সংবাদ

শরতের শেষেই পঞ্চগড়ে শীতের পরশ, রাতে বাড়ছে ঠান্ডা


প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম

শরতের শেষেই পঞ্চগড়ে শীতের পরশ, রাতে বাড়ছে ঠান্ডা
উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শীতের পরশ। ছবি : সংবাদ

দিনে রোদের তেজ, কিন্তু সূর্য ডুবতেই বইছে হিমেল বাতাস। রাত গভীর হতেই গায়ে চাপাতে হচ্ছে কাঁথা বা পাতলা চাদর, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু। কোথাও কোথাও আবার হালকা কুয়াশার আবছা পর্দা। শরতের আকাশে এখনো সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ালেও উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

গত কয়েক দিন ধরে জেলাজুড়ে দিন ও রাতের আবহাওয়ায় স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। দুপুরে বেশ গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই নামছে শীতলতা। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের দিকে ঠান্ডা বেশি টের পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বদলে যাচ্ছে মেঠো পথ ও জনপদের চেনা রূপ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু নিষ্ক্রিয় হওয়া ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিবর্তনের কারণে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় বেশ বৃষ্টিপাতও হয়েছিল।

হিমালয়ের কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে বরাবরই শীতের আগমন ঘটে কিছুটা আগেভাগে। এবারও শরতের শেষভাগেই রাতের বাতাসে মিলছে শীতের আভাস। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে অনেকেই সঙ্গে রাখছেন ফুলহাতা শার্ট বা হালকা চাদর। মোটরসাইকেলসহ খোলা যানবাহনে চলাচলকারীদের কাছে রাতের ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

জেলা সদরের বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘দিনের বেলায় বেশ গরম থাকে, কিন্তু সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলেই গায়ে ঠান্ডা বাতাস লাগে। বিশেষ করে রাতে মোটরসাইকেলে চলার সময় ঠান্ডা বেশি লাগে। তাই এখন বাইরে বের হওয়ার সময় পাতলা চাদর বা ফুলহাতা পোশাক সাথে রাখছি।’

এদিকে শীতের আগাম আভাসে পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে পূর্বপ্রস্তুতি। কেউ পুরোনো লেপ-তোষক রোদে দিচ্ছেন, কেউ আবার নতুন করে বানানোর জন্য লেপ তোষকের দোকানে খোঁজখবর নিচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন স্থানীয়রা।

পঞ্চগড়ের মানুষের কাছে শীত কেবল একটি ঋতু পরিবর্তন নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনেরও একটি বড় অংশ। রাতের বাতাসে ঠান্ডার পরশ মিলতেই বদলাতে শুরু করেছে যাপনচিত্র।

তবে রাতের শীতলতা বাড়লেও দিনের রোদের তেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ শীত না বলে ঋতু পরিবর্তনের আগাম ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে কুয়াশা আরও ঘন হবে কি না বা শীত কতটা জাঁকিয়ে বসবে, তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর। তবে আপাতত উত্তরের এই জনপদে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে - শীত খুব দূরে নয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


শরতের শেষেই পঞ্চগড়ে শীতের পরশ, রাতে বাড়ছে ঠান্ডা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনে রোদের তেজ, কিন্তু সূর্য ডুবতেই বইছে হিমেল বাতাস। রাত গভীর হতেই গায়ে চাপাতে হচ্ছে কাঁথা বা পাতলা চাদর, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমছে শিশিরবিন্দু। কোথাও কোথাও আবার হালকা কুয়াশার আবছা পর্দা। শরতের আকাশে এখনো সাদা মেঘের ভেলা ভেসে বেড়ালেও উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

গত কয়েক দিন ধরে জেলাজুড়ে দিন ও রাতের আবহাওয়ায় স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। দুপুরে বেশ গরম অনুভূত হলেও সন্ধ্যা নামার পর থেকেই নামছে শীতলতা। বিশেষ করে গভীর রাত ও ভোরের দিকে ঠান্ডা বেশি টের পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বদলে যাচ্ছে মেঠো পথ ও জনপদের চেনা রূপ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু নিষ্ক্রিয় হওয়া ও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিবর্তনের কারণে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় বেশ বৃষ্টিপাতও হয়েছিল।

হিমালয়ের কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পঞ্চগড়ে বরাবরই শীতের আগমন ঘটে কিছুটা আগেভাগে। এবারও শরতের শেষভাগেই রাতের বাতাসে মিলছে শীতের আভাস। সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলে অনেকেই সঙ্গে রাখছেন ফুলহাতা শার্ট বা হালকা চাদর। মোটরসাইকেলসহ খোলা যানবাহনে চলাচলকারীদের কাছে রাতের ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

জেলা সদরের বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, ‘দিনের বেলায় বেশ গরম থাকে, কিন্তু সন্ধ্যার পর বাইরে বের হলেই গায়ে ঠান্ডা বাতাস লাগে। বিশেষ করে রাতে মোটরসাইকেলে চলার সময় ঠান্ডা বেশি লাগে। তাই এখন বাইরে বের হওয়ার সময় পাতলা চাদর বা ফুলহাতা পোশাক সাথে রাখছি।’

এদিকে শীতের আগাম আভাসে পরিবারগুলোতে শুরু হয়েছে পূর্বপ্রস্তুতি। কেউ পুরোনো লেপ-তোষক রোদে দিচ্ছেন, কেউ আবার নতুন করে বানানোর জন্য লেপ তোষকের দোকানে খোঁজখবর নিচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই শিশু ও বয়স্কদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন স্থানীয়রা।

পঞ্চগড়ের মানুষের কাছে শীত কেবল একটি ঋতু পরিবর্তন নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনেরও একটি বড় অংশ। রাতের বাতাসে ঠান্ডার পরশ মিলতেই বদলাতে শুরু করেছে যাপনচিত্র।

তবে রাতের শীতলতা বাড়লেও দিনের রোদের তেজ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এটিকে এখনই পূর্ণাঙ্গ শীত না বলে ঋতু পরিবর্তনের আগাম ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে কুয়াশা আরও ঘন হবে কি না বা শীত কতটা জাঁকিয়ে বসবে, তা নির্ভর করবে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর। তবে আপাতত উত্তরের এই জনপদে প্রকৃতি জানান দিচ্ছে - শীত খুব দূরে নয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত