সংবাদ

চলচ্চিত্রে এআই : সময়োপযোগী নীতিমালা ও গবেষণার তাগিদ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

চলচ্চিত্রে এআই : সময়োপযোগী নীতিমালা ও গবেষণার তাগিদ
ছবি : সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত কাঠামো ও অভিজ্ঞতায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। এতে কম খরচে নির্মাণ, নতুন ধাঁচের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এর সঙ্গে মেধাস্বত্ব, নৈতিকতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সভাকক্ষে ‘এআই ও চলচ্চিত্র: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ মতামত তুলে ধরেন। ব্রেইন ল্যাব ও ঢাকা ডকল্যাবের যৌথ উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব করিম বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুভ কিংবা অশুভ—যেকোনো উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হতে পারে, যা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবন, জীবনযাত্রা ও কর্মসংস্থানকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের এখনই কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।’

প্রকল্পটির পরামর্শক মামুন অর রশীদ বলেন, ‘এআই মানুষের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করবে—এমন অমূলক ধারণার বদলে এটিকে মানুষের সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখতে হবে। আমাদের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি যদি কেবল ট্র্যাডিশনাল প্র্যাকটিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সময়মতো এআইকে অ্যাডাপ্ট না করে, তবে 'ন্যাচারাল সিলেকশনের' মতো করেই পিছিয়ে পড়বে।’

শব্দ প্রকৌশলী রিপন নাথ বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণের জটিল কাজগুলোকে সহজ ও দ্রুত করতে পারে। কিন্তু মানুষের নিজস্ব চিন্তা ও অনুভূতি থেকে তৈরি হওয়া 'অনন্য সৃজনশীলতা' এআই কখনোই ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘এআই ব্যবহারের ফলে স্বল্প খরচে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের পথ সুগম হচ্ছে, যা আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এআইকে কাজে লাগাতে হবে।’

ঢাকা ডকল্যাবের পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক আহমেদের সঞ্চালনায় বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন ঢাকা ডকল্যাবের ট্রাস্টি ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

গোলটেবিল বৈঠকে সীবস সলিউশনের প্রতিষ্ঠাতা হাসিব হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক খন্দকার রুবায়েত মুরসালিন, গোপী বাঘা প্রোডাকশনের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মুক্ত আলোচনায় শিক্ষক, তরুণ নির্মাতা, প্রযোজক ও ফ্রিল্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা এআই ব্যবহারের নানা অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


চলচ্চিত্রে এআই : সময়োপযোগী নীতিমালা ও গবেষণার তাগিদ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত কাঠামো ও অভিজ্ঞতায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। এতে কম খরচে নির্মাণ, নতুন ধাঁচের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তবে এর সঙ্গে মেধাস্বত্ব, নৈতিকতা, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চলচ্চিত্র ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) সভাকক্ষে ‘এআই ও চলচ্চিত্র: বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ মতামত তুলে ধরেন। ব্রেইন ল্যাব ও ঢাকা ডকল্যাবের যৌথ উদ্যোগে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব করিম বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুভ কিংবা অশুভ—যেকোনো উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হতে পারে, যা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। এআই আমাদের দৈনন্দিন জীবন, জীবনযাত্রা ও কর্মসংস্থানকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে প্রভাবিত করছে। এই বাস্তবতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের এখনই কার্যকর প্রস্তুতি নিতে হবে।’

প্রকল্পটির পরামর্শক মামুন অর রশীদ বলেন, ‘এআই মানুষের সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করবে—এমন অমূলক ধারণার বদলে এটিকে মানুষের সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে দেখতে হবে। আমাদের ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি যদি কেবল ট্র্যাডিশনাল প্র্যাকটিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং সময়মতো এআইকে অ্যাডাপ্ট না করে, তবে 'ন্যাচারাল সিলেকশনের' মতো করেই পিছিয়ে পড়বে।’

শব্দ প্রকৌশলী রিপন নাথ বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণের জটিল কাজগুলোকে সহজ ও দ্রুত করতে পারে। কিন্তু মানুষের নিজস্ব চিন্তা ও অনুভূতি থেকে তৈরি হওয়া 'অনন্য সৃজনশীলতা' এআই কখনোই ফুটিয়ে তুলতে পারবে না।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, ‘এআই ব্যবহারের ফলে স্বল্প খরচে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণের পথ সুগম হচ্ছে, যা আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপনের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এআইকে কাজে লাগাতে হবে।’

ঢাকা ডকল্যাবের পরিচালক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক আহমেদের সঞ্চালনায় বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন ঢাকা ডকল্যাবের ট্রাস্টি ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

গোলটেবিল বৈঠকে সীবস সলিউশনের প্রতিষ্ঠাতা হাসিব হাসান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষক খন্দকার রুবায়েত মুরসালিন, গোপী বাঘা প্রোডাকশনের প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মুক্ত আলোচনায় শিক্ষক, তরুণ নির্মাতা, প্রযোজক ও ফ্রিল্যান্সারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা এআই ব্যবহারের নানা অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত