সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

‘একদিন না একদিন জবাবদিহি করতে হবে’- আনিস আলমগীর


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ এএম

‘একদিন না একদিন জবাবদিহি করতে হবে’- আনিস আলমগীর

সাংবাদিক আনিস আলমগীর এই সময়ের আলোচিত ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এর আগেও আলোচিত হয়েছিলেন ইরাক যুদ্ধের সময়। বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে তিনি এটি কাভার করতে ইরাকে গিয়েছিলেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি মুহূর্তের সংবাদ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে। আফগানিস্তানের যুদ্ধের সংবাদও কভার করেছেন। সদ্য কারামুক্ত আনিস আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদের ডিজিটাল বিভাগের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। সাক্ষাৎকারটি হুবহু ছাপা হলো।

রাশেদ আহমেদ: আপনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কেনো ?

আনিস আলমগীর: সেটা তো আমারও প্রশ্ন ছিলো, আমাকে কেনো গ্রেপ্তার করা হলো? আমাকে ১৪ই ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হলো, ১৪ই মার্চ আমি মুক্তি পেলাম। একদম কাটায় কাটায় তিন মাস আমাকে জেল খাটতে হলো এবং সাত দিন রিমান্ডে ছিলাম। আমাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, আমি জিমে ছিলাম। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম কী জন্য? বললো ডিবি প্রধান কথা বলবেন। তো সারারাত আমাকে কথা বলতে হলো সেই সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। রাত একটার দিকে বলা হলো একটা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছি। মানে আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিলো না। যারা অভিযোগ করেছিলো, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলো তার নির্দেশেদাতা। সকাল থেকে আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হচ্ছিলো, পরবর্তীতে আমি যেটা জেনেছিলাম। সো কেন গ্রেপ্তার করছে সেটার কোনো ভিত্তি আমি পেলাম না। আমার সাথে কথা বলে তারা নিজেরাও কনফিউজড হয়েছিলো। টকশোতে কথা বলেছিলাম, ভাইরাল হয়েছিল। ওগুলা লিঙ্ক দেখালো, বলছিলো দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু সেখানে বক্তব্যগুলো শুনলে দেখা যাচ্ছে যে একটাও অস্থিতিশীল করার জন্য নয় বরং কীভাবে সামনে ভালো একটা নির্বাচন দিয়ে এই সরকার বিদায় নিতে পারে সেই সহযোগিতার কথা বলেছি।

রাশেদ আহমেদ: আপনার কাছে কী মনে হয়? আরও কতগুলো জিনিস ফেইসবুকে দেখা যাচ্ছিলো বা বলা হচ্ছিলো আপনার খাবার নিয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছিলো।

আনিস আলমগীর: হ্যাঁ, এটা আমাকে ডিবি চিফ জিজ্ঞেস করছিলো হাদির সঙ্গে কী হয়েছিল? আমি বললাম যে হাদির সঙ্গে আমার কিছুই হয় নাই। হাদিকে আমি চিনিও না। হাদিকে চিনি মানে ঐ অর্থে চিনি না।আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরিচয় নাই। কোনোদিন যোগাযোগ হয় নাই, কথা হয় নাই। তার রাজনীতির সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক নাই। কিন্তু হাদির প্রসঙ্গটা আসলো কেনো? আমি বললাম যে হাদি যেদিন আহত হলো সঙ্গে সঙ্গে আমি তার সুশ্রূষা কামনা করি। আল্লাহ যাতে ছেলেটাকে সুস্থ করে দেয় এই কামনা করে তার ছবিসহ পোস্ট করেছি।কিন্তু ঐদিন রাতের বেলায় আপনারা যারা আমাকে ফলো করেন তারা জানেন যে আমি দৈনন্দিন খাবারের পোস্ট করি। ঐদিন রাতের বেলা আমার নেহারি খাওয়ার ইয়ে ছিল। এক জায়গায় নেহারি খেয়েছি, সেই রাতে। এখন ঐছবি পোস্ট হলো কেন? এটাতে হয়েছে হাদির আহত হওয়া উদযাপন করছি। এবং এটা ছড়িয়েছে এনসিপির কিছু লোক। এনসিপির নিজস্ব ফেইসবুক পেজ থেকে ছাড়া হয়েছে এটা। যে হাদি আহত হওয়ায় উৎসব করছে।তো আমি টোটাল পর্যালোচনা করে যদি আপনি দেখেন জামায়াত-শিবির, বট বাহিনী এবং এনসিপি এবং বিদেশে পলাতক দুইটা ইউটিউবার। এগুলার নাম উচ্চারণ করতে আমার ঘৃণা হয়, সবাই চেনে। একটা নিউইয়র্কে থাকে আরেকটা প্যারিসে থাকে। এরা সম্মিলিতভাবে এমন একটা আওয়াজ তুলেছে যে একে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। পরে দেখল যে আরে এর কাছে তো কিছুই পাই না। এবং হাদিরও কিছু পায়না। দেখে যে হাদি আহত হওয়ার পর আমি তার সুশ্রূষা কামনা করেছি। তো আমি তো খেতেই পারি। এবং আপনি বলেন সেই রাতে কি কেউ নাখেয়ে ছিলো? সেই রাতে কি রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ ছিল? সেই রাতে কি বিরিয়ানি খাওয়া হয় নাই বা অন্য কিছু হয় নাই? কিংবা ঐ নেহারি খাওয়ার জন্য আর কেউ কোথাও যায় নাই? আসলে এগুলো হচ্ছে সম্মিলিত একটা প্রোপাগান্ডা।দীর্ঘদিন ধরে ইউনূসের বিরুদ্ধে আমি কথা বলি কেন? ইউনূসের অপশাসন নিয়ে কথা বলি কেন? এটা নিয়ে প্রচার করছিলো দুই ইউটিউবার এবং এই যাদের কথা বললাম এনসিপির এবংকতগুলো। ওরা মনে করে যে ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে হচ্ছে শেখ হাসিনার লোক।

বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরকে মাফ চাইতে হবে টুডে অর টুমরো। ১৮ মাস ধরে ইউনূসের অপশাসনের বিরুদ্ধে তারা যে কথা বলেনি, পত্রিকাগুলো যে একটা শব্দ লিখে নাই এবং তাদের যে দায়িত্ব পালন করেননি। এবং ইউনূস যে তার প্রেক্ষিতে যা ইচ্ছা তা করে গেছে, এই রাষ্ট্রকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। একটা সে যে মব সম্রাট হিসেবে ছিলো, সে যে একটা রাজাকারদের প্রতিনিধি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য যা কিছু করার, স্বাধীনতাকে হেয় করার যতো পদক্ষেপ নেওয়ার এবং বঙ্গবন্ধুকে ডিফেন্ড করার এবং মুক্তিযুদ্ধে রস্মৃতিগুলোকে সব নষ্ট করার যত কার্যক্রম আছে সব ইউনূস করেছে। এবং সেটার জন্য এই জাতি এখন উপলব্ধি করছে। কিন্তু ইউনূসের বিরুদ্ধে যে কেউ কিছু বলে নাই, মিডিয়া যে তার ভূমিকা পালন করে নাই মিডিয়াকে তার জবাব দিতে হবে এবং দিবে একদিন না একদিন দিবে।আজকে হয়তো উপলব্ধি হচ্ছে না এবং এটার শেইম ফিল করবে যে আমরা ইউনূসের মতো একটা শাসককে এভাবে শাসন করতে দিয়েছি। সে যা ইচ্ছা তা করেছে, নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো করেছে।অর্থ আদায় করেছে, নেপোটিজম যা আছে সব করেছে। আত্মীয়-স্বজনতার চামচাদের বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা, বিদেশে চুক্তি করা এবং বিদেশের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করা এমন একটা দেশ নাই বাংলাদেশিরা এখন সাফার করছে না। কোনো প্রাইড নাই। ইউনূস নিজে বাংলাদেশিদেরকে বলছে বাটপার। বলছে বাংলাদেশিরা বাটপার। সো এরকম একটা লোককে আমরা শাসন ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম এবং আমরা চুপ ছিলাম সম্মিলিতভাবে এবং তার দায়-দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরনিতে হবে। ইতিহাস এই সাংবাদিকদেরকে ক্ষমা করবে না। রাজনৈতিকদলগুলোকে তো করবে কী করবে না সেটা অন্য ব্যাপার এবং ইউনূসতো জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে সার্ভ করে গেছে এই ১৮ মাস।কিন্তু তার সমস্ত কার্যক্রমে যেটা আমি বারবার বলতে চাই মিডিয়ারভূমিকা মিডিয়া এটা উপলব্ধি করতে হবে।

রাশেদ আহমেদ: ডিবি কার্যালয়ে আপনাকে কী ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো? আপনি কতগুলো স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন তখন আমরা দেখেছি। এগুলা সম্পর্কেও কি জানতে চাওয়া হয়েছিল তখন?

আনিস আলমগীর: না না, ওরা আমার সাথে খুব ভালো বিহেভ করেছে এখানে ভিন্ন ভাবার কোনো কারণ নাই। কিন্তু তারা দেখেছে যে আমরাতো বাধ্য হয়ে ওনাকে তুলে এনেছি। এবং আদালতের কাছে ওরা রিমান্ড চেয়েছিলো সাত দিনের আদালত পাঁচ দিন দিয়েছিলো। সেই কয়দিন যে জঘন্য একটা জায়গাতে আমাকে রেখেছিল, নির্জনে রেখেছিল, ঘুমাতে পারিনি, মশা এগুলো হচ্ছে নির্যাতন। এবং সারাদিন আপনাকে একটা রুমেরমধ্যে রেখে দিল কথা নাই বার্তা নাই এবং গরমের মধ্যে তো এগুলো হচ্ছেনির্যাতন।

রাশেদ আহমেদ: রিমান্ডে কী কী প্রশ্ন করা হতো?

আনিস আলমগীর: দুই দফা ওদের সাথে আমার কথা হয়েছে এক ঘণ্টা এক ঘণ্টা তিন দফা বলতে পারেন। চিফের সঙ্গে এক দফা দুই দফা কথা হয়েছে। আপনার সঙ্গে আরও দুইজন বা তিনজন ঐ মামলায় আসামি তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক কী? আর আমার ফ্যামিলি কী? আমি কোথায় কী করি না করি এগুলো। এগুলোতে কোনো এমন কিছু না তারা নিজেরাও বিরক্ত হয়ে গেছে এইকথা শুনতে শুনতে এবং তাদের অন্য কোনো কথা নাই। বরং আমিই তাদেরকে ডেকে বলছি যে ভাই তোমরা আমারে কী রিমান্ড করবে আমার সাথে কথা বলো অন্তত। কথা বলে অন্তত আমার সময়টা পার করো। কিন্তু পার্সোনালি কেউ আমাকে আক্রমণ করা বা ব্যক্তিগতভাবে রিমান্ড বলতে যে শব্দ বোঝায় সেরকম কিছু করেনি।

রাশেদ আহমেদ: ফোনটা কখন নিয়েছিল?

আনিস আলমগীর: ফোনটা আমি একটা মাত্র ফোন করতে পেরেছি মাসুদ কামালকে যখনই আমাকে গ্রেপ্তার করল। মাসুদ কামালকে আমি ফোনটা করেছি এজন্যই যে সন্ধ্যায় ওনার সাথে আমার টকশো ছিল।তো আমি বললাম যে আমি এটা যেতে পারছি না আমাকে ডিবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে কথা বলার জন্য। তারপর আর কোনো কথা হয় নাই আমার ড্রাইভারকে দিয়ে আমার ওয়াইফের সঙ্গে কথা হলো তাকেও জানালাম এই জিনিসটা।

রাশেদ আহমেদ: ফোনটা কখন নিয়ে গেল আপনার কাছ থেকে?

আনিস আলমগীর: এই আমি যাওয়ার পরপরই নিয়ে গেল। আটটা তোমনে করেন নয়টার দিকে নিয়ে গেল। আর যাওয়ার পথেও আমাকে ফোন ইউজ করতে দিচ্ছিল না। এবং সেই ফোনটা এখনো পর্যন্ত আমি পাই নাই।

রাশেদ আহমেদ: জেলখানার পরিস্থিতি কেমন ছিল? কার কার সাথে ওখানে দেখা হয়েছিল কি না?

আনিস আলমগীর: জেলখানার পরিস্থিতি তো জঘন্য। প্রথম রাতে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো কেরানীগঞ্জে। সেখানে ঐ রাতে আমাকে আমদানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো কাশিমপুরে। সেখানে এক জঘন্য জায়গায় আবার রাখা হলো ১০০-২০০ লোকের মাঝখানে একটা রুমে। তার পরের দিন সকালে আমি বললাম যে ওয়ার্ডে দিয়েদেন। আদালত আমাকে ডিভিশন দেওয়ার কথা বলেছিল ওরা ডিভিশনদেবে না তখনো। ডিভিশনের একটা বড় অসুবিধা হচ্ছে যে এখানে আদালত নির্দেশ দিলেও ডিভিশন দেয় না কারণ ডিসিদের অনুমতি লাগে। এটা কোন ধরনের রাষ্ট্র যে আদালত নির্দেশ দিলে আবার ডিসির অনুমতি লাগে? তাহলে আর এই আদালত থাকার কী দরকার? আর ডিসির শক্তি এতো বেশি তাহলে সরাসরি ডিসির কাছে দিলেই হয়। বললো যে আপনাকে একটা বিশেষ একটা বিল্ডিংয়ে দিচ্ছি। সেই বিল্ডিংটা হচ্ছে মধুমতি বলে একটা বিল্ডিং আছে। ঐখানে আওয়ামীলীগের যত লোক যে জায়গায় কর্মী স্থানীয় বা দুই একজন লিডার আছে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদেরকে নিয়েছে। এবং ঐ বিল্ডিংয়ের বাইরে তাদেরকে দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। মানে আমি জেলখানার মধ্যে আরেকটা জেলের মধ্যে আমাকে ঢুকিয়েছে। আপনি প্রশ্ন করেছেন সেখানে আওয়ামী লীগের কেউ ছিল কি না। আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা বলতে আমি শুধুমাত্র পেয়েছি ঢাকা দক্ষিণের জেনারেল সেক্রেটারি যিনি আছেন আওয়ামী লীগের মুরাদ, মুরাদ সাহেবকে পেয়েছি। আর অজয় কর খোকন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিল। আর বড় ধরনেরওখানে কোনো নেতা নাই। সব মিডল ক্লাস বা লোয়ার ক্লাসেরনেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে এবং বেশিরভাগই এরা নিরীহ।বেশিরভাগই এদের কোনো পদ-পদবী নাই কিন্তু গ্রেপ্তার করার সময় এদের পদ দিয়ে দিচ্ছে ছাত্রলীগের অমুক কমিটি অমুক শাখারসহ-সভাপতি এই জাতীয় ভুয়া এবং ওরা বলল যে এই পদ ছিলই না।

রাশেদ আহমেদ: বারবার আপনার জামিন রিফিউজ করা হচ্ছিল। কোন গ্রাউন্ডে, কী বলা হচ্ছিল ওখানে?

আনিস আলমগীর: কিসের গ্রাউন্ড এখানে? আমার জামিন কেন? শতশত লোকের জামিন রিফিউজ করা হচ্ছে। এগুলো স্বৈরাচারের দোসর এই গ্রাউন্ড। এবং আপনি নিম্ন আদালতে তো কোনো বিচার পাচ্ছে না লোকজন। একটা নিম্ন আদালতের কোনো জামিন দেওয়ার ক্ষমতাই নাই। ঐ কথাটা আমার মনে পড়ছিলো যখন কাদের সিদ্দিকীর ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বলছে আপনার উকিল আছেকি না আপনার জামিন চাইবে কি না। উনি বোল্ডলি যে কথাটা বলেছেন যাদের জামিন দেওয়ার ক্ষমতাই নাই তাদের কাছে আমি আবার জামিন চাইব কেনো? এবং নিম্ন আদালতের পরিবেশ এখন ঐরকমই করা হয়েছে।তাদের জামিন নেওয়ার কোনো অধিকারই নাই। তারা জামিন শুনবে এবং সেটা রিজেক্ট করবে। তারপর এটা জজ কোর্টে যাবে মিডল যে কোর্ট আছে সেখানে যাবে সেখান থেকে রিজেক্ট হবে। রিজেক্ট হওয়ার পর এটা হাইকোর্টে আসবে। হাইকোর্টে আসার পর লড়াই হবে সেখানে কিছুটা বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেখানেও এটা স্টে করিয়ে দিচ্ছে এই কাণ্ডটাই চলছে। এবং এটা সরকারের ইশারায় চলতেছিল। ইউনূস এবং তার আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল। যে আইনের জুলুম তৈরি করে দিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর থেকে বড় জুলুম আর নাই। কারণ আসিফ নজরুল সে একজন আইনের লোক, আইনের শিক্ষক, সে যখন বলে যে কী করে আদালত জামিন দিয়ে দেয় এবং আদালতকে ভর্ৎসনা করে এটা কি কোনো সভ্য দেশ? যেখানে জামিন পাওয়া একটা অধিকার। ছয় মাসের ঊর্ধ্বে আপনি আইনগতভাবে কাউকে জেলে আটক রাখতে পারেন না। তাকে জামিন দিতে হবে সে যদি ঐধরনের কোনো ক্রিমিনাল না হয়। আপনি রাজনৈতিক কর্মীদেরকে এক থেকে দেড় বছর দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখছেন এখন ১৯ মাস চলছে অনেকের। আপনি আটকে রেখেছেন বিনা বিচারে একটার পর একটা মামলা দিচ্ছেন। এই মামলাগুলোর কোনো চার্জশিট দিচ্ছেন না। আমি আসাদুজ্জামান নূরের কথা বলব তার তিনটা মামলা হয়েছে কিসের কী এগুলোর তো কোনো আগামাথা নাই। কোথাকার হত্যা মামলা। শাহরিয়ার কবিরের কথা দেখেন। একই ঘটনা এবং বহুরাজনৈতিক কর্মী এ ধরনের আছে যাদের আটকে রেখেছে যাদের মামলার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। সবচেয়ে বড় ভুয়া মামলা তো শুরু হয়েছিল সালমান এফ রহমান আর আনিসুল হককে দিয়ে। তারা দুইজন নিউ মার্কেটে কোনো হকারকে মারতে গিয়েছিল? তাদেরকে নিউমার্কেটে এক হকারকে মৃত্যুর মামলা দিয়ে শুরু করে দিয়েছিল এবং তাদেরকে আরেকটা নাটক করালো যে বুড়িগঙ্গা থেকে ধরেছে। তারা ক্যান্টনমেন্টে ধরা হয়েছে আরও অনেকদিন আগে। সো পুরো প্রক্রিয়াটাই পুরো আইন অঙ্গনটা একটা তামাশা বানিয়ে গিয়েছে আসিফ নজরুল। আমি জানি না তার পরিণতি কী হবে এবং একদিন না একদিন তাকে এগুলো জবাবদিহি করতে হবে। এবং ইউনূসের যে অপশাসন তার প্রধান সহযোগী হচ্ছে আসিফ নজরুল এবং ‘ডাস্টবিন শফিক’। এরাই এই ইউনূসকে পচানোর জন্য যথেষ্ট। ইউনূস তো কিছু জানেই না দেশ কীভাবে চলে। এরা আরও বিভ্রান্ত করেছে এবং তার আরও দোসর যারা আছে রিজওয়ানাসহ শুরু করে আরও অনেকে আছে তারাই তাকে পচিয়েছে আমি মনে করি। কিন্তু সরকার যেহেতু ইউনূস আছে ইউনূসের যেহেতু ইশারা আছে আমাকে জেলে ঢুকাচ্ছে জেলে ঢুকিয়েছে সেজন্য দেয় নাই।

রাশেদ আহমেদ: সরকারের আইনজীবী অর্থাৎ পিপি দাঁড়িয়ে কী বলত তখন? আর এই সময়ের পিপি দাঁড়িয়ে কী বলেছে?

আনিস আলমগীর: একই জিনিস একই কথা। কিন্তু আপনাকে যেটা বললাম সরকারের ইশারায় হচ্ছে বিষয়। সরকার আগেই ইশারা করেছে যে ওকে জামিন দিবে না ওরা ঐভাবে অ্যাক্ট করে।এবারের সরকার আমার প্রতি আশীর্বাদ ছিল যে আমি অন্যায় ভাবে জেলে আছি এবং সরকারের তরফ থেকে বিশেষ করে তথ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। গতকাল আমাকে তারেক রহমান ফোন করেছিলেন উনি প্রসঙ্গক্রমে এই কথাটা বলেছেন যে আমি বলেছি নিরপরাধ কোনো সাংবাদিক যাতে আটক না থাকে এবং আপনার কথা আমি বলেছি স্বপন ভাইকে। এবং আপনি বুঝে নেন তাহলে সেই প্রেক্ষিতেই আমাকে মুক্তি পেতে হয়েছে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যে এরকম তো বহু লোক পড়ে আছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে উনি আমাকে চেনেন কিংবা জাহির উদ্দিন স্বপন উদ্যোগী হয়েছেন বলে করেছেন কিন্তু এরকম হাজার হাজার লোক তো পড়ে আছে যারা বিনা বিচারে ঐখানে আটকে আছে তাদের জামিন হচ্ছে না।

রাশেদ আহমেদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী বলেছেন গতকাল যে ফোন করেছিলেন?

আনিস আলমগীর: প্রধানমন্ত্রী মূলত ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্যকরেছেন। এবং আমার স্বাস্থ্য কেমন আছে আমার বউকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এগুলোর কথা হয়েছে।

রাশেদ আহমেদ: ফোনটা কি আপনার কাছেই?

আনিস আলমগীর: না আমি তো নতুন একটা ফোন কিনেছি নতুন নাম্বার কিনেছি আমার ফোন নাম্বার আগেরটাই আছে সেটটি নাই।আমি ওনাকে থ্যাংকস দিলাম বিশেষ করে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ সমাজের যে উনি একটা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এবং রাষ্ট্রপতিকে যে সম্মান দিলেন ওনি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে যে ঈদের জামাত হলো এবং এগুলোযে একটা গুড সাইন সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং রাষ্ট্র যদিএগুলো করে মানুষের একটা ফেইথ পায় আশ্বস্ত হয় যে রাষ্ট্রটা সঠিকডিরেকশনে যাবে এই সমস্ত বিষয়গুলো কথা হলো।

রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রপতির সাথে কি কোনো কথা হয়েছিল আসলে?

আনিস আলমগীর: সকালে আমার সাথে রাষ্ট্রপতির যেটা দেখা হয়েছিলো, আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। নরমালি এই সমস্ত অনুষ্ঠানে আমি যাইনা আপনি জীবনেও আমাকে দেখেননি আমি দাওয়াত পেয়েও যাই না।কারণ এত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ধৈর্য আমার নাই। কিন্তু আমি গিয়েছিলাম জাস্ট ফর টু অনার দা পোস্ট অফ প্রেসিডেন্ট। যেটাকে ইউনূস বারবার অপমান করেছে। ইউনূস এত নির্লজ্জ লোক সে এই রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নিয়েছে। শপথ নিয়ে এই রাষ্ট্রপতিকে কোনো সম্মান দেখাতে পারেনি। সে ১৪ বার বিদেশে গিয়েছে একবারও সৌজন্যসাক্ষাৎ করতে যায় নাই সেখানে অথচ নিয়ম এটা। আমাদের বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সবাই এই সৌজন্যতা মেইনটেইন করেছে। ইউনূস সেটা মানে নাই। সে সবাইকে বলে যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াবে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করবে অথচ সে রাষ্ট্রপতিকে নিজেই সম্মান দেখানি। সে যেটা নিজে পালন করে না সেটাই অন্যকে পালন করার জন্য এখন জুলাই সনদ করেছে।জুলাই সনদকে ঝুলাই রাখছে সেই ইউনূস নিজেই। এটা জুলাই না ঝুলাই হয়ে যাবে। এবং এটা নিজেই করে গেছে। এবং সে সবচেয়ে বড় বাটপারিটা করেছে শহীদের সাথে জুলাই শহীদদের সঙ্গে। কারণ এক একটা মামলায় ৭০০-৮০০ লোক ভুয়া মামলায় আপনি গ্রেপ্তার করে রেখেছেন যাদের কোনো চার্জশিট দিচ্ছেন না। যাদের সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। যে ভুরুঙ্গামারীর একটা ঘটনাতে আপনি ঢাকায় একজনকে মামলা দিয়ে রাখছেন। এটা পুলিশ বলেন সরকারি কর্মকর্তা বলেন সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন প্রত্যেকটা মামলায় এভাবে মামলাবাণিজ্য করে পুরো ব্যাপারটাকে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছে যাতে করে এই শহীদরা আর কোনোদিন আসলে বিচার পাবে না।

রাশেদ আহমেদ: আপনি বারবার এই সরকারের সম্পর্কে ক্ষোভের কথা বলছেন। এটা কি আপনি অ্যারেস্ট হওয়ার পরে নাকি আগে থেকেই যে বলতেন এই কারণেই?

আনিস আলমগীর: আগে থেকেই বলতাম বলেই তো সে গ্রেপ্তার করেছে। অ্যারেস্ট হওয়ার পর তো বিষয় না। আগে ওরে বদ্দা ডাকতাম এখন বাটপার ডাকি পার্থক্য শুধু এইটুকু।

রাশেদ আহমেদ: ইউনূসকে বদ্দা ডাকতেন কেন?

আনিস আলমগীর: বদ্দা তো আমার বাড়ি চিটাগং তার বাড়িও চিটাগং। যেহেতু বড় ভাই বদ্দা হচ্ছে বড় ভাই আমাদের চিটাগংয়ের শব্দ এটা। অন্য কিছু না বদ্দা মানে কোনো এটা নেগেটিভ কিছু না।

রাশেদ আহমেদ: আগে কি তার সাথেৃৃ.আপনি তো রিপোর্টিং করেছেন তার সাথে কখনো ইন্টারভিউ নেয়া বা তার সাথে...

আনিস আলমগীর: না না জীবনে কোনোদিন দেখা হয় নাই এবং আমিখুব খুশি যে ওর সাথে দেখা হয় নাই। কিন্তু ছয় মাস ওকে আমি সমর্থন করেছিলাম। একবার ডে ওয়ান থেকে ছয় মাস সমর্থন করেছিলাম এবং ছয় মাস পরে আমি এবং আব্দুল নূর তুষার একটা ভিডিও করেছিলাম, তার এই ছয় মাসের শাসন আমরা পর্যালোচনা করেছি এবং ঐদিন থেকে আমরা তার সমালোচনা করছি। আব্দুন নুর তুষার ভাইও তার সমালোচনা এর আগে করেননি। আমরা একসঙ্গে সমালোচনা করলাম যে না আমরা এভাবে রাষ্ট্রটাকে বেহাত হতে দিতে পারি না। আমরা যে সরকারের যে সমস্ত অপকর্ম আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলব।এটাই হচ্ছে পার্থক্য। আমার মনে হয় যে আমরা ভুল করেছি আমাদের আসলে আগে থেকে বলা উচিত ছিল। কিন্তু আসলে পরিস্থিতি যদি পর্যালোচনা করেন আপনি আগে থেকে বলার সুযোগও ছিল না কারণ তখন মব করছিল। যাকে তাকে শেখ হাসিনা দোসর বানিয়ে দিচ্ছিল।অথচ আমি, তুষার ভাই, মাসুদ কামাল আমরা ঐ আমলের কোনো অংশীদার না। ঐ আমলে চাকরিচ্যুত আমরা অনেকে। এবং ঐ আমলে আমরা কোনো সুযোগ সুবিধাই নেই নাই। কিন্তু আমরা যে সত্য কথাবলছি সত্য কথাটা যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় সেটার জন্য তো আমরা দায়ী না সেটার জন্য তোমরা দায়ী তোমরা যে খারাপ কাজকরছো। এটা আওয়ামী লীগ কেন ঐ সময় যদি বিএনপি থাকতো ক্ষমতায় তাহলে বিএনপির পক্ষে যেতো। সো এটাতে যখন তারসমালোচনা করা হয় তখন সেটাকে সে প্রিভিয়াস গভর্নমেন্টের দালাল বানিয়ে দেয়। ইউনূস এবং তার দোসররা এই যে আসিফ নজরুল, ‘ডাস্টবিন শফিক’ যাদের যাদের কথা বললাম এবং যাদের যাদের সে পদায়ন করেছে এরা এই কালচারই শুরু করেছিল। আমরা ঐক্যবদ্ধসমাজের কথা বলতাম আর এরা সমাজকে টুকরো টুকরো করার কথাবলত। এখন আমরা আশা করি যে বর্তমান সরকার প্রথম যে জিনিসটা করবে সেটা হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ সমাজ তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে।আদারওয়াইজ এই দেশ এগুবেনা।

রাশেদ আহমেদ: আপনি তো মুক্তি পেলেন সাংবাদিকরা তো আরও জেলে আছে। মানে তাদের ব্যাপারে তো সরকারের আশীর্বাদ না থাকলেতো তারা মুক্তি পাবেন না।

আনিস আলমগীর: আমি বিশ্বাস করি সরকারের আশীর্বাদ না থাকলেতারা মুক্তি পাবেন না। এবং আমি মনে করি যে তাদের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক কেস দেওয়া উচিত। তারা যে অপরাধ যদি করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অপরাধ হচ্ছে দালালি করা বিগত সরকারের।

রাশেদ আহমেদ: মামলা তো হয়েছে হত্যা মামলা।

আনিস আলমগীর: এটাই বলতেছি ইউনূস যেটা করেছে সেটা হচ্ছেআসল কাজ করে নাই। তারা যেটুকু করেছে যে সরকারকে মিসগাইড করেছে সরকারকে অ্যাট্রোসিটিতে সহযোগিতা করেছে অপশাসনে সহযোগিতা করেছে সেরকম কোনো ইস্যুতে আপনি তাকে মামলা দিতেপারেন। তাকে হত্যা মামলা দেন কী করে? এগুলো তো কমপ্লিট মিথ্যা এবং তাদের সাথে যেটা হচ্ছে সেটাও অন্যায় হচ্ছে এটা কোনোদিনই ভালো কিছু না। এবং আমি মনে করি যে সরকারের এগুলো দেখা উচিত।

রাশেদ আহমেদ: কীভাবে দেখবে? আপনাকে একাধিক লোক আপনার বিষয়টা তথ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ ছিল বলে দেখা হয়েছে। অন্য ইস্যু তোউঠছে না আরও যে যে সব সাংবাদিকরা জেলে আছেন।

আনিস আলমগীর: সেটাই বলছি তাদের বিষয়টাও ঐভাবে দেখা উচিত। তারা যদি অন্যায় করে থাকে সেই অন্যায়ের বিচার হবে আলাদা। কিন্তুতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হবে কেন? সব মামলাগুলোকে আমি বলিযে একটা টাস্কফোর্স করা উচিত যেখানে সবাই আবেদন করবে যে আমার বিরুদ্ধে কী কী মামলা আছে ভুয়া মামলাগুলো যাতে চিহ্নিত করে এছাড়াআইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। ডক্টর ইউনূসের যে অপশাসন ডক্টরইউনূসের যে জালিমীপনা এটা কেন এই সরকার বহন করবে? ইউনূসের জঞ্জাল আবর্জনা কেন এই সরকারকে বহন করতে হবে? তাহলে এই সরকারনতুন কিছু করতে হবে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে ন্যায় শাসন দিতেহবে। ন্যায় শাসন দিতে হলে কোনটা অন্যায় মামলা আর কোনটা ন্যায়মামলা সেটা করতে হবে। এখন জেলখানায় যেটা হচ্ছে সবচেয়েআরেকটা বিষয় আপনাকে উল্লেখ করি জামিন পেলেও আপনি জামিন পাচ্ছেন না। কারণ আপনার বিরুদ্ধে আরেকটা অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে দিচ্ছে। এবং আরেকটা চক্র তৈরি হয়েছে এখানে জেল চক্র এবংপুলিশ চক্র। এই দুই চক্র মিলে আপনার বিরুদ্ধে এটা করছে। আমার জানামতে বহু লোক বের হতে পারছে না এবং গেট কন্টাক্ট করতে হয়।এক একটা ৫ লাখ টাকা ১০ লাখ টাকা এটা আপনার ওজন চিন্তা করে আপনাকে দিবে। ৫ লাখ ১০ লাখ টাকা যদি আপনি কন্টাক্ট করতে পারেন তখন আপনার বিরুদ্ধে নতুন মামলা হবে না।

রাশেদ আহমেদ: কথা বলার জন্যই আপনাকে জেল খাটতে হয়েছে জেলে যেতে হয়েছে সাংবাদিকরা তো সাংবাদিকতা করতে পারছেন না কতগুলো কারণে। সেখানে কথা বলার আসলে স্বাধীনতা নাই, লেখার স্বাধীনতা নাই সেটা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?

আনিস আলমগীর: লেখার স্বাধীনতা বলার স্বাধীনতা নাই আপনি নিজেই বলেন না আপনাকে কীভাবে স্বাধীনতা দেবে? আপনি যদি লেজুড়বৃত্তি করবেন আপনি যদি ধরে নেন যে সরকার আছে তার গোলামি করতে হবে তাহলে তো হবে না। সরকার তো চাইবে মিডিয়াগুলো সব তার জিন্দাবাদ করুক। কোন সরকার চায় তার বিরুদ্ধে কথা বলুক, কিছু মিডিয়া তৈরি হয়েছে সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য আর কিছু মিডিয়া তৈরি হয়েছে সরকারের গুণগান গাওয়ার জন্য। কিন্তু যা সত্য সেটা তো বলছে না। প্রথম আলোর মতো পত্রিকাকে...

রাশেদ আহমেদ: প্রতিষ্ঠানের দোষ এটা বলছেন?

আনিস আলমগীর: দুইটাই দোষ। সাংবাদিকরাই তো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।সাংবাদিকরাই তো নিজেরাই বিক্রি হয়ে গেছে। তারাই তো রাজনৈতিক দলের চাটুকারিতায় লিপ্ত হয়ে গেছে। এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও লিপ্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো যাদেরকে চালাবে সেই টুলসগুলোই যখন পচে যায় তখনতারা ঐ বা কী করবে। আমি প্রথম আলোর কথা বলছিলাম প্রথম আলোর মতো একটা পত্রিকা যারা আওয়ামী লীগ আমলে খুবই সোচ্চার ছিল তারা ইউনূসের অপশাসন সম্পর্কে কয়টা রিপোর্ট করেছে? করতে পারে নাই তো। সো তাদের চরিত্র তো মানে হতাশ করার মতো। ডেইলি স্টারের কথা বলবো আমরা একই কথা বলব যে ওয়ান ইলেভেনের সময়যে চরিত্রে ছিল যারা হতাশ করেছে তারা পরবর্তীতেও করেছে। প্রথম আলো যখন একটু চেইঞ্জ আনল যে একটু সমালোচনা করছিল তখন দেখা গেল প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার আক্রান্ত। এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সংবাদপত্রের জন্য এরকম নিকৃষ্ট দিবস আর আসে নাই।

রাশেদ আহমেদ: এখন সামনে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে কী কী বাধাদূর করতে হবে?

আনিস আলমগীর: সামনে পিছনে একটাই বিষয় আপনি সত্য বলেনআপনি সত্য কাহিনী তুলে ধরেন আপনি জনগণের কথা বলেন আপনার মালিকের কথা না। এবং সত্য প্রকাশ করতে কেউ বাধা দিচ্ছেনা। আমি মনে করি যে এই আমাদের সেলফ সেন্সরশিপটা এখানে বড় বাধা। নিজেরাই নিজেরা ভীত অবস্থায় যে আমাকে ধরে নেবে। তোমাকেকেন ধরে নেবে কারণ তুমি যে অন্যায় না করো অন্যায় না করলে তোকেউ কাউকে ধরতে পারবে না। ঐ মালিকরেই তো ধরতে পারবে না। এখন আপনি বলছেন আপনাকে তো ধরল আমাকে ধরল আমাকে কেন ধরেছে কারণ আপনারা কেউ কথা বলেন না। এক আনিসআলমগীর কেন কথা বলবে? আরও যদি ১০ জন কথা বলত আরও ১০টা সাংবাদিক কথা বলত তাহলে তো ধরতে পারত না।

রাশেদ আহমেদ: ঠিক আছে আনিস আলমগীর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আনিস আলমগীর: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকেও বাসায় আসলেন কথা বললেন ভালো লাগছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


‘একদিন না একদিন জবাবদিহি করতে হবে’- আনিস আলমগীর

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সাংবাদিক আনিস আলমগীর এই সময়ের আলোচিত ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এর আগেও আলোচিত হয়েছিলেন ইরাক যুদ্ধের সময়। বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে তিনি এটি কাভার করতে ইরাকে গিয়েছিলেন এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি মুহূর্তের সংবাদ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে। আফগানিস্তানের যুদ্ধের সংবাদও কভার করেছেন। সদ্য কারামুক্ত আনিস আলমগীরের সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদের ডিজিটাল বিভাগের বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। সাক্ষাৎকারটি হুবহু ছাপা হলো।

রাশেদ আহমেদ: আপনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কেনো ?

আনিস আলমগীর: সেটা তো আমারও প্রশ্ন ছিলো, আমাকে কেনো গ্রেপ্তার করা হলো? আমাকে ১৪ই ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করা হলো, ১৪ই মার্চ আমি মুক্তি পেলাম। একদম কাটায় কাটায় তিন মাস আমাকে জেল খাটতে হলো এবং সাত দিন রিমান্ডে ছিলাম। আমাকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, আমি জিমে ছিলাম। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম কী জন্য? বললো ডিবি প্রধান কথা বলবেন। তো সারারাত আমাকে কথা বলতে হলো সেই সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। রাত একটার দিকে বলা হলো একটা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাচ্ছি। মানে আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিলো না। যারা অভিযোগ করেছিলো, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলো তার নির্দেশেদাতা। সকাল থেকে আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হচ্ছিলো, পরবর্তীতে আমি যেটা জেনেছিলাম। সো কেন গ্রেপ্তার করছে সেটার কোনো ভিত্তি আমি পেলাম না। আমার সাথে কথা বলে তারা নিজেরাও কনফিউজড হয়েছিলো। টকশোতে কথা বলেছিলাম, ভাইরাল হয়েছিল। ওগুলা লিঙ্ক দেখালো, বলছিলো দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছি। কিন্তু সেখানে বক্তব্যগুলো শুনলে দেখা যাচ্ছে যে একটাও অস্থিতিশীল করার জন্য নয় বরং কীভাবে সামনে ভালো একটা নির্বাচন দিয়ে এই সরকার বিদায় নিতে পারে সেই সহযোগিতার কথা বলেছি।

রাশেদ আহমেদ: আপনার কাছে কী মনে হয়? আরও কতগুলো জিনিস ফেইসবুকে দেখা যাচ্ছিলো বা বলা হচ্ছিলো আপনার খাবার নিয়ে কথাবার্তা বলা হচ্ছিলো।

আনিস আলমগীর: হ্যাঁ, এটা আমাকে ডিবি চিফ জিজ্ঞেস করছিলো হাদির সঙ্গে কী হয়েছিল? আমি বললাম যে হাদির সঙ্গে আমার কিছুই হয় নাই। হাদিকে আমি চিনিও না। হাদিকে চিনি মানে ঐ অর্থে চিনি না।আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরিচয় নাই। কোনোদিন যোগাযোগ হয় নাই, কথা হয় নাই। তার রাজনীতির সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক নাই। কিন্তু হাদির প্রসঙ্গটা আসলো কেনো? আমি বললাম যে হাদি যেদিন আহত হলো সঙ্গে সঙ্গে আমি তার সুশ্রূষা কামনা করি। আল্লাহ যাতে ছেলেটাকে সুস্থ করে দেয় এই কামনা করে তার ছবিসহ পোস্ট করেছি।কিন্তু ঐদিন রাতের বেলায় আপনারা যারা আমাকে ফলো করেন তারা জানেন যে আমি দৈনন্দিন খাবারের পোস্ট করি। ঐদিন রাতের বেলা আমার নেহারি খাওয়ার ইয়ে ছিল। এক জায়গায় নেহারি খেয়েছি, সেই রাতে। এখন ঐছবি পোস্ট হলো কেন? এটাতে হয়েছে হাদির আহত হওয়া উদযাপন করছি। এবং এটা ছড়িয়েছে এনসিপির কিছু লোক। এনসিপির নিজস্ব ফেইসবুক পেজ থেকে ছাড়া হয়েছে এটা। যে হাদি আহত হওয়ায় উৎসব করছে।তো আমি টোটাল পর্যালোচনা করে যদি আপনি দেখেন জামায়াত-শিবির, বট বাহিনী এবং এনসিপি এবং বিদেশে পলাতক দুইটা ইউটিউবার। এগুলার নাম উচ্চারণ করতে আমার ঘৃণা হয়, সবাই চেনে। একটা নিউইয়র্কে থাকে আরেকটা প্যারিসে থাকে। এরা সম্মিলিতভাবে এমন একটা আওয়াজ তুলেছে যে একে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে। পরে দেখল যে আরে এর কাছে তো কিছুই পাই না। এবং হাদিরও কিছু পায়না। দেখে যে হাদি আহত হওয়ার পর আমি তার সুশ্রূষা কামনা করেছি। তো আমি তো খেতেই পারি। এবং আপনি বলেন সেই রাতে কি কেউ নাখেয়ে ছিলো? সেই রাতে কি রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ ছিল? সেই রাতে কি বিরিয়ানি খাওয়া হয় নাই বা অন্য কিছু হয় নাই? কিংবা ঐ নেহারি খাওয়ার জন্য আর কেউ কোথাও যায় নাই? আসলে এগুলো হচ্ছে সম্মিলিত একটা প্রোপাগান্ডা।দীর্ঘদিন ধরে ইউনূসের বিরুদ্ধে আমি কথা বলি কেন? ইউনূসের অপশাসন নিয়ে কথা বলি কেন? এটা নিয়ে প্রচার করছিলো দুই ইউটিউবার এবং এই যাদের কথা বললাম এনসিপির এবংকতগুলো। ওরা মনে করে যে ইউনূসের বিরুদ্ধে কথা বলা মানে হচ্ছে শেখ হাসিনার লোক।

বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরকে মাফ চাইতে হবে টুডে অর টুমরো। ১৮ মাস ধরে ইউনূসের অপশাসনের বিরুদ্ধে তারা যে কথা বলেনি, পত্রিকাগুলো যে একটা শব্দ লিখে নাই এবং তাদের যে দায়িত্ব পালন করেননি। এবং ইউনূস যে তার প্রেক্ষিতে যা ইচ্ছা তা করে গেছে, এই রাষ্ট্রকে ৫০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। একটা সে যে মব সম্রাট হিসেবে ছিলো, সে যে একটা রাজাকারদের প্রতিনিধি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য যা কিছু করার, স্বাধীনতাকে হেয় করার যতো পদক্ষেপ নেওয়ার এবং বঙ্গবন্ধুকে ডিফেন্ড করার এবং মুক্তিযুদ্ধে রস্মৃতিগুলোকে সব নষ্ট করার যত কার্যক্রম আছে সব ইউনূস করেছে। এবং সেটার জন্য এই জাতি এখন উপলব্ধি করছে। কিন্তু ইউনূসের বিরুদ্ধে যে কেউ কিছু বলে নাই, মিডিয়া যে তার ভূমিকা পালন করে নাই মিডিয়াকে তার জবাব দিতে হবে এবং দিবে একদিন না একদিন দিবে।আজকে হয়তো উপলব্ধি হচ্ছে না এবং এটার শেইম ফিল করবে যে আমরা ইউনূসের মতো একটা শাসককে এভাবে শাসন করতে দিয়েছি। সে যা ইচ্ছা তা করেছে, নিজের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাজগুলো করেছে।অর্থ আদায় করেছে, নেপোটিজম যা আছে সব করেছে। আত্মীয়-স্বজনতার চামচাদের বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা, বিদেশে চুক্তি করা এবং বিদেশের কাছে বাংলাদেশকে হেয় করা এমন একটা দেশ নাই বাংলাদেশিরা এখন সাফার করছে না। কোনো প্রাইড নাই। ইউনূস নিজে বাংলাদেশিদেরকে বলছে বাটপার। বলছে বাংলাদেশিরা বাটপার। সো এরকম একটা লোককে আমরা শাসন ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম এবং আমরা চুপ ছিলাম সম্মিলিতভাবে এবং তার দায়-দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরনিতে হবে। ইতিহাস এই সাংবাদিকদেরকে ক্ষমা করবে না। রাজনৈতিকদলগুলোকে তো করবে কী করবে না সেটা অন্য ব্যাপার এবং ইউনূসতো জামায়াতের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে সার্ভ করে গেছে এই ১৮ মাস।কিন্তু তার সমস্ত কার্যক্রমে যেটা আমি বারবার বলতে চাই মিডিয়ারভূমিকা মিডিয়া এটা উপলব্ধি করতে হবে।

রাশেদ আহমেদ: ডিবি কার্যালয়ে আপনাকে কী ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো? আপনি কতগুলো স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছেন তখন আমরা দেখেছি। এগুলা সম্পর্কেও কি জানতে চাওয়া হয়েছিল তখন?

আনিস আলমগীর: না না, ওরা আমার সাথে খুব ভালো বিহেভ করেছে এখানে ভিন্ন ভাবার কোনো কারণ নাই। কিন্তু তারা দেখেছে যে আমরাতো বাধ্য হয়ে ওনাকে তুলে এনেছি। এবং আদালতের কাছে ওরা রিমান্ড চেয়েছিলো সাত দিনের আদালত পাঁচ দিন দিয়েছিলো। সেই কয়দিন যে জঘন্য একটা জায়গাতে আমাকে রেখেছিল, নির্জনে রেখেছিল, ঘুমাতে পারিনি, মশা এগুলো হচ্ছে নির্যাতন। এবং সারাদিন আপনাকে একটা রুমেরমধ্যে রেখে দিল কথা নাই বার্তা নাই এবং গরমের মধ্যে তো এগুলো হচ্ছেনির্যাতন।

রাশেদ আহমেদ: রিমান্ডে কী কী প্রশ্ন করা হতো?

আনিস আলমগীর: দুই দফা ওদের সাথে আমার কথা হয়েছে এক ঘণ্টা এক ঘণ্টা তিন দফা বলতে পারেন। চিফের সঙ্গে এক দফা দুই দফা কথা হয়েছে। আপনার সঙ্গে আরও দুইজন বা তিনজন ঐ মামলায় আসামি তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক কী? আর আমার ফ্যামিলি কী? আমি কোথায় কী করি না করি এগুলো। এগুলোতে কোনো এমন কিছু না তারা নিজেরাও বিরক্ত হয়ে গেছে এইকথা শুনতে শুনতে এবং তাদের অন্য কোনো কথা নাই। বরং আমিই তাদেরকে ডেকে বলছি যে ভাই তোমরা আমারে কী রিমান্ড করবে আমার সাথে কথা বলো অন্তত। কথা বলে অন্তত আমার সময়টা পার করো। কিন্তু পার্সোনালি কেউ আমাকে আক্রমণ করা বা ব্যক্তিগতভাবে রিমান্ড বলতে যে শব্দ বোঝায় সেরকম কিছু করেনি।

রাশেদ আহমেদ: ফোনটা কখন নিয়েছিল?

আনিস আলমগীর: ফোনটা আমি একটা মাত্র ফোন করতে পেরেছি মাসুদ কামালকে যখনই আমাকে গ্রেপ্তার করল। মাসুদ কামালকে আমি ফোনটা করেছি এজন্যই যে সন্ধ্যায় ওনার সাথে আমার টকশো ছিল।তো আমি বললাম যে আমি এটা যেতে পারছি না আমাকে ডিবি তুলে নিয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে কথা বলার জন্য। তারপর আর কোনো কথা হয় নাই আমার ড্রাইভারকে দিয়ে আমার ওয়াইফের সঙ্গে কথা হলো তাকেও জানালাম এই জিনিসটা।

রাশেদ আহমেদ: ফোনটা কখন নিয়ে গেল আপনার কাছ থেকে?

আনিস আলমগীর: এই আমি যাওয়ার পরপরই নিয়ে গেল। আটটা তোমনে করেন নয়টার দিকে নিয়ে গেল। আর যাওয়ার পথেও আমাকে ফোন ইউজ করতে দিচ্ছিল না। এবং সেই ফোনটা এখনো পর্যন্ত আমি পাই নাই।

রাশেদ আহমেদ: জেলখানার পরিস্থিতি কেমন ছিল? কার কার সাথে ওখানে দেখা হয়েছিল কি না?

আনিস আলমগীর: জেলখানার পরিস্থিতি তো জঘন্য। প্রথম রাতে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো কেরানীগঞ্জে। সেখানে ঐ রাতে আমাকে আমদানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো কাশিমপুরে। সেখানে এক জঘন্য জায়গায় আবার রাখা হলো ১০০-২০০ লোকের মাঝখানে একটা রুমে। তার পরের দিন সকালে আমি বললাম যে ওয়ার্ডে দিয়েদেন। আদালত আমাকে ডিভিশন দেওয়ার কথা বলেছিল ওরা ডিভিশনদেবে না তখনো। ডিভিশনের একটা বড় অসুবিধা হচ্ছে যে এখানে আদালত নির্দেশ দিলেও ডিভিশন দেয় না কারণ ডিসিদের অনুমতি লাগে। এটা কোন ধরনের রাষ্ট্র যে আদালত নির্দেশ দিলে আবার ডিসির অনুমতি লাগে? তাহলে আর এই আদালত থাকার কী দরকার? আর ডিসির শক্তি এতো বেশি তাহলে সরাসরি ডিসির কাছে দিলেই হয়। বললো যে আপনাকে একটা বিশেষ একটা বিল্ডিংয়ে দিচ্ছি। সেই বিল্ডিংটা হচ্ছে মধুমতি বলে একটা বিল্ডিং আছে। ঐখানে আওয়ামীলীগের যত লোক যে জায়গায় কর্মী স্থানীয় বা দুই একজন লিডার আছে যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদেরকে নিয়েছে। এবং ঐ বিল্ডিংয়ের বাইরে তাদেরকে দেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। মানে আমি জেলখানার মধ্যে আরেকটা জেলের মধ্যে আমাকে ঢুকিয়েছে। আপনি প্রশ্ন করেছেন সেখানে আওয়ামী লীগের কেউ ছিল কি না। আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা বলতে আমি শুধুমাত্র পেয়েছি ঢাকা দক্ষিণের জেনারেল সেক্রেটারি যিনি আছেন আওয়ামী লীগের মুরাদ, মুরাদ সাহেবকে পেয়েছি। আর অজয় কর খোকন ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিল। আর বড় ধরনেরওখানে কোনো নেতা নাই। সব মিডল ক্লাস বা লোয়ার ক্লাসেরনেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে এবং বেশিরভাগই এরা নিরীহ।বেশিরভাগই এদের কোনো পদ-পদবী নাই কিন্তু গ্রেপ্তার করার সময় এদের পদ দিয়ে দিচ্ছে ছাত্রলীগের অমুক কমিটি অমুক শাখারসহ-সভাপতি এই জাতীয় ভুয়া এবং ওরা বলল যে এই পদ ছিলই না।

রাশেদ আহমেদ: বারবার আপনার জামিন রিফিউজ করা হচ্ছিল। কোন গ্রাউন্ডে, কী বলা হচ্ছিল ওখানে?

আনিস আলমগীর: কিসের গ্রাউন্ড এখানে? আমার জামিন কেন? শতশত লোকের জামিন রিফিউজ করা হচ্ছে। এগুলো স্বৈরাচারের দোসর এই গ্রাউন্ড। এবং আপনি নিম্ন আদালতে তো কোনো বিচার পাচ্ছে না লোকজন। একটা নিম্ন আদালতের কোনো জামিন দেওয়ার ক্ষমতাই নাই। ঐ কথাটা আমার মনে পড়ছিলো যখন কাদের সিদ্দিকীর ভাই লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বলছে আপনার উকিল আছেকি না আপনার জামিন চাইবে কি না। উনি বোল্ডলি যে কথাটা বলেছেন যাদের জামিন দেওয়ার ক্ষমতাই নাই তাদের কাছে আমি আবার জামিন চাইব কেনো? এবং নিম্ন আদালতের পরিবেশ এখন ঐরকমই করা হয়েছে।তাদের জামিন নেওয়ার কোনো অধিকারই নাই। তারা জামিন শুনবে এবং সেটা রিজেক্ট করবে। তারপর এটা জজ কোর্টে যাবে মিডল যে কোর্ট আছে সেখানে যাবে সেখান থেকে রিজেক্ট হবে। রিজেক্ট হওয়ার পর এটা হাইকোর্টে আসবে। হাইকোর্টে আসার পর লড়াই হবে সেখানে কিছুটা বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেখানেও এটা স্টে করিয়ে দিচ্ছে এই কাণ্ডটাই চলছে। এবং এটা সরকারের ইশারায় চলতেছিল। ইউনূস এবং তার আইনমন্ত্রী আসিফ নজরুল। যে আইনের জুলুম তৈরি করে দিয়ে গেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর থেকে বড় জুলুম আর নাই। কারণ আসিফ নজরুল সে একজন আইনের লোক, আইনের শিক্ষক, সে যখন বলে যে কী করে আদালত জামিন দিয়ে দেয় এবং আদালতকে ভর্ৎসনা করে এটা কি কোনো সভ্য দেশ? যেখানে জামিন পাওয়া একটা অধিকার। ছয় মাসের ঊর্ধ্বে আপনি আইনগতভাবে কাউকে জেলে আটক রাখতে পারেন না। তাকে জামিন দিতে হবে সে যদি ঐধরনের কোনো ক্রিমিনাল না হয়। আপনি রাজনৈতিক কর্মীদেরকে এক থেকে দেড় বছর দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখছেন এখন ১৯ মাস চলছে অনেকের। আপনি আটকে রেখেছেন বিনা বিচারে একটার পর একটা মামলা দিচ্ছেন। এই মামলাগুলোর কোনো চার্জশিট দিচ্ছেন না। আমি আসাদুজ্জামান নূরের কথা বলব তার তিনটা মামলা হয়েছে কিসের কী এগুলোর তো কোনো আগামাথা নাই। কোথাকার হত্যা মামলা। শাহরিয়ার কবিরের কথা দেখেন। একই ঘটনা এবং বহুরাজনৈতিক কর্মী এ ধরনের আছে যাদের আটকে রেখেছে যাদের মামলার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। সবচেয়ে বড় ভুয়া মামলা তো শুরু হয়েছিল সালমান এফ রহমান আর আনিসুল হককে দিয়ে। তারা দুইজন নিউ মার্কেটে কোনো হকারকে মারতে গিয়েছিল? তাদেরকে নিউমার্কেটে এক হকারকে মৃত্যুর মামলা দিয়ে শুরু করে দিয়েছিল এবং তাদেরকে আরেকটা নাটক করালো যে বুড়িগঙ্গা থেকে ধরেছে। তারা ক্যান্টনমেন্টে ধরা হয়েছে আরও অনেকদিন আগে। সো পুরো প্রক্রিয়াটাই পুরো আইন অঙ্গনটা একটা তামাশা বানিয়ে গিয়েছে আসিফ নজরুল। আমি জানি না তার পরিণতি কী হবে এবং একদিন না একদিন তাকে এগুলো জবাবদিহি করতে হবে। এবং ইউনূসের যে অপশাসন তার প্রধান সহযোগী হচ্ছে আসিফ নজরুল এবং ‘ডাস্টবিন শফিক’। এরাই এই ইউনূসকে পচানোর জন্য যথেষ্ট। ইউনূস তো কিছু জানেই না দেশ কীভাবে চলে। এরা আরও বিভ্রান্ত করেছে এবং তার আরও দোসর যারা আছে রিজওয়ানাসহ শুরু করে আরও অনেকে আছে তারাই তাকে পচিয়েছে আমি মনে করি। কিন্তু সরকার যেহেতু ইউনূস আছে ইউনূসের যেহেতু ইশারা আছে আমাকে জেলে ঢুকাচ্ছে জেলে ঢুকিয়েছে সেজন্য দেয় নাই।

রাশেদ আহমেদ: সরকারের আইনজীবী অর্থাৎ পিপি দাঁড়িয়ে কী বলত তখন? আর এই সময়ের পিপি দাঁড়িয়ে কী বলেছে?

আনিস আলমগীর: একই জিনিস একই কথা। কিন্তু আপনাকে যেটা বললাম সরকারের ইশারায় হচ্ছে বিষয়। সরকার আগেই ইশারা করেছে যে ওকে জামিন দিবে না ওরা ঐভাবে অ্যাক্ট করে।এবারের সরকার আমার প্রতি আশীর্বাদ ছিল যে আমি অন্যায় ভাবে জেলে আছি এবং সরকারের তরফ থেকে বিশেষ করে তথ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। গতকাল আমাকে তারেক রহমান ফোন করেছিলেন উনি প্রসঙ্গক্রমে এই কথাটা বলেছেন যে আমি বলেছি নিরপরাধ কোনো সাংবাদিক যাতে আটক না থাকে এবং আপনার কথা আমি বলেছি স্বপন ভাইকে। এবং আপনি বুঝে নেন তাহলে সেই প্রেক্ষিতেই আমাকে মুক্তি পেতে হয়েছে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে যে এরকম তো বহু লোক পড়ে আছে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে উনি আমাকে চেনেন কিংবা জাহির উদ্দিন স্বপন উদ্যোগী হয়েছেন বলে করেছেন কিন্তু এরকম হাজার হাজার লোক তো পড়ে আছে যারা বিনা বিচারে ঐখানে আটকে আছে তাদের জামিন হচ্ছে না।

রাশেদ আহমেদ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী বলেছেন গতকাল যে ফোন করেছিলেন?

আনিস আলমগীর: প্রধানমন্ত্রী মূলত ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্যকরেছেন। এবং আমার স্বাস্থ্য কেমন আছে আমার বউকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এগুলোর কথা হয়েছে।

রাশেদ আহমেদ: ফোনটা কি আপনার কাছেই?

আনিস আলমগীর: না আমি তো নতুন একটা ফোন কিনেছি নতুন নাম্বার কিনেছি আমার ফোন নাম্বার আগেরটাই আছে সেটটি নাই।আমি ওনাকে থ্যাংকস দিলাম বিশেষ করে আমাদের একটা ঐক্যবদ্ধ সমাজের যে উনি একটা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এবং রাষ্ট্রপতিকে যে সম্মান দিলেন ওনি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে যে ঈদের জামাত হলো এবং এগুলোযে একটা গুড সাইন সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এবং রাষ্ট্র যদিএগুলো করে মানুষের একটা ফেইথ পায় আশ্বস্ত হয় যে রাষ্ট্রটা সঠিকডিরেকশনে যাবে এই সমস্ত বিষয়গুলো কথা হলো।

রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রপতির সাথে কি কোনো কথা হয়েছিল আসলে?

আনিস আলমগীর: সকালে আমার সাথে রাষ্ট্রপতির যেটা দেখা হয়েছিলো, আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। নরমালি এই সমস্ত অনুষ্ঠানে আমি যাইনা আপনি জীবনেও আমাকে দেখেননি আমি দাওয়াত পেয়েও যাই না।কারণ এত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ধৈর্য আমার নাই। কিন্তু আমি গিয়েছিলাম জাস্ট ফর টু অনার দা পোস্ট অফ প্রেসিডেন্ট। যেটাকে ইউনূস বারবার অপমান করেছে। ইউনূস এত নির্লজ্জ লোক সে এই রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নিয়েছে। শপথ নিয়ে এই রাষ্ট্রপতিকে কোনো সম্মান দেখাতে পারেনি। সে ১৪ বার বিদেশে গিয়েছে একবারও সৌজন্যসাক্ষাৎ করতে যায় নাই সেখানে অথচ নিয়ম এটা। আমাদের বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সবাই এই সৌজন্যতা মেইনটেইন করেছে। ইউনূস সেটা মানে নাই। সে সবাইকে বলে যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াবে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করবে অথচ সে রাষ্ট্রপতিকে নিজেই সম্মান দেখানি। সে যেটা নিজে পালন করে না সেটাই অন্যকে পালন করার জন্য এখন জুলাই সনদ করেছে।জুলাই সনদকে ঝুলাই রাখছে সেই ইউনূস নিজেই। এটা জুলাই না ঝুলাই হয়ে যাবে। এবং এটা নিজেই করে গেছে। এবং সে সবচেয়ে বড় বাটপারিটা করেছে শহীদের সাথে জুলাই শহীদদের সঙ্গে। কারণ এক একটা মামলায় ৭০০-৮০০ লোক ভুয়া মামলায় আপনি গ্রেপ্তার করে রেখেছেন যাদের কোনো চার্জশিট দিচ্ছেন না। যাদের সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। যে ভুরুঙ্গামারীর একটা ঘটনাতে আপনি ঢাকায় একজনকে মামলা দিয়ে রাখছেন। এটা পুলিশ বলেন সরকারি কর্মকর্তা বলেন সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মী বলেন প্রত্যেকটা মামলায় এভাবে মামলাবাণিজ্য করে পুরো ব্যাপারটাকে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছে যাতে করে এই শহীদরা আর কোনোদিন আসলে বিচার পাবে না।

রাশেদ আহমেদ: আপনি বারবার এই সরকারের সম্পর্কে ক্ষোভের কথা বলছেন। এটা কি আপনি অ্যারেস্ট হওয়ার পরে নাকি আগে থেকেই যে বলতেন এই কারণেই?

আনিস আলমগীর: আগে থেকেই বলতাম বলেই তো সে গ্রেপ্তার করেছে। অ্যারেস্ট হওয়ার পর তো বিষয় না। আগে ওরে বদ্দা ডাকতাম এখন বাটপার ডাকি পার্থক্য শুধু এইটুকু।

রাশেদ আহমেদ: ইউনূসকে বদ্দা ডাকতেন কেন?

আনিস আলমগীর: বদ্দা তো আমার বাড়ি চিটাগং তার বাড়িও চিটাগং। যেহেতু বড় ভাই বদ্দা হচ্ছে বড় ভাই আমাদের চিটাগংয়ের শব্দ এটা। অন্য কিছু না বদ্দা মানে কোনো এটা নেগেটিভ কিছু না।

রাশেদ আহমেদ: আগে কি তার সাথেৃৃ.আপনি তো রিপোর্টিং করেছেন তার সাথে কখনো ইন্টারভিউ নেয়া বা তার সাথে...

আনিস আলমগীর: না না জীবনে কোনোদিন দেখা হয় নাই এবং আমিখুব খুশি যে ওর সাথে দেখা হয় নাই। কিন্তু ছয় মাস ওকে আমি সমর্থন করেছিলাম। একবার ডে ওয়ান থেকে ছয় মাস সমর্থন করেছিলাম এবং ছয় মাস পরে আমি এবং আব্দুল নূর তুষার একটা ভিডিও করেছিলাম, তার এই ছয় মাসের শাসন আমরা পর্যালোচনা করেছি এবং ঐদিন থেকে আমরা তার সমালোচনা করছি। আব্দুন নুর তুষার ভাইও তার সমালোচনা এর আগে করেননি। আমরা একসঙ্গে সমালোচনা করলাম যে না আমরা এভাবে রাষ্ট্রটাকে বেহাত হতে দিতে পারি না। আমরা যে সরকারের যে সমস্ত অপকর্ম আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলব।এটাই হচ্ছে পার্থক্য। আমার মনে হয় যে আমরা ভুল করেছি আমাদের আসলে আগে থেকে বলা উচিত ছিল। কিন্তু আসলে পরিস্থিতি যদি পর্যালোচনা করেন আপনি আগে থেকে বলার সুযোগও ছিল না কারণ তখন মব করছিল। যাকে তাকে শেখ হাসিনা দোসর বানিয়ে দিচ্ছিল।অথচ আমি, তুষার ভাই, মাসুদ কামাল আমরা ঐ আমলের কোনো অংশীদার না। ঐ আমলে চাকরিচ্যুত আমরা অনেকে। এবং ঐ আমলে আমরা কোনো সুযোগ সুবিধাই নেই নাই। কিন্তু আমরা যে সত্য কথাবলছি সত্য কথাটা যদি আওয়ামী লীগের পক্ষে যায় সেটার জন্য তো আমরা দায়ী না সেটার জন্য তোমরা দায়ী তোমরা যে খারাপ কাজকরছো। এটা আওয়ামী লীগ কেন ঐ সময় যদি বিএনপি থাকতো ক্ষমতায় তাহলে বিএনপির পক্ষে যেতো। সো এটাতে যখন তারসমালোচনা করা হয় তখন সেটাকে সে প্রিভিয়াস গভর্নমেন্টের দালাল বানিয়ে দেয়। ইউনূস এবং তার দোসররা এই যে আসিফ নজরুল, ‘ডাস্টবিন শফিক’ যাদের যাদের কথা বললাম এবং যাদের যাদের সে পদায়ন করেছে এরা এই কালচারই শুরু করেছিল। আমরা ঐক্যবদ্ধসমাজের কথা বলতাম আর এরা সমাজকে টুকরো টুকরো করার কথাবলত। এখন আমরা আশা করি যে বর্তমান সরকার প্রথম যে জিনিসটা করবে সেটা হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ সমাজ তৈরির ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে।আদারওয়াইজ এই দেশ এগুবেনা।

রাশেদ আহমেদ: আপনি তো মুক্তি পেলেন সাংবাদিকরা তো আরও জেলে আছে। মানে তাদের ব্যাপারে তো সরকারের আশীর্বাদ না থাকলেতো তারা মুক্তি পাবেন না।

আনিস আলমগীর: আমি বিশ্বাস করি সরকারের আশীর্বাদ না থাকলেতারা মুক্তি পাবেন না। এবং আমি মনে করি যে তাদের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক কেস দেওয়া উচিত। তারা যে অপরাধ যদি করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অপরাধ হচ্ছে দালালি করা বিগত সরকারের।

রাশেদ আহমেদ: মামলা তো হয়েছে হত্যা মামলা।

আনিস আলমগীর: এটাই বলতেছি ইউনূস যেটা করেছে সেটা হচ্ছেআসল কাজ করে নাই। তারা যেটুকু করেছে যে সরকারকে মিসগাইড করেছে সরকারকে অ্যাট্রোসিটিতে সহযোগিতা করেছে অপশাসনে সহযোগিতা করেছে সেরকম কোনো ইস্যুতে আপনি তাকে মামলা দিতেপারেন। তাকে হত্যা মামলা দেন কী করে? এগুলো তো কমপ্লিট মিথ্যা এবং তাদের সাথে যেটা হচ্ছে সেটাও অন্যায় হচ্ছে এটা কোনোদিনই ভালো কিছু না। এবং আমি মনে করি যে সরকারের এগুলো দেখা উচিত।

রাশেদ আহমেদ: কীভাবে দেখবে? আপনাকে একাধিক লোক আপনার বিষয়টা তথ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ ছিল বলে দেখা হয়েছে। অন্য ইস্যু তোউঠছে না আরও যে যে সব সাংবাদিকরা জেলে আছেন।

আনিস আলমগীর: সেটাই বলছি তাদের বিষয়টাও ঐভাবে দেখা উচিত। তারা যদি অন্যায় করে থাকে সেই অন্যায়ের বিচার হবে আলাদা। কিন্তুতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হবে কেন? সব মামলাগুলোকে আমি বলিযে একটা টাস্কফোর্স করা উচিত যেখানে সবাই আবেদন করবে যে আমার বিরুদ্ধে কী কী মামলা আছে ভুয়া মামলাগুলো যাতে চিহ্নিত করে এছাড়াআইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে না। ডক্টর ইউনূসের যে অপশাসন ডক্টরইউনূসের যে জালিমীপনা এটা কেন এই সরকার বহন করবে? ইউনূসের জঞ্জাল আবর্জনা কেন এই সরকারকে বহন করতে হবে? তাহলে এই সরকারনতুন কিছু করতে হবে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে ন্যায় শাসন দিতেহবে। ন্যায় শাসন দিতে হলে কোনটা অন্যায় মামলা আর কোনটা ন্যায়মামলা সেটা করতে হবে। এখন জেলখানায় যেটা হচ্ছে সবচেয়েআরেকটা বিষয় আপনাকে উল্লেখ করি জামিন পেলেও আপনি জামিন পাচ্ছেন না। কারণ আপনার বিরুদ্ধে আরেকটা অজ্ঞাতনামা মামলা দিয়ে দিচ্ছে। এবং আরেকটা চক্র তৈরি হয়েছে এখানে জেল চক্র এবংপুলিশ চক্র। এই দুই চক্র মিলে আপনার বিরুদ্ধে এটা করছে। আমার জানামতে বহু লোক বের হতে পারছে না এবং গেট কন্টাক্ট করতে হয়।এক একটা ৫ লাখ টাকা ১০ লাখ টাকা এটা আপনার ওজন চিন্তা করে আপনাকে দিবে। ৫ লাখ ১০ লাখ টাকা যদি আপনি কন্টাক্ট করতে পারেন তখন আপনার বিরুদ্ধে নতুন মামলা হবে না।

রাশেদ আহমেদ: কথা বলার জন্যই আপনাকে জেল খাটতে হয়েছে জেলে যেতে হয়েছে সাংবাদিকরা তো সাংবাদিকতা করতে পারছেন না কতগুলো কারণে। সেখানে কথা বলার আসলে স্বাধীনতা নাই, লেখার স্বাধীনতা নাই সেটা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?

আনিস আলমগীর: লেখার স্বাধীনতা বলার স্বাধীনতা নাই আপনি নিজেই বলেন না আপনাকে কীভাবে স্বাধীনতা দেবে? আপনি যদি লেজুড়বৃত্তি করবেন আপনি যদি ধরে নেন যে সরকার আছে তার গোলামি করতে হবে তাহলে তো হবে না। সরকার তো চাইবে মিডিয়াগুলো সব তার জিন্দাবাদ করুক। কোন সরকার চায় তার বিরুদ্ধে কথা বলুক, কিছু মিডিয়া তৈরি হয়েছে সরকারকে ফেলে দেওয়ার জন্য আর কিছু মিডিয়া তৈরি হয়েছে সরকারের গুণগান গাওয়ার জন্য। কিন্তু যা সত্য সেটা তো বলছে না। প্রথম আলোর মতো পত্রিকাকে...

রাশেদ আহমেদ: প্রতিষ্ঠানের দোষ এটা বলছেন?

আনিস আলমগীর: দুইটাই দোষ। সাংবাদিকরাই তো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।সাংবাদিকরাই তো নিজেরাই বিক্রি হয়ে গেছে। তারাই তো রাজনৈতিক দলের চাটুকারিতায় লিপ্ত হয়ে গেছে। এবং প্রতিষ্ঠানগুলোও লিপ্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো যাদেরকে চালাবে সেই টুলসগুলোই যখন পচে যায় তখনতারা ঐ বা কী করবে। আমি প্রথম আলোর কথা বলছিলাম প্রথম আলোর মতো একটা পত্রিকা যারা আওয়ামী লীগ আমলে খুবই সোচ্চার ছিল তারা ইউনূসের অপশাসন সম্পর্কে কয়টা রিপোর্ট করেছে? করতে পারে নাই তো। সো তাদের চরিত্র তো মানে হতাশ করার মতো। ডেইলি স্টারের কথা বলবো আমরা একই কথা বলব যে ওয়ান ইলেভেনের সময়যে চরিত্রে ছিল যারা হতাশ করেছে তারা পরবর্তীতেও করেছে। প্রথম আলো যখন একটু চেইঞ্জ আনল যে একটু সমালোচনা করছিল তখন দেখা গেল প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার আক্রান্ত। এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সংবাদপত্রের জন্য এরকম নিকৃষ্ট দিবস আর আসে নাই।

রাশেদ আহমেদ: এখন সামনে সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে কী কী বাধাদূর করতে হবে?

আনিস আলমগীর: সামনে পিছনে একটাই বিষয় আপনি সত্য বলেনআপনি সত্য কাহিনী তুলে ধরেন আপনি জনগণের কথা বলেন আপনার মালিকের কথা না। এবং সত্য প্রকাশ করতে কেউ বাধা দিচ্ছেনা। আমি মনে করি যে এই আমাদের সেলফ সেন্সরশিপটা এখানে বড় বাধা। নিজেরাই নিজেরা ভীত অবস্থায় যে আমাকে ধরে নেবে। তোমাকেকেন ধরে নেবে কারণ তুমি যে অন্যায় না করো অন্যায় না করলে তোকেউ কাউকে ধরতে পারবে না। ঐ মালিকরেই তো ধরতে পারবে না। এখন আপনি বলছেন আপনাকে তো ধরল আমাকে ধরল আমাকে কেন ধরেছে কারণ আপনারা কেউ কথা বলেন না। এক আনিসআলমগীর কেন কথা বলবে? আরও যদি ১০ জন কথা বলত আরও ১০টা সাংবাদিক কথা বলত তাহলে তো ধরতে পারত না।

রাশেদ আহমেদ: ঠিক আছে আনিস আলমগীর আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আনিস আলমগীর: অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকেও বাসায় আসলেন কথা বললেন ভালো লাগছে।



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত