হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠিত অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। লাগেজ চুরি, মাদক পাচার, মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। ১৩ এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তথ্যমতে, গত ১০ মাসে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিমানবন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এই সুযোগে মাদক চোরাচালানি, মানবপাচার এবং যাত্রী হয়রানিসহ নানা অপকর্ম চলছে। নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের বাধা-বিঘ্ন তৈরি হলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৩ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিমানবন্দরে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে মোট ১ হাজার ৮৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি নিয়মিত মামলায় ১২৬ জন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ হাজার ৭৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ৩৩ দশমিক ৮৭৩ কেজি স্বর্ণ, ৫ হাজার ৫০০ কার্টন সিগারেট, ৩৩৯ লিটার মদ, ইয়াবা, গাঁজা, ভেপ সিগারেট, মোবাইল, ল্যাপটপ, ওষুধ এবং বিদেশি মুদ্রাসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক আইনে ৩ হাজার ৭৪৩টি মামলা করা হয়েছে এবং ১ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ চুরি ও হয়রানির ঘটনাও থামছে না। সম্প্রতি ওমান থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রীর লাগেজ চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত থাকার সন্দেহে এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চাঁদপুর থেকে অভিযান চালিয়ে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনটি লাগেজ উদ্ধার করা হয়। তবে বহু ঘটনার তথ্য উদঘাটন কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিমানবন্দর দিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে মানবপাচারও চলছে। ভিসা জালিয়াতি করে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসের দুই স্টাফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলাটি সিআইডির বিশেষ টিম তদন্ত করছে। মানবপাচার ঠেকাতে বিমানবন্দরের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আইএনএস গেটটি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কমান্ডিং অফিসার (সিও) মো. বশির আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে পুলিশিং দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠিত অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। লাগেজ চুরি, মাদক পাচার, মানবপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালানের মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে। ১৩ এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তথ্যমতে, গত ১০ মাসে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিমানবন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এই সুযোগে মাদক চোরাচালানি, মানবপাচার এবং যাত্রী হয়রানিসহ নানা অপকর্ম চলছে। নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের বাধা-বিঘ্ন তৈরি হলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৩ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বিমানবন্দরে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে মোট ১ হাজার ৮৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি নিয়মিত মামলায় ১২৬ জন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ হাজার ৭৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ৩৩ দশমিক ৮৭৩ কেজি স্বর্ণ, ৫ হাজার ৫০০ কার্টন সিগারেট, ৩৩৯ লিটার মদ, ইয়াবা, গাঁজা, ভেপ সিগারেট, মোবাইল, ল্যাপটপ, ওষুধ এবং বিদেশি মুদ্রাসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাফিক আইনে ৩ হাজার ৭৪৩টি মামলা করা হয়েছে এবং ১ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ চুরি ও হয়রানির ঘটনাও থামছে না। সম্প্রতি ওমান থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আসা তিন যাত্রীর লাগেজ চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত থাকার সন্দেহে এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে চাঁদপুর থেকে অভিযান চালিয়ে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনটি লাগেজ উদ্ধার করা হয়। তবে বহু ঘটনার তথ্য উদঘাটন কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিমানবন্দর দিয়ে ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে মানবপাচারও চলছে। ভিসা জালিয়াতি করে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসের দুই স্টাফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলাটি সিআইডির বিশেষ টিম তদন্ত করছে। মানবপাচার ঠেকাতে বিমানবন্দরের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আইএনএস গেটটি খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কমান্ডিং অফিসার (সিও) মো. বশির আহমেদ বলেন, বিমানবন্দরে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে পুলিশিং দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন