চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং পুনর্মূল্যায়নে জমা পড়েছে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী তাদের ফল পুনরায় যাচাইয়ের জন্য আবেদন করেছেন।
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের জন্য আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টিতে। দেশের শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাস ও বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য জমা দিয়েছেন আবেদন। অনেকেই একাধিক পত্রের জন্য আবেদন করায় মোট আবেদন সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৭ নভেম্বর রাত ৮টায় শেষ হয়। তবে শেষ সময়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, "গত ১ নভেম্বর সকাল থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নিয়েছি। আজ ৭ নভেম্বর এ প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। তবে শেষ সময়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আবেদনে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। অনলাইনে ত্রুটির কারণে শেষদিকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। সেটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হতে পারে।"
এর আগে ২০২৫ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছিল, এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে গড় পাসের হার ছিল ৫২.১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। এটি বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আবেদনের সংখ্যায় বিশাল প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু পরীক্ষার সার্বিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে জানান, "আবেদন শেষে রোববার বুয়েটের কাছ থেকে আবেদনের ডাটা সংগ্রহ করা হবে। ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্য সংবলিত তালিকা স্ব স্ব শাখায় পাঠানো হবে। ১২ নভেম্বরের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "১৩ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের ব্রিফিং ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের কম্পিউটার সেলে তথ্য পাঠাতে হবে। ২১-২৩ নভেম্বর কম্পিউটার সেলে পরিবর্তিত নম্বর এন্ট্রি ও উত্তরপত্রের কোড যাচাই করা হবে। ২৪-২৬ নভেম্বর নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলোর উত্তরপত্র চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে এবং ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।"

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং পুনর্মূল্যায়নে জমা পড়েছে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী তাদের ফল পুনরায় যাচাইয়ের জন্য আবেদন করেছেন।
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় ও পত্রের জন্য আবেদন করায় মোট আবেদনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টিতে। দেশের শিক্ষা বোর্ডের ইতিহাস ও বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আবেদনের রেকর্ড।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা ফল পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য জমা দিয়েছেন আবেদন। অনেকেই একাধিক পত্রের জন্য আবেদন করায় মোট আবেদন সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ৭ নভেম্বর রাত ৮টায় শেষ হয়। তবে শেষ সময়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু শিক্ষার্থী কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, "গত ১ নভেম্বর সকাল থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নিয়েছি। আজ ৭ নভেম্বর এ প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে। তবে শেষ সময়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা আবেদনে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। অনলাইনে ত্রুটির কারণে শেষদিকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময় কিছুটা বাড়ানো হতে পারে। সেটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ ৫ ঘণ্টা সময় বাড়ানো হতে পারে।"
এর আগে ২০২৫ সালে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছিল, এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়, যেখানে গড় পাসের হার ছিল ৫২.১২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী। এটি বিগত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আবেদনের সংখ্যায় বিশাল প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল আগামী ২৭ নভেম্বর প্রকাশ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু পরীক্ষার সার্বিক প্রক্রিয়া তুলে ধরে জানান, "আবেদন শেষে রোববার বুয়েটের কাছ থেকে আবেদনের ডাটা সংগ্রহ করা হবে। ৯ নভেম্বর কম্পিউটার সেল থেকে উত্তরপত্রের তথ্য সংবলিত তালিকা স্ব স্ব শাখায় পাঠানো হবে। ১২ নভেম্বরের মধ্যে পুনর্মূল্যায়নের পরীক্ষক নিয়োগ এবং প্রধান পরীক্ষকদের কাছ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হবে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, "১৩ থেকে ১৯ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের ব্রিফিং ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ শুরু করা হবে। ২০ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষকদের কম্পিউটার সেলে তথ্য পাঠাতে হবে। ২১-২৩ নভেম্বর কম্পিউটার সেলে পরিবর্তিত নম্বর এন্ট্রি ও উত্তরপত্রের কোড যাচাই করা হবে। ২৪-২৬ নভেম্বর নম্বর পরিবর্তন হওয়া খাতাগুলোর উত্তরপত্র চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে এবং ২৭ নভেম্বর ফল প্রকাশ করা হবে।"

আপনার মতামত লিখুন