সংবাদ

নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপি নেতার


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপি নেতার
ছবি : সংবাদ

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট। গত আট-নয়েকমাসের ব্যবধানে ব্যাংক ড্রাফট এবং খাদ্য গুদাম থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে এর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি উপজেলা বিএনপি নেতার এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বুলেটকে বলতে শোনা যায়, মহাদেবপুরে দলীয় পরিচয়ের বাইরে আলাদা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সমান্তরাল কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির পর ওই সাইনবোর্ড ওখান থেকে টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

বক্তব্যে বুলেট আরও বলেন, 'আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সুসংগঠিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জনগণের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করে আসছি। এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা চিন্তা করে আমরা মুখে কুলুপ এঁটেছিলাম।'

প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'কোন ইউনিয়নের কাছে বিএনপি টাকা চেয়েছে আর এমপি কার কার কাছে টাকা চেয়েছেন–তার সব প্রমাণ জনগণের সামনে হাজির করা হবে।'

গত আট-নয় মাসে এমপির দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেন, 'এমপি সাহেব কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট হয়ে টাকা জমা হয়েছে–তার সব হিসাব ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে। মহাদেবপুর থানা এলাকায় এই ব্যাংক ড্রাফটের দুর্নীতি প্রমাণ করতে না পারলে আমি আর রাজনীতি করব না।'

সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদাহরণ টেনে বুলেট বলেন, 'শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সবকিছু ছিল; কিন্তু জনতার শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। এমপি যত বড় ক্ষমতাধরই হোন না কেন, জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।'

বর্তমান এমপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, 'কয়েক মাসের সংসদ সদস্য হয়ে জেল থেকে বাঁচতে তার প্রতিনিধিকে কীভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পা ধরতে হয়েছে, সেই ইতিহাস সবার জানা। ইউএনও যখন সেই প্রতিনিধিকে ধরে নিয়ে যান, তখন মাফ চেয়ে রক্ষা পেতে হয়। এখন বাইরে এসে বড় বড় কথা বা লম্বাগিরি করে লাভ নেই।'

এমপির একটি টকশোর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বুলেট বলেন, 'আপনি টকশোতে বলছেন ডিসি সাহেব তিন কোটি টাকা নিয়েছেন? ডিসি কি শুধু আপনার? সরকার কি আপনার? আপনি বিএনপির এমপি হয়ে ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না কেন? এসব কথা টকশোতে বলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।'

স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের আমলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেন, 'বিগত পাঁচ বছরে সাবেক এমপি সেলিম যা করেননি, আমার তো ধারণা গত আট-নয় মাসেই তার চেয়েও বেশি দুর্নীতি হয়েছে। শুধু এক খাদ্যগুদাম থেকেই তিনি তিন কোটি টাকার ওপরে আত্মসাৎ করেছেন। কোনো কাজ না করেই কীভাবে ভুয়া বিল তোলা হয়েছে, তার সব হিসাব সময়মতো জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।'

ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রবিউল আলম বুলেট বলেন, 'এ বিষয়ে আমি উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত কথা বলব।'

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, 'রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলতেই পারে। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বর্তমান দল সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে, এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন। আমি রাজনীতিতে নতুন নই; রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো করে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


নিজ দলের এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিএনপি নেতার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট। গত আট-নয়েকমাসের ব্যবধানে ব্যাংক ড্রাফট এবং খাদ্য গুদাম থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে এর সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি উপজেলা বিএনপি নেতার এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বুলেটকে বলতে শোনা যায়, মহাদেবপুরে দলীয় পরিচয়ের বাইরে আলাদা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সমান্তরাল কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির পর ওই সাইনবোর্ড ওখান থেকে টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে।

বক্তব্যে বুলেট আরও বলেন, 'আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের সুসংগঠিত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জনগণের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করে আসছি। এতদিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা চিন্তা করে আমরা মুখে কুলুপ এঁটেছিলাম।'

প্রতিটি ইউনিয়নে চিঠি দিয়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'কোন ইউনিয়নের কাছে বিএনপি টাকা চেয়েছে আর এমপি কার কার কাছে টাকা চেয়েছেন–তার সব প্রমাণ জনগণের সামনে হাজির করা হবে।'

গত আট-নয় মাসে এমপির দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেন, 'এমপি সাহেব কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন, কোন ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক ড্রাফট হয়ে টাকা জমা হয়েছে–তার সব হিসাব ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে। মহাদেবপুর থানা এলাকায় এই ব্যাংক ড্রাফটের দুর্নীতি প্রমাণ করতে না পারলে আমি আর রাজনীতি করব না।'

সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের পতনের উদাহরণ টেনে বুলেট বলেন, 'শেখ হাসিনার কাছে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসন সবকিছু ছিল; কিন্তু জনতার শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। এমপি যত বড় ক্ষমতাধরই হোন না কেন, জনগণের শক্তির চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।'

বর্তমান এমপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, 'কয়েক মাসের সংসদ সদস্য হয়ে জেল থেকে বাঁচতে তার প্রতিনিধিকে কীভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পা ধরতে হয়েছে, সেই ইতিহাস সবার জানা। ইউএনও যখন সেই প্রতিনিধিকে ধরে নিয়ে যান, তখন মাফ চেয়ে রক্ষা পেতে হয়। এখন বাইরে এসে বড় বড় কথা বা লম্বাগিরি করে লাভ নেই।'

এমপির একটি টকশোর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বুলেট বলেন, 'আপনি টকশোতে বলছেন ডিসি সাহেব তিন কোটি টাকা নিয়েছেন? ডিসি কি শুধু আপনার? সরকার কি আপনার? আপনি বিএনপির এমপি হয়ে ডিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না কেন? এসব কথা টকশোতে বলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।'

স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের আমলের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেন, 'বিগত পাঁচ বছরে সাবেক এমপি সেলিম যা করেননি, আমার তো ধারণা গত আট-নয় মাসেই তার চেয়েও বেশি দুর্নীতি হয়েছে। শুধু এক খাদ্যগুদাম থেকেই তিনি তিন কোটি টাকার ওপরে আত্মসাৎ করেছেন। কোনো কাজ না করেই কীভাবে ভুয়া বিল তোলা হয়েছে, তার সব হিসাব সময়মতো জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।'

ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রবিউল আলম বুলেট বলেন, 'এ বিষয়ে আমি উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত কথা বলব।'

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, 'রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলতেই পারে। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বর্তমান দল সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে, এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। যার কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন। আমি রাজনীতিতে নতুন নই; রাজনীতি করতে গেলে অনেকেই অনেক কথা বলবে। আপনারা স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো করে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত