সংবাদ

নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা: দিল্লি পুলিশ প্রধানকে সুপ্রিম কোর্টের তলব


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা: দিল্লি পুলিশ প্রধানকে সুপ্রিম কোর্টের তলব

​দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ সামলানোর সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড়াল দিল্লি পুলিশ।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদমাধ্যমের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ও হেনস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চের স্পষ্ট বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।

​এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা ঘটে 'নেটওয়ার্ক অফ উইমেন ইন মিডিয়া, ইন্ডিয়া' (NWMI)-এর দায়ের করা একটি জরুরি আবেদনের মাধ্যমে। বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন যে, দিল্লির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা, বলপ্রয়োগ এবং বেআইনি আটকের শিকার হতে হচ্ছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে পুলিশ কীভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে আবেদনকারী সংগঠনটি।

​পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন 'ফ্রিডম স্পিচ কালেক্টিভ'-এর পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে সরাসরি অবমাননার অভিযোগ আনেন। তিনি আদালতকে জানান যে, গত ১০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের হেনস্থা না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নিগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে এটি কেবল পুলিশের ভুল আচরণ নয়, বরং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্যের শামিল বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

​দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিককে আদালতে তলব করার পর এখন সবার নজর পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহির দিকে। ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, পুলিশের নিজস্ব বক্তব্য কী এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আগামী শুনানিতে আদালতকে জানাতে হবে।

এর পাশাপাশি, বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের পথ আটকানো, জোর করে সরিয়ে দেওয়া, ভয় দেখানো এবং ক্যামেরা বা মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশিকা জারির দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে সলিসিটর জেনারেলের দপ্তরেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।

​গণতন্ত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমারেখা কতদূর, তা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বিধিনিষেধ আরোপ করতেই পারে, তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগের অর্থ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হতে পারে না।

সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিনে পুলিশের ব্যাখ্যা এবং আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা: দিল্লি পুলিশ প্রধানকে সুপ্রিম কোর্টের তলব

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ সামলানোর সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা করার অভিযোগে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড়াল দিল্লি পুলিশ।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সংবাদমাধ্যমের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগ ও হেনস্থার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে প্রধান বিচারপতির এজলাসে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চের স্পষ্ট বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।

​এই আইনি লড়াইয়ের সূচনা ঘটে 'নেটওয়ার্ক অফ উইমেন ইন মিডিয়া, ইন্ডিয়া' (NWMI)-এর দায়ের করা একটি জরুরি আবেদনের মাধ্যমে। বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন যে, দিল্লির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী সাংবাদিকদের হেনস্থা, বলপ্রয়োগ এবং বেআইনি আটকের শিকার হতে হচ্ছে। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে পুলিশ কীভাবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে, সেই প্রশ্নও তুলেছে আবেদনকারী সংগঠনটি।

​পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন 'ফ্রিডম স্পিচ কালেক্টিভ'-এর পক্ষে আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতে সরাসরি অবমাননার অভিযোগ আনেন। তিনি আদালতকে জানান যে, গত ১০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের হেনস্থা না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নিগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে এটি কেবল পুলিশের ভুল আচরণ নয়, বরং সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্যের শামিল বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা।

​দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিককে আদালতে তলব করার পর এখন সবার নজর পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহির দিকে। ঘটনাস্থলে ঠিক কী ঘটেছিল, পুলিশের নিজস্ব বক্তব্য কী এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আগামী শুনানিতে আদালতকে জানাতে হবে।

এর পাশাপাশি, বিক্ষোভস্থলে সাংবাদিকদের পথ আটকানো, জোর করে সরিয়ে দেওয়া, ভয় দেখানো এবং ক্যামেরা বা মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশিকা জারির দাবি জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে সলিসিটর জেনারেলের দপ্তরেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।

​গণতন্ত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমারেখা কতদূর, তা নিয়ে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বিধিনিষেধ আরোপ করতেই পারে, তবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগের অর্থ সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হতে পারে না।

সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিনে পুলিশের ব্যাখ্যা এবং আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত