সংবাদ

এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জ: বোর্ডের ঘরে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জ: বোর্ডের ঘরে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা
ছবি : সংগৃহীত

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষণের হিড়িক। চলতি বছর ফলাফলে ব্যাপক ধস নামায় এবং নজিরবিহীন বিপর্যয় ঘটায় 'ক্ষুব্ধ ও হতাশ' শিক্ষার্থীরা বোর্ডগুলোর কাছে খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানাতে ভিড় করেন।

নির্ধারিত সময়সীমা শেষে দেখা গেছে, এবারের ফলাফলের বিরুদ্ধে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী নিজেদের কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ও ফেলের কলঙ্ক মোচন করতে এই প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রেখেছেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এইচএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের এই কার্যক্রম ৭ নভেম্বর রাত আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন দাখিল করেছেন। শিক্ষার্থীরা একেকজন একাধিক বিষয় ও পত্রে আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য এক অঙ্কে। সবমিলিয়ে এবার ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

প্রতিটি পত্র বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে ফি আদায় করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল সংখ্যক আবেদন থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলো সরাসরি ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা আয় করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় ব্যয় হয় এবং বোর্ডগুলো এতে লাভবান হয় কি না।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের এই প্রক্রিয়া থেকে বোর্ড কোনো ধরনের মুনাফা করে না।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু যান্ত্রিক বা টেকনিক্যাল কাজ থাকে যা বুয়েটের কারিগরি টিম সম্পন্ন করে থাকে এবং এর পেছনে বড় অংকের ব্যয় রয়েছে। পাশাপাশি, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য নতুন করে পরীক্ষক নিয়োগ করতে হয় এবং তারা সরাসরি বোর্ডে এসে বসে খাতা দেখেন। তাদের জন্য খাতাপ্রতি নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে বড় অংকের টাকা খরচ হয়ে যায়।

এদিকে, আবেদনের শেষ মুহূর্তে এসে অনলাইন সার্ভারে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সার্ভার ডাউন থাকায় শেষ তিন থেকে চার ঘণ্টা বহু শিক্ষার্থী যথাসময়ে আবেদন জমা দিতে পারেননি। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানান, সার্ভার ত্রুটির কারণে যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনা করে আবেদনের সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। আমরা পরিস্থিতি বুঝে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা সময় বাড়াতে পারি।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এ বছর পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে, যেখানে ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল মাত্র ৫২.১২ শতাংশ। সারাদেশে জিপিএ-৫ অর্জন করেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, এ বছর মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হন, যার মধ্যে একাংশ অর্থাৎ ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীই এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন। বিগত ২২ বছরের শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটিই এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পাসের হার। এই বিপর্যয়কর ফলাফলের কারণেই মূলত রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করতে বাধ্য হয়েছেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু নিশ্চিত করেছেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষাসংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ২৭ নভেম্বর এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


এইচএসসি খাতা চ্যালেঞ্জ: বোর্ডের ঘরে সাড়ে ১৫ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষণের হিড়িক। চলতি বছর ফলাফলে ব্যাপক ধস নামায় এবং নজিরবিহীন বিপর্যয় ঘটায় 'ক্ষুব্ধ ও হতাশ' শিক্ষার্থীরা বোর্ডগুলোর কাছে খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানাতে ভিড় করেন।

নির্ধারিত সময়সীমা শেষে দেখা গেছে, এবারের ফলাফলের বিরুদ্ধে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী নিজেদের কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে ও ফেলের কলঙ্ক মোচন করতে এই প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রেখেছেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এইচএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের এই কার্যক্রম ৭ নভেম্বর রাত আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন দাখিল করেছেন। শিক্ষার্থীরা একেকজন একাধিক বিষয় ও পত্রে আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য এক অঙ্কে। সবমিলিয়ে এবার ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ডকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

প্রতিটি পত্র বা খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে ফি আদায় করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল সংখ্যক আবেদন থেকে শিক্ষা বোর্ডগুলো সরাসরি ১৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫০ টাকা আয় করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় ব্যয় হয় এবং বোর্ডগুলো এতে লাভবান হয় কি না।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষণের এই প্রক্রিয়া থেকে বোর্ড কোনো ধরনের মুনাফা করে না।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্পষ্ট করে বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু যান্ত্রিক বা টেকনিক্যাল কাজ থাকে যা বুয়েটের কারিগরি টিম সম্পন্ন করে থাকে এবং এর পেছনে বড় অংকের ব্যয় রয়েছে। পাশাপাশি, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য নতুন করে পরীক্ষক নিয়োগ করতে হয় এবং তারা সরাসরি বোর্ডে এসে বসে খাতা দেখেন। তাদের জন্য খাতাপ্রতি নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে বড় অংকের টাকা খরচ হয়ে যায়।

এদিকে, আবেদনের শেষ মুহূর্তে এসে অনলাইন সার্ভারে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সার্ভার ডাউন থাকায় শেষ তিন থেকে চার ঘণ্টা বহু শিক্ষার্থী যথাসময়ে আবেদন জমা দিতে পারেননি। এ নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের এই ভোগান্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানান, সার্ভার ত্রুটির কারণে যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারেননি, তাদের কথা বিবেচনা করে আবেদনের সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। আমরা পরিস্থিতি বুঝে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা সময় বাড়াতে পারি।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এ বছর পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে, যেখানে ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল মাত্র ৫২.১২ শতাংশ। সারাদেশে জিপিএ-৫ অর্জন করেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, এ বছর মোট ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হন, যার মধ্যে একাংশ অর্থাৎ ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থীই এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন। বিগত ২২ বছরের শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটিই এযাবৎকালের সর্বনিম্ন পাসের হার। এই বিপর্যয়কর ফলাফলের কারণেই মূলত রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করতে বাধ্য হয়েছেন।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু নিশ্চিত করেছেন, খাতা পুনর্নিরীক্ষাসংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ২৭ নভেম্বর এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষণের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত