মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার হাট ও বাজারে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। হাটের নির্ধারিত জায়গায় ব্যবসায়ীদের সংকুলান না হওয়ায় রাস্তার ওপর ও পাশ ঘেঁষে দোকান বসানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে সাধারণ লোকজনের চলাচলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত লোককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
ঘিওর বাসস্ট্যান্ড, চালবাজার, ফলহাট, তরকারির বাজার, কাঠপট্টি ও কফিলউদ্দীন দরজী সড়কের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে প্রতি বুধবার দোকানপাট বসে। বাজারের অধিকাংশ দোকানে বর্ধিত অংশ, মালামাল ও নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দোকানের বর্ধিত অংশে চৌকি বিছিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ব্যবসা করেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। ফুটপাত ও সড়কে দোকানপাটের কারণে সড়ক দিয়ে যানবাহন ও লোকজন যাতায়াত করতে পারেন না। হাটের দিনে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই হাটে পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা ও সড়কের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া ভুষিপট্টি, বাসস্ট্যান্ড, কাঁচাবাজার ও মাছবাজারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ট্যাক্স, পাহারার চাঁদা ও সুইপার ট্যাক্স আদায় করা হলেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ডাস্টবিন ও গণ-শৌচাগার নেই।
ঘিওর বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন আগে বাজারে চান্দিনা ভিটি বন্দোবস্ত এবং বিভিন্ন স্থানে লিজ দেওয়ার ফলে বাজারের আয়তন অনেক কমে গেছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে দোকানপাট করছেন। তবে পরিস্থিতি নিরসনে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তাদের মতে, বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে যানজট অনেকটা কমবে এবং বাজারের সার্বিক পরিবেশে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। মিষ্টিপট্টি, কাপড়ের হাট, তরকারির বাজার ও ধানহাটের সরকারি ঘরগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত নলকূপ, প্রস্রাবখানা ও টয়লেট নেই। দু-একটি থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীদের চরম অসুবিধা হচ্ছে।
বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নলকূপ, টয়লেট এবং রাস্তাগুলো কাপেটিংসহ সব ধরনের উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে ধীরে ধীরে ঘিওর হাটের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে বলে বিশিষ্টজনেরা ধারণা করছেন।
বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, সড়কের ওপর দোকানপাট বসালে পথচারীদের চলাচলের জায়গা কমে যায়। একই সময়ে পণ্যবাহী যানবাহন, ইজিবাইক, ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে হাটের দিনে শিশু, বয়স্ক ও নারী ক্রেতাদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া বাজারের সাত-আটটি স্পটে সব সময় ময়লা-আবর্জনা ভরাট থাকে। যত্রতত্র ময়লার দুর্গন্ধে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারের সব সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে ধীরে ধীরে ঘিওর হাটের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে বলে তারা ধারণা করেন।
উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন, বাজারের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে দ্রুত জনস্বাস্থ্য অভিযান চালানো হবে।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার হাট ও বাজারে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে। হাটের নির্ধারিত জায়গায় ব্যবসায়ীদের সংকুলান না হওয়ায় রাস্তার ওপর ও পাশ ঘেঁষে দোকান বসানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে সাধারণ লোকজনের চলাচলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শত শত লোককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
ঘিওর বাসস্ট্যান্ড, চালবাজার, ফলহাট, তরকারির বাজার, কাঠপট্টি ও কফিলউদ্দীন দরজী সড়কের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে প্রতি বুধবার দোকানপাট বসে। বাজারের অধিকাংশ দোকানে বর্ধিত অংশ, মালামাল ও নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। দোকানের বর্ধিত অংশে চৌকি বিছিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ব্যবসা করেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী।
প্রভাবশালী এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। ফুটপাত ও সড়কে দোকানপাটের কারণে সড়ক দিয়ে যানবাহন ও লোকজন যাতায়াত করতে পারেন না। হাটের দিনে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই হাটে পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা ও সড়কের স্বাভাবিক চলাচল নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া ভুষিপট্টি, বাসস্ট্যান্ড, কাঁচাবাজার ও মাছবাজারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার পচা দুর্গন্ধে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ট্যাক্স, পাহারার চাঁদা ও সুইপার ট্যাক্স আদায় করা হলেও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কোনো ডাস্টবিন ও গণ-শৌচাগার নেই।
ঘিওর বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন আগে বাজারে চান্দিনা ভিটি বন্দোবস্ত এবং বিভিন্ন স্থানে লিজ দেওয়ার ফলে বাজারের আয়তন অনেক কমে গেছে। এ কারণে ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে দোকানপাট করছেন। তবে পরিস্থিতি নিরসনে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তাদের মতে, বাজারের ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে যানজট অনেকটা কমবে এবং বাজারের সার্বিক পরিবেশে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। মিষ্টিপট্টি, কাপড়ের হাট, তরকারির বাজার ও ধানহাটের সরকারি ঘরগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত নলকূপ, প্রস্রাবখানা ও টয়লেট নেই। দু-একটি থাকলেও সেগুলো ব্যবহারের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীদের চরম অসুবিধা হচ্ছে।
বাজারের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত নলকূপ, টয়লেট এবং রাস্তাগুলো কাপেটিংসহ সব ধরনের উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে ধীরে ধীরে ঘিওর হাটের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে বলে বিশিষ্টজনেরা ধারণা করছেন।
বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, সড়কের ওপর দোকানপাট বসালে পথচারীদের চলাচলের জায়গা কমে যায়। একই সময়ে পণ্যবাহী যানবাহন, ইজিবাইক, ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে হাটের দিনে শিশু, বয়স্ক ও নারী ক্রেতাদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া বাজারের সাত-আটটি স্পটে সব সময় ময়লা-আবর্জনা ভরাট থাকে। যত্রতত্র ময়লার দুর্গন্ধে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারের সব সমস্যা সমাধান ও উন্নয়ন করা প্রয়োজন। তা না হলে ধীরে ধীরে ঘিওর হাটের ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে বলে তারা ধারণা করেন।
উপজেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম বলেন, বাজারের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করতে দ্রুত জনস্বাস্থ্য অভিযান চালানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন