সংবাদ

ঘুষের বিনিময়ে অগ্রিম বিল প্রদানের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

ঘুষের বিনিময়ে অগ্রিম বিল প্রদানের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে
ছবি : সংবাদ

ঠিকাদারের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ১৫ কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান, ৫০ লাখ টাকার পাইপ চুরির নাটক সাজানো এবং বদলির আদেশ অমান্য করে অফিস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, টেন্ডারের শর্ত ভেঙে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন ফয়সাল আলম। কাজ শেষ না হতেই দেড় কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে দুই ঠিকাদারকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, আইন অনুযায়ী এত বিশাল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, নির্মাণাধীন বরিশাল ক্যান্সার হাসপাতালে ৫০ লাখ টাকার তামার পাইপ চুরির নাটক সাজিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামলা করলে তদন্তে নামে পুলিশ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, 'ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫০ লাখ টাকার চুরির দাবি করলেও বাস্তবে সামান্য কিছু পাইপ চুরি হয়েছে, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার মতো হতে পারে। মূল চোরকে আটক করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।' হাসপাতালের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ঠিকমতো মালামাল না কিনে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই চুরির নাটক সাজানো হয়।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৬ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে ফয়সাল আলমকেও ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশ পাওয়ার পর থেকে তিনি কার্যালয়ে না গিয়ে সরকারি বাসভবনে বসেই ফাইল সই করছেন বলে জানা গেছে। তা ছাড়া সরকারি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সরকারি তেলে খুলনা যাতায়াত এবং বরিশাল গণপূর্তের শতবর্ষী প্রাচীন বাংলোর আঙিনায় নিয়মবহির্ভূতভাবে রাতের আঁধারে নতুন পুকুর খননের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল আলম ও গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেদ হুসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়গুলো তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ঘুষের বিনিময়ে অগ্রিম বিল প্রদানের অভিযোগ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঠিকাদারের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে ১৫ কোটি টাকার অগ্রিম বিল প্রদান, ৫০ লাখ টাকার পাইপ চুরির নাটক সাজানো এবং বদলির আদেশ অমান্য করে অফিস ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, টেন্ডারের শর্ত ভেঙে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন ফয়সাল আলম। কাজ শেষ না হতেই দেড় কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে দুই ঠিকাদারকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, আইন অনুযায়ী এত বিশাল অঙ্কের টাকা অগ্রিম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, এতে সরকারের বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, নির্মাণাধীন বরিশাল ক্যান্সার হাসপাতালে ৫০ লাখ টাকার তামার পাইপ চুরির নাটক সাজিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামলা করলে তদন্তে নামে পুলিশ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, 'ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫০ লাখ টাকার চুরির দাবি করলেও বাস্তবে সামান্য কিছু পাইপ চুরি হয়েছে, যার বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার মতো হতে পারে। মূল চোরকে আটক করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।' হাসপাতালের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ঠিকমতো মালামাল না কিনে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই চুরির নাটক সাজানো হয়।

এদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৬ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে ফয়সাল আলমকেও ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশ পাওয়ার পর থেকে তিনি কার্যালয়ে না গিয়ে সরকারি বাসভবনে বসেই ফাইল সই করছেন বলে জানা গেছে। তা ছাড়া সরকারি গাড়ি থাকা সত্ত্বেও সরকারি তেলে খুলনা যাতায়াত এবং বরিশাল গণপূর্তের শতবর্ষী প্রাচীন বাংলোর আঙিনায় নিয়মবহির্ভূতভাবে রাতের আঁধারে নতুন পুকুর খননের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল আলম ও গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেদ হুসাইনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়গুলো তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত