নতুন স্মার্টফোন কেনার পর পুরোনো ফোনটি অনেকেই রেখে দেন ঘরের ড্রয়ারে, আলমারির কোণে কিংবা একসময় ফেলে দেন সাধারণ ময়লার সঙ্গে। অথচ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া এসব ডিভাইস পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পুরোনো ফোন বাতিল করার আগে সেটি কোথায় জমা দেওয়া হবে এবং কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা যাবে, তা জানা জরুরি।
স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হওয়া ফোন, ব্যাটারি, চার্জার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রীও বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে এর ক্ষতিকর উপাদান মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটাতে পারে। তাই পুরোনো ফোন সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে না ফেলে নিরাপদ উপায়ে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
একটি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ধাতু, রাসায়নিক উপাদান, প্লাস্টিক ও ব্যাটারি থাকে। এর মধ্যে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদানও থাকতে পারে। ফোন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করলে এসব উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
খোলা জায়গায় কিংবা সাধারণ বর্জ্যের স্তূপে ফেলে রাখা ইলেকট্রনিক সামগ্রী থেকে ক্ষতিকর পদার্থ মাটি ও পানিতে মিশতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যে। কিছু বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শিশুদের বিকাশের ওপরও কিছু ক্ষতিকর উপাদানের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশেও বাতিল ইলেকট্রনিক পণ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুরোনো ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে সেগুলো আলাদাভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পুরোনো ফোন সাধারণ আবর্জনার মতো সহজে পচে যায় না। এর পাশাপাশি ফোনে থাকা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্যাটারিতে আঘাত লাগা, চাপ পড়া বা অনুপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করাও বিপজ্জনক হতে পারে।
এ কারণে নষ্ট ফোন, আলাদা ব্যাটারি কিংবা চার্জার সাধারণ ময়লার সঙ্গে না মিশিয়ে নির্ধারিত ই-বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থায় জমা দেওয়া উচিত।
পুরোনো ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষ্পত্তির একটি উপায় হলো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানের কাছে সেগুলো জমা দেওয়া। তবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন, সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ফোন হস্তান্তরের আগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত ডিভাইস সংগ্রহ করে কি না এবং কোথায় জমা দিতে হবে, তা জেনে নিন। বাসা থেকে সংগ্রহের সুবিধা থাকলে সেটিও যাচাই করতে পারেন।
কিছু ব্র্যান্ড ও বিক্রয়কেন্দ্রে পুরোনো ফোন জমা দেওয়া বা নতুন ফোন কেনার সময় এক্সচেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ইলেকট্রনিক বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকে।
তবে সব ব্র্যান্ড বা শোরুমে একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই ফোন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের টেক-ব্যাক বা রিসাইক্লিং কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে নিন।
ফোনটি পুরোপুরি নষ্ট না হয়ে ধীরগতিতে চললে কিংবা সামান্য ত্রুটি থাকলে মেরামতের মাধ্যমে আবার ব্যবহারযোগ্য করা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজন না থাকলে পরিবারের অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করার কথাও ভাবতে পারেন।
এতে ডিভাইসটির ব্যবহারকাল বাড়ে এবং নতুন ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরির প্রয়োজন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায়।
পুরোনো ফোনটি সচল থাকলে এবং এর অবস্থা ভালো হলে সেকেন্ড-হ্যান্ড বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে। অনলাইন ক্লাসিফাইড প্ল্যাটফর্ম কিংবা পুরোনো ফোনের দোকান এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মাধ্যম।
বিক্রির আগে ফোনের অবস্থা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং ত্রুটি সম্পর্কে ক্রেতাকে সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত। হস্তান্তরের আগে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলাও জরুরি।
পুরোনো ফোন বিক্রি, উপহার কিংবা
রিসাইক্লিংয়ের জন্য জমা দেওয়ার আগে
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য
কয়েকটি ধাপ
অনুসরণ করুন।
· ডাটা ব্যাকআপ নিন: প্রয়োজনীয় ছবি, যোগাযোগের নম্বর, বার্তা ও ফাইল গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড বা অন্য নিরাপদ মাধ্যমে সংরক্ষণ করুন।
· অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন-আউট করুন: ফোনে থাকা গুগল অ্যাকাউন্ট, অ্যাপল আইডি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্তি বিচ্ছিন্ন করুন।
· ফ্যাক্টরি রিসেট করুন: ফোনের অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী সব তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত ধাপ সম্পন্ন করার পরই এই কাজ করুন।
· সিম ও মেমোরি কার্ড খুলে নিন: ফোন হস্তান্তরের আগে সিম কার্ড এবং মাইক্রো-এসডি কার্ড থাকলে সেগুলো সরিয়ে নিন।
ফোন চালু না হলে বা স্বাভাবিকভাবে তথ্য মুছে ফেলা সম্ভব না হলে সেটি হস্তান্তরের আগে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ করার উপযুক্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন।
পুরোনো ফোন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা শুধু পরিবেশের সুরক্ষার বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২১ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন।
বাড়িতে জমে থাকা পুরোনো ফোন, ব্যাটারি, চার্জার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী আলাদা করে রাখুন। এরপর সেগুলো গ্রহণ করে এমন উপযুক্ত সংগ্রহকেন্দ্র বা রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিন। কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম দেখেই সেখানে ফোন জমা না দিয়ে তাদের কার্যক্রম ও গ্রহণের শর্ত যাচাই করে নেওয়া ভালো।
একসময় দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী থাকা ফোনটি নষ্ট হয়ে গেলেও সেটিকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া উচিত নয়। মেরামত, পুনর্ব্যবহার, বিক্রি কিংবা সঠিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুরোনো ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশের ওপর বর্জ্যের চাপ কমানো সম্ভব।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
নতুন স্মার্টফোন কেনার পর পুরোনো ফোনটি অনেকেই রেখে দেন ঘরের ড্রয়ারে, আলমারির কোণে কিংবা একসময় ফেলে দেন সাধারণ ময়লার সঙ্গে। অথচ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়া এসব ডিভাইস পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পুরোনো ফোন বাতিল করার আগে সেটি কোথায় জমা দেওয়া হবে এবং কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা যাবে, তা জানা জরুরি।
স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হওয়া ফোন, ব্যাটারি, চার্জার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রীও বর্জ্যে পরিণত হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে এর ক্ষতিকর উপাদান মাটি ও পানিতে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটাতে পারে। তাই পুরোনো ফোন সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে না ফেলে নিরাপদ উপায়ে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
একটি মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের ধাতু, রাসায়নিক উপাদান, প্লাস্টিক ও ব্যাটারি থাকে। এর মধ্যে সিসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদানও থাকতে পারে। ফোন যথাযথভাবে নিষ্পত্তি না করলে এসব উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
খোলা জায়গায় কিংবা সাধারণ বর্জ্যের স্তূপে ফেলে রাখা ইলেকট্রনিক সামগ্রী থেকে ক্ষতিকর পদার্থ মাটি ও পানিতে মিশতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যে। কিছু বিষাক্ত উপাদানের সংস্পর্শে দীর্ঘদিন থাকলে লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। শিশুদের বিকাশের ওপরও কিছু ক্ষতিকর উপাদানের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশেও বাতিল ইলেকট্রনিক পণ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুরোনো ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে সেগুলো আলাদাভাবে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পুরোনো ফোন সাধারণ আবর্জনার মতো সহজে পচে যায় না। এর পাশাপাশি ফোনে থাকা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ব্যাটারিতে আঘাত লাগা, চাপ পড়া বা অনুপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করাও বিপজ্জনক হতে পারে।
এ কারণে নষ্ট ফোন, আলাদা ব্যাটারি কিংবা চার্জার সাধারণ ময়লার সঙ্গে না মিশিয়ে নির্ধারিত ই-বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থায় জমা দেওয়া উচিত।
পুরোনো ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষ্পত্তির একটি উপায় হলো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানের কাছে সেগুলো জমা দেওয়া। তবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন, সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার পদ্ধতি সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ফোন হস্তান্তরের আগে প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত ডিভাইস সংগ্রহ করে কি না এবং কোথায় জমা দিতে হবে, তা জেনে নিন। বাসা থেকে সংগ্রহের সুবিধা থাকলে সেটিও যাচাই করতে পারেন।
কিছু ব্র্যান্ড ও বিক্রয়কেন্দ্রে পুরোনো ফোন জমা দেওয়া বা নতুন ফোন কেনার সময় এক্সচেঞ্জের সুযোগ থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ইলেকট্রনিক বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকে।
তবে সব ব্র্যান্ড বা শোরুমে একই ধরনের সুবিধা পাওয়া যায় না। তাই ফোন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে তাদের টেক-ব্যাক বা রিসাইক্লিং কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে নিন।
ফোনটি পুরোপুরি নষ্ট না হয়ে ধীরগতিতে চললে কিংবা সামান্য ত্রুটি থাকলে মেরামতের মাধ্যমে আবার ব্যবহারযোগ্য করা যেতে পারে। নিজের প্রয়োজন না থাকলে পরিবারের অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করার কথাও ভাবতে পারেন।
এতে ডিভাইসটির ব্যবহারকাল বাড়ে এবং নতুন ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরির প্রয়োজন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া যায়।
পুরোনো ফোনটি সচল থাকলে এবং এর অবস্থা ভালো হলে সেকেন্ড-হ্যান্ড বাজারে বিক্রি করা যেতে পারে। অনলাইন ক্লাসিফাইড প্ল্যাটফর্ম কিংবা পুরোনো ফোনের দোকান এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মাধ্যম।
বিক্রির আগে ফোনের অবস্থা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং ত্রুটি সম্পর্কে ক্রেতাকে সঠিক তথ্য দেওয়া উচিত। হস্তান্তরের আগে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলাও জরুরি।
পুরোনো ফোন বিক্রি, উপহার কিংবা
রিসাইক্লিংয়ের জন্য জমা দেওয়ার আগে
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য
কয়েকটি ধাপ
অনুসরণ করুন।
· ডাটা ব্যাকআপ নিন: প্রয়োজনীয় ছবি, যোগাযোগের নম্বর, বার্তা ও ফাইল গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড বা অন্য নিরাপদ মাধ্যমে সংরক্ষণ করুন।
· অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন-আউট করুন: ফোনে থাকা গুগল অ্যাকাউন্ট, অ্যাপল আইডি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্তি বিচ্ছিন্ন করুন।
· ফ্যাক্টরি রিসেট করুন: ফোনের অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী সব তথ্য মুছে ফেলার ব্যবস্থা ব্যবহার করুন। প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত ধাপ সম্পন্ন করার পরই এই কাজ করুন।
· সিম ও মেমোরি কার্ড খুলে নিন: ফোন হস্তান্তরের আগে সিম কার্ড এবং মাইক্রো-এসডি কার্ড থাকলে সেগুলো সরিয়ে নিন।
ফোন চালু না হলে বা স্বাভাবিকভাবে তথ্য মুছে ফেলা সম্ভব না হলে সেটি হস্তান্তরের আগে ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ করার উপযুক্ত ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নিন।
পুরোনো ফোন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা শুধু পরিবেশের সুরক্ষার বিষয় নয়, এটি ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২১ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন।
বাড়িতে জমে থাকা পুরোনো ফোন, ব্যাটারি, চার্জার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী আলাদা করে রাখুন। এরপর সেগুলো গ্রহণ করে এমন উপযুক্ত সংগ্রহকেন্দ্র বা রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা দিন। কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম দেখেই সেখানে ফোন জমা না দিয়ে তাদের কার্যক্রম ও গ্রহণের শর্ত যাচাই করে নেওয়া ভালো।
একসময় দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী থাকা ফোনটি নষ্ট হয়ে গেলেও সেটিকে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া উচিত নয়। মেরামত, পুনর্ব্যবহার, বিক্রি কিংবা সঠিক রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে পুরোনো ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিবেশের ওপর বর্জ্যের চাপ কমানো সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন