সংবাদ

দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়া ছাড়ছেন অভিবাসীরা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়া ছাড়ছেন অভিবাসীরা

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে শুরু হওয়াপ্রত্যাবাসন কর্মসূচিএখন শেষের পথে। এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় পর্যন্ত লাখ হাজার ৫২৩ জন অভিবাসী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তালিকায় ইন্দোনেশিয়ার পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। আগামী ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বর্তমানে কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে অভিবাসীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত মোট লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছেন।

তিনি বলেন, “এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার শুধু অবৈধ অভিবাসন সমস্যা নিয়ন্ত্রণেই অগ্রগতি অর্জন করেনি, বরং বিদেশি নাগরিকদের একটি বৈধ সম্মানজনক উপায়ে নিজ দেশে ফেরার সুযোগও নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও জানান, জরিমানা নির্ধারিত ফি বাবদ এই প্রক্রিয়া থেকে সরকার এখন পর্যন্ত ১১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪০ রিঙ্গিত রাজস্ব সংগ্রহ করেছে।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, কর্মসূচির শুরুতে কিছুটা কম সাড়া থাকলেও সময় শেষ হয়ে আসায় এখন নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে অভিবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা স্বেচ্ছায় নিবন্ধন করে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির শুরু থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮৩ হাজার ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি করে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হচ্ছে।

কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, “আমরা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে, ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) জাফরি এমবক তাহা বলেন, “এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিদেশি নাগরিকদের একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, যারা এই সুযোগ নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


স্বেচ্ছায় মালয়েশিয়া ছাড়ছেন অভিবাসীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরার সুযোগ দিতে শুরু হওয়াপ্রত্যাবাসন কর্মসূচিএখন শেষের পথে। এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় পর্যন্ত লাখ হাজার ৫২৩ জন অভিবাসী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই তালিকায় ইন্দোনেশিয়ার পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিকরা। আগামী ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বর্তমানে কুয়ালালামপুরসহ বিভিন্ন ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে অভিবাসীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, ২০২৫ সালের ১৯ মে থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত মোট লাখ ২৮ হাজার ৯৬১ জন বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছেন।

তিনি বলেন, “এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার শুধু অবৈধ অভিবাসন সমস্যা নিয়ন্ত্রণেই অগ্রগতি অর্জন করেনি, বরং বিদেশি নাগরিকদের একটি বৈধ সম্মানজনক উপায়ে নিজ দেশে ফেরার সুযোগও নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও জানান, জরিমানা নির্ধারিত ফি বাবদ এই প্রক্রিয়া থেকে সরকার এখন পর্যন্ত ১১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৪০ রিঙ্গিত রাজস্ব সংগ্রহ করেছে।

ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, কর্মসূচির শুরুতে কিছুটা কম সাড়া থাকলেও সময় শেষ হয়ে আসায় এখন নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, “সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইমিগ্রেশন অফিসগুলোতে অভিবাসীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা স্বেচ্ছায় নিবন্ধন করে দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির শুরু থেকে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৮৩ হাজার ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০০টি করে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করা হচ্ছে।

কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দাতুক জাকারিয়া শাবান বলেন, “আমরা মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে, ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) জাফরি এমবক তাহা বলেন, “এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিদেশি নাগরিকদের একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, যারা এই সুযোগ নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত