সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মোট ৫৭টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। পুনর্গঠিত এই বেঞ্চগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৫টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ২২টি একক বেঞ্চ।
আগামী রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এসব নতুন বেঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হবে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুনর্গঠিত বেঞ্চগুলোতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, রিট, জামিন, আপিল, রিভিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলা, কর ও শুল্কবিষয়ক আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের বিচারিক সেবা আরও দ্রুত ও গতিশীল করতে এবং মামলার জট কমাতে প্রধান বিচারপতি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
নতুন এখতিয়ার অনুযায়ী, ৩৫টি দ্বৈত বেঞ্চের মধ্যে কয়েকটি বেঞ্চে দেওয়ানি মোশন, প্রথম আপিল, রুল, রিভিশন ও অন্যান্য দেওয়ানি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে কয়েকটি বেঞ্চে ফৌজদারি মোশন, আপিল, জামিন ও রিভিশন এবং কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন, সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া একাধিক বেঞ্চে সাধারণ ও বিশেষ রিট, কর ও শুল্কবিষয়ক রিট, আয়কর রেফারেন্স, কাস্টমস ও ভ্যাট আপিল, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট এবং শিল্প নকশা-সংক্রান্ত মামলা শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি নির্দিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চে দুদক ও মানি লন্ডারিং আইন-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাও শুনানি পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে ২২টি একক বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ ছয় কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের দেওয়ানি আপিল, রুল, রিভিশন ও বিবিধ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বেশ কিছু বেঞ্চে ফৌজদারি মোশন, আপিল, জামিন, রিভিশন এবং দুদক ও মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোম্পানি আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, সালিশ আইন, বিমা আইন, সাকসেশন আইন, বিবাহবিচ্ছেদ এবং ট্রেডমার্ক-সংক্রান্ত মামলা ও আবেদনের জন্য পৃথক ও নির্দিষ্ট একক বেঞ্চ গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চকে পুরোনো রিট মামলা এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচার বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর একক বেঞ্চকে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বা পেপার ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ বেঞ্চটিতে ই-ফাইলিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রকাশিত মূল বিজ্ঞপ্তিতে সব বেঞ্চভিত্তিক বিস্তারিত এখতিয়ার সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মোট ৫৭টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি। পুনর্গঠিত এই বেঞ্চগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৫টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ২২টি একক বেঞ্চ।
আগামী রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এসব নতুন বেঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হবে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুনর্গঠিত বেঞ্চগুলোতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, রিট, জামিন, আপিল, রিভিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলা, কর ও শুল্কবিষয়ক আবেদনসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের বিচারিক সেবা আরও দ্রুত ও গতিশীল করতে এবং মামলার জট কমাতে প্রধান বিচারপতি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
নতুন এখতিয়ার অনুযায়ী, ৩৫টি দ্বৈত বেঞ্চের মধ্যে কয়েকটি বেঞ্চে দেওয়ানি মোশন, প্রথম আপিল, রুল, রিভিশন ও অন্যান্য দেওয়ানি মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে কয়েকটি বেঞ্চে ফৌজদারি মোশন, আপিল, জামিন ও রিভিশন এবং কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) আবেদন, সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।
এছাড়া একাধিক বেঞ্চে সাধারণ ও বিশেষ রিট, কর ও শুল্কবিষয়ক রিট, আয়কর রেফারেন্স, কাস্টমস ও ভ্যাট আপিল, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট এবং শিল্প নকশা-সংক্রান্ত মামলা শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি নির্দিষ্ট দ্বৈত বেঞ্চে দুদক ও মানি লন্ডারিং আইন-সংক্রান্ত স্পর্শকাতর মামলাও শুনানি পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে ২২টি একক বেঞ্চের বিচারিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ ছয় কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের দেওয়ানি আপিল, রুল, রিভিশন ও বিবিধ আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বেশ কিছু বেঞ্চে ফৌজদারি মোশন, আপিল, জামিন, রিভিশন এবং দুদক ও মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কোম্পানি আইন, ব্যাংক কোম্পানি আইন, সালিশ আইন, বিমা আইন, সাকসেশন আইন, বিবাহবিচ্ছেদ এবং ট্রেডমার্ক-সংক্রান্ত মামলা ও আবেদনের জন্য পৃথক ও নির্দিষ্ট একক বেঞ্চ গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চকে পুরোনো রিট মামলা এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচার বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অংশ হিসেবে বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর একক বেঞ্চকে সম্পূর্ণ কাগজমুক্ত বা পেপার ফ্রি ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশেষ বেঞ্চটিতে ই-ফাইলিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের প্রকাশিত মূল বিজ্ঞপ্তিতে সব বেঞ্চভিত্তিক বিস্তারিত এখতিয়ার সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন