নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের জন্য বহু মিলিয়ন পাউন্ড অর্থপাচার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী পাঁচটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ পাঁচটি ব্যাংককে তাদের লেনদেনের নথি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক।
তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো: ১. এইচএসবিসি (HSBC)
২. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড (Standard Chartered) ৩. জেপি মরগান চেজ
(JPMorgan Chase) ৪. সিটিব্যাংক (Citibank) ৫. ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন
(BNY Mellon)
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের
(কেএফএইচ) তুরস্কভিত্তিক শাখা ‘কুভেইত তুর্ক’ বিভিন্ন নামসর্বস্ব (ফ্রন্ট) কোম্পানি
ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা গোপন রাখত। তারা এই পাঁচটি বিশ্বখ্যাত
ব্যাংককে ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে ডলারে লেনদেন সম্পন্ন করত। প্রাথমিকভাবে
৫.৭ মিলিয়ন ডলারের একটি লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা
ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আদালতের নথিতে দাবি করা হয়েছে
যে সাম্প্রতিক কিছু ইউরো লেনদেনের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে ব্যবহৃত
হয়। লেনদেনগুলো করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠান—খাতাম
আল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন এবং আরভান্দ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির জন্য।
তদন্তে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এই অপরাধে
জড়িয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাইয়ের
মধ্যেও জটিল আইনি মারপ্যাঁচে ব্যাংকগুলো ‘না জেনেই’ এসব অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ
করেছে। নিষেধাজ্ঞা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত নিয়ম মেনে চললেও অপরাধী
চক্র অনেক সময় তাদের নজর এড়াতে সক্ষম হয়।
ইরানি ব্যবসায়ী দেলারাম জাভারেই ও কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের
মধ্যকার একটি বিরোধ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জাভারেইর আইনজীবীদের অভিযোগ,
কেএফএইচ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে তার কোম্পানি থেকে কোটি কোটি ডলারের
সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ সংশ্লিষ্ট
ব্যাংকগুলো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে
যে, ইরানকে সহায়তা করা যেকোনো বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা ‘সর্বোচ্চ
চাপ’ প্রয়োগের নীতি বজায় রাখবে।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের জন্য বহু মিলিয়ন পাউন্ড অর্থপাচার পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী পাঁচটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ পাঁচটি ব্যাংককে তাদের লেনদেনের নথি জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক।
তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো: ১. এইচএসবিসি (HSBC)
২. স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড (Standard Chartered) ৩. জেপি মরগান চেজ
(JPMorgan Chase) ৪. সিটিব্যাংক (Citibank) ৫. ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মেলন
(BNY Mellon)
আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের
(কেএফএইচ) তুরস্কভিত্তিক শাখা ‘কুভেইত তুর্ক’ বিভিন্ন নামসর্বস্ব (ফ্রন্ট) কোম্পানি
ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা গোপন রাখত। তারা এই পাঁচটি বিশ্বখ্যাত
ব্যাংককে ‘করেসপন্ডেন্ট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে ডলারে লেনদেন সম্পন্ন করত। প্রাথমিকভাবে
৫.৭ মিলিয়ন ডলারের একটি লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা
ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আদালতের নথিতে দাবি করা হয়েছে
যে সাম্প্রতিক কিছু ইউরো লেনদেনের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলোতে ব্যবহৃত
হয়। লেনদেনগুলো করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠান—খাতাম
আল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন এবং আরভান্দ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির জন্য।
তদন্তে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এই অপরাধে
জড়িয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাইয়ের
মধ্যেও জটিল আইনি মারপ্যাঁচে ব্যাংকগুলো ‘না জেনেই’ এসব অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ
করেছে। নিষেধাজ্ঞা আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলো সাধারণত নিয়ম মেনে চললেও অপরাধী
চক্র অনেক সময় তাদের নজর এড়াতে সক্ষম হয়।
ইরানি ব্যবসায়ী দেলারাম জাভারেই ও কুয়েত ফাইন্যান্স হাউসের
মধ্যকার একটি বিরোধ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জাভারেইর আইনজীবীদের অভিযোগ,
কেএফএইচ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে তার কোম্পানি থেকে কোটি কোটি ডলারের
সরঞ্জাম হাতিয়ে নিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডসহ সংশ্লিষ্ট
ব্যাংকগুলো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়েছে
যে, ইরানকে সহায়তা করা যেকোনো বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা ‘সর্বোচ্চ
চাপ’ প্রয়োগের নীতি বজায় রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন