কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমি থেকে করলা চুরির অভিযোগে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর স্বামী। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই নারীর নাম সালেহা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের ছোটধনতোলা এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বংশিপাড়া এলাকায় ফরহাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির জমি থেকে এক বস্তা করলা চুরির সময় সালেহা বেগমকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে তার স্বামী বদিয়া মিয়া সেখানে উপস্থিত হন।
স্থানীয় লোকজনের চাপে বদিয়া মিয়া গরু বাঁধার দড়ি দিয়ে স্ত্রীকে একটি গাছের সঙ্গে বাঁধেন এবং লাঠি দিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করেন। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন নারীও তাকে সহযোগিতা করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।
জমির মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমার জমি থেকে প্রায়ই করলা চুরি হতো। মঙ্গলবার সকালে সালেহাকে করলার বস্তাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার স্বামী এসে তাকে গাছে বেঁধে পিটিয়েছেন।’
এলাকাবাসীর দাবি, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে এলাকায় চুরি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘চুরির সময় এক নারীকে আটক করেন জমির মালিক। পরে তার স্বামী এসে তাকে শাসন করে বাড়িতে নিয়ে গেছেন।’
এ বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, ‘করলা চুরির অভিযোগে স্বামী স্ত্রীকে পিটিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন