দীর্ঘদিনের দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা ও বহুমুখী মানবিক সংকটের মধ্যে সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়দোয়া শহরে সরকারি বাহিনী এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের অনুগত যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনার পর চলতি সপ্তাহের সোমবারে স্থানীয় হাজারো সশস্ত্র যোদ্ধা বায়দোয়া শহরে প্রবেশ করলে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় বেশ কয়েকজন শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। সংঘর্ষের তীব্রতায় এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "শিশুরাই আবারও এই ধরনের সহিংসতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে।"
সংস্থাটি পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সংঘাতরত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, "অবিলম্বে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে যেকোনো আক্রমণের বাইরে নিরাপদ রেখে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।"
সোমালিয়ার বর্তমান খাদ্য সংকটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষদের জীবনসংগ্রামে। সংঘাতের কারণে স্বজন হারিয়ে পালিয়ে আসা হাও নামের এক ভুক্তভোগী নারী নিজের করুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, "গোলার আঘাতে আমার বাবা নিহত হন এবং পরবর্তীতে চলমান সংঘর্ষেই প্রাণ হারান আমার ভাই। এই পরিস্থিতিতে মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে মোগাদিশুতে পালিয়ে আসি।"
তিনি আরও জানান, চরম অভাব আর অপুষ্টির কারণে তাঁর একমাত্র মেয়েটি বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দশকের পর দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং খরা ও বন্যার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে সোমালিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ লাখ শিশু তীব্র বা গুরুতর অপুষ্টির শিকার। শুধু বায়দোয়া শহরেরই প্রায় ২৬ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারই চরম দারিদ্র্যের কারণে দিনে মাত্র একবার খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকটে মানবিক সহায়তার তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে তারা মানবিক সহায়তার পরিধি আগের চেয়ে বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতি মাসে সোমালিয়ার প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হতো, সেখানে বর্তমানে বাজেট সংকটের কারণে ডব্লিউএফপি মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে কোনোমতে সহায়তা প্রদান করতে পারছে।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
দীর্ঘদিনের দুর্ভিক্ষ, ক্ষুধা ও বহুমুখী মানবিক সংকটের মধ্যে সোমালিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বায়দোয়া শহরে সরকারি বাহিনী এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক আঞ্চলিক প্রেসিডেন্টের অনুগত যোদ্ধাদের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনার পর চলতি সপ্তাহের সোমবারে স্থানীয় হাজারো সশস্ত্র যোদ্ধা বায়দোয়া শহরে প্রবেশ করলে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় বেশ কয়েকজন শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। সংঘর্ষের তীব্রতায় এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "শিশুরাই আবারও এই ধরনের সহিংসতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে।"
সংস্থাটি পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে সংঘাতরত সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, "অবিলম্বে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে যেকোনো আক্রমণের বাইরে নিরাপদ রেখে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে।"
সোমালিয়ার বর্তমান খাদ্য সংকটের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষদের জীবনসংগ্রামে। সংঘাতের কারণে স্বজন হারিয়ে পালিয়ে আসা হাও নামের এক ভুক্তভোগী নারী নিজের করুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, "গোলার আঘাতে আমার বাবা নিহত হন এবং পরবর্তীতে চলমান সংঘর্ষেই প্রাণ হারান আমার ভাই। এই পরিস্থিতিতে মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে মোগাদিশুতে পালিয়ে আসি।"
তিনি আরও জানান, চরম অভাব আর অপুষ্টির কারণে তাঁর একমাত্র মেয়েটি বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দশকের পর দশক ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ব্যাঘাত এবং খরা ও বন্যার মতো জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে সোমালিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ লাখ শিশু তীব্র বা গুরুতর অপুষ্টির শিকার। শুধু বায়দোয়া শহরেরই প্রায় ২৬ হাজার মানুষ দুর্ভিক্ষের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ খাদ্যসংকটের মুখোমুখি রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারই চরম দারিদ্র্যের কারণে দিনে মাত্র একবার খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সংকটে মানবিক সহায়তার তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ফান্ডের অভাবে তারা মানবিক সহায়তার পরিধি আগের চেয়ে বিপুল পরিমাণে কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতি মাসে সোমালিয়ার প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হতো, সেখানে বর্তমানে বাজেট সংকটের কারণে ডব্লিউএফপি মাত্র ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে কোনোমতে সহায়তা প্রদান করতে পারছে।

আপনার মতামত লিখুন