সংবাদ

এ বছর শীত দেরিতে আসার সম্ভাবনার কারণ কি


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

এ বছর শীত দেরিতে আসার সম্ভাবনার কারণ কি
ছবি : সংবাদ

চলতি বছর দেশে শীতের আগমন কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু বিদায়ে বিলম্বের কারণেই এবার শীত দেরিতে আসছে বলে জানিয়েছে বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়।

সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। তবে এবার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এখনও দিন ও রাতে গরম অনুভূত হচ্ছে। বরিশাল বিভাগজুড়ে এখন বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে–কোথাও মেঘলা আকাশ, আবার কোথাও হঠাৎ বৃষ্টি। রাতে গরমে অস্বস্তি থাকলেও ভোরের দিকে আবার গ্রামগুলোতে হালকা কুয়াশার দেখা মিলছে।

এমন আবহাওয়ার বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব পরিচালক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, 'দিনে রোদ, হঠাৎ বৃষ্টি, আবার রাতে গরমে ঘুমানো যাচ্ছে না। ভোরের দিকে আবার গ্রামে কুয়াশা পড়ছে। আবহাওয়ার এমন অদ্ভুত আচরণ আগে দেখিনি।'

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেরিতে বিদায় নিয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে উত্তর থেকে ঠান্ডা হিমেল হাওয়া দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারছে না। তবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং শীতের আবহ তৈরি হতে পারে।

এদিকে 'এল নিনো' শক্তিশালী থাকায় এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে বলে আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের। এ অবস্থা তৈরি হলে শীতকালীন কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, শীতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা কমে গেলে আলু, ভুট্টা, সরিষা ও টমেটোর মতো ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এসব ফসলের মানসম্মত ফলনের জন্য ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা বেশি থাকলে আগাম ফল পেকে গিয়ে হেক্টরপ্রতি ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


এ বছর শীত দেরিতে আসার সম্ভাবনার কারণ কি

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চলতি বছর দেশে শীতের আগমন কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু বিদায়ে বিলম্বের কারণেই এবার শীত দেরিতে আসছে বলে জানিয়েছে বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়।

সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। তবে এবার বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় এখনও দিন ও রাতে গরম অনুভূত হচ্ছে। বরিশাল বিভাগজুড়ে এখন বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে–কোথাও মেঘলা আকাশ, আবার কোথাও হঠাৎ বৃষ্টি। রাতে গরমে অস্বস্তি থাকলেও ভোরের দিকে আবার গ্রামগুলোতে হালকা কুয়াশার দেখা মিলছে।

এমন আবহাওয়ার বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব পরিচালক আতিকুর রহমান আতিক বলেন, 'দিনে রোদ, হঠাৎ বৃষ্টি, আবার রাতে গরমে ঘুমানো যাচ্ছে না। ভোরের দিকে আবার গ্রামে কুয়াশা পড়ছে। আবহাওয়ার এমন অদ্ভুত আচরণ আগে দেখিনি।'

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, চলতি বছর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেরিতে বিদায় নিয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে উত্তর থেকে ঠান্ডা হিমেল হাওয়া দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারছে না। তবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে এবং শীতের আবহ তৈরি হতে পারে।

এদিকে 'এল নিনো' শক্তিশালী থাকায় এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব তুলনামূলক কম হতে পারে বলে আশঙ্কা আবহাওয়াবিদদের। এ অবস্থা তৈরি হলে শীতকালীন কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, শীতের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা কমে গেলে আলু, ভুট্টা, সরিষা ও টমেটোর মতো ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এসব ফসলের মানসম্মত ফলনের জন্য ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাপমাত্রা বেশি থাকলে আগাম ফল পেকে গিয়ে হেক্টরপ্রতি ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত