বাগেরহাটের শরণখোলায় ফেসবুক লাইভে এসে কথিত স্বামীর বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জুই আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে শরণখোলা থানা-পুলিশ উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ভাড়াবাসা থেকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে তার কথিত স্বামী মাসুদ খান পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জুই পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পত্তাসী গ্রামের এনায়েত শরীফের মেয়ে। অভিযুক্ত মাসুদ খান শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে ফরিদ ফরাজীর বাড়ির একটি টিনশেড বাসা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেন জুই ও মাসুদ খান। দুই কক্ষের ওই বাসার মাসিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। সেখানে ওঠার পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এতে অন্য ভাড়াটেরাও বিরক্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা করেননি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, দাম্পত্য কলহ ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে জুই মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। নিহতের বড় বোন জুলি বেগম জানান, ১২-১৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মেনাজ হাওলাদারের ছেলে কুয়েতপ্রবাসী আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে জুইয়ের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তবে মাসুদের সঙ্গে জুইয়ের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানতেন না।
জুলি বেগম বলেন, ‘আমার বোনকে মাসুদ খুব নির্যাতন করত বলে শুনেছি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই দিন আগেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তখন তার মেয়েকে আমরা নিজেদের কাছে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
বাড়ির মালিক ফরিদ ফরাজী জানান, গত ৫ অক্টোবর এক কন্যাসন্তানসহ জুই ও মাসুদ বাসাটি ভাড়া নেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই তুমুল ঝগড়া হতো।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, ‘ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জুই নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার কথিত স্বামী মাসুদ খান ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জুইয়ের ফেসবুক লাইভে দেওয়া ভিডিও রেকর্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে নিহতের আগের স্বামীর পরিবার মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পলাতক মাসুদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বাগেরহাটের শরণখোলায় ফেসবুক লাইভে এসে কথিত স্বামীর বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জুই আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে শরণখোলা থানা-পুলিশ উপজেলা সদরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ভাড়াবাসা থেকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে তার কথিত স্বামী মাসুদ খান পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত জুই পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার পত্তাসী গ্রামের এনায়েত শরীফের মেয়ে। অভিযুক্ত মাসুদ খান শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে ফরিদ ফরাজীর বাড়ির একটি টিনশেড বাসা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেন জুই ও মাসুদ খান। দুই কক্ষের ওই বাসার মাসিক ভাড়া ছিল ৩ হাজার ২০০ টাকা। সেখানে ওঠার পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এতে অন্য ভাড়াটেরাও বিরক্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তারা তা করেননি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, দাম্পত্য কলহ ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে জুই মানসিকভাবে অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাসায় ফেরেন। নিহতের বড় বোন জুলি বেগম জানান, ১২-১৩ বছর আগে পারিবারিকভাবে শরণখোলার পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের মেনাজ হাওলাদারের ছেলে কুয়েতপ্রবাসী আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে জুইয়ের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সংসারে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তবে মাসুদের সঙ্গে জুইয়ের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানতেন না।
জুলি বেগম বলেন, ‘আমার বোনকে মাসুদ খুব নির্যাতন করত বলে শুনেছি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই দিন আগেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তখন তার মেয়েকে আমরা নিজেদের কাছে নিয়ে আসি। এ ঘটনায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
বাড়ির মালিক ফরিদ ফরাজী জানান, গত ৫ অক্টোবর এক কন্যাসন্তানসহ জুই ও মাসুদ বাসাটি ভাড়া নেন। এরপর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই তুমুল ঝগড়া হতো।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বলেন, ‘ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জুই নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার কথিত স্বামী মাসুদ খান ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর আগে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে জুইয়ের ফেসবুক লাইভে দেওয়া ভিডিও রেকর্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে নিহতের আগের স্বামীর পরিবার মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পলাতক মাসুদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন