কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতার চেয়ে এর বাস্তব ব্যবহার ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলার কৌশলেও এসেছে এই পরিবর্তন। নতুন প্রযুক্তি তৈরির পাশাপাশি এখন এআই দিয়ে মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর প্রয়োজন মেটানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ডে মাইক্রোসফটের সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাদেলার এই দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে জেনারেটিভ এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলকে চাপে রাখার বিষয়ে তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন। এখন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি এর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চ্যাটজিপিটি তৈরিতে ওপেনএআইকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও কম্পিউটিং অবকাঠামো দিয়ে সহায়তা করেছে মাইক্রোসফট। এই সহযোগিতা না থাকলে ওপেনএআইয়ের পক্ষে চ্যাটজিপিটি তৈরি করা কঠিন হতো। এতে এআই খাতের অগ্রগতির গতিপথও ভিন্ন হতে পারত।
তবে চ্যাটজিপিটি চালুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও সফটওয়্যার উন্নয়নের বাইরে এআইয়ের প্রভাব এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়লেও সব খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে এআইকে আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
নাদেলার দৃষ্টিতে, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস কিংবা প্রতিযোগীদের কাছে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় ছুটে চলাই সাফল্যের একমাত্র পথ নয়। বরং প্রযুক্তিকে বাস্তব কাজে লাগিয়ে ফল পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাইক্রোসফটের এই কৌশলে বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্টির প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় চার ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে উন্নত এআই মডেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মাইক্রোসফট কতটা এগিয়ে থাকতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নাদেলা এআইয়ের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘জাদুকরি ব্যবসা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মাইক্রোসফটের ৫১ বছরের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
নাদেলার বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রযুক্তি খাতে শুরুতে সাফল্য পাওয়া মানেই দীর্ঘ মেয়াদে নেতৃত্ব ধরে রাখা নয়। সময়ের সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োজনের উপযোগী ও কার্যকর ব্যবসায় রূপ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
মাইক্রোসফটের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে তাই শুধু এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার চেয়ে প্রযুক্তিটির নির্ভরযোগ্যতা ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতার চেয়ে এর বাস্তব ব্যবহার ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলার কৌশলেও এসেছে এই পরিবর্তন। নতুন প্রযুক্তি তৈরির পাশাপাশি এখন এআই দিয়ে মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর প্রয়োজন মেটানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সেমাফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ডে মাইক্রোসফটের সদর দপ্তরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাদেলার এই দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। ২০২৩ সালে জেনারেটিভ এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী গুগলকে চাপে রাখার বিষয়ে তিনি বেশি আগ্রহী ছিলেন। এখন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার পাশাপাশি এর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চ্যাটজিপিটি তৈরিতে ওপেনএআইকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও কম্পিউটিং অবকাঠামো দিয়ে সহায়তা করেছে মাইক্রোসফট। এই সহযোগিতা না থাকলে ওপেনএআইয়ের পক্ষে চ্যাটজিপিটি তৈরি করা কঠিন হতো। এতে এআই খাতের অগ্রগতির গতিপথও ভিন্ন হতে পারত।
তবে চ্যাটজিপিটি চালুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও সফটওয়্যার উন্নয়নের বাইরে এআইয়ের প্রভাব এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়লেও সব খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে এআইকে আরও নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর করে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
নাদেলার দৃষ্টিতে, নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস কিংবা প্রতিযোগীদের কাছে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কায় ছুটে চলাই সাফল্যের একমাত্র পথ নয়। বরং প্রযুক্তিকে বাস্তব কাজে লাগিয়ে ফল পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাইক্রোসফটের এই কৌশলে বিনিয়োগকারীদের সন্তুষ্টির প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। গত ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। বর্তমানে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় চার ট্রিলিয়ন ডলার।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে উন্নত এআই মডেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মাইক্রোসফট কতটা এগিয়ে থাকতে পারবে, তা এখনো অনিশ্চিত। নাদেলা এআইয়ের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘জাদুকরি ব্যবসা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মাইক্রোসফটের ৫১ বছরের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।
নাদেলার বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রযুক্তি খাতে শুরুতে সাফল্য পাওয়া মানেই দীর্ঘ মেয়াদে নেতৃত্ব ধরে রাখা নয়। সময়ের সঙ্গে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিকে বাস্তব প্রয়োজনের উপযোগী ও কার্যকর ব্যবসায় রূপ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
মাইক্রোসফটের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গিতে তাই শুধু এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার চেয়ে প্রযুক্তিটির নির্ভরযোগ্যতা ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন