বেতন বাড়ানোর দাবিতে সপ্তাহখানেক ধরে চলা শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবারও থমকে গিয়েছিল গাজীপুর শিল্পাঞ্চল। তবে পুলিশ ও বিজিবির কড়া সতর্ক অবস্থান ও প্রশাসনিক তৎপরতায় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেছেন। সড়ক থেকে শ্রমিকেরা সরে গেলেও পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখন চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। দীর্ঘ সময় এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে রাখার কারণে মহাসড়কে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইটপাটকেল ও বর্জ্য ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন শ্রমিকেরা। এতে করে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা দেওয়া হয় এবং অনেক স্থানে শ্রমিকদের ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়।
অন্য দিকে সকাল আটটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন বলে নিশ্চিত করেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। প্রায় একই সময়ে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড়েও মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে সেখানেও যৌথভাবে পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই আমরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে নিয়োজিত ছিলাম। নাওজোড় এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনা করি এবং কথার বার্তা শেষে অনেকেই সড়ক ছেড়ে চলে যান। শ্রমিকেরা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করতেই পারেন, কিন্তু এবারের আন্দোলনের প্যাটার্ন কিছুটা ভিন্ন। সম্পূর্ণ ইতিবাচক আলোচনার মধ্য হঠাৎ করে কিছু লোক দূর থেকে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। কেউ একজন বা কোনো গোষ্ঠী এটাকে উপলক্ষ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তবে নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকার সব ব্যারিকেড আমরা সরিয়ে দিয়েছি এবং বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
বেতন বাড়ানোর দাবিতে সপ্তাহখানেক ধরে চলা শ্রমিক বিক্ষোভের জেরে মঙ্গলবারও থমকে গিয়েছিল গাজীপুর শিল্পাঞ্চল। তবে পুলিশ ও বিজিবির কড়া সতর্ক অবস্থান ও প্রশাসনিক তৎপরতায় বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে চলে গেছেন। সড়ক থেকে শ্রমিকেরা সরে গেলেও পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখন চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। দীর্ঘ সময় এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে রাখার কারণে মহাসড়কে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ইটপাটকেল ও বর্জ্য ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন শ্রমিকেরা। এতে করে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলেও বাধা দেওয়া হয় এবং অনেক স্থানে শ্রমিকদের ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়।
অন্য দিকে সকাল আটটার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন বলে নিশ্চিত করেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। প্রায় একই সময়ে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড়েও মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করা হলে সেখানেও যৌথভাবে পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই আমরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে নিয়োজিত ছিলাম। নাওজোড় এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা অবস্থান নিলে তাদের সঙ্গে আমরা শান্তিপূর্ণ আলোচনা করি এবং কথার বার্তা শেষে অনেকেই সড়ক ছেড়ে চলে যান। শ্রমিকেরা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করতেই পারেন, কিন্তু এবারের আন্দোলনের প্যাটার্ন কিছুটা ভিন্ন। সম্পূর্ণ ইতিবাচক আলোচনার মধ্য হঠাৎ করে কিছু লোক দূর থেকে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। কেউ একজন বা কোনো গোষ্ঠী এটাকে উপলক্ষ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে। তবে নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকার সব ব্যারিকেড আমরা সরিয়ে দিয়েছি এবং বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”

আপনার মতামত লিখুন