সংবাদ

ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপে বাণিজ্য, ক্ষুব্ধ বিএনপিকর্মীরা


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপে বাণিজ্য, ক্ষুব্ধ বিএনপিকর্মীরা
ছবি : সংগৃহীত

 ফরিদপুর সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ডিলারশিপ বণ্টনের বিষয়ে কমিটির একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সদস্য কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে বছরের পর বছর হামলা-মামলার শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোকজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য রাজপথের বহু ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী আবেদন করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় তাদের বড় একটি অংশ ডিলারশিপ পাননি। বঞ্চিতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মিরাজ, তাঁতী দলের ত্যাগী নেতা ও কৈজুরী ইউনিয়নের এডভোকেট মামুন উর রশিদ, ডিগ্রীচর ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ও মো. রুবেল হোসেন দুলালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

অনিয়ম ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই লেখেন, বিগত ১৭ বছর হামলা, মামলা ও অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা। কিন্তু দলীয় প্রভাবের সময়েও ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হলাম। ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটি মোটা অঙ্কের অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের লোকজনকে লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছে।

জানা যায়, সারের ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্য সচিব পদে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এ ছাড়া কমিটিতে উপজেলা প্রাণী কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ত্রাণ কর্মকর্তা, ইউএনওর প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রতিটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা (ভিএস) সরকারি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন।

পাশাপাশি কমিটিতে তিনজন বেসরকারি প্রতিনিধি রয়েছেন—বিএনপির প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. নান্নু মোল্লা এবং কৃষক প্রতিনিধি মফিজুর রহমান।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির একাধিক সদস্য অপারগতা ও না জানার কথা ব্যক্ত করেন। কমিটির সদস্য ও ইউএনওর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিব মামুন বলেন, ‘আমি তো শুধু নামেই কমিটিতে আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত সব জানেন সভাপতি ও সদস্য সচিব স্যার।’ একই সুর কমিটির আরেক সদস্য ও ত্রাণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন পাঞ্জুর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘সারের লাইসেন্স নিয়োগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমাকে একদিন এক কৃষি কর্মকর্তা একটি ইউনিয়নে নিয়ে গিয়েছিলেন, এর বাইরে আমি আর কিছুই বলতে পারব না।’

ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও যুবদল নেতা মো. নান্নু মোল্লা বলেন, ‘কে লাইসেন্স পাবে আর কে পাবে না, তা আমার জানা নেই। আমরা শুধু নামমাত্র কমিটিতে আছি। সবকিছুই পরিচালনা করছেন সভাপতি ও সদস্য সচিব।’

অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কমিটির দুই প্রধান কর্মকর্তার ওপর ঠেলে দেন। তবে অনিয়মের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, ‘যারা ডিলারশিপ পেয়েছেন, তাদের নিয়ম মেনে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই বিএনপির ত্যাগী নেতা।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তদন্তে যাদের কাগজপত্র ও সুযোগ-সুবিধা সঠিক পাওয়া গেছে, তাদেরই সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো টাকা-পয়সা লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। যারা ডিলারশিপ পাননি, তারাই এখন মনগড়া ও মিথ্যাচার করছেন।’ 

সারের ডিলারশিপে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কমিটি সভাপতি মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


ফরিদপুরে সারের ডিলারশিপে বাণিজ্য, ক্ষুব্ধ বিএনপিকর্মীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 ফরিদপুর সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে চরম বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ডিলারশিপ বণ্টনের বিষয়ে কমিটির একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সদস্য কিছুই জানেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে বছরের পর বছর হামলা-মামলার শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোকজনকে ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য রাজপথের বহু ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী আবেদন করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় তাদের বড় একটি অংশ ডিলারশিপ পাননি। বঞ্চিতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মিরাজ, তাঁতী দলের ত্যাগী নেতা ও কৈজুরী ইউনিয়নের এডভোকেট মামুন উর রশিদ, ডিগ্রীচর ইউনিয়নের প্রবীণ বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ও মো. রুবেল হোসেন দুলালসহ প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

অনিয়ম ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই লেখেন, বিগত ১৭ বছর হামলা, মামলা ও অমানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা। কিন্তু দলীয় প্রভাবের সময়েও ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত হলাম। ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটি মোটা অঙ্কের অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের লোকজনকে লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছে।

জানা যায়, সারের ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্য সচিব পদে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। এ ছাড়া কমিটিতে উপজেলা প্রাণী কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ত্রাণ কর্মকর্তা, ইউএনওর প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রতিটি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা (ভিএস) সরকারি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন।

পাশাপাশি কমিটিতে তিনজন বেসরকারি প্রতিনিধি রয়েছেন—বিএনপির প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. নান্নু মোল্লা এবং কৃষক প্রতিনিধি মফিজুর রহমান।

তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির একাধিক সদস্য অপারগতা ও না জানার কথা ব্যক্ত করেন। কমিটির সদস্য ও ইউএনওর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিব মামুন বলেন, ‘আমি তো শুধু নামেই কমিটিতে আছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত সব জানেন সভাপতি ও সদস্য সচিব স্যার।’ একই সুর কমিটির আরেক সদস্য ও ত্রাণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন পাঞ্জুর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘সারের লাইসেন্স নিয়োগের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমাকে একদিন এক কৃষি কর্মকর্তা একটি ইউনিয়নে নিয়ে গিয়েছিলেন, এর বাইরে আমি আর কিছুই বলতে পারব না।’

ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও যুবদল নেতা মো. নান্নু মোল্লা বলেন, ‘কে লাইসেন্স পাবে আর কে পাবে না, তা আমার জানা নেই। আমরা শুধু নামমাত্র কমিটিতে আছি। সবকিছুই পরিচালনা করছেন সভাপতি ও সদস্য সচিব।’

অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কমিটির দুই প্রধান কর্মকর্তার ওপর ঠেলে দেন। তবে অনিয়মের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম।

তিনি দাবি করেন, ‘যারা ডিলারশিপ পেয়েছেন, তাদের নিয়ম মেনে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই বিএনপির ত্যাগী নেতা।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তদন্তে যাদের কাগজপত্র ও সুযোগ-সুবিধা সঠিক পাওয়া গেছে, তাদেরই সুপারিশ করা হয়েছে। কোনো টাকা-পয়সা লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। যারা ডিলারশিপ পাননি, তারাই এখন মনগড়া ও মিথ্যাচার করছেন।’ 

সারের ডিলারশিপে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের নানা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কমিটি সভাপতি মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত