কষ্টের উপার্জনে কেনা দুটি ছাগল নিজের শ্রম ও যত্নে লালন-পালন করে সংখ্যাটি সাতে নিয়েছিলেন দিনমজুর শহিদুল ইসলাম। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই একদিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফেরাবে। তবে অপচিকিৎসায় মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। গ্রাম্য চিকিৎসকের ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার পরপরই ঢলে পড়ে মারা গেছে তার চারটি উন্নত জাতের গর্ভবতী ছাগল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মেসন্ডা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের। ঘটনার পর অভিযুক্ত গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর ও ভ্যানচালক। কষ্টার্জিত টাকায় কেনা ছাগলগুলোর মধ্যে চারটি গর্ভবতী হওয়ায় বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। তবে গত দুদিন আগে ছাগলগুলো সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক সোহেলের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ ওঠে, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সোহেল ছাগলগুলোকে একসঙ্গে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ দেন। এরপরই তিনটি ছাগল কাঁপুনি দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া চতুর্থ ছাগলটিও বিকেলে মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, 'শহিদুল অনেক কষ্টে ভ্যান চালিয়ে ছাগলগুলো বড় করছিলেন। গ্রামে কোনো সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া কিছু মানুষ গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতি করছে, প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।'
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল দাবি করেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হওয়ায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা ও কৃমিনাশক ওষুধ দিয়েছিলেন। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ বা প্রশিক্ষণের কথা জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ জানান, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। না বুঝে বা লক্ষণ না দেখে চিকিৎসা দিলে প্রাণহানি ঘটতে পারে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
কষ্টের উপার্জনে কেনা দুটি ছাগল নিজের শ্রম ও যত্নে লালন-পালন করে সংখ্যাটি সাতে নিয়েছিলেন দিনমজুর শহিদুল ইসলাম। স্বপ্ন ছিল, ছাগলগুলোই একদিন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফেরাবে। তবে অপচিকিৎসায় মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। গ্রাম্য চিকিৎসকের ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ দেওয়ার পরপরই ঢলে পড়ে মারা গেছে তার চারটি উন্নত জাতের গর্ভবতী ছাগল।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের মেসন্ডা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের। ঘটনার পর অভিযুক্ত গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর ও ভ্যানচালক। কষ্টার্জিত টাকায় কেনা ছাগলগুলোর মধ্যে চারটি গর্ভবতী হওয়ায় বাড়তি আয়ের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। তবে গত দুদিন আগে ছাগলগুলো সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক সোহেলের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ ওঠে, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সোহেল ছাগলগুলোকে একসঙ্গে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ দেন। এরপরই তিনটি ছাগল কাঁপুনি দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া চতুর্থ ছাগলটিও বিকেলে মারা যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, 'শহিদুল অনেক কষ্টে ভ্যান চালিয়ে ছাগলগুলো বড় করছিলেন। গ্রামে কোনো সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া কিছু মানুষ গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতি করছে, প্রশাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।'
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল দাবি করেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হওয়ায় তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা ও কৃমিনাশক ওষুধ দিয়েছিলেন। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ বা প্রশিক্ষণের কথা জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ জানান, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। না বুঝে বা লক্ষণ না দেখে চিকিৎসা দিলে প্রাণহানি ঘটতে পারে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন