব এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়েও চুক্তি হয়েছে।
সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (ইপিএ) ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও, বিনিময়ে বাংলাদেশকে ১ হাজার ৩৯টি জাপানি শিল্পপণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে। এটি দেশীয় হালকা প্রকৌশল ও অ্যাসেম্বলিং খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া জাপানি ঋণের সুদের হার আগের ০.০১% থেকে বেড়ে ক্ষেত্রবিশেষে ১% থেকে ৩% হওয়া এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা অনুদানের ফলে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে।
সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, ‘বিনিয়োগের এই প্রতিশ্রুতিগুলো যেন কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। ঋণের উচ্চ সুদের হার নিয়ন্ত্রণ এবং ইপিএ চুক্তিতে দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এবং তথাকথিত দালাল চক্র নির্মূল করে এই বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে তা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানে ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে প্রমাণিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর পর এই সম্পর্ক সাম্প্রতিককালে নতুন উচ্চতা পায়। বিশেষ করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এবং মেট্রোরেল সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন