দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ০৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক লাফে লিটারে দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা। গত ৫ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
এই দফাসহ টানা চার মাস ধরে দেশের বাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ও দেশি এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার।
বিইআরসির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত আগস্ট মাস থেকেই হু হু করে বাড়ছে জেট ফুয়েলের দাম। গেল আগস্টে প্রতি লিটারের দাম ছিল ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা। যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সায়। অক্টোবরে এসে দাম একলাফে লাফিয়ে পৌঁছে যায় ১৮২ টাকা ৭১ পয়সায়। নভেম্বরের সর্বশেষ দফায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৯ টাকা ০৩ পয়সায়।
অর্থাৎ, গত চার মাসের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের ‘প্ল্যাটস রেট’-এর গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে মাসভিত্তিক এই মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বিপিসি ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির প্রস্তাব এবং গণশুনানির ভিত্তিতে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানি বা জেট ফুয়েল বাবদ। ফলে টানা চার মাস ধরে জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকায় চরম চাপের মুখে পড়েছে দেশীয় বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো (এয়ারলাইন্স)।
এর আগে যখন আগস্ট বা অক্টোবরে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনই অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান ভাড়া বাড়িয়েছিলেন অপারেটররা। খাত সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, লিটারে ৬ টাকা ৩২ পয়সা বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ রুটের (যেমন—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট বা সৈয়দপুর) বিমান টিকিটের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে।
এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাতায়াতকে কিছুটা হলেও মন্থর করে দিতে পারে।
শুধু জেট ফুয়েল নয়, সার্বিক জ্বালানি খাতের অবস্থাও বেশ সংকুচিত। সম্প্রতি দেশের বাজারে সাধারণ জ্বালানি তেল ডিজেলের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এর ঠিক কদিন আগে, গত ২ নভেম্বর রান্নার গ্যাসের বাজারেও বড় ধাক্কা লাগে; ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়—যার ফলে এক ধাক্কায় দাম বেড়েছিল ২২৩ টাকা।
একদিকে রান্নার গ্যাস ও ডিজেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, অন্যদিকে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম আকাশপথেও জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভ্রমণপিপাসুদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এভাবে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যার স্থায়ী সুরাহায় দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতির রূপায়ণ জরুরি।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ০৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এক লাফে লিটারে দাম বেড়েছে ৬ টাকা ৩২ পয়সা। গত ৫ নভেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
এই দফাসহ টানা চার মাস ধরে দেশের বাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ও দেশি এয়ারলাইন্সের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ১৬৩৭ মার্কিন ডলার।
বিইআরসির তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত আগস্ট মাস থেকেই হু হু করে বাড়ছে জেট ফুয়েলের দাম। গেল আগস্টে প্রতি লিটারের দাম ছিল ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা। যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সায়। অক্টোবরে এসে দাম একলাফে লাফিয়ে পৌঁছে যায় ১৮২ টাকা ৭১ পয়সায়। নভেম্বরের সর্বশেষ দফায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৯ টাকা ০৩ পয়সায়।
অর্থাৎ, গত চার মাসের ব্যবধানে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের ‘প্ল্যাটস রেট’-এর গড় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে মাসভিত্তিক এই মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন, ২০০৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বিপিসি ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির প্রস্তাব এবং গণশুনানির ভিত্তিতে এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই ব্যয় হয় জ্বালানি বা জেট ফুয়েল বাবদ। ফলে টানা চার মাস ধরে জ্বালানির দাম এভাবে বাড়তে থাকায় চরম চাপের মুখে পড়েছে দেশীয় বিমান পরিবহন সংস্থাগুলো (এয়ারলাইন্স)।
এর আগে যখন আগস্ট বা অক্টোবরে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখনই অভ্যন্তরীণ রুটের বিমান ভাড়া বাড়িয়েছিলেন অপারেটররা। খাত সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, লিটারে ৬ টাকা ৩২ পয়সা বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ রুটের (যেমন—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট বা সৈয়দপুর) বিমান টিকিটের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে।
এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাতায়াতকে কিছুটা হলেও মন্থর করে দিতে পারে।
শুধু জেট ফুয়েল নয়, সার্বিক জ্বালানি খাতের অবস্থাও বেশ সংকুচিত। সম্প্রতি দেশের বাজারে সাধারণ জ্বালানি তেল ডিজেলের দামও কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এর ঠিক কদিন আগে, গত ২ নভেম্বর রান্নার গ্যাসের বাজারেও বড় ধাক্কা লাগে; ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়—যার ফলে এক ধাক্কায় দাম বেড়েছিল ২২৩ টাকা।
একদিকে রান্নার গ্যাস ও ডিজেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, অন্যদিকে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম আকাশপথেও জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ও ভ্রমণপিপাসুদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে এভাবে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যার স্থায়ী সুরাহায় দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতির রূপায়ণ জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন