সংবাদ

অধরা সাগরের তেল-গ্যাস, আইওসির আগ্রহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ


ফয়েজ আহমেদ তুষার
ফয়েজ আহমেদ তুষার
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

অধরা সাগরের তেল-গ্যাস, আইওসির আগ্রহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ
ছবি : সংবাদ

বাংলাদেশের আওতাধীন বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে ২০১২ সালে মায়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের। প্রতিবেশী দেশ দুটি অনুসন্ধান ও আবিষ্কার শেষে ইতোমধ্যে জ্বালানি উত্তোলন শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো অনুসন্ধানই শুরু করতে পারেনি। 

এই প্রেক্ষাপটে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে বা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

আন্তর্জাতিক দরপত্র ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার সময়সীমা ইতোমধ্যে ৪ মাস বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে বহুল আলোচিত সিসমিক সার্ভে ও ব্লকের তথ্য সম্বলিত ‘ডেটা সেলস প্যাকেজ’-এর দাম প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। কিছু প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

সবশেষ আহ্বান করা আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।  নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুরোধ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময়সীমা ৪ মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে মোট ১০টি ডেটা সেলস প্যাকেজের মধ্যে ৬টির দাম অনেকটাই কমানো হয়েছে। এছাড়া বাকি ৪টি তথ্য প্যাকেজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ছাড়ের ফলে আগ্রহী কোম্পানিগুলো তথ্য পর্যালোচনা ও সুচিন্তিত প্রস্তাব তৈরির জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে। একই সাথে তথ্য সংগ্রহের প্রাথমিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দরপত্রে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। তবে মূল্য নির্ধারণ বা প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া নিয়ে খাত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমতও রয়েছে।

প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে সীমানা নিষ্পত্তির পর গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি মিলে মোট ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয় বঙ্গোপসাগরকে। তবে এর অনেক আগে থেকেই শুরু হয় সমুদ্রে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান। এ পর্যন্ত মোট চারটি কোম্পানি বিভিন্ন সময় অনুসন্ধান শুরু করলেও কাজ শেষ না করেই সবাই চলে যায়। 

এখন ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি সমুদ্র ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।  এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। এ পর্যন্ত মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান তথ্য প্যাকেজ সংগ্রহ করেছে। যার মধ্যে ৩টি কোম্পানি মূল দরপত্র নথি বা প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোম্পানিগুলো নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দরপত্র জমা দেয়নি। সেই বিবেচনা করেই এবার যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে সংশোধন এবং কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদানের মতো নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দাম কত কমলো

পেট্রোবাংলার সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আগে যেসব ডেটা প্যাকেজের দাম ছিল কয়েক লাখ ডলার, সেগুলোর মূল্য কমিয়ে সম্পূর্ণ প্যাকেজের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ডলার।

এর মধ্যে রয়েছে ব্লক এসএস-১১ এর দ্বিমাত্রিক (২ডি) ও ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক ডেটা, ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ ব্লকের ২ডি সিসমিক ডেটা, ডিএস-১১ ও ডিএস-৭ ব্লকের অংশবিশেষের ডেটা এবং ডিএস-১২, এসএস-০৪ ও এসএস-০৯ ব্লকের সিসমিক ডেটা।

আগে এসব প্যাকেজের দাম ছিল এক লাখ ৫২ হাজার ৫০০ ডলার থেকে ৫ লাখ ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত। নতুন দরে প্রতিটি প্যাকেজের দাম দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ হাজার ডলার। ফলে প্যাকেজভেদে দাম কমেছে ৯৭ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশের বেশি।

এর মধ্যে এসএস-৪ ও এসএস-৯ ব্লকের ২ডি সিসমিক ডেটা প্যাকেজের দাম আগে ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ডলার। সেটি কমিয়ে ৫ হাজার ডলার করা হয়েছে। একইভাবে ডিএস-১২ ব্লকের ডেটা প্যাকেজের দাম ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ডলার।

বিনামূল্যে যেসব প্যাকেজ

সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি ডেটা সেলস প্যাকেজের মধ্যে চারটি বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিনামূল্যের প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালের ৩১ হাজার লাইন-কিলোমিটার পুরোনো অফশোর সিসমিক ডেটা, অফশোর কূপের তথ্য, হাইড্রোকার্বন হ্যাবিট্যাট স্টাডি এবং কাঞ্চন-১এক্স কূপের ডেটা। আগে এসব প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটির জন্য ৫ হাজার ডলার এবং পুরোনো সিসমিক ডেটার জন্য প্রতি লাইন-কিলোমিটারে ১০ ডলার পর্যন্ত মূল্য নির্ধারিত ছিল।

পেট্রোবাংলা বলছে, ডেটা সেলস প্যাকেজ কেনা বাধ্যতামূলক নয়। আগ্রহী কোম্পানিগুলো চাইলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। তবে সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বাকি ছয়টি প্যাকেজের প্রতিটির সম্পূর্ণ সেটের মূল্য হবে ৫ হাজার ডলার।

গ্যাসের চাহিদা ও মজুত

দেশে প্রতিনিয়ত গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। তবে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে; মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। স্থলে ও সাগরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার এবং সেখান থেকে সরবরাহ বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি আপাতত নেই। তাই সামনের বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে গ্যাসের চাহিদা সামাল দিতে সরকার বেশ কয়েকটি ভাসমান ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছে।

পাশপাশি ১৫০টি নতুন কূপ খনন এবং ভোলার গ্যাসের ‘সর্বোত্তম’ ব্যবহারের বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকা সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে জরিপ ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতির কারণে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি শিল্পোৎপাদনেও ভাটা পড়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ি, দেশে দৈনিক মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক গড়ে সরবরাহ করা হয় ২৬০ কোটি ঘনফুটের মত। এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে আসে দৈনিক ১৫৫ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো। কক্সবাজারের মহেশখালিতে স্থাপিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট ও বেসরকারি কোম্পানি সামিটের পৃথক দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আসে দৈনিক মোট ৯৫ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট। দৈনিক ঘাটতি থাকে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটের মতো।

পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সে অনুযায়ি দেশে যে পরিমাণ গ্যাস বর্তমানে মজুত আছে, তা মোট চাহিদা সাত-আট বছরের সমান। তবে শিল্প ও বিদ্যুতে গ্যাসের চাহিদা যেহেতু প্রতিদিনই বাড়ছে, তাই বছর ভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ করা হলে, মজুত গ্যাস আরো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সাগরে গ্যাস আবিস্কার হলে তা উত্তোলনে সময় লাগলেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


অধরা সাগরের তেল-গ্যাস, আইওসির আগ্রহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের আওতাধীন বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক আদালতে ২০১২ সালে মায়ানমার ও ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির পর মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি সমুদ্র অঞ্চলের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের। প্রতিবেশী দেশ দুটি অনুসন্ধান ও আবিষ্কার শেষে ইতোমধ্যে জ্বালানি উত্তোলন শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো অনুসন্ধানই শুরু করতে পারেনি। 

এই প্রেক্ষাপটে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে বা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

আন্তর্জাতিক দরপত্র ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার সময়সীমা ইতোমধ্যে ৪ মাস বাড়ানো হয়েছে। একই সাথে বহুল আলোচিত সিসমিক সার্ভে ও ব্লকের তথ্য সম্বলিত ‘ডেটা সেলস প্যাকেজ’-এর দাম প্রায় ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। কিছু প্যাকেজ দেওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

সবশেষ আহ্বান করা আন্তর্জাতিক দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।  নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুরোধ এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সময়সীমা ৪ মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে মোট ১০টি ডেটা সেলস প্যাকেজের মধ্যে ৬টির দাম অনেকটাই কমানো হয়েছে। এছাড়া বাকি ৪টি তথ্য প্যাকেজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ছাড়ের ফলে আগ্রহী কোম্পানিগুলো তথ্য পর্যালোচনা ও সুচিন্তিত প্রস্তাব তৈরির জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে। একই সাথে তথ্য সংগ্রহের প্রাথমিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দরপত্রে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। তবে মূল্য নির্ধারণ বা প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া নিয়ে খাত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা দ্বিমতও রয়েছে।

প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে সীমানা নিষ্পত্তির পর গভীর সমুদ্রে ১৫টি ও অগভীর সমুদ্রে ১১টি মিলে মোট ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয় বঙ্গোপসাগরকে। তবে এর অনেক আগে থেকেই শুরু হয় সমুদ্রে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান। এ পর্যন্ত মোট চারটি কোম্পানি বিভিন্ন সময় অনুসন্ধান শুরু করলেও কাজ শেষ না করেই সবাই চলে যায়। 

এখন ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’-এর আওতায় বঙ্গোপসাগরের মোট ২৬টি সমুদ্র ব্লকে অনুসন্ধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।  এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লক এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। এ পর্যন্ত মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান তথ্য প্যাকেজ সংগ্রহ করেছে। যার মধ্যে ৩টি কোম্পানি মূল দরপত্র নথি বা প্রমোশনাল প্যাকেজ কিনেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোম্পানিগুলো নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো দরপত্র জমা দেয়নি। সেই বিবেচনা করেই এবার যোগ্যতার শর্ত শিথিল করা, গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে সংশোধন এবং কর ও শুল্ক সুবিধা প্রদানের মতো নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দাম কত কমলো

পেট্রোবাংলার সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আগে যেসব ডেটা প্যাকেজের দাম ছিল কয়েক লাখ ডলার, সেগুলোর মূল্য কমিয়ে সম্পূর্ণ প্যাকেজের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ডলার।

এর মধ্যে রয়েছে ব্লক এসএস-১১ এর দ্বিমাত্রিক (২ডি) ও ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক ডেটা, ডিএস-১০ ও ডিএস-১১ ব্লকের ২ডি সিসমিক ডেটা, ডিএস-১১ ও ডিএস-৭ ব্লকের অংশবিশেষের ডেটা এবং ডিএস-১২, এসএস-০৪ ও এসএস-০৯ ব্লকের সিসমিক ডেটা।

আগে এসব প্যাকেজের দাম ছিল এক লাখ ৫২ হাজার ৫০০ ডলার থেকে ৫ লাখ ৮ হাজার ডলার পর্যন্ত। নতুন দরে প্রতিটি প্যাকেজের দাম দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ হাজার ডলার। ফলে প্যাকেজভেদে দাম কমেছে ৯৭ শতাংশ থেকে ৯৯ শতাংশের বেশি।

এর মধ্যে এসএস-৪ ও এসএস-৯ ব্লকের ২ডি সিসমিক ডেটা প্যাকেজের দাম আগে ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ডলার। সেটি কমিয়ে ৫ হাজার ডলার করা হয়েছে। একইভাবে ডিএস-১২ ব্লকের ডেটা প্যাকেজের দাম ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ডলার।

বিনামূল্যে যেসব প্যাকেজ

সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে ১০টি ডেটা সেলস প্যাকেজের মধ্যে চারটি বিনামূল্যে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিনামূল্যের প্যাকেজগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৬ সালের ৩১ হাজার লাইন-কিলোমিটার পুরোনো অফশোর সিসমিক ডেটা, অফশোর কূপের তথ্য, হাইড্রোকার্বন হ্যাবিট্যাট স্টাডি এবং কাঞ্চন-১এক্স কূপের ডেটা। আগে এসব প্যাকেজের মধ্যে কয়েকটির জন্য ৫ হাজার ডলার এবং পুরোনো সিসমিক ডেটার জন্য প্রতি লাইন-কিলোমিটারে ১০ ডলার পর্যন্ত মূল্য নির্ধারিত ছিল।

পেট্রোবাংলা বলছে, ডেটা সেলস প্যাকেজ কেনা বাধ্যতামূলক নয়। আগ্রহী কোম্পানিগুলো চাইলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। তবে সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, বাকি ছয়টি প্যাকেজের প্রতিটির সম্পূর্ণ সেটের মূল্য হবে ৫ হাজার ডলার।

গ্যাসের চাহিদা ও মজুত

দেশে প্রতিনিয়ত গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। তবে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে; মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। স্থলে ও সাগরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার এবং সেখান থেকে সরবরাহ বাড়ানোর মতো পরিস্থিতি আপাতত নেই। তাই সামনের বছরগুলোতে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে গ্যাসের চাহিদা সামাল দিতে সরকার বেশ কয়েকটি ভাসমান ও স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছে।

পাশপাশি ১৫০টি নতুন কূপ খনন এবং ভোলার গ্যাসের ‘সর্বোত্তম’ ব্যবহারের বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকা সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন করে জরিপ ও কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মেটানো সম্ভব হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ ঘাটতির কারণে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশপাশি শিল্পোৎপাদনেও ভাটা পড়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ি, দেশে দৈনিক মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক গড়ে সরবরাহ করা হয় ২৬০ কোটি ঘনফুটের মত। এরমধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে আসে দৈনিক ১৫৫ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো। কক্সবাজারের মহেশখালিতে স্থাপিত মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট ও বেসরকারি কোম্পানি সামিটের পৃথক দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে আসে দৈনিক মোট ৯৫ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট। দৈনিক ঘাটতি থাকে প্রায় ১২০ কোটি ঘনফুটের মতো।

পেট্রোবাংলার তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সে অনুযায়ি দেশে যে পরিমাণ গ্যাস বর্তমানে মজুত আছে, তা মোট চাহিদা সাত-আট বছরের সমান। তবে শিল্প ও বিদ্যুতে গ্যাসের চাহিদা যেহেতু প্রতিদিনই বাড়ছে, তাই বছর ভিত্তিক চাহিদা নিরূপণ করা হলে, মজুত গ্যাস আরো দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে সাগরে গ্যাস আবিস্কার হলে তা উত্তোলনে সময় লাগলেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন গতি সঞ্চার হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত