সংবাদ

বিশ্বকাপ ট্রফির রহস্যময় ৫ অজানা তথ্য


মো. জোহান
মো. জোহান
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

বিশ্বকাপ ট্রফির রহস্যময় ৫ অজানা তথ্য
মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সেই সোনালি ট্রফি

ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের টানটান উত্তেজনায় ভাসিয়ে দিয়েছে। তিন দেশের আয়োজনে ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সেই সোনালি ট্রফি। যা জেতার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রতিটি ফুটবলার। ফুটবলের এই পরম আরাধ্য পুরস্কারটি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আছে যা হয়তো অনেক ভক্তেরেই অজানা। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ৫টি অজানা ও চমকপ্রদ তথ্য জানা যাক।

১. প্রায় পাঁচ কেজি খাঁটি সোনা

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর ওজন প্রায় ৬.১৭৫ কেজি (১৩.৬১ পাউন্ড)। মজার ব্যাপার হলো, ট্রফিটির ভেতরে কোনো নিরেট বস্তু নেই। এটি ভেতর থেকে ফাঁপা। যদি এটি সম্পূর্ণ নিরেট সোনার হতো, তবে এর ওজন হতো ৭০-৮০ কেজি। যা একজন মানুষের পক্ষে তুলে ধরা প্রায় অসম্ভব হতো। এই ট্রফিতে খাঁটি সোনার পরিমাণ প্রায় ৪.৯ কেজি। ৩৬.৮ সেন্টিমিটার লম্বা এই ট্রফির নিচের দিকে দুই স্তরে মূল্যবান সবুজ পাথর ‘ম্যালাকাইট’ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ট্রফিটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দামী ক্রীড়া পুরস্কার।

২. ১৯৭৪ সাল থেকে ট্রফির যাত্রা

১৯৭০ সাল পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হতো ‘জুলে রিমে’ ট্রফি। কিন্তু ওই বছর ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ী হওয়ায় ফিফার তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী তারা ট্রফিটি চিরতরে নিজেদের করে নেয়। যদিও পরে সেটি চুরি হয়ে যায়। এরপর নতুন ট্রফির জন্য বিশ্বের ৫৩টি নকশা জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ইতালীয় শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগার নকশাটি নির্বাচিত হয়। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার প্রথম এই বর্তমান ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন।

৩. বিজয়ীরা আসল ট্রফি পায় না

অনেকেই মনে করেন, চ্যাম্পিয়ন দল আসল ট্রফিটি নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। আসলে তা নয়। বিজয় উদযাপনের পর আসল ট্রফিটি ফিফার সদর দপ্তরে ফেরত যায়। এর বদলে বিজয়ী দলকে হুবহু একই রকম দেখতে একটি ‘গোল্ড-প্লেটেড’ বা সোনার প্রলেপ দেওয়া ব্রোঞ্জের রেপ্লিকা দেওয়া হয় চিরস্থায়ীভাবে রাখার জন্য।

৪. সবাই ছুঁতে পারেন না

বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এই সম্পদটি স্পর্শ করার অধিকার সবার নেই। ফিফার কঠোর প্রোটোকল অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিশ্বকাপের বর্তমান ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়, দলের কোচ আর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই কোনো গ্লাভস বা আবরণ ছাড়া ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেন। অন্যান্য কর্মকর্তা বা নিরাপত্তাকর্মীদের এটি নাড়াচাড়া করতে হলে বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করতে হয়।

৫. স্থায়ী ঠিকানা ফিফা জাদুঘর

বিশ্বকাপের চার বছর বাদে বাকি সময় এই ট্রফিটি রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড ফুটবল মিউজিয়ামে’। সেখানে এটি বুলেটপ্রুফ কাঁচের ভেতরে রাখা হয় এবং অত্যন্ত উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। প্রতি চার বছর অন্তর ‘ট্রফি ট্যুর’-এর মাধ্যমে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ায়, যাতে ভক্তরা কাছ থেকে এটি দেখার সুযোগ পান। 

আরও কিছু মজার তথ্য

বিজয়ী দলের নাম খোদাই: ট্রফিটির নিচের অংশে গোল করে প্রতিটি বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের নাম ও সাল খোদাই করা থাকে। মজার বিষয় হলো, এখানে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বিজয়ী দলের নাম লেখার জায়গা আছে। এরপর হয়তো ফিফাকে এই ট্রফির নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে অথবা নতুন ট্রফি তৈরি করতে হবে।

নকশার অর্থ: ট্রফিটির নকশাটি গভীর অর্থবহ। এতে দেখা যায়, দুজন অ্যাথলেট দুই দিক থেকে হাত বাড়িয়ে পুরো পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন। এটি মূলত বৈশ্বিক একতা এবং বিজয়ের আনন্দকে নির্দেশ করে।

বীমা মূল্য: ট্রফিটি অমূল্য হলেও এর একটি বিশাল বিমা করা থাকে। বর্তমানে এই ট্রফিটির আনুমানিক আর্থিক মূল্য ধরা হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা ২০০ কোটি টাকারও বেশি। 

সূত্র : ফিফা 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


বিশ্বকাপ ট্রফির রহস্যময় ৫ অজানা তথ্য

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের টানটান উত্তেজনায় ভাসিয়ে দিয়েছে। তিন দেশের আয়োজনে ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সেই সোনালি ট্রফি। যা জেতার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রতিটি ফুটবলার। ফুটবলের এই পরম আরাধ্য পুরস্কারটি সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য আছে যা হয়তো অনেক ভক্তেরেই অজানা। ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে ৫টি অজানা ও চমকপ্রদ তথ্য জানা যাক।

১. প্রায় পাঁচ কেজি খাঁটি সোনা

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিটি ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। এর ওজন প্রায় ৬.১৭৫ কেজি (১৩.৬১ পাউন্ড)। মজার ব্যাপার হলো, ট্রফিটির ভেতরে কোনো নিরেট বস্তু নেই। এটি ভেতর থেকে ফাঁপা। যদি এটি সম্পূর্ণ নিরেট সোনার হতো, তবে এর ওজন হতো ৭০-৮০ কেজি। যা একজন মানুষের পক্ষে তুলে ধরা প্রায় অসম্ভব হতো। এই ট্রফিতে খাঁটি সোনার পরিমাণ প্রায় ৪.৯ কেজি। ৩৬.৮ সেন্টিমিটার লম্বা এই ট্রফির নিচের দিকে দুই স্তরে মূল্যবান সবুজ পাথর ‘ম্যালাকাইট’ ব্যবহার করা হয়েছে। এই ট্রফিটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম দামী ক্রীড়া পুরস্কার।

২. ১৯৭৪ সাল থেকে ট্রফির যাত্রা

১৯৭০ সাল পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নদের দেওয়া হতো ‘জুলে রিমে’ ট্রফি। কিন্তু ওই বছর ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ী হওয়ায় ফিফার তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী তারা ট্রফিটি চিরতরে নিজেদের করে নেয়। যদিও পরে সেটি চুরি হয়ে যায়। এরপর নতুন ট্রফির জন্য বিশ্বের ৫৩টি নকশা জমা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ইতালীয় শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগার নকশাটি নির্বাচিত হয়। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির অধিনায়ক ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার প্রথম এই বর্তমান ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন।

৩. বিজয়ীরা আসল ট্রফি পায় না

অনেকেই মনে করেন, চ্যাম্পিয়ন দল আসল ট্রফিটি নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। আসলে তা নয়। বিজয় উদযাপনের পর আসল ট্রফিটি ফিফার সদর দপ্তরে ফেরত যায়। এর বদলে বিজয়ী দলকে হুবহু একই রকম দেখতে একটি ‘গোল্ড-প্লেটেড’ বা সোনার প্রলেপ দেওয়া ব্রোঞ্জের রেপ্লিকা দেওয়া হয় চিরস্থায়ীভাবে রাখার জন্য।

৪. সবাই ছুঁতে পারেন না

বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এই সম্পদটি স্পর্শ করার অধিকার সবার নেই। ফিফার কঠোর প্রোটোকল অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিশ্বকাপের বর্তমান ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়, দলের কোচ আর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই কোনো গ্লাভস বা আবরণ ছাড়া ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেন। অন্যান্য কর্মকর্তা বা নিরাপত্তাকর্মীদের এটি নাড়াচাড়া করতে হলে বিশেষ গ্লাভস ব্যবহার করতে হয়।

৫. স্থায়ী ঠিকানা ফিফা জাদুঘর

বিশ্বকাপের চার বছর বাদে বাকি সময় এই ট্রফিটি রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড ফুটবল মিউজিয়ামে’। সেখানে এটি বুলেটপ্রুফ কাঁচের ভেতরে রাখা হয় এবং অত্যন্ত উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। প্রতি চার বছর অন্তর ‘ট্রফি ট্যুর’-এর মাধ্যমে এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ায়, যাতে ভক্তরা কাছ থেকে এটি দেখার সুযোগ পান। 

আরও কিছু মজার তথ্য

বিজয়ী দলের নাম খোদাই: ট্রফিটির নিচের অংশে গোল করে প্রতিটি বিশ্বকাপের বিজয়ী দলের নাম ও সাল খোদাই করা থাকে। মজার বিষয় হলো, এখানে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত বিজয়ী দলের নাম লেখার জায়গা আছে। এরপর হয়তো ফিফাকে এই ট্রফির নকশায় পরিবর্তন আনতে হবে অথবা নতুন ট্রফি তৈরি করতে হবে।

নকশার অর্থ: ট্রফিটির নকশাটি গভীর অর্থবহ। এতে দেখা যায়, দুজন অ্যাথলেট দুই দিক থেকে হাত বাড়িয়ে পুরো পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন। এটি মূলত বৈশ্বিক একতা এবং বিজয়ের আনন্দকে নির্দেশ করে।

বীমা মূল্য: ট্রফিটি অমূল্য হলেও এর একটি বিশাল বিমা করা থাকে। বর্তমানে এই ট্রফিটির আনুমানিক আর্থিক মূল্য ধরা হয় প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা ২০০ কোটি টাকারও বেশি। 

সূত্র : ফিফা 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত