সংবাদ

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে কাজের ফাঁকে যে অভ্যাসগুলো জরুরি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে কাজের ফাঁকে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত খাবার এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকার বিকল্প নেই। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে অনেকেই জিমে যান, ব্যায়ামের সময় নির্ধারণ করেন এবং খাবারদাবারেও পরিবর্তন আনেন। তবে শুধু শরীরচর্চা করলেই সব ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। দিনের বাকি সময় কীভাবে কাটছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, বিরতি ছাড়াই কাজ করা, মানসিক চাপ নিয়ে বাড়ি ফেরা কিংবা ঘুমের সময় কমিয়ে দেওয়ার মতো অভ্যাস হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন কাজের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করা

কম্পিউটারের সামনে একটানা কয়েক ঘণ্টা বসে থাকা অফিসকর্মীদের পরিচিত অভ্যাস। সকালে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলেও দিনের বড় অংশ নিষ্ক্রিয়ভাবে কাটালে তার প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায় না।

এ কারণে কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো, কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার একঘেয়েমি কাটানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাফেরাও বাড়বে।

বিরতি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাওয়া

মিটিং, ইমেল আর কাজের সময়সীমা সামলাতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করেন। ফলে শরীর নড়াচড়ার সুযোগ পায় কম।

এই অভ্যাস বদলাতে প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর অল্প সময়ের বিরতি নিতে পারেন। দুই থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা, উঠে দাঁড়ানো কিংবা সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপ ওঠানামা করার মতো ছোট উদ্যোগও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ভাঙতে সাহায্য করতে পারে।

কাজ করতে করতেই খাবার খাওয়া

কম্পিউটারের সামনে বসে ইমেল দেখা বা অন্য কাজের পাশাপাশি দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। ফলে কতটা খাওয়া হচ্ছে, তা খেয়াল না করার কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

তাই খাবারের জন্য আলাদা সময় রাখুন এবং ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে খান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও উপকারী প্রোটিনের উৎস রাখার চেষ্টা করুন।

অফিসের চাপ থেকে বের হতে না পারা

কাজের অতিরিক্ত দায়িত্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ মানসিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং রক্তচাপসহ হৃদস্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

কাজ শেষে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। হাঁটাহাঁটি, বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।

কাজের চাপে ঘুম কমিয়ে দেওয়া

রাতে দেরি করে ঘুমানো কিংবা সকালে প্রয়োজনের আগেই উঠে পড়ার কারণে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

ঘুমের ঘাটতি উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা হৃদস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

ব্যায়ামের জন্য অন্য প্রয়োজনকে অবহেলা করা

শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যায়ামের রুটিন এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে বিশ্রাম, পরিবার, বন্ধু কিংবা পছন্দের কাজের জন্য কোনো সময় অবশিষ্ট না থাকে।

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি ও সামাজিক যোগাযোগও সামগ্রিক সুস্থতার অংশ। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবসম্মত ব্যায়ামের পরিকল্পনা করুন।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে যা জরুরি

হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু জিমে ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় থাকা, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করান।

মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে সহায়তা করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে কাজের ফাঁকে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত খাবার এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকার বিকল্প নেই। হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে অনেকেই জিমে যান, ব্যায়ামের সময় নির্ধারণ করেন এবং খাবারদাবারেও পরিবর্তন আনেন। তবে শুধু শরীরচর্চা করলেই সব ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়। দিনের বাকি সময় কীভাবে কাটছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, বিরতি ছাড়াই কাজ করা, মানসিক চাপ নিয়ে বাড়ি ফেরা কিংবা ঘুমের সময় কমিয়ে দেওয়ার মতো অভ্যাস হৃদস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে দৈনন্দিন কাজের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে কাজ করা

কম্পিউটারের সামনে একটানা কয়েক ঘণ্টা বসে থাকা অফিসকর্মীদের পরিচিত অভ্যাস। সকালে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ব্যায়াম করলেও দিনের বড় অংশ নিষ্ক্রিয়ভাবে কাটালে তার প্রভাব পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায় না।

এ কারণে কাজের ফাঁকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ানো, কয়েক মিনিট হাঁটা কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার একঘেয়েমি কাটানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন চলাফেরাও বাড়বে।

বিরতি ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাওয়া

মিটিং, ইমেল আর কাজের সময়সীমা সামলাতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করেন। ফলে শরীর নড়াচড়ার সুযোগ পায় কম।

এই অভ্যাস বদলাতে প্রতি ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পরপর অল্প সময়ের বিরতি নিতে পারেন। দুই থেকে পাঁচ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা, উঠে দাঁড়ানো কিংবা সিঁড়ি দিয়ে কয়েক ধাপ ওঠানামা করার মতো ছোট উদ্যোগও দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস ভাঙতে সাহায্য করতে পারে।

কাজ করতে করতেই খাবার খাওয়া

কম্পিউটারের সামনে বসে ইমেল দেখা বা অন্য কাজের পাশাপাশি দুপুরের খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যেতে পারে। ফলে কতটা খাওয়া হচ্ছে, তা খেয়াল না করার কারণে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

তাই খাবারের জন্য আলাদা সময় রাখুন এবং ধীরে ধীরে মনোযোগ দিয়ে খান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও উপকারী প্রোটিনের উৎস রাখার চেষ্টা করুন।

অফিসের চাপ থেকে বের হতে না পারা

কাজের অতিরিক্ত দায়িত্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ মানসিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং রক্তচাপসহ হৃদস্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

কাজ শেষে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। হাঁটাহাঁটি, বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে।

কাজের চাপে ঘুম কমিয়ে দেওয়া

রাতে দেরি করে ঘুমানো কিংবা সকালে প্রয়োজনের আগেই উঠে পড়ার কারণে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

ঘুমের ঘাটতি উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত, যা হৃদস্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

ব্যায়ামের জন্য অন্য প্রয়োজনকে অবহেলা করা

শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যায়ামের রুটিন এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে বিশ্রাম, পরিবার, বন্ধু কিংবা পছন্দের কাজের জন্য কোনো সময় অবশিষ্ট না থাকে।

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তি ও সামাজিক যোগাযোগও সামগ্রিক সুস্থতার অংশ। তাই নিজের সময় ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবসম্মত ব্যায়ামের পরিকল্পনা করুন।

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে যা জরুরি

হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু জিমে ব্যায়াম করাই যথেষ্ট নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় থাকা, সুষম খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকেও নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করান।

মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে সহায়তা করতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত