সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে- অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন


প্রকাশ: ৮ মে ২০২৬, ১১:০৪ এএম

মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে- অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন

অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষক। ইউনূস সরকারের সময় আদালতপাড়ায় তিনি সংবিধান দেখিয়ে তা সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৩ মাস জেল খেটেছেন। তাকে কেনো জেলে নেয়া হয়েছিলো? সেখানে তার সাথে কি ধরণের আচরণ করা হয়েছে, কেনো তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেছেন। সেসব নিয়ে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদ ডিজিটাল সংস্করণের বার্তা প্রধান, রাশেদ আহমেদ। আলাপচারিতা হুবহু তুলে ধরা হলো।

রাশেদ আহমেদ: আপনাকে কেন জেলে নেওয়া হয়েছিলো?

হাফিজুর রহমান কার্জন: এটা আসলে আমার কাছে একটা মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন। যে আমাকে কেন আটক করা হলো? কেন আমাকে মামলা দেওয়া হলো? কেন আমাকে জেলে নেওয়া হলো? কারণ ধরেন আমি তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তারপরে শিক্ষক এবং আমি লেখালেখি করি, পত্রিকায় লেখালেখি করি। আমাদের গবেষণাও করতে হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক অন্যায় থাকে সরকারি মানে সরকারি কোনো অন্যায়, সরকারি তরফে কিংবা ধরেন সমাজের ভেতরে বড় কোনো অন্যায়ের ঘটনা ঘটে আমরা সেটা প্রতিবাদ করি।

ওই দিন ছিল মঞ্চ-৭১ এর একটা আলোচনা সভা। আলোচনা সভাটা ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে। এবং সেখানে আপনার মূলত যারা আলোচক তারা এসেছিলেন মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তারা কয়েক দশক মানে তারা সবাই সারা জাতির কাছে পরিচিত স্বনামধন্য অধ্যাপক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সচিব এবং সেখানে আপনার খুবই মানে বিস্ময়করভাবে কিংবা অত্যাশ্চর্য অত্যাশ্চর্যজনকভাবে একদল সন্ত্রাসী হামলা করে।

মানে বাংলাদেশের পাঁচ দশকের যে ইতিহাস, এর ভেতরে আমি শুনিনি যে রিপোর্টার্স ইউনিটি কিংবা প্রেসক্লাব সেখানকার কোনো আলোচনা সভা গোল টেবিল কিংবা এই ধরণের কোনো অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা এসে হামলা করে। কারণ সন্ত্রাসীরা যেটা হয় যে তারা কিন্তু রাজনৈতিক দল হোক কিংবা প্রভাবশালী লোক হোক এই প্রেসক্লাবকে ভয় পায়। কারণ প্রেস ক্লাবে সব ধরণের সাংবাদিক থাকে এবং তাদের পেশাগত একটা ঐক্য থাকে এবং সেইটার কারণে রাজনৈতিক দল প্রভাবশালী হলেও তারা কিন্তু সাংবাদিকদের সম্মান করে চলেন কিংবা সমীহ করে চলেন। তো এটা আমার ধারণায় কখনোই ছিল না যে এই ধরণের একটা...

কারণ আমরা বুঝতে পেরেছি যে ৫ই আগস্টের পরে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতাশীল হওয়ার পর মানে আস্তে আস্তে আমরা বুঝতে পারলাম যে যদিও এটা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে এসেছে ক্ষমতায়। কিন্তু এটা আসলে আস্তে আস্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে ফেলছে। মানচিত্রে হাত দিচ্ছে তারপরে জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা বলছে। তারপরে আমাদের যে মূল সংবিধান ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সংবিধান সেই সংবিধান কবর রচনা করার কথা বলছে। এগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা কিন্তু বুঝতে পারলাম যে এই সরকারের চরিত্রটা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এবং সেরকম একটা পরিস্থিতিতে আমরা দেখলাম যে মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। তাদের বিভিন্ন জায়গায় গলায় জুতার মালা পরানো হচ্ছে। বীরশ্রেষ্ঠদের যে ম্যুরাল সেটা ভাঙ্গা হচ্ছে। তারপরে আপনার মুক্তিযোদ্ধারা তারপরে যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন তারা নানা রকমভাবে ট্রলের শিকার হচ্ছেন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তারা একটা ভয়ের মধ্যে আছেন।

আমার যেটা ধারণা ছিল যে হতে পারে হয়তবা যদি কোনো ঝুঁকি থাকে যদি কোনো রিস্ক সেরকম যদি থেকে থাকে তাহলে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হয়তবা এসে আমাদের সাথে কথা বলবেন। কথা বলে আমাদেরকে বলবেন যে আপনাদেরকে এই অনুষ্ঠান করাতে ঝুঁকি আছে আপনারা এটাকে বন্ধ করে দেন নইলে আমরা বন্ধ করে দেবো। তো সেই ধরণের কোনো কিছু হলো না। অনুষ্ঠানটা শুরু হওয়ার পরে প্রথমেই আমি বক্তৃতা করলাম ১৫-২০ মিনিট এবং তারপরে দেখলাম যে আপনার বাইরে থেকে কিছু হই হুল্লা শুরু হলো। মিছিল নিয়ে ঢুকে গেলো। তারপরে তারা নানা রকম মিছিল দিতে থাকলো যে আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ। আমি খুব অবাক হলাম যে আবু সাঈদ মুগ্ধের যে লড়াই তার সাথে তো ৭১ এর কোনো বিরোধ নাই। ৭১ সাল হচ্ছে আমাদের শেকড়। সেখান থেকে সবকিছু সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার। আমাদের ৭১ সালে যারা আন্তর্জাতিক অপরাধ করেছে তাদের বিচার। সুতরাং তার সাথে অন্য কোনো ঘটনাকে তার সামনাসামনি কেন দাঁড় করাতে হবে।

হ্যাঁ সেটা আগেও ছিল এবং তখনও আমি সেটা দেখে খুব বিস্মিত হয়েছি এবং তখন আমার কাছে মনে হয়েছে যে এটা নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের একটা মানে ভণ্ডামি কিংবা মুনাফেকি। তারা একটা মুখোশের আড়ালে তারা এই মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করতে চায়। আমি যেখানে ছিলাম মঞ্চে আস্তে আস্তে তারা সেখানে চলে আসলো। চলে আসার পরে আমাদের অনেককেই তারা গালমন্দ করলো। লতিফ সিদ্দিকীকে তাকে চেয়ারে বসিয়ে চারপাশে কয়েকজন যুবক প্রায় ১৫-২০ মিনিট যেভাবে তাকে গালমন্দ করলো হুমকি দিল এবং অনেককেই কলার ধরে ফেললো অনেককেই কিল চড় থাপ্পড় দিল এবং অডিটোরিয়ামের বাইরের যে জায়গাটা ছিল যেখানে কলাপসিবল গেট সেইখানে অনেককে তারা ভয়াবহ রকম আক্রমণ করেছে। তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ছিল তাদের কাছে। অনেককে আপনার মানে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে জখম করেছে।

আমাদের উপরে তো ভয়াবহ সন্ত্রাস হলো মব হলো। যারা আমাদের উপর সন্ত্রাসটা করলো মব করলো যে সমস্ত সন্ত্রাসী তাদেরকে গ্রেপ্তার না করে তারা আমাদেরকে স্বৈরাচারের দোসর বলে পুলিশের কাছে তুলে দিল। এবং কি বিস্ময়কর এবং কি লজ্জাকর একটা বিষয় যে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং আমি তিন দশক ধরে পড়ছি পড়াচ্ছি আমি টেলিভিশন টকশো তে যাই, পত্রিকায় লেখালেখি করি এবং এখানে আমি কে এটা মোটামুটি বাংলাদেশের মানুষ মোটামুটি জানে। তো আমাকে একজন সন্ত্রাসী বলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। হ্যাঁ তারপরে এখানে আবুল হোসেন খান সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব তাকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া শফিক তাকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই অবস্থাতে আমাদেরকে ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হলো।

অনুষ্ঠানটা ছিল মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান এই দুটো বিষয় হচ্ছে এই রাষ্ট্রের ভিত্তি। এই রাষ্ট্রের অনেকগুলো ভিত্তির ভেতরে মানে প্রধান ভিত্তি তো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমি যদি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে না পারি সংবিধান নিয়ে কথা বলতে না পারি তাহলে আমি কোন রাষ্ট্রে বাস করছি? তাহলে পরে কি যে সরকার এসছে তারা কি এই মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান এগুলো বাতিল করে মানে সেই পাকিস্তানের সাথে এই রাষ্ট্রটাকে জুড়ে দিতে চায়। মানে কি তারা কাদের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে? তারা কি বাংলাদেশের সরকার নাকি তারা পাকিস্তানের এজেন্ট? নাকি তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট? নাকি তারা জঙ্গি? মানে তারা বারবার মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার কথা কেন বলছে? তারা সংবিধানকে কবর দেওয়ার কথা কেন বলছে? তারা বঙ্গবন্ধুকে মানে বঙ্গবন্ধুকে খাটো কেন করতে চাচ্ছে?

আমি যদি একথার বলি যে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস মানে আমি যদি তাকে বিশ্লেষণ করি যে ইন টার্মস অফ মোরালিটি। হ্যাঁ বায়োলজিক্যালি ফিজিক্যালি বলতে পারবো না কিন্তু ইন টার্মস অফ মোরালিটি কিংবা ইন টার্মস অফ ভ্যালুস। মানে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস হিজ অ‍্যাৃৃৃ। কেন বলবো মানে কেন এ কথা বলছি? যে সে তার জন্মকে স্বীকার করে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকে যদি কেউ স্বীকার না করে তাহলে তাকে তো আমরা জারজই বলবো। এবং সেই জারজদের তো আমরা দেখেছি ৭১ সালে কি করেছে। এবং পরবর্তীতে সেই জারজরা কি করেছে। হ্যাঁ রাষ্ট্রের ভেতরে কি সমস্যা তৈরি করেছে আমরা তো সেটা জানি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যদি আপনি অস্বীকার করেন তাহলে তো আপনি আপনার শেকড়কে আপনার মা-বাবাকে অস্বীকার করেন।

আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো ডিবি অফিসে। মূল যে কক্ষটা ওখানে বসেছিলেন ডিবি ডিসি। ওখানে লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন। আর আমাদের ৫ জনকে আলাদা একটা কক্ষে রাখা হয়। আমি পান্না ভাই আনিসুর রহমান বুলবুল আর একজন মুক্তিযোদ্ধা ৫ জন ছিলাম। আর ৯.৩০ টার দিকে তারা মোটামুটি সিদ্ধান্ত নেয় যে এটা মামলা হবে এবং তারা সেই মামলাটা করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে শাহবাগ থানায় একটা মামলা হয়। মামলাতে আমাদেরকে ওখানে আমরা ৫ জন ছিলাম আর শাহবাগ থানায় ছিল ১০ জন। এই মামলা হওয়ার পরে ১০ টা সাড়ে ১০ টার দিকে ওই শাহবাগ থানায় যারা ছিল তাদেরকে নিয়ে আসা হয় এবং আমাদেরকে ওই আপনার ডিবি অফিসের যে গারদ সেই গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

এবং কি ভয়াবহ আমি চিন্তা করি যে এই রাষ্ট্রটা পাঁচ দশকের বেশি হয়ে গেলো এবং এই ডিবি অফিসটা তো আলোচিত সমালোচিত নানা ভাবে। এবং আমাদের একদম অ্যাট দ্য হার্ট অফ দ্য ক্যাপিটাল সিটি। যে আপনার মিন্টো রোডের ওখানে মন্ত্রী পাড়া এবং ওইখানে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের বাসস্থান যমুনা। ওইখানে আপনি একটা যে হাজতখানা করেছেন গারদ করেছেন সেখানে ন্যূনতম ফ্যাসিলিটি গুলো থাকবে না? আমাদেরকে ঢুকিয়ে দিল ১০.৩০ টায় এবং ওইখানে আমি ছিলাম তারপরে ৭০-৭৫-৮০ বছর বয়সী লোক ছিল। তো তাদের নানা রকম মেডিসিন দরকার হয়। তো মেডিসিনটা কে এনে দেবে? ওরা বললো যে ওরা এনে দেবে। তারপরে দেখলাম ২-৩ আড়াই ঘণ্টা চলে গেলো কোনো মেডিসিন নাই। আবার আমাদের আনিসুর রহমান বুলবুল তার যে ইনহেলার, ইনহেলার টা নিয়ে গেলো। এখন ইনহেলার যদি কারো নিয়ে যায় তো তার তো যেকোনো সময় একটা বিপদ হতে পারে।

হ্যাঁ তারপরে আমার যে ওষুধ যে ওষুধ আমি সকাল বেলা রাতের বেলা কিছু একদম নেসেসারি ওষুধ আছে। এটা না হলে এবং আমার আবার নাকে পলিপের সমস্যা আছে। সুতরাং আপনার ওই ড্রপটা না দিলে আমার ৪-৫ ঘণ্টা পরে নাক বন্ধ হয়ে যায়। হ্যাঁ তারপর রাতের বেলা একটা নির্দিষ্ট ওষুধ না খেলে আমার মানে ঘুমের সমস্যা হয়। তো ওই আপনার গারদখানার ভিতরে আপনার কোনো খাট নাই। আপনার কোনো শুধু একটা কম্বল একটা বালিশ আর ওখানে একটা মাত্র বাথরুম বাথরুমের দরজাও নাই। তারপরে গন্ধ ছুটতেছে। হ্যাঁ তারপর খাবার দাবার কোনো কিছুর কোনো বালাই নাই মানে এরকম একটা ভ্যাপসা পরিবেশে প্রচণ্ড গরম কোনো ফ্যান নাই। আমাদেরকে ওইটার মধ্যে ঢুকিয়ে দিল।

আমাদেরকে আপনার আদালতে নিয়ে গেলো। আদালতে নেওয়ার পরে আমাদের পক্ষে যে আইনজীবী ছিলেন। প্রথমে পিপি তিনি তার বক্তব্য উপস্থাপন করলেন। তারপরে আমি যেহেতু আইনের অধ্যাপক উইথ দ্য পারমিশন অফ দ্য কোর্ট আমি বিচারককে বললাম যে আমি যেহেতু ল'র একজন অধ্যাপক আমি একটু সাবমিশন করতে চাই। তো আমি সাবমিশন করলাম আমি বললাম যে দেখেন এখানে পিপি সাহেব যে কথাটা গুলো বলেছেন পুরোপুরি মিথ্যা। এবং পিপি সাহেব বলছেন যে আমরা কয়েকজন আমরা স্বৈরাচারের দোসর আমরা পারস্পরিক যোগসাজশে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারকে উৎখাত করার জন্য সেখানে গিয়েছি। মানে এখন পিপি যে কথাগুলো বলছেন তা তো যুক্তিতে টেকে না। আমরা যদি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে থাকি তাহলে তো পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা আগেই জানার কথা। এবং আমরা তো ওখানে কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের জন্য যাইনি। আমরা তো ওটা গিয়েছি একটা আলোচনা সভার জন্য। এটা তো ডিক্লেয়ার্ড ছিল। রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুমোদন নেওয়াই ছিলো। এবং ওইখানে তো এমন কেউ যায়নি যার কোনো সন্ত্রাসী ব্যাকগ্রাউন্ড আছে।

রাশেদ আহমেদ: কার্জন আপনার বিরুদ্ধে মামলাটি কী ছিল এবং মামলাটি জামিন যোগ্য ছিল কিনা?

হাফিজুর রহমান কার্জন: না ওটা মামলাটা জামিন যোগ্য ছিল না। কিন্তু জামিন দিতে পারে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ একজন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ৪ টা অধিকার দিতে হয়। একটা হচ্ছে টু কনসাল্ট এ লয়্যার অফ হিজ অর হার ওন চয়েস। তার পছন্দের একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে দিতে হবে এবং তাকে আপনার যত দ্রুত সম্ভব তাকে কি কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা জানাতে হবে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টার ২৪ ঘণ্টার ভেতরে নিকটস্থ যে ম্যাজিস্ট্রেট তার সামনে হাজির করতে হবে এবং নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন ছাড়া তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে না। আমি বললাম যে এখানে আমাদের দুটো অধিকার দেওয়া হয়নি। একটা হচ্ছে কি কারণে কোন গ্রাউন্ডে আমাকে আটক করা হলো এটা আমাকে লিখিতভাবে জানানো হয় নি। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে আমাকে তো বলতে হবে যে আপনাকে এই এই কারণে গ্রেপ্তার করা হলো। আমাদেরকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে দেয়া হয়নি এবং সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের এটা লঙ্ঘিত হয়েছে। সুতরাং আপনি এই মুহূর্তে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে যে মামলা হয়েছে এটাকে খারিজ করে আমাদেরকে মুক্তির আদেশ দিয়ে দিন। এবং আমাদেরকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললাম।

রাশেদ আহমেদ: মানহানির জন্য ১০ কোটি টাকা?

হাফিজুর রহমান কার্জন: হ্যাঁ কারণ আমার মানহানি তারপর আমার যে ফিজিক্যাল মেন্টাল যে টর্চার।

রাশেদ আহমেদ: তো মানহানির জন্য তো আলাদা একটা সাবমিশন করতে হয়।

হাফিজুর রহমান কার্জন: না আমি আমি ওইখানেই বলে দিলাম। সেটা কিন্তু অন্য আদালতেও আমি করবো। আমি তো করবো অবশ্যই। এটা তো কোনো মাফ নেই।

রাশেদ আহমেদ: মানে কি করবেন?

হাফিজুর রহমান কার্জন: আমি এইটার জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে আসামি করে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে আসামি করে আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদেরকে আসামি করে আমি মামলা করবো। যে আমার নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। এবং সেটার জন্য আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে আমার শারীরিক মানসিক যে কষ্ট হয়েছে সেইটার জন্য আমার আমি তো ক্ষতিপূরণ চাইবো।

রাশেদ আহমেদ: ইউনূস এখানে রিলেটেড কেন? মামলা তো ইউনূসের সময় হয়েছে।

হাফিজুর রহমান কার্জন: সে তো সরকার প্রধান।

রাশেদ আহমেদ: আইন উপদেষ্টা কেন?

হাফিজুর রহমান কার্জন: আইন উপদেষ্টা,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তারাতো সংশ্লিষ্ট।

রাশেদ আহমেদ: মানে আপনি ন্যায় বিচার পাননি এরকম একটা ক্লজ।

হাফিজুর রহমান কার্জন: ন্যায় বিচার কি আমার উপর অন্যায় করা হয়েছে। ন্যায় বিচার তো দূরের কথা আমি যখন হোয়েন আই এম সিকিং জাস্টিস আমি ন্যায় বিচার চাইবো। আমি তো প্রথমে অন্যায়ের শিকার হয়েছি। আমাকে ৩ মাস জেলে থাকার প্রেক্ষিতে আমার ৩ মাসে যে পড়াশোনার ক্ষতি হলো গবেষণার ক্ষতি হলো আমার পরিবারের ক্ষতি হলো এবং আমার যে মানসিক টেনশন।শারীরিক ক্ষতি হলো সবকিছু মিলে ৩ মাসের যে একটা বিধ্বস্ত অবস্থা সেটা রিকভার করতে আরো ৬ মাস চলে গেলো। এই সামগ্রিক ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তুমি যেই হও নোবেল লরিয়েট হও আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হও মানে কথার কথা বলছি যে তুমি যতই প্রভাবশালী হও যে তুমি যা খুশি তাই করে তো ছাড়া পেতে পারো না।

রাশেদ আহমেদ: আপনি মামলা করবেন কি আপনার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে সেটি নাকি রাষ্ট্রের প্রতি অন্যায় হয়েছে সেইরকম কোনো ক্লজ?

হাফিজুর রহমান কার্জন: না আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে এবং আরও ওই গ্রাউন্ডেও তো মামলা করা যায়ই। যে মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কেন এই মবের শিকার হতে হবে। হ্যাঁ তাহলে পরে এই এই এই সরকার তো মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান বিরোধী সরকার মানে তো তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছে। যে সরকার মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়েছে, সেটা তো রাষ্ট্র বিরোধী সরকার এবং তারা তো রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও হবে। সুতরাং এখানে পসিবল যতগুলো মামলা করা যায় সবগুলো আমি করবো। এবং এখানে ইউনূস অ্যান্ড গং এটাতে তাদের নিস্তার পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

রাশেদ আহমেদ: আপনি তার সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেছেন যে উনি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন। তার ক্ষমতায় আসাটা কি চ্যালেঞ্জ করার মত ছিলো?

হাফিজুর রহমান কার্জন: না আমার কাছে মনে হয় সেইটা বোধহয় কঠিন হবে কারণ এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি এসেছেন যে ছাত্র জনতার একটা অভ্যুত্থান ছিল এবং ৫ই আগস্টের পরে আপনার একটা ভ্যাকিউম ছিল গভর্মেন্টের মধ্যে। আমাদের এখানে কোন প্রধানমন্ত্রী নাই ক্যাবিনেট নাই। মানে সংবিধান সংসদ থাকলেও যারা সংসদ সদস্য তারা অধিকাংশই অনুপস্থিত। ওরকম একটা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রে কোনো শূন্যতা থাকতে পারে না। তো সেই পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অফ নেসেসিটিতে সেই ডকট্রিন কিংবা প্রয়োজনীয়তার নীতিমালা অনুযায়ী তারা সরকার গঠন করেছেন। মানে হি টুক দি পাওয়ার এজ গ্রান্টেড। তিনি মনে করলেন যে জনগণ তাকে সমর্থন দিয়ে দিয়েছে। সরকারে গিয়ে তিনি যা খুশি তাই করবেন।

এবং যা খুশি তাই করার ক্ষেত্রে আমরা গিয়ে দেখলাম যে দেশে পুলিশ কাজ করতে পারছে না। সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমলাতন্ত্রের মধ্যে একটা অস্বস্তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অর্থনীতি ঠিকমতো চলছে না। এবং এসব বিষয়ে তার কোনো ধরনের উৎকণ্ঠা নেই। এবং তিনি আস্তে আস্তে এমন দেখা গেল যে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারকে একটা ঢাল বানিয়ে ৫ বছর ১০ বছর অনির্দিষ্টভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান। এবং আমরা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম যে এটা আসলে তার দেশপ্রেম বলে কিছু নাই। তারপরে আমরা উগ্রবাদী শক্তি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিদের যে আস্ফালন দেখলাম এবং তার মানসপুত্র তারা সেকেন্ড রিপাবলিকের কথা বললেন তারা সংবিধান কবর দেওয়ার কথা বললেন তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফ্যাসিবাদের চেতনা বলে আখ্যায়িত করলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর যে ৩২ নম্বরের যে ভবন তারা কয়েকবার ভাঙ্গলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু সবকিছু তাদের আক্রমণের শিকার হলো এবং তিনি নিজেও মেটিকুলাস ডিজাইনের কথা বলেছেন। এবং তার যে রিসেট বাটন রিসেট বাটনের মধ্য দিয়ে তো আমরা বুঝতে পারি যে তিনি বাংলাদেশটাকে রিসেট করতে চেয়েছেন। মানে এই বাংলাদেশটাকে রিসেট করে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছেন।

কিংবা বাংলাদেশটাকে রিসেট করে আপনার এমন একটা বাংলাদেশ করতে চেয়েছেন যেই বাংলাদেশ তার যে হাজার বছরের ঐতিহ্যের সাথে এটা মেলে না। এটা ওই সহিংস জঙ্গি তারপরে উগ্রবাদী এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী বাংলাদেশ, মানে আমাদের যে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলার বাংলাদেশ আমাদের যে লালনের বাংলাদেশ আমাদের যে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বাংলাদেশ আমাদের যে বেগম রোকেয়ার বাংলাদেশ আপনি দেখেন যে তার সময় বেগম রোকেয়ার মুখ সেটা কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আপনি দেখেন তার সময় বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু তারপরে জীবনানন্দ দাশ খুলনায় তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তাদের সময় সংখ্যালঘু নির্যাতন কিভাবে হয়েছে। এবং আপনার তার সময় শুধু হিন্দু হওয়ার কারণে নামে হিন্দু থাকার কারণে অনেক প্রফেশনে অনেককে আপনার পদচ্যুত করা হয়েছে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে এবং হিন্দুদের ভেতরে একটা প্রচণ্ড ভয় ছিল। তারা ভয়ে কেউ কথাও বলেনি।

রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রপতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন কেন? এই রাষ্ট্রপতিই তো তাকে শপথ পড়িয়েছেন।

হাফিজুর রহমান কার্জন: এই রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ পড়িয়েছেন এখন সেইটা একটা বিতর্ক ছিল সেই বিতর্কটাও আমরা দেখেছি যে আপনার ৫ই আগস্টের পরে এটা বিপ্লবী সরকার হবে নাকি এটা সাংবিধানিক সরকার হবে। এখন আপনি বিপ্লবী সরকার হতে গেলে তো বিপ্লব করতে হবে। এরা তো বিপ্লব কাকে বলে জানেই না। রুশ বিপ্লব হয়েছে ফরাসি বিপ্লব হয়েছে রুশ বিপ্লবে ফরাসি বিপ্লব তারা কি করেছেন রাজতন্ত্রকে উপড়ে ফেলেছেন সেখানকার যে সামন্ততন্ত্র ছিল সেটা উপড়ে ফেলেছে। এটা রাষ্ট্র সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন কিংবা রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয় এটা পরে এসেছে এবং এটার মধ্য দিয়ে তারা হিডেন অনেক এজেন্ডা নিয়ে এসেছিলো। আপনি যখন একটা আন্দোলন করবেন কারণ আমরা এখানে ৫২ সালের আন্দোলন দেখেছি আমরা শিক্ষা আন্দোলন দেখেছি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান দেখেছি আমরা ৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আমরা করেছি। তো সেখানে তো আগে থেকেই রূপরেখা ছিল আগে থেকেই দফা ছিল। ৬৯ এর আগে ১১ দফা ছিল ৬ দফা ছিল ৯০ এর আন্দোলনও তিন জোটের রূপরেখা ছিল যে আমরা চাই এই সরকারের পতন হোক সরকারের পতন হলে এইভাবে সরকারি ক্ষমতা পরিবর্তন হবে একটা নির্বাচন হবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা এভাবে পরিবর্তিত হবে। তো এদের তো কিছুই ছিল না। এদের একটা ডিক্লেয়ারেশন কিংবা প্রোক্লেমেশনও ছিল না।

রাশেদ আহমেদ: একটা বিষয় তারা বারবার এখনো বলছে সংবিধান পরিবর্তনের কথা সংবিধান সংশোধনের কথা। সংবিধানের আসলে সমস্যাটা কোথায়? আপনি তো আইনের ছাত্র ছিলেন এখন শিক্ষকও।

হাফিজুর রহমান কার্জন: কোনো সমস্যা নেই। এটা ওই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এজেন্ডা। যে এই সংবিধানটা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান। এই সংবিধানটা আমরা পেয়েছি  মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আপনি দেখেন ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হয়েছে। পাকিস্তান তার প্রথম সংবিধান রচনা করতে ৮-৯ বছর সময় নিয়ে নিয়েছে। এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র তো মূলত চালিয়েছে সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং শেষ পর্যন্ত সেটা গণতান্ত্রিক কোনো ভিত্তির উপর দাঁড়ায়নি। আর ভারত ২-৩ বছরের ভেতরে সংবিধান করে ফেলেছিল। তো এই যে, আমরা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হলাম এবং বঙ্গবন্ধুর তো প্রথম যে আকাঙ্ক্ষাটা ছিল একটা সংবিধান। মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্রটা দাঁড়ানো। এবং সেইটাকে তারা কি করলো দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা করলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোথায় কোথায় আঘাত করবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশটাকে কবর দেওয়ার জন্য কোথায় কোথায় তারা আঘাত করবে। আঘাত করে সেকেন্ড রিপাবলিকের কথা বলবে গণপরিষদের কথা বলবে কিন্তু এটা একটার সাথেও কোনোকালে যায়না। আপনি একটা কোটা বিরোধী আন্দোলন এটা পপুলার মুভমেন্ট ছিল সেইটার সাথে মানুষের ইমোশন নিয়ে অন‍্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন।

রাশেদ আহমেদ: একটা জিনিস আপনি বলছেন এই সংবিধানে কোনো সমস্যা নাই।

হাফিজুর রহমান কার্জন: এই সংবিধানের সমস্যা নাই ওই অর্থে না। আপনার ধরেন পৃথিবীর কোনো সংবিধানই তো স্বয়ংসম্পূর্ণ না। মানুষ তো ধরেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সংবিধান হয়েছে সেই ১৭৭৬ কত ১৭৮০ এর দশকে। হ্যাঁ ৭ টা আর্টিকেলের ওপর। তো সেই সংবিধান তারা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে তারা নতুন নতুন সংশোধনীর মধ্য দিয়ে আপডেট করেছে। আমার এখানে আপডেট এর সুযোগ আছে। আমার এখানে সংবিধান যেটা আপনার ১৯৭২ সালে যেটা ছিল যে একটা সংবিধানের যে বৈশিষ্ট্যগুলো দরকার তার প্রত্যেকটাই আছে আমার ৭২ এর সংবিধানে। আমার সংবিধানে আপনার পার্লামেন্টারি ফর্ম অফ ডেমোক্রেসি আছে এবং এইটা আপনি বলতে পারেন যে একদম ব্রিটিশ ধাঁচের কিংবা আমেরিকান ধাঁচের কিংবা অন্য ধাঁচের। এখন তারা তো তাদের ডেমোক্রেসি যে ডেভেলপ করেছে কয়েকশ বছর ধরে। না আপনি তো হুটহাট করে আপনার দেশের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে একদম সেগুলো সব করতে পারেন না। এবং আজকে যে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা এসছে যে আপনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশি ক্ষমতা সুতরাং রাষ্ট্রপতিকে আরও ক্ষমতা দিয়ে কিভাবে ভারসাম্য আনা যায় উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠিত হবে কি না তারপরে আপনি সাংবিধানিক একটা কাউন্সিল করে এই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তারপর চিফ জাস্টিস তারপর অন্যান্য কিছু নিয়োগের কথা এসেছে সবকিছুই তো আপনি সংবিধান সংশোধন করে করতে পারেন। তাহলে আপনি একটা এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছেন কেন? সংবিধানের বাইরে একটা অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছেন কেন? যাচ্ছেন এই জন্য যে মুক্তিযুদ্ধের যা কিছুই আছে পাল্টাতে হবে। তারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না তারা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না তারা সংবিধানকে ধারণ করে না এই জন্য তাদের একটা ২৪ তৈরি করতে হলো। হ্যাঁ ২৪ টা আমারও কিন্তু আমার মনটা পরিষ্কার। আমি কিন্তু ২৪ নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করিনি কিংবা আমার মতো মানুষ যারা আমাদের আকাঙ্ক্ষাটা হচ্ছে এরকম যে আমরা ভালো কিছু চাই। এখানে যারা আওয়ামী লীগ বিএনপি অন্যান্য যারা আছে তাদেরও ভুল ত্রুটি সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু তারপরেও আমরা ভালো কিছু চাই।

তোমরা ষড়যন্ত্র কেন করবে? এতগুলো মানুষ হত্যা হয়েছে পুলিশ হত্যা হয়েছে। এখন তো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এটার পেছনে সরকারি নানা বাহিনী ছিল না। এবং সেই ষড়যন্ত্রের কথা তারা নিজেরাই ফাঁস করেছে। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের কথায় মেটিকুলাস ডিজাইন। এবং মেটিকুলাস ডিজাইন তো আমরা দেখছি এবং তাদের তো বাংলাদেশের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতাই ছিল না। নির্বাচনের ৩ দিন আগে আপনার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা চুক্তি করে ২২ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ তাদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আপনি সেই চুক্তি থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসবেন মালয়েশিয়া বেরিয়ে এসছে। আপনি সেটা থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসবেন কৃষি আপনার জ্বালানি আপনার অর্থনীতি। হ্যাঁ আপনার সামরিক সরঞ্জাম সরঞ্জাম আপনার আমরা চীন থেকে কম দামে কিনতাম এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আপনাদের বেশি দামে কিনতে হবে। মানে আমার সামরিক শক্তিতে আমার শক্তিশালী কেন হতে হবে? মানে সামরিক শক্তিতে আমার শক্তিশালী হতে হবে যেটা আমার দেশের জন্য প্রয়োজন তাই না? কিন্তু আমার তো প্রায়োরিটি থাকবে। আমি যেহেতু বাংলাদেশ একটা উন্নয়নশীল দেশ আমার প্রায়োরিটি হবে শিক্ষা। আমার প্রায়োরিটি হবে অর্থনীতি। আমার প্রায়োরিটি হবে স্বাস্থ্য।

রাশেদ আহমেদ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস যে চুক্তি করে গেছে সেই চুক্তি কি বাতিল করা সম্ভব এখন?

হাফিজুর রহমান কার্জন: চুক্তি বাতিল করা সম্ভব এটা আসলে যারা চুক্তি নিয়ে কাজ করেন তারা ভালো বলতে পারবেন, সম্ভব তো অবশ্যই। সম্ভব না হলে মালয়েশিয়া কিভাবে করলো? অন্তর্র্বতী সরকারের পলিসিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তাতেই তো এটা বাতিল হয়ে যাবে।

রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বিএনপি তো গণপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয় নাই মানে কেন নিল না তারা মানে এইটা কি এই যে সংবিধানের সংশোধনের কথা বিএনপি বারবার বলে কিন্তু পরিবর্তনের কথা তো ওইভাবে বিএনপি বলেনি। এইটা কি আপনি কোনো পজিটিভ সাইন দেখছেন না কি নেগেটিভ কোনো বিষয় এটা?

হাফিজুর রহমান কার্জন: সংবিধান সংস্কার পরিষদ করার কোনো সুযোগই নাই। এটা পুরোপুরি অবৈধ ও অসাংবিধানিক। আপনি যদি বিএনপি দে হ্যাভ টেকেন ভেরি কারেক্ট পজিশন। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেননি। দে হ্যাভ টেকেন দি ভেরি কারেক্ট ডিসিশন। কারণ এই এখন তো আপনার সংবিধানে এটা নাই। তো আপনি কিভাবে কোথায় কিসের অধীনে শপথ নেবেন?

রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ নিয়ে দু রকম কথা আছে বিএনপি একরকম ভাবে ভাবছে বিষয়টি নিয়ে এবং বিরোধী দলে যারা আছে এখন জামায়াত এনসিপি তাদের চিন্তাভাবনা টা ভিন্ন। আপনার কাছে কি মনে হয় আইনের ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে?

হাফিজুর রহমান কার্জন: এখন এই জুলাই চার্টার নিয়ে যে প্রশ্নটা হবে যে হোয়েদার ইট ইজ এনি চার্টার ইন দি ট্রুয়েস্ট সেন্স অফ দি টার্ম অর ইট ইজ এ চার্টার অফ চিটিং। এই প্রশ্নটা কিন্তু বড় করে আসবে। কারণ এখানে আপনার জুলাই চার্টারের ভেতরে সবচেয়ে বড় পলিটিক্যাল স্টেক হোল্ডার হচ্ছে বিএনপি। এবং আপনি যদি ইন টার্মস অফ পপুলার সাপোর্ট দেখেন মানে যেটা আমি বলি যে ১৫ বছর ধরে আপনার রাজনৈতিক উদ্যোগের পেছনে একটা বড় যে ঘাটতি ছিল যে সেটার ভেতরে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিষয়টা ছিল না। তো একটা দেশের অর্ধেক মানুষকে বাদ দিয়ে আপনি একটা চার্টার করলে তার মূল্য কোথায় থাকে। এবং যে চার্টারকে আপনি বলছেন যে সেটা সংবিধানের মধ্যে যাবে কিংবা সেটা পরবর্তী শাসন ব্যবস্থা পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এটার ভিত্তি হবে তো সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক কোনো কিছু তো আমি দেখছি না। এবং এটা যার যেই দৃষ্টিভঙ্গি থাকুক না কেন এটার যে প্রধান শর্ত যে একটা চার্টার যেটাকে আমরা জনগণের চার্টার বলছি সেখানে জনসংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। জনসংশ্লিষ্টতা তো এখানে আমরা পাচ্ছি না। এবং এখানে আপনার যারা মোটামুটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক বিশ্লেষক তারা এটা বলছেন এটা ছিল এলিট সেটেলমেন্ট। তারা বলেছেন এটা একটা এলিট সেটেলমেন্ট।

রাশেদ আহমেদ: গণভোটও হয়েছিল।

হাফিজুর রহমান কার্জন: গণভোট হয়েছিল সেটাও তো আরেকটা প্রতারণা। গণভোটের কোনো বিধান তো সংবিধানে নাই। এবং সেই সংবিধানে সেটা না থাকাতে আপনাকে একটা অধ্যাদেশ করতে হয়েছে যে অধ্যাদেশের বলে আপনার গণভোটটা হয়েছে। এখন ওই অধ্যাদেশটা এই সংসদ যদি পাস না করে তো ওইটার কোনো ভিত্তি নাই। আপনি আবার রেফারেন্ডাম করেছেন সেখানে আপনি না ভোটের পক্ষে মানে আপনি কাউকে প্রচার করতে দেন নাই। এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী তাদেরকে আপনি মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন। এবং নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ইলেকশন কমিশন বলেছে এটা পানিশেবল অফেন্স। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা যদি কোনো ভোটের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয় তাহলে পরে আইন অনুযায়ী সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার তারপরে মানে কতগুলো প্রশ্ন দেখেন যে রেফারেন্ডাম হচ্ছে সংবিধানে নাই। আপনি অধ্যাদেশ করে করলেন সেই অধ্যাদেশটা পাস হবে কি না সেটা বর্তমান সংসদ নির্ধারণ করবে। তারপরে আপনি সেটার পক্ষে আপনি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর অংশ নিলেন সেটাকে ইলেকশন কমিশন বলল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাহলে আমি কি ধরে নেবো যে আপনি সাবেক বিচারপতি খাইরুল হককে ধরে নিয়ে গেলেন হাতে হাতকড়া দিয়ে হাবিবুল্লাহকে ধরে নিয়ে গেলেন হাতে হাতকড়া দিয়ে তো ভবিষ্যতে কি আমি ধরে নেবো যে এই যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করেছেন এরকম কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে প্রতীকী হলেও সবাইকে তো আর ধরা যাবে না হাতকড়া দিয়ে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে? এখানে তো ইলেকশন কমিশন বলেছে যে আপনার এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আসলে এটা। তারপরে দেখেন আপনি রেফারেন্ডামের ভেতরে ৬৮% হচ্ছে হ্যাঁ ভোট। এবং আপনার ৩০% হচ্ছে না ভোট। এটা কিন্তু ৩০% কিন্তু কম কথা না। ১১ টা জেলায় না ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। তো ১১ টা জেলা কি বাদ দিবেন? আপনি এই জুলাই চার্টারের ভেতরে আপনি যে প্রশ্ন চারটা করেছেন এই চারটা প্রশ্নের ভেতরে আপনি আপনি ৪৮ টা প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এবং সালাউদ্দিন সাহেব সম্ভবত বিএনপির সালাউদ্দিন সাহেব বলেছেন যে আমি নিজে পড়তেই আমার আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। আমি নিজে পড়ে উনি তো হুকুমত কমিশন বিএনপির তরফে প্রতিনিধি ছিলেন তো উনি এই কথা বলছেন। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর শাহদিন মালিক তারপর পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর বড় বড় যারা আমরা প্রফেসর কিংবা ধরেন বিশ্লেষক কিংবা আইনজীবী তারপরে বোদ্ধা তারাই বলছেন যে এটা কি হোয়াট ইজ দিস? তো এই আপনার মানে ইউনূস তারপরে ধান্দাবাজ ইউনূস তারপরে যে আপনার ধুরন্ধর তারপরে দুর্নীতিবাজ তারপরে যে আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের এজেন্ট আলী রিয়াজ। হ্যাঁ তারপরে এই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এদের একটা হিডেন এজেন্ডা। এবং এটা এটার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যে ৩০ লক্ষ শহীদের যে রক্তের যে সংবিধান সেই সংবিধানকে আপনার মানে আনডান করা। সেই সংবিধানকে আপনার নস্যাৎ করা। এইটা হচ্ছে তাদের হিডেন এজেন্ডা এবং তাদের ওই অপ মেলাফাইড ইনটেনশনের একটা মানে কৌশল। সুতরাং এইটা বিএনপি হ্যাজ টেকেন ভেরি কারেক্ট ডিসিশন। এখন ধরেন পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাদের ওপর চাপ আছে। আমার মনে হয় যে তারা পরিপক্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেবেন আর যদি তারা পরিপক্কতার সাথে সিদ্ধান্ত না নেন তাহলে পরে সংবিধান এবং আইনের যে কষ্টিপাথর। হ্যাঁ আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া কনস্টিটিউশনাল ক্রাইটেরিয়া লিগ্যাল ক্রাইটেরিয়াতে বলি যে আপনি আওয়ামী লীগ আপনি বিএনপি আপনি বামপন্থী আপনি ধর্মপন্থী যাই হোন না কেন কিছু কিছু লিগ্যাল বিষয় আছে আপনি কোনো পন্থী দিয়ে হবে না। এটা ওই আইনের মানদণ্ডে যদি এটা না টেকে। আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে রক্ষা করা হয়েছিল টিকেও নি। এবং এইটাও এখন যে ইনডেমনিটি আপনার মানে একবার উদ্যোগ নেওয়া হয় আবার পিছাইয়া আসে নানা রকম টানাপোড়েন আছে কিন্তু আপনি ফাইনালি দেখবেন এটা ৫ বছর হোক ৭ বছর হোক ১০ বছর হোক এই ইনডেমনিটি টিকবে না। আপনি যেকোনো হত্যাকাণ্ড আপনি যদি আন্দোলনকারীদের তরফে কোনো পুলিশকে হত্যা করা হয় সেটাও যেমন অপরাধ পুলিশের তরফেও যদি কোনো আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয় মানে আইনের যে এখতিয়ার আছে কারণ আইনের কিন্তু এখতিয়ার আছে পুলিশকে দেওয়া যে সে কোন কোন পরিস্থিতিতে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই শক্তি প্রয়োগের প্রেক্ষিতে যদি কেউ মানে নিহত হয় যদি কেউ আহত হয় সেটা জাস্টিফায়েড কিনা সেটা আইনের ভেতরেই আপনার সেটা মানদণ্ডগুলো দেওয়া আছে এটা জাস্টিফায়েড কিনা। আমার কথাটি হচ্ছে আপনি মানে এই যে দায়মুক্তিটা দেওয়া হচ্ছে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের তরফে যে দায়মুক্তিটা দেওয়া হয়েছে সেটা একদম মানে নিঃশর্ত দায়মুক্তি। নিঃশর্ত দায়মুক্তি পৃথিবীর কোনো দেশে দেওয়া হয় না। পুলিশের তরফে র‍্যাবের তরফে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে তাতে ছাত্র জনতা হত্যাকাণ্ড হয়েছে নাম্বার ওয়ান। নাম্বার টু মানে যারা আন্দোলনকারী তারাও অনেক পুলিশ হত্যা করেছে। আমি এখন ল'র যে অধ্যাপক হিসেবে বলতে চাই প্রত্যেকটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশও যে কাউকে ইচ্ছেমতো খুন করতে পারে না আবার আন্দোলনকারীিরা ইচ্ছেমতো পুলিশকে এবং পুলিশকে কি ভয়াবহভাবে হত্যা করা হয়েছে একদম তার লাশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তারপরে হত্যাকাণ্ডের পরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তারপরে তাকে প্রথমে কোপানো হয়েছে তারপর গুলি করা হয়েছে কি ভয়াবহ। হ্যাঁ তো এটা হলে তো আপনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পুলিশকে তো আপনি এটারতে কাজ করাইতে পারবেন না। এবং পুলিশ মারা গেছে তো দুই একজন না সরকারি হিসেবে ৪৬ জন। বেসরকারি হিসেবে তো আরো অনেক বেশি। তো এই যে আমার কথাটি হচ্ছে পুলিশ হোক আর সাধারণ জনগণ হোক প্রত্যেকটা হত্যার বিচার হতে হবে। কাম টু দি কোর্ট তুমি প্রমাণ করো এটা যদি জাস্টিফায়েড হয় কারণ আমার পেনাল কোডে এটা প্রভিশন আছে এবং এখানে জাস্টিফিকেশন আছে। আপনি সেলফ ডিফেন্সে যদি কাউকে মেরে ফেলেন সেটা আপনার একটা জাস্টিফিকেশন।

আপনাকে জাস্টিফাই করতে হবে যে আপনি এটা করেছেন কি না। এবং ল' অনুযায়ী সেটা হইতে হবে। আমরা দেখি যে কে কোন কারণে মেরেছে। তাহলে পরে আমরা বুঝতে পারবো যে রাষ্ট্র কতটা শক্তি প্রয়োগ করেছে জঙ্গিরা কতটুকু এসছে। এখানে আন্দোলনের নামে নাশকতা কতটুকু হয়েছে সেটা আমাদের বুঝতে হবে তো। এখন তো সবকিছু একটা ধোঁয়াশার ভেতরে। এখন ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায় যেটা মেটিকুলাস ডিজাইন। হ্যাঁ তো এই মেটিকুলাস ডিজাইন দিয়ে তো রাষ্ট্র চলবে না। মেটিকুলাস ডিজাইন দিয়ে আপনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আপনি দেশ বিক্রি করে দিবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তো সেইটা তো কোনোভাবেই হবে না। এবং সেইটা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে আজ হোক ৫ বছর পরে হোক মানে বাংলাদেশে থাকুক আর বাংলাদেশের বাইরে থাকুক তাকে এনে বিচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে তার হবেই এটা কেউ এটা বাধা দিতে পারবে না। আপনি তো গুপ্ত ছিলেন আপনি তো সুপ্ত ছিলেন পরবর্তীতে আপনি নিজেই প্রকাশ করেছেন যে আমি অমুক সংগঠনের ভেতরে গুপ্ত ছিলাম অমুক সংগঠনের ভেতরে সুপ্ত ছিলেন। এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর যে আমি মানে নেতা তিনিও বলেছেন যে আমরা সুকৌশলে সবকিছু করেছি কাউকে জানতে দিইনি। এই যে আপনার গুপ্ত সুপ্ত তারপরে আপনি কোনো কিছু না বলে হিডেন হিডেন এজেন্ডা নিয়ে আসলেন। এইটা তো পৃথিবীর কোথাও সফল হবে না। আপনাকে তো সবকিছু পরিষ্কার করে জনগণের সামনে হাজির হতে হবে যে এই আমার এজেন্ডা এইটা আমি করতে চাই জনগণ আপনাকে সমর্থন দেবে। এখন যখন তারা দেখেছে জনগণ দেখেছে এরা তো আসলে মানে যে কথা বলেছে সেটা তো এদের কথার সাথে মেলে না। পরবর্তীতে তারা এসেছে যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় সংগীত তারপরে বাংলাদেশের সংবিধান সবকিছু কবর দিয়ে দিবে এবং তারা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দলের বি টিম। তারা একটা সময় তাদের পেটের মধ্যে ঢুকে গেলো এবং তাদের ভাষা তাদের অ্যারোগেন্স তাদের দুর্নীতি তাদের সবকিছু মিলে শেষ পর্যন্ত তাদের সমর্থন হয়তবা ১ শতাংশের ও কম। এখন আপনি যদি ওই চেতনাকে ধারণ করতেন আপনি যদি সৎ থাকতেন আপনি যদি নিষ্ঠাবান হতেন আপনি যদি মনটা পরিষ্কার থাকতো এবং আপনি যদি কারো মানে এখানে ডক্টর ইউনূস আপনার ঘাড়ে বন্দুক রেখে অনেক কিছু করেছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আপনার ঘাড়ে বন্দুক রেখে অনেক কিছু করেছে। আপনারা নিজেরাও অনেক কিছুর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং সেই নাশকতায় অনেক কিছু আপনারা ফাঁস করেছেন এবং সেই কারণে আজকে আপনারা দায়মুক্তি চাচ্ছেন। দায়মুক্তির প্রশ্নটা ৩ বার এসছে। একবার নির্বাহী আদেশে দেওয়া হয়েছে ১৫ই জুলাই থেকে ৮ই আগস্ট পর্যন্ত ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত। আর দুইটা অধ্যাদেশ করা হয়েছে দায়মুক্তির জন্য। তো দায়মুক্তির প্রশ্ন তো ৬৯ সালের আন্দোলনে আসে নাই দায়মুক্তির প্রশ্ন তো ৯০ সালের আন্দোলনে আসে নাই তো আপনাদের দায়মুক্তির প্রশ্ন কেন আসলো তাহলে পরে এটা কতটা আন্দোলন কতটা নাশকতা কতটা ষড়যন্ত্র আর কতটা মেটিকুলাস ডিজাইন সেটা তো আগে নির্ধারণ করতে হবে তারপর তো আমরা বুঝবো যে কোথায় কি হয়েছে।

রাশেদ আহমেদ: ঠিক আছে অসংখ্য ধন্যবাদ কার্জন আপনাকে এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য।

হাফিজুর রহমান কার্জন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি গোপন এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে- অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষক। ইউনূস সরকারের সময় আদালতপাড়ায় তিনি সংবিধান দেখিয়ে তা সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা বলেছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৩ মাস জেল খেটেছেন। তাকে কেনো জেলে নেয়া হয়েছিলো? সেখানে তার সাথে কি ধরণের আচরণ করা হয়েছে, কেনো তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা বলেছেন। সেসব নিয়ে হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন সংবাদ ডিজিটাল সংস্করণের বার্তা প্রধান, রাশেদ আহমেদ। আলাপচারিতা হুবহু তুলে ধরা হলো।

রাশেদ আহমেদ: আপনাকে কেন জেলে নেওয়া হয়েছিলো?

হাফিজুর রহমান কার্জন: এটা আসলে আমার কাছে একটা মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন। যে আমাকে কেন আটক করা হলো? কেন আমাকে মামলা দেওয়া হলো? কেন আমাকে জেলে নেওয়া হলো? কারণ ধরেন আমি তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তারপরে শিক্ষক এবং আমি লেখালেখি করি, পত্রিকায় লেখালেখি করি। আমাদের গবেষণাও করতে হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক অন্যায় থাকে সরকারি মানে সরকারি কোনো অন্যায়, সরকারি তরফে কিংবা ধরেন সমাজের ভেতরে বড় কোনো অন্যায়ের ঘটনা ঘটে আমরা সেটা প্রতিবাদ করি।

ওই দিন ছিল মঞ্চ-৭১ এর একটা আলোচনা সভা। আলোচনা সভাটা ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে। এবং সেখানে আপনার মূলত যারা আলোচক তারা এসেছিলেন মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, তারা কয়েক দশক মানে তারা সবাই সারা জাতির কাছে পরিচিত স্বনামধন্য অধ্যাপক, আইনজীবী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সচিব এবং সেখানে আপনার খুবই মানে বিস্ময়করভাবে কিংবা অত্যাশ্চর্য অত্যাশ্চর্যজনকভাবে একদল সন্ত্রাসী হামলা করে।

মানে বাংলাদেশের পাঁচ দশকের যে ইতিহাস, এর ভেতরে আমি শুনিনি যে রিপোর্টার্স ইউনিটি কিংবা প্রেসক্লাব সেখানকার কোনো আলোচনা সভা গোল টেবিল কিংবা এই ধরণের কোনো অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা এসে হামলা করে। কারণ সন্ত্রাসীরা যেটা হয় যে তারা কিন্তু রাজনৈতিক দল হোক কিংবা প্রভাবশালী লোক হোক এই প্রেসক্লাবকে ভয় পায়। কারণ প্রেস ক্লাবে সব ধরণের সাংবাদিক থাকে এবং তাদের পেশাগত একটা ঐক্য থাকে এবং সেইটার কারণে রাজনৈতিক দল প্রভাবশালী হলেও তারা কিন্তু সাংবাদিকদের সম্মান করে চলেন কিংবা সমীহ করে চলেন। তো এটা আমার ধারণায় কখনোই ছিল না যে এই ধরণের একটা...

কারণ আমরা বুঝতে পেরেছি যে ৫ই আগস্টের পরে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতাশীল হওয়ার পর মানে আস্তে আস্তে আমরা বুঝতে পারলাম যে যদিও এটা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলে এসেছে ক্ষমতায়। কিন্তু এটা আসলে আস্তে আস্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করে ফেলছে। মানচিত্রে হাত দিচ্ছে তারপরে জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথা বলছে। তারপরে আমাদের যে মূল সংবিধান ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে সংবিধান সেই সংবিধান কবর রচনা করার কথা বলছে। এগুলোর মধ্যে দিয়ে আমরা কিন্তু বুঝতে পারলাম যে এই সরকারের চরিত্রটা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এবং সেরকম একটা পরিস্থিতিতে আমরা দেখলাম যে মুক্তিযোদ্ধারা লাঞ্ছিত হচ্ছেন। তাদের বিভিন্ন জায়গায় গলায় জুতার মালা পরানো হচ্ছে। বীরশ্রেষ্ঠদের যে ম্যুরাল সেটা ভাঙ্গা হচ্ছে। তারপরে আপনার মুক্তিযোদ্ধারা তারপরে যারা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন তারা নানা রকমভাবে ট্রলের শিকার হচ্ছেন হেনস্থার শিকার হচ্ছেন তারা একটা ভয়ের মধ্যে আছেন।

আমার যেটা ধারণা ছিল যে হতে পারে হয়তবা যদি কোনো ঝুঁকি থাকে যদি কোনো রিস্ক সেরকম যদি থেকে থাকে তাহলে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হয়তবা এসে আমাদের সাথে কথা বলবেন। কথা বলে আমাদেরকে বলবেন যে আপনাদেরকে এই অনুষ্ঠান করাতে ঝুঁকি আছে আপনারা এটাকে বন্ধ করে দেন নইলে আমরা বন্ধ করে দেবো। তো সেই ধরণের কোনো কিছু হলো না। অনুষ্ঠানটা শুরু হওয়ার পরে প্রথমেই আমি বক্তৃতা করলাম ১৫-২০ মিনিট এবং তারপরে দেখলাম যে আপনার বাইরে থেকে কিছু হই হুল্লা শুরু হলো। মিছিল নিয়ে ঢুকে গেলো। তারপরে তারা নানা রকম মিছিল দিতে থাকলো যে আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ। আমি খুব অবাক হলাম যে আবু সাঈদ মুগ্ধের যে লড়াই তার সাথে তো ৭১ এর কোনো বিরোধ নাই। ৭১ সাল হচ্ছে আমাদের শেকড়। সেখান থেকে সবকিছু সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন রাষ্ট্র সংস্কার। আমাদের ৭১ সালে যারা আন্তর্জাতিক অপরাধ করেছে তাদের বিচার। সুতরাং তার সাথে অন্য কোনো ঘটনাকে তার সামনাসামনি কেন দাঁড় করাতে হবে।

হ্যাঁ সেটা আগেও ছিল এবং তখনও আমি সেটা দেখে খুব বিস্মিত হয়েছি এবং তখন আমার কাছে মনে হয়েছে যে এটা নিশ্চয়ই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের একটা মানে ভণ্ডামি কিংবা মুনাফেকি। তারা একটা মুখোশের আড়ালে তারা এই মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করতে চায়। আমি যেখানে ছিলাম মঞ্চে আস্তে আস্তে তারা সেখানে চলে আসলো। চলে আসার পরে আমাদের অনেককেই তারা গালমন্দ করলো। লতিফ সিদ্দিকীকে তাকে চেয়ারে বসিয়ে চারপাশে কয়েকজন যুবক প্রায় ১৫-২০ মিনিট যেভাবে তাকে গালমন্দ করলো হুমকি দিল এবং অনেককেই কলার ধরে ফেললো অনেককেই কিল চড় থাপ্পড় দিল এবং অডিটোরিয়ামের বাইরের যে জায়গাটা ছিল যেখানে কলাপসিবল গেট সেইখানে অনেককে তারা ভয়াবহ রকম আক্রমণ করেছে। তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ছিল তাদের কাছে। অনেককে আপনার মানে মাটিতে ফেলে নির্মমভাবে জখম করেছে।

আমাদের উপরে তো ভয়াবহ সন্ত্রাস হলো মব হলো। যারা আমাদের উপর সন্ত্রাসটা করলো মব করলো যে সমস্ত সন্ত্রাসী তাদেরকে গ্রেপ্তার না করে তারা আমাদেরকে স্বৈরাচারের দোসর বলে পুলিশের কাছে তুলে দিল। এবং কি বিস্ময়কর এবং কি লজ্জাকর একটা বিষয় যে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং আমি তিন দশক ধরে পড়ছি পড়াচ্ছি আমি টেলিভিশন টকশো তে যাই, পত্রিকায় লেখালেখি করি এবং এখানে আমি কে এটা মোটামুটি বাংলাদেশের মানুষ মোটামুটি জানে। তো আমাকে একজন সন্ত্রাসী বলে সন্ত্রাসীরা পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। হ্যাঁ তারপরে এখানে আবুল হোসেন খান সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব তাকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক পরিকল্পনা সচিব ভূঁইয়া শফিক তাকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই অবস্থাতে আমাদেরকে ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হলো।

অনুষ্ঠানটা ছিল মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান এই দুটো বিষয় হচ্ছে এই রাষ্ট্রের ভিত্তি। এই রাষ্ট্রের অনেকগুলো ভিত্তির ভেতরে মানে প্রধান ভিত্তি তো মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমি যদি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে না পারি সংবিধান নিয়ে কথা বলতে না পারি তাহলে আমি কোন রাষ্ট্রে বাস করছি? তাহলে পরে কি যে সরকার এসছে তারা কি এই মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান এগুলো বাতিল করে মানে সেই পাকিস্তানের সাথে এই রাষ্ট্রটাকে জুড়ে দিতে চায়। মানে কি তারা কাদের ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে? তারা কি বাংলাদেশের সরকার নাকি তারা পাকিস্তানের এজেন্ট? নাকি তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট? নাকি তারা জঙ্গি? মানে তারা বারবার মুক্তিযুদ্ধকে নস্যাৎ করার কথা কেন বলছে? তারা সংবিধানকে কবর দেওয়ার কথা কেন বলছে? তারা বঙ্গবন্ধুকে মানে বঙ্গবন্ধুকে খাটো কেন করতে চাচ্ছে?

আমি যদি একথার বলি যে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস মানে আমি যদি তাকে বিশ্লেষণ করি যে ইন টার্মস অফ মোরালিটি। হ্যাঁ বায়োলজিক্যালি ফিজিক্যালি বলতে পারবো না কিন্তু ইন টার্মস অফ মোরালিটি কিংবা ইন টার্মস অফ ভ্যালুস। মানে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস হিজ অ‍্যাৃৃৃ। কেন বলবো মানে কেন এ কথা বলছি? যে সে তার জন্মকে স্বীকার করে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মকে যদি কেউ স্বীকার না করে তাহলে তাকে তো আমরা জারজই বলবো। এবং সেই জারজদের তো আমরা দেখেছি ৭১ সালে কি করেছে। এবং পরবর্তীতে সেই জারজরা কি করেছে। হ্যাঁ রাষ্ট্রের ভেতরে কি সমস্যা তৈরি করেছে আমরা তো সেটা জানি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে যদি আপনি অস্বীকার করেন তাহলে তো আপনি আপনার শেকড়কে আপনার মা-বাবাকে অস্বীকার করেন।

আমাদেরকে নিয়ে যাওয়া হলো ডিবি অফিসে। মূল যে কক্ষটা ওখানে বসেছিলেন ডিবি ডিসি। ওখানে লতিফ সিদ্দিকী ছিলেন। আর আমাদের ৫ জনকে আলাদা একটা কক্ষে রাখা হয়। আমি পান্না ভাই আনিসুর রহমান বুলবুল আর একজন মুক্তিযোদ্ধা ৫ জন ছিলাম। আর ৯.৩০ টার দিকে তারা মোটামুটি সিদ্ধান্ত নেয় যে এটা মামলা হবে এবং তারা সেই মামলাটা করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে শাহবাগ থানায় একটা মামলা হয়। মামলাতে আমাদেরকে ওখানে আমরা ৫ জন ছিলাম আর শাহবাগ থানায় ছিল ১০ জন। এই মামলা হওয়ার পরে ১০ টা সাড়ে ১০ টার দিকে ওই শাহবাগ থানায় যারা ছিল তাদেরকে নিয়ে আসা হয় এবং আমাদেরকে ওই আপনার ডিবি অফিসের যে গারদ সেই গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

এবং কি ভয়াবহ আমি চিন্তা করি যে এই রাষ্ট্রটা পাঁচ দশকের বেশি হয়ে গেলো এবং এই ডিবি অফিসটা তো আলোচিত সমালোচিত নানা ভাবে। এবং আমাদের একদম অ্যাট দ্য হার্ট অফ দ্য ক্যাপিটাল সিটি। যে আপনার মিন্টো রোডের ওখানে মন্ত্রী পাড়া এবং ওইখানে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের বাসস্থান যমুনা। ওইখানে আপনি একটা যে হাজতখানা করেছেন গারদ করেছেন সেখানে ন্যূনতম ফ্যাসিলিটি গুলো থাকবে না? আমাদেরকে ঢুকিয়ে দিল ১০.৩০ টায় এবং ওইখানে আমি ছিলাম তারপরে ৭০-৭৫-৮০ বছর বয়সী লোক ছিল। তো তাদের নানা রকম মেডিসিন দরকার হয়। তো মেডিসিনটা কে এনে দেবে? ওরা বললো যে ওরা এনে দেবে। তারপরে দেখলাম ২-৩ আড়াই ঘণ্টা চলে গেলো কোনো মেডিসিন নাই। আবার আমাদের আনিসুর রহমান বুলবুল তার যে ইনহেলার, ইনহেলার টা নিয়ে গেলো। এখন ইনহেলার যদি কারো নিয়ে যায় তো তার তো যেকোনো সময় একটা বিপদ হতে পারে।

হ্যাঁ তারপরে আমার যে ওষুধ যে ওষুধ আমি সকাল বেলা রাতের বেলা কিছু একদম নেসেসারি ওষুধ আছে। এটা না হলে এবং আমার আবার নাকে পলিপের সমস্যা আছে। সুতরাং আপনার ওই ড্রপটা না দিলে আমার ৪-৫ ঘণ্টা পরে নাক বন্ধ হয়ে যায়। হ্যাঁ তারপর রাতের বেলা একটা নির্দিষ্ট ওষুধ না খেলে আমার মানে ঘুমের সমস্যা হয়। তো ওই আপনার গারদখানার ভিতরে আপনার কোনো খাট নাই। আপনার কোনো শুধু একটা কম্বল একটা বালিশ আর ওখানে একটা মাত্র বাথরুম বাথরুমের দরজাও নাই। তারপরে গন্ধ ছুটতেছে। হ্যাঁ তারপর খাবার দাবার কোনো কিছুর কোনো বালাই নাই মানে এরকম একটা ভ্যাপসা পরিবেশে প্রচণ্ড গরম কোনো ফ্যান নাই। আমাদেরকে ওইটার মধ্যে ঢুকিয়ে দিল।

আমাদেরকে আপনার আদালতে নিয়ে গেলো। আদালতে নেওয়ার পরে আমাদের পক্ষে যে আইনজীবী ছিলেন। প্রথমে পিপি তিনি তার বক্তব্য উপস্থাপন করলেন। তারপরে আমি যেহেতু আইনের অধ্যাপক উইথ দ্য পারমিশন অফ দ্য কোর্ট আমি বিচারককে বললাম যে আমি যেহেতু ল'র একজন অধ্যাপক আমি একটু সাবমিশন করতে চাই। তো আমি সাবমিশন করলাম আমি বললাম যে দেখেন এখানে পিপি সাহেব যে কথাটা গুলো বলেছেন পুরোপুরি মিথ্যা। এবং পিপি সাহেব বলছেন যে আমরা কয়েকজন আমরা স্বৈরাচারের দোসর আমরা পারস্পরিক যোগসাজশে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই সরকারকে উৎখাত করার জন্য সেখানে গিয়েছি। মানে এখন পিপি যে কথাগুলো বলছেন তা তো যুক্তিতে টেকে না। আমরা যদি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে সরকার উৎখাতের চেষ্টা করে থাকি তাহলে তো পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা আগেই জানার কথা। এবং আমরা তো ওখানে কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের জন্য যাইনি। আমরা তো ওটা গিয়েছি একটা আলোচনা সভার জন্য। এটা তো ডিক্লেয়ার্ড ছিল। রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুমোদন নেওয়াই ছিলো। এবং ওইখানে তো এমন কেউ যায়নি যার কোনো সন্ত্রাসী ব্যাকগ্রাউন্ড আছে।

রাশেদ আহমেদ: কার্জন আপনার বিরুদ্ধে মামলাটি কী ছিল এবং মামলাটি জামিন যোগ্য ছিল কিনা?

হাফিজুর রহমান কার্জন: না ওটা মামলাটা জামিন যোগ্য ছিল না। কিন্তু জামিন দিতে পারে। বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ একজন গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ৪ টা অধিকার দিতে হয়। একটা হচ্ছে টু কনসাল্ট এ লয়্যার অফ হিজ অর হার ওন চয়েস। তার পছন্দের একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করতে দিতে হবে এবং তাকে আপনার যত দ্রুত সম্ভব তাকে কি কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা জানাতে হবে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টার ২৪ ঘণ্টার ভেতরে নিকটস্থ যে ম্যাজিস্ট্রেট তার সামনে হাজির করতে হবে এবং নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন ছাড়া তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে না। আমি বললাম যে এখানে আমাদের দুটো অধিকার দেওয়া হয়নি। একটা হচ্ছে কি কারণে কোন গ্রাউন্ডে আমাকে আটক করা হলো এটা আমাকে লিখিতভাবে জানানো হয় নি। আর দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে আমাকে তো বলতে হবে যে আপনাকে এই এই কারণে গ্রেপ্তার করা হলো। আমাদেরকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে দেয়া হয়নি এবং সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের এটা লঙ্ঘিত হয়েছে। সুতরাং আপনি এই মুহূর্তে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে যে মামলা হয়েছে এটাকে খারিজ করে আমাদেরকে মুক্তির আদেশ দিয়ে দিন। এবং আমাদেরকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললাম।

রাশেদ আহমেদ: মানহানির জন্য ১০ কোটি টাকা?

হাফিজুর রহমান কার্জন: হ্যাঁ কারণ আমার মানহানি তারপর আমার যে ফিজিক্যাল মেন্টাল যে টর্চার।

রাশেদ আহমেদ: তো মানহানির জন্য তো আলাদা একটা সাবমিশন করতে হয়।

হাফিজুর রহমান কার্জন: না আমি আমি ওইখানেই বলে দিলাম। সেটা কিন্তু অন্য আদালতেও আমি করবো। আমি তো করবো অবশ্যই। এটা তো কোনো মাফ নেই।

রাশেদ আহমেদ: মানে কি করবেন?

হাফিজুর রহমান কার্জন: আমি এইটার জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে আসামি করে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে আসামি করে আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তাদেরকে আসামি করে আমি মামলা করবো। যে আমার নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে। এবং সেটার জন্য আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে আমার শারীরিক মানসিক যে কষ্ট হয়েছে সেইটার জন্য আমার আমি তো ক্ষতিপূরণ চাইবো।

রাশেদ আহমেদ: ইউনূস এখানে রিলেটেড কেন? মামলা তো ইউনূসের সময় হয়েছে।

হাফিজুর রহমান কার্জন: সে তো সরকার প্রধান।

রাশেদ আহমেদ: আইন উপদেষ্টা কেন?

হাফিজুর রহমান কার্জন: আইন উপদেষ্টা,স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তারাতো সংশ্লিষ্ট।

রাশেদ আহমেদ: মানে আপনি ন্যায় বিচার পাননি এরকম একটা ক্লজ।

হাফিজুর রহমান কার্জন: ন্যায় বিচার কি আমার উপর অন্যায় করা হয়েছে। ন্যায় বিচার তো দূরের কথা আমি যখন হোয়েন আই এম সিকিং জাস্টিস আমি ন্যায় বিচার চাইবো। আমি তো প্রথমে অন্যায়ের শিকার হয়েছি। আমাকে ৩ মাস জেলে থাকার প্রেক্ষিতে আমার ৩ মাসে যে পড়াশোনার ক্ষতি হলো গবেষণার ক্ষতি হলো আমার পরিবারের ক্ষতি হলো এবং আমার যে মানসিক টেনশন।শারীরিক ক্ষতি হলো সবকিছু মিলে ৩ মাসের যে একটা বিধ্বস্ত অবস্থা সেটা রিকভার করতে আরো ৬ মাস চলে গেলো। এই সামগ্রিক ক্ষতিপূরণ কে দেবে? তুমি যেই হও নোবেল লরিয়েট হও আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হও মানে কথার কথা বলছি যে তুমি যতই প্রভাবশালী হও যে তুমি যা খুশি তাই করে তো ছাড়া পেতে পারো না।

রাশেদ আহমেদ: আপনি মামলা করবেন কি আপনার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে সেটি নাকি রাষ্ট্রের প্রতি অন্যায় হয়েছে সেইরকম কোনো ক্লজ?

হাফিজুর রহমান কার্জন: না আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে এবং আরও ওই গ্রাউন্ডেও তো মামলা করা যায়ই। যে মুক্তিযুদ্ধ সংবিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কেন এই মবের শিকার হতে হবে। হ্যাঁ তাহলে পরে এই এই এই সরকার তো মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধান বিরোধী সরকার মানে তো তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতা করছে। যে সরকার মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিয়েছে, সেটা তো রাষ্ট্র বিরোধী সরকার এবং তারা তো রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেছে। রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও হবে। সুতরাং এখানে পসিবল যতগুলো মামলা করা যায় সবগুলো আমি করবো। এবং এখানে ইউনূস অ্যান্ড গং এটাতে তাদের নিস্তার পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

রাশেদ আহমেদ: আপনি তার সম্পর্কে কিছু মন্তব্য করেছেন যে উনি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছেন। তার ক্ষমতায় আসাটা কি চ্যালেঞ্জ করার মত ছিলো?

হাফিজুর রহমান কার্জন: না আমার কাছে মনে হয় সেইটা বোধহয় কঠিন হবে কারণ এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তিনি এসেছেন যে ছাত্র জনতার একটা অভ্যুত্থান ছিল এবং ৫ই আগস্টের পরে আপনার একটা ভ্যাকিউম ছিল গভর্মেন্টের মধ্যে। আমাদের এখানে কোন প্রধানমন্ত্রী নাই ক্যাবিনেট নাই। মানে সংবিধান সংসদ থাকলেও যারা সংসদ সদস্য তারা অধিকাংশই অনুপস্থিত। ওরকম একটা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রে কোনো শূন্যতা থাকতে পারে না। তো সেই পরিস্থিতিতে ডকট্রিন অফ নেসেসিটিতে সেই ডকট্রিন কিংবা প্রয়োজনীয়তার নীতিমালা অনুযায়ী তারা সরকার গঠন করেছেন। মানে হি টুক দি পাওয়ার এজ গ্রান্টেড। তিনি মনে করলেন যে জনগণ তাকে সমর্থন দিয়ে দিয়েছে। সরকারে গিয়ে তিনি যা খুশি তাই করবেন।

এবং যা খুশি তাই করার ক্ষেত্রে আমরা গিয়ে দেখলাম যে দেশে পুলিশ কাজ করতে পারছে না। সেনাবাহিনীকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমলাতন্ত্রের মধ্যে একটা অস্বস্তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অর্থনীতি ঠিকমতো চলছে না। এবং এসব বিষয়ে তার কোনো ধরনের উৎকণ্ঠা নেই। এবং তিনি আস্তে আস্তে এমন দেখা গেল যে তিনি রাষ্ট্র সংস্কারকে একটা ঢাল বানিয়ে ৫ বছর ১০ বছর অনির্দিষ্টভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান। এবং আমরা আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম যে এটা আসলে তার দেশপ্রেম বলে কিছু নাই। তারপরে আমরা উগ্রবাদী শক্তি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তিদের যে আস্ফালন দেখলাম এবং তার মানসপুত্র তারা সেকেন্ড রিপাবলিকের কথা বললেন তারা সংবিধান কবর দেওয়ার কথা বললেন তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ফ্যাসিবাদের চেতনা বলে আখ্যায়িত করলেন। তারা বঙ্গবন্ধুর যে ৩২ নম্বরের যে ভবন তারা কয়েকবার ভাঙ্গলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের যা কিছু সবকিছু তাদের আক্রমণের শিকার হলো এবং তিনি নিজেও মেটিকুলাস ডিজাইনের কথা বলেছেন। এবং তার যে রিসেট বাটন রিসেট বাটনের মধ্য দিয়ে তো আমরা বুঝতে পারি যে তিনি বাংলাদেশটাকে রিসেট করতে চেয়েছেন। মানে এই বাংলাদেশটাকে রিসেট করে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছেন।

কিংবা বাংলাদেশটাকে রিসেট করে আপনার এমন একটা বাংলাদেশ করতে চেয়েছেন যেই বাংলাদেশ তার যে হাজার বছরের ঐতিহ্যের সাথে এটা মেলে না। এটা ওই সহিংস জঙ্গি তারপরে উগ্রবাদী এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী বাংলাদেশ, মানে আমাদের যে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলার বাংলাদেশ আমাদের যে লালনের বাংলাদেশ আমাদের যে রবীন্দ্রনাথ নজরুলের বাংলাদেশ আমাদের যে বেগম রোকেয়ার বাংলাদেশ আপনি দেখেন যে তার সময় বেগম রোকেয়ার মুখ সেটা কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আপনি দেখেন তার সময় বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু তারপরে জীবনানন্দ দাশ খুলনায় তাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তাদের সময় সংখ্যালঘু নির্যাতন কিভাবে হয়েছে। এবং আপনার তার সময় শুধু হিন্দু হওয়ার কারণে নামে হিন্দু থাকার কারণে অনেক প্রফেশনে অনেককে আপনার পদচ্যুত করা হয়েছে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে এবং হিন্দুদের ভেতরে একটা প্রচণ্ড ভয় ছিল। তারা ভয়ে কেউ কথাও বলেনি।

রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রপতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন কেন? এই রাষ্ট্রপতিই তো তাকে শপথ পড়িয়েছেন।

হাফিজুর রহমান কার্জন: এই রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ পড়িয়েছেন এখন সেইটা একটা বিতর্ক ছিল সেই বিতর্কটাও আমরা দেখেছি যে আপনার ৫ই আগস্টের পরে এটা বিপ্লবী সরকার হবে নাকি এটা সাংবিধানিক সরকার হবে। এখন আপনি বিপ্লবী সরকার হতে গেলে তো বিপ্লব করতে হবে। এরা তো বিপ্লব কাকে বলে জানেই না। রুশ বিপ্লব হয়েছে ফরাসি বিপ্লব হয়েছে রুশ বিপ্লবে ফরাসি বিপ্লব তারা কি করেছেন রাজতন্ত্রকে উপড়ে ফেলেছেন সেখানকার যে সামন্ততন্ত্র ছিল সেটা উপড়ে ফেলেছে। এটা রাষ্ট্র সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন কিংবা রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয় এটা পরে এসেছে এবং এটার মধ্য দিয়ে তারা হিডেন অনেক এজেন্ডা নিয়ে এসেছিলো। আপনি যখন একটা আন্দোলন করবেন কারণ আমরা এখানে ৫২ সালের আন্দোলন দেখেছি আমরা শিক্ষা আন্দোলন দেখেছি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান দেখেছি আমরা ৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আমরা করেছি। তো সেখানে তো আগে থেকেই রূপরেখা ছিল আগে থেকেই দফা ছিল। ৬৯ এর আগে ১১ দফা ছিল ৬ দফা ছিল ৯০ এর আন্দোলনও তিন জোটের রূপরেখা ছিল যে আমরা চাই এই সরকারের পতন হোক সরকারের পতন হলে এইভাবে সরকারি ক্ষমতা পরিবর্তন হবে একটা নির্বাচন হবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা এভাবে পরিবর্তিত হবে। তো এদের তো কিছুই ছিল না। এদের একটা ডিক্লেয়ারেশন কিংবা প্রোক্লেমেশনও ছিল না।

রাশেদ আহমেদ: একটা বিষয় তারা বারবার এখনো বলছে সংবিধান পরিবর্তনের কথা সংবিধান সংশোধনের কথা। সংবিধানের আসলে সমস্যাটা কোথায়? আপনি তো আইনের ছাত্র ছিলেন এখন শিক্ষকও।

হাফিজুর রহমান কার্জন: কোনো সমস্যা নেই। এটা ওই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এজেন্ডা। যে এই সংবিধানটা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান। এই সংবিধানটা আমরা পেয়েছি  মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আপনি দেখেন ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হয়েছে। পাকিস্তান তার প্রথম সংবিধান রচনা করতে ৮-৯ বছর সময় নিয়ে নিয়েছে। এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র তো মূলত চালিয়েছে সামরিক বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং শেষ পর্যন্ত সেটা গণতান্ত্রিক কোনো ভিত্তির উপর দাঁড়ায়নি। আর ভারত ২-৩ বছরের ভেতরে সংবিধান করে ফেলেছিল। তো এই যে, আমরা ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হলাম এবং বঙ্গবন্ধুর তো প্রথম যে আকাঙ্ক্ষাটা ছিল একটা সংবিধান। মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্রটা দাঁড়ানো। এবং সেইটাকে তারা কি করলো দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা করলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোথায় কোথায় আঘাত করবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশটাকে কবর দেওয়ার জন্য কোথায় কোথায় তারা আঘাত করবে। আঘাত করে সেকেন্ড রিপাবলিকের কথা বলবে গণপরিষদের কথা বলবে কিন্তু এটা একটার সাথেও কোনোকালে যায়না। আপনি একটা কোটা বিরোধী আন্দোলন এটা পপুলার মুভমেন্ট ছিল সেইটার সাথে মানুষের ইমোশন নিয়ে অন‍্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেন।

রাশেদ আহমেদ: একটা জিনিস আপনি বলছেন এই সংবিধানে কোনো সমস্যা নাই।

হাফিজুর রহমান কার্জন: এই সংবিধানের সমস্যা নাই ওই অর্থে না। আপনার ধরেন পৃথিবীর কোনো সংবিধানই তো স্বয়ংসম্পূর্ণ না। মানুষ তো ধরেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সংবিধান হয়েছে সেই ১৭৭৬ কত ১৭৮০ এর দশকে। হ্যাঁ ৭ টা আর্টিকেলের ওপর। তো সেই সংবিধান তারা সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে তারা নতুন নতুন সংশোধনীর মধ্য দিয়ে আপডেট করেছে। আমার এখানে আপডেট এর সুযোগ আছে। আমার এখানে সংবিধান যেটা আপনার ১৯৭২ সালে যেটা ছিল যে একটা সংবিধানের যে বৈশিষ্ট্যগুলো দরকার তার প্রত্যেকটাই আছে আমার ৭২ এর সংবিধানে। আমার সংবিধানে আপনার পার্লামেন্টারি ফর্ম অফ ডেমোক্রেসি আছে এবং এইটা আপনি বলতে পারেন যে একদম ব্রিটিশ ধাঁচের কিংবা আমেরিকান ধাঁচের কিংবা অন্য ধাঁচের। এখন তারা তো তাদের ডেমোক্রেসি যে ডেভেলপ করেছে কয়েকশ বছর ধরে। না আপনি তো হুটহাট করে আপনার দেশের বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে একদম সেগুলো সব করতে পারেন না। এবং আজকে যে ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা এসছে যে আপনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশি ক্ষমতা সুতরাং রাষ্ট্রপতিকে আরও ক্ষমতা দিয়ে কিভাবে ভারসাম্য আনা যায় উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠিত হবে কি না তারপরে আপনি সাংবিধানিক একটা কাউন্সিল করে এই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর তারপর চিফ জাস্টিস তারপর অন্যান্য কিছু নিয়োগের কথা এসেছে সবকিছুই তো আপনি সংবিধান সংশোধন করে করতে পারেন। তাহলে আপনি একটা এক্সট্রা কনস্টিটিউশনাল অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছেন কেন? সংবিধানের বাইরে একটা অ্যারেঞ্জমেন্টে যাচ্ছেন কেন? যাচ্ছেন এই জন্য যে মুক্তিযুদ্ধের যা কিছুই আছে পাল্টাতে হবে। তারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না তারা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না তারা সংবিধানকে ধারণ করে না এই জন্য তাদের একটা ২৪ তৈরি করতে হলো। হ্যাঁ ২৪ টা আমারও কিন্তু আমার মনটা পরিষ্কার। আমি কিন্তু ২৪ নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র করিনি কিংবা আমার মতো মানুষ যারা আমাদের আকাঙ্ক্ষাটা হচ্ছে এরকম যে আমরা ভালো কিছু চাই। এখানে যারা আওয়ামী লীগ বিএনপি অন্যান্য যারা আছে তাদেরও ভুল ত্রুটি সীমাবদ্ধতা আছে কিন্তু তারপরেও আমরা ভালো কিছু চাই।

তোমরা ষড়যন্ত্র কেন করবে? এতগুলো মানুষ হত্যা হয়েছে পুলিশ হত্যা হয়েছে। এখন তো আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এটার পেছনে সরকারি নানা বাহিনী ছিল না। এবং সেই ষড়যন্ত্রের কথা তারা নিজেরাই ফাঁস করেছে। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের কথায় মেটিকুলাস ডিজাইন। এবং মেটিকুলাস ডিজাইন তো আমরা দেখছি এবং তাদের তো বাংলাদেশের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতাই ছিল না। নির্বাচনের ৩ দিন আগে আপনার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা চুক্তি করে ২২ বিলিয়ন ডলারের সুযোগ তাদেরকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আপনি সেই চুক্তি থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসবেন মালয়েশিয়া বেরিয়ে এসছে। আপনি সেটা থেকে কিভাবে বেরিয়ে আসবেন কৃষি আপনার জ্বালানি আপনার অর্থনীতি। হ্যাঁ আপনার সামরিক সরঞ্জাম সরঞ্জাম আপনার আমরা চীন থেকে কম দামে কিনতাম এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আপনাদের বেশি দামে কিনতে হবে। মানে আমার সামরিক শক্তিতে আমার শক্তিশালী কেন হতে হবে? মানে সামরিক শক্তিতে আমার শক্তিশালী হতে হবে যেটা আমার দেশের জন্য প্রয়োজন তাই না? কিন্তু আমার তো প্রায়োরিটি থাকবে। আমি যেহেতু বাংলাদেশ একটা উন্নয়নশীল দেশ আমার প্রায়োরিটি হবে শিক্ষা। আমার প্রায়োরিটি হবে অর্থনীতি। আমার প্রায়োরিটি হবে স্বাস্থ্য।

রাশেদ আহমেদ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউনূস যে চুক্তি করে গেছে সেই চুক্তি কি বাতিল করা সম্ভব এখন?

হাফিজুর রহমান কার্জন: চুক্তি বাতিল করা সম্ভব এটা আসলে যারা চুক্তি নিয়ে কাজ করেন তারা ভালো বলতে পারবেন, সম্ভব তো অবশ্যই। সম্ভব না হলে মালয়েশিয়া কিভাবে করলো? অন্তর্র্বতী সরকারের পলিসিগত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তাতেই তো এটা বাতিল হয়ে যাবে।

রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বিএনপি তো গণপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয় নাই মানে কেন নিল না তারা মানে এইটা কি এই যে সংবিধানের সংশোধনের কথা বিএনপি বারবার বলে কিন্তু পরিবর্তনের কথা তো ওইভাবে বিএনপি বলেনি। এইটা কি আপনি কোনো পজিটিভ সাইন দেখছেন না কি নেগেটিভ কোনো বিষয় এটা?

হাফিজুর রহমান কার্জন: সংবিধান সংস্কার পরিষদ করার কোনো সুযোগই নাই। এটা পুরোপুরি অবৈধ ও অসাংবিধানিক। আপনি যদি বিএনপি দে হ্যাভ টেকেন ভেরি কারেক্ট পজিশন। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেননি। দে হ্যাভ টেকেন দি ভেরি কারেক্ট ডিসিশন। কারণ এই এখন তো আপনার সংবিধানে এটা নাই। তো আপনি কিভাবে কোথায় কিসের অধীনে শপথ নেবেন?

রাশেদ আহমেদ: জুলাই সনদ নিয়ে দু রকম কথা আছে বিএনপি একরকম ভাবে ভাবছে বিষয়টি নিয়ে এবং বিরোধী দলে যারা আছে এখন জামায়াত এনসিপি তাদের চিন্তাভাবনা টা ভিন্ন। আপনার কাছে কি মনে হয় আইনের ছাত্র এবং শিক্ষক হিসেবে?

হাফিজুর রহমান কার্জন: এখন এই জুলাই চার্টার নিয়ে যে প্রশ্নটা হবে যে হোয়েদার ইট ইজ এনি চার্টার ইন দি ট্রুয়েস্ট সেন্স অফ দি টার্ম অর ইট ইজ এ চার্টার অফ চিটিং। এই প্রশ্নটা কিন্তু বড় করে আসবে। কারণ এখানে আপনার জুলাই চার্টারের ভেতরে সবচেয়ে বড় পলিটিক্যাল স্টেক হোল্ডার হচ্ছে বিএনপি। এবং আপনি যদি ইন টার্মস অফ পপুলার সাপোর্ট দেখেন মানে যেটা আমি বলি যে ১৫ বছর ধরে আপনার রাজনৈতিক উদ্যোগের পেছনে একটা বড় যে ঘাটতি ছিল যে সেটার ভেতরে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিষয়টা ছিল না। তো একটা দেশের অর্ধেক মানুষকে বাদ দিয়ে আপনি একটা চার্টার করলে তার মূল্য কোথায় থাকে। এবং যে চার্টারকে আপনি বলছেন যে সেটা সংবিধানের মধ্যে যাবে কিংবা সেটা পরবর্তী শাসন ব্যবস্থা পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এটার ভিত্তি হবে তো সেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক কোনো কিছু তো আমি দেখছি না। এবং এটা যার যেই দৃষ্টিভঙ্গি থাকুক না কেন এটার যে প্রধান শর্ত যে একটা চার্টার যেটাকে আমরা জনগণের চার্টার বলছি সেখানে জনসংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে। জনসংশ্লিষ্টতা তো এখানে আমরা পাচ্ছি না। এবং এখানে আপনার যারা মোটামুটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক বিশ্লেষক তারা এটা বলছেন এটা ছিল এলিট সেটেলমেন্ট। তারা বলেছেন এটা একটা এলিট সেটেলমেন্ট।

রাশেদ আহমেদ: গণভোটও হয়েছিল।

হাফিজুর রহমান কার্জন: গণভোট হয়েছিল সেটাও তো আরেকটা প্রতারণা। গণভোটের কোনো বিধান তো সংবিধানে নাই। এবং সেই সংবিধানে সেটা না থাকাতে আপনাকে একটা অধ্যাদেশ করতে হয়েছে যে অধ্যাদেশের বলে আপনার গণভোটটা হয়েছে। এখন ওই অধ্যাদেশটা এই সংসদ যদি পাস না করে তো ওইটার কোনো ভিত্তি নাই। আপনি আবার রেফারেন্ডাম করেছেন সেখানে আপনি না ভোটের পক্ষে মানে আপনি কাউকে প্রচার করতে দেন নাই। এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী তাদেরকে আপনি মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন। এবং নির্বাচনের কয়েকদিন আগে ইলেকশন কমিশন বলেছে এটা পানিশেবল অফেন্স। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা যদি কোনো ভোটের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নেয় তাহলে পরে আইন অনুযায়ী সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার তারপরে মানে কতগুলো প্রশ্ন দেখেন যে রেফারেন্ডাম হচ্ছে সংবিধানে নাই। আপনি অধ্যাদেশ করে করলেন সেই অধ্যাদেশটা পাস হবে কি না সেটা বর্তমান সংসদ নির্ধারণ করবে। তারপরে আপনি সেটার পক্ষে আপনি সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর অংশ নিলেন সেটাকে ইলেকশন কমিশন বলল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাহলে আমি কি ধরে নেবো যে আপনি সাবেক বিচারপতি খাইরুল হককে ধরে নিয়ে গেলেন হাতে হাতকড়া দিয়ে হাবিবুল্লাহকে ধরে নিয়ে গেলেন হাতে হাতকড়া দিয়ে তো ভবিষ্যতে কি আমি ধরে নেবো যে এই যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করেছেন এরকম কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে প্রতীকী হলেও সবাইকে তো আর ধরা যাবে না হাতকড়া দিয়ে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে? এখানে তো ইলেকশন কমিশন বলেছে যে আপনার এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আসলে এটা। তারপরে দেখেন আপনি রেফারেন্ডামের ভেতরে ৬৮% হচ্ছে হ্যাঁ ভোট। এবং আপনার ৩০% হচ্ছে না ভোট। এটা কিন্তু ৩০% কিন্তু কম কথা না। ১১ টা জেলায় না ভোট জয়যুক্ত হয়েছে। তো ১১ টা জেলা কি বাদ দিবেন? আপনি এই জুলাই চার্টারের ভেতরে আপনি যে প্রশ্ন চারটা করেছেন এই চারটা প্রশ্নের ভেতরে আপনি আপনি ৪৮ টা প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিয়েছেন। এবং সালাউদ্দিন সাহেব সম্ভবত বিএনপির সালাউদ্দিন সাহেব বলেছেন যে আমি নিজে পড়তেই আমার আড়াই ঘণ্টা লেগেছে। আমি নিজে পড়ে উনি তো হুকুমত কমিশন বিএনপির তরফে প্রতিনিধি ছিলেন তো উনি এই কথা বলছেন। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর শাহদিন মালিক তারপর পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর বড় বড় যারা আমরা প্রফেসর কিংবা ধরেন বিশ্লেষক কিংবা আইনজীবী তারপরে বোদ্ধা তারাই বলছেন যে এটা কি হোয়াট ইজ দিস? তো এই আপনার মানে ইউনূস তারপরে ধান্দাবাজ ইউনূস তারপরে যে আপনার ধুরন্ধর তারপরে দুর্নীতিবাজ তারপরে যে আপনার মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের এজেন্ট আলী রিয়াজ। হ্যাঁ তারপরে এই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এদের একটা হিডেন এজেন্ডা। এবং এটা এটার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যে ৩০ লক্ষ শহীদের যে রক্তের যে সংবিধান সেই সংবিধানকে আপনার মানে আনডান করা। সেই সংবিধানকে আপনার নস্যাৎ করা। এইটা হচ্ছে তাদের হিডেন এজেন্ডা এবং তাদের ওই অপ মেলাফাইড ইনটেনশনের একটা মানে কৌশল। সুতরাং এইটা বিএনপি হ্যাজ টেকেন ভেরি কারেক্ট ডিসিশন। এখন ধরেন পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাদের ওপর চাপ আছে। আমার মনে হয় যে তারা পরিপক্কতার সাথে সিদ্ধান্ত নেবেন আর যদি তারা পরিপক্কতার সাথে সিদ্ধান্ত না নেন তাহলে পরে সংবিধান এবং আইনের যে কষ্টিপাথর। হ্যাঁ আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া কনস্টিটিউশনাল ক্রাইটেরিয়া লিগ্যাল ক্রাইটেরিয়াতে বলি যে আপনি আওয়ামী লীগ আপনি বিএনপি আপনি বামপন্থী আপনি ধর্মপন্থী যাই হোন না কেন কিছু কিছু লিগ্যাল বিষয় আছে আপনি কোনো পন্থী দিয়ে হবে না। এটা ওই আইনের মানদণ্ডে যদি এটা না টেকে। আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। ইনডেমনিটি দিয়ে তাদেরকে রক্ষা করা হয়েছিল টিকেও নি। এবং এইটাও এখন যে ইনডেমনিটি আপনার মানে একবার উদ্যোগ নেওয়া হয় আবার পিছাইয়া আসে নানা রকম টানাপোড়েন আছে কিন্তু আপনি ফাইনালি দেখবেন এটা ৫ বছর হোক ৭ বছর হোক ১০ বছর হোক এই ইনডেমনিটি টিকবে না। আপনি যেকোনো হত্যাকাণ্ড আপনি যদি আন্দোলনকারীদের তরফে কোনো পুলিশকে হত্যা করা হয় সেটাও যেমন অপরাধ পুলিশের তরফেও যদি কোনো আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয় মানে আইনের যে এখতিয়ার আছে কারণ আইনের কিন্তু এখতিয়ার আছে পুলিশকে দেওয়া যে সে কোন কোন পরিস্থিতিতে শক্তি প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই শক্তি প্রয়োগের প্রেক্ষিতে যদি কেউ মানে নিহত হয় যদি কেউ আহত হয় সেটা জাস্টিফায়েড কিনা সেটা আইনের ভেতরেই আপনার সেটা মানদণ্ডগুলো দেওয়া আছে এটা জাস্টিফায়েড কিনা। আমার কথাটি হচ্ছে আপনি মানে এই যে দায়মুক্তিটা দেওয়া হচ্ছে ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের তরফে যে দায়মুক্তিটা দেওয়া হয়েছে সেটা একদম মানে নিঃশর্ত দায়মুক্তি। নিঃশর্ত দায়মুক্তি পৃথিবীর কোনো দেশে দেওয়া হয় না। পুলিশের তরফে র‍্যাবের তরফে শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে তাতে ছাত্র জনতা হত্যাকাণ্ড হয়েছে নাম্বার ওয়ান। নাম্বার টু মানে যারা আন্দোলনকারী তারাও অনেক পুলিশ হত্যা করেছে। আমি এখন ল'র যে অধ্যাপক হিসেবে বলতে চাই প্রত্যেকটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশও যে কাউকে ইচ্ছেমতো খুন করতে পারে না আবার আন্দোলনকারীিরা ইচ্ছেমতো পুলিশকে এবং পুলিশকে কি ভয়াবহভাবে হত্যা করা হয়েছে একদম তার লাশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তারপরে হত্যাকাণ্ডের পরে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে তারপরে তাকে প্রথমে কোপানো হয়েছে তারপর গুলি করা হয়েছে কি ভয়াবহ। হ্যাঁ তো এটা হলে তো আপনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পুলিশকে তো আপনি এটারতে কাজ করাইতে পারবেন না। এবং পুলিশ মারা গেছে তো দুই একজন না সরকারি হিসেবে ৪৬ জন। বেসরকারি হিসেবে তো আরো অনেক বেশি। তো এই যে আমার কথাটি হচ্ছে পুলিশ হোক আর সাধারণ জনগণ হোক প্রত্যেকটা হত্যার বিচার হতে হবে। কাম টু দি কোর্ট তুমি প্রমাণ করো এটা যদি জাস্টিফায়েড হয় কারণ আমার পেনাল কোডে এটা প্রভিশন আছে এবং এখানে জাস্টিফিকেশন আছে। আপনি সেলফ ডিফেন্সে যদি কাউকে মেরে ফেলেন সেটা আপনার একটা জাস্টিফিকেশন।

আপনাকে জাস্টিফাই করতে হবে যে আপনি এটা করেছেন কি না। এবং ল' অনুযায়ী সেটা হইতে হবে। আমরা দেখি যে কে কোন কারণে মেরেছে। তাহলে পরে আমরা বুঝতে পারবো যে রাষ্ট্র কতটা শক্তি প্রয়োগ করেছে জঙ্গিরা কতটুকু এসছে। এখানে আন্দোলনের নামে নাশকতা কতটুকু হয়েছে সেটা আমাদের বুঝতে হবে তো। এখন তো সবকিছু একটা ধোঁয়াশার ভেতরে। এখন ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায় যেটা মেটিকুলাস ডিজাইন। হ্যাঁ তো এই মেটিকুলাস ডিজাইন দিয়ে তো রাষ্ট্র চলবে না। মেটিকুলাস ডিজাইন দিয়ে আপনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আপনি দেশ বিক্রি করে দিবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তো সেইটা তো কোনোভাবেই হবে না। এবং সেইটা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসকে আজ হোক ৫ বছর পরে হোক মানে বাংলাদেশে থাকুক আর বাংলাদেশের বাইরে থাকুক তাকে এনে বিচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতেই হবে তার হবেই এটা কেউ এটা বাধা দিতে পারবে না। আপনি তো গুপ্ত ছিলেন আপনি তো সুপ্ত ছিলেন পরবর্তীতে আপনি নিজেই প্রকাশ করেছেন যে আমি অমুক সংগঠনের ভেতরে গুপ্ত ছিলাম অমুক সংগঠনের ভেতরে সুপ্ত ছিলেন। এবং পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর যে আমি মানে নেতা তিনিও বলেছেন যে আমরা সুকৌশলে সবকিছু করেছি কাউকে জানতে দিইনি। এই যে আপনার গুপ্ত সুপ্ত তারপরে আপনি কোনো কিছু না বলে হিডেন হিডেন এজেন্ডা নিয়ে আসলেন। এইটা তো পৃথিবীর কোথাও সফল হবে না। আপনাকে তো সবকিছু পরিষ্কার করে জনগণের সামনে হাজির হতে হবে যে এই আমার এজেন্ডা এইটা আমি করতে চাই জনগণ আপনাকে সমর্থন দেবে। এখন যখন তারা দেখেছে জনগণ দেখেছে এরা তো আসলে মানে যে কথা বলেছে সেটা তো এদের কথার সাথে মেলে না। পরবর্তীতে তারা এসেছে যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাতীয় সংগীত তারপরে বাংলাদেশের সংবিধান সবকিছু কবর দিয়ে দিবে এবং তারা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দলের বি টিম। তারা একটা সময় তাদের পেটের মধ্যে ঢুকে গেলো এবং তাদের ভাষা তাদের অ্যারোগেন্স তাদের দুর্নীতি তাদের সবকিছু মিলে শেষ পর্যন্ত তাদের সমর্থন হয়তবা ১ শতাংশের ও কম। এখন আপনি যদি ওই চেতনাকে ধারণ করতেন আপনি যদি সৎ থাকতেন আপনি যদি নিষ্ঠাবান হতেন আপনি যদি মনটা পরিষ্কার থাকতো এবং আপনি যদি কারো মানে এখানে ডক্টর ইউনূস আপনার ঘাড়ে বন্দুক রেখে অনেক কিছু করেছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আপনার ঘাড়ে বন্দুক রেখে অনেক কিছু করেছে। আপনারা নিজেরাও অনেক কিছুর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং সেই নাশকতায় অনেক কিছু আপনারা ফাঁস করেছেন এবং সেই কারণে আজকে আপনারা দায়মুক্তি চাচ্ছেন। দায়মুক্তির প্রশ্নটা ৩ বার এসছে। একবার নির্বাহী আদেশে দেওয়া হয়েছে ১৫ই জুলাই থেকে ৮ই আগস্ট পর্যন্ত ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত। আর দুইটা অধ্যাদেশ করা হয়েছে দায়মুক্তির জন্য। তো দায়মুক্তির প্রশ্ন তো ৬৯ সালের আন্দোলনে আসে নাই দায়মুক্তির প্রশ্ন তো ৯০ সালের আন্দোলনে আসে নাই তো আপনাদের দায়মুক্তির প্রশ্ন কেন আসলো তাহলে পরে এটা কতটা আন্দোলন কতটা নাশকতা কতটা ষড়যন্ত্র আর কতটা মেটিকুলাস ডিজাইন সেটা তো আগে নির্ধারণ করতে হবে তারপর তো আমরা বুঝবো যে কোথায় কি হয়েছে।

রাশেদ আহমেদ: ঠিক আছে অসংখ্য ধন্যবাদ কার্জন আপনাকে এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য।

হাফিজুর রহমান কার্জন: আপনাকেও ধন্যবাদ।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত