কক্সবাজারে সামছুল আলম ওরফে সামছু নামের এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামসুল আলমের বাবার নাম হামিদুর রহমান ও মা আমেনা বেগম। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্ড ইস্যু করা হয়। ১৯৯৯ সালে পরিবারের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন তিনি।
বাংলাদেশে এসে প্রথমে চাকমারকুল দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করেন। এরপর রামুর জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে দেওয়ানখালী ও পিএমখালী মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে পুনরায় চাকমারকুল দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন।
২০০৫ সালে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ফরিদ আহমেদ কলেজ গেট মসজিদের ইমাম হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে দালালের মাধ্যমে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান তিনি।
সেখানে জম্মু ও কাশ্মীর এলাকায় চার বছর অবস্থান করে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আরেক দালালের মাধ্যমে পাকিস্তানে যান। পাকিস্তানের করাচি শহরে টানা ছয় বছর অবস্থান করে একটি বেকারিতে কাজ করেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান হয়ে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে যান এবং সেখানে ৯ মাস অবস্থান করে মাছ ধরার কাজ করেন।
কক্সবাজার এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে জানান, এই রোহিঙ্গা নাগরিক প্রথমে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। তারপর ছদ্মবেশে কক্সবাজারের রামুতে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। সেখান থেকে ২০০৮ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এবং জম্মু-কাশ্মীর হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। পাকিস্তানের করাচিতে ছয় বছর থাকার পর বেলুচিস্তান হয়ে ইরান যান।
তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দর আব্বাসে কিছুদিন থাকার পর সামছু দুবাইয়ে যান। দুবাই থেকে পরবর্তীতে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৩ সালে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন তিনি। অবশেষে গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, এই রোহিঙ্গা নাগরিক নানা কৌশলে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, পাসপোর্ট উদ্ধার ও নেপথ্যের কাহিনী উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার একটি পাকিস্তানি পাসপোর্ট রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাত আটটা পর্যন্ত পাসপোর্টটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান থেকে ভিজিট ভিসা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন। তার বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ প্রায় দেড় বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি নতুন এসেছেন—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি নতুন আগমন কার্ড সংগ্রহ করেন। কুতুপালং ক্যাম্পের নতুন আসা শরণার্থী হিসেবে তিনি নিজের নাম ‘সামসু’ বা ‘মৌলভী সামসু’ হিসেবে নিবন্ধিত করেন, যেখানে বাবার নাম দেখানো হয় হামিদুর রহমান।
নিজের ভাইয়ের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ঘুষের বিনিময়ে তাকে নতুন শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধন করিয়ে কার্ডও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার বড় ভাই জাহিদ হোসেনের ঠিকানা ক্যাম্প-১, ই-ব্লক, এ-৬। এ ঘটনায় তার একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারে সামছুল আলম ওরফে সামছু নামের এক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামসুল আলমের বাবার নাম হামিদুর রহমান ও মা আমেনা বেগম। ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তার রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্ড ইস্যু করা হয়। ১৯৯৯ সালে পরিবারের সঙ্গে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসেন তিনি।
বাংলাদেশে এসে প্রথমে চাকমারকুল দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসায় লেখাপড়া শুরু করেন। এরপর রামুর জোয়ারিয়ানালা মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে দেওয়ানখালী ও পিএমখালী মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে পুনরায় চাকমারকুল দারুল উলুম কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করেন।
২০০৫ সালে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ফরিদ আহমেদ কলেজ গেট মসজিদের ইমাম হিসেবে যোগ দেন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে দালালের মাধ্যমে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান তিনি।
সেখানে জম্মু ও কাশ্মীর এলাকায় চার বছর অবস্থান করে একটি কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে আরেক দালালের মাধ্যমে পাকিস্তানে যান। পাকিস্তানের করাচি শহরে টানা ছয় বছর অবস্থান করে একটি বেকারিতে কাজ করেন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান হয়ে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরে যান এবং সেখানে ৯ মাস অবস্থান করে মাছ ধরার কাজ করেন।
কক্সবাজার এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে জানান, এই রোহিঙ্গা নাগরিক প্রথমে একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। তারপর ছদ্মবেশে কক্সবাজারের রামুতে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। সেখান থেকে ২০০৮ সালে সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান এবং জম্মু-কাশ্মীর হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। পাকিস্তানের করাচিতে ছয় বছর থাকার পর বেলুচিস্তান হয়ে ইরান যান।
তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দর আব্বাসে কিছুদিন থাকার পর সামছু দুবাইয়ে যান। দুবাই থেকে পরবর্তীতে সৌদি আরবে চলে যান তিনি। সেখানে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৩ সালে সৌদি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন তিনি। অবশেষে গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানান, এই রোহিঙ্গা নাগরিক নানা কৌশলে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, পাসপোর্ট উদ্ধার ও নেপথ্যের কাহিনী উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার একটি পাকিস্তানি পাসপোর্ট রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাত আটটা পর্যন্ত পাসপোর্টটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তান থেকে ভিজিট ভিসা নিয়ে তিনি বাংলাদেশে আসেন। তার বাংলাদেশি ভিসার মেয়াদ প্রায় দেড় বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। মিয়ানমার থেকে সম্প্রতি নতুন এসেছেন—এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি নতুন আগমন কার্ড সংগ্রহ করেন। কুতুপালং ক্যাম্পের নতুন আসা শরণার্থী হিসেবে তিনি নিজের নাম ‘সামসু’ বা ‘মৌলভী সামসু’ হিসেবে নিবন্ধিত করেন, যেখানে বাবার নাম দেখানো হয় হামিদুর রহমান।
নিজের ভাইয়ের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ঘুষের বিনিময়ে তাকে নতুন শরণার্থী হিসেবে নিবন্ধন করিয়ে কার্ডও সংগ্রহ করা হয়েছে। তার বড় ভাই জাহিদ হোসেনের ঠিকানা ক্যাম্প-১, ই-ব্লক, এ-৬। এ ঘটনায় তার একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন