সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিতে হবে দিল্লিকে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিতে হবে দিল্লিকে
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

​বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঢাকা ও নতুন দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে বিদ্যমান টানাপোড়েনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসায় দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে ভারতকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পারুল চন্দ্রা।

তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই প্রতিবেশীর বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক ও পুনর্গঠন করতে হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অত্যন্ত জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত এক বিশেষ বিশ্লেষণী নিবন্ধে ভারতীয় এই সাংবাদিক ও বিশ্লেষক বলেন, "বাংলাদেশের মতো কাছের একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ভারতের কৌশলগত স্বার্থের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর। একইভাবে বাংলাদেশের জন্যও বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই দেশের মধ্যে শুধু ভৌগোলিক সম্পর্ক নয়, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।"
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে লেখেন, "দুই দেশই এখন নভেম্বরের শেষ দিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আয়োজন করতে চাইছে। তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য ঢাকাকে যে ধরনের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, নতুন দিল্লিকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ভারত যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন চীন ভারতের ছেড়ে দেওয়া যে কোনো কৌশলগত জায়গা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে ব্যবহার করতে প্রস্তুত।"
​নিবন্ধে তিনি বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ভিন্নতা ও বাংলাদেশের বর্তমান মুক্ত পররাষ্ট্রনীতির চিত্র তুলে ধরে লেখেন, "তারেক রহমানের সরকার 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলেছে।"
একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় জটিলতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি চিহ্নিত করে তিনি লেখেন, "স্পষ্টতই আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। অথবা নতুন দিল্লি হয়তো মনে করেছিল, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগকে তারা উপেক্ষা করতে পারবে। কারণ যেটাই হোক, বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা।"
​বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, শরণার্থী কেন্দ্রিক বক্তব্য ও তিস্তা-গঙ্গাসহ নানা ইস্যুর ওপর আলোকপাত করে প্রবীণ এই সাংবাদিক যোগ করেন, "বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। তাকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির বিষয়টি সামলাতে হচ্ছে। ফলে তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কোনো সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নিলে তা তার জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।"
তবে উভয় দেশের যৌথ ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থেই অতীত ভুলে কূটনৈতিক পথ সুগম করার তাগিদ দিয়ে পারুল চন্দ্রা স্পষ্ট মন্তব্য করেন, "ভারত বলছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য বা ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দুই দেশের পুরো সম্পর্ককে আটকে রাখা উচিত নয়। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো করে দেখার সুযোগ ভারতের নেই। কারণ এ অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বরফ গলাতে উদ্যোগ নিতে হবে দিল্লিকে

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঢাকা ও নতুন দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে বিদ্যমান টানাপোড়েনে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসায় দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে ভারতকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পারুল চন্দ্রা।

তিনি উল্লেখ করেছেন, দুই প্রতিবেশীর বহুমাত্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক ও পুনর্গঠন করতে হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তার একটি ফলপ্রসূ বৈঠক অত্যন্ত জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত এক বিশেষ বিশ্লেষণী নিবন্ধে ভারতীয় এই সাংবাদিক ও বিশ্লেষক বলেন, "বাংলাদেশের মতো কাছের একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব ভারতের কৌশলগত স্বার্থের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর। একইভাবে বাংলাদেশের জন্যও বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই দেশের মধ্যে শুধু ভৌগোলিক সম্পর্ক নয়, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থও পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।"
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে লেখেন, "দুই দেশই এখন নভেম্বরের শেষ দিকে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আয়োজন করতে চাইছে। তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য ঢাকাকে যে ধরনের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন, নতুন দিল্লিকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ভারত যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে বাংলাদেশে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন চীন ভারতের ছেড়ে দেওয়া যে কোনো কৌশলগত জায়গা নিজেদের প্রভাব বাড়াতে ব্যবহার করতে প্রস্তুত।"
​নিবন্ধে তিনি বিগত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ভিন্নতা ও বাংলাদেশের বর্তমান মুক্ত পররাষ্ট্রনীতির চিত্র তুলে ধরে লেখেন, "তারেক রহমানের সরকার 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির পাশাপাশি অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলেছে।"
একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় জটিলতার মূল ক্ষেত্র হিসেবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাঁর সামাজিক-রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি চিহ্নিত করে তিনি লেখেন, "স্পষ্টতই আওয়ামী লীগ নেত্রীর বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত ঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। অথবা নতুন দিল্লি হয়তো মনে করেছিল, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগকে তারা উপেক্ষা করতে পারবে। কারণ যেটাই হোক, বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা।"
​বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, শরণার্থী কেন্দ্রিক বক্তব্য ও তিস্তা-গঙ্গাসহ নানা ইস্যুর ওপর আলোকপাত করে প্রবীণ এই সাংবাদিক যোগ করেন, "বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তারেক রহমানের সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে। তাকে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির বিষয়টি সামলাতে হচ্ছে। ফলে তারেক রহমান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কোনো সমঝোতামূলক পদক্ষেপ নিলে তা তার জন্য রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।"
তবে উভয় দেশের যৌথ ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থেই অতীত ভুলে কূটনৈতিক পথ সুগম করার তাগিদ দিয়ে পারুল চন্দ্রা স্পষ্ট মন্তব্য করেন, "ভারত বলছে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক চায়। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্য বা ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দুই দেশের পুরো সম্পর্ককে আটকে রাখা উচিত নয়। বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো করে দেখার সুযোগ ভারতের নেই। কারণ এ অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত