কুড়িগ্রামের উলিপুরে কাজ শেষ না করেই সরকারি বরাদ্দের চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে কাজ চলমান থাকাবস্থাতেই এই অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর দাবি, কাজ বুঝে নিয়েই বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
গত ১২ এপ্রিল উলিপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরেজমিনে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চারটি আবাসিক ভবনের কক্ষ, রান্নাঘর, টয়লেট সংস্কার ও রং করার কাজ এখনো চলছে। ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দের এই কাজ পেয়েছে কুড়িগ্রাম সদরের রিফাত ট্রেডার্স ও আবদুল্লাহ আল মামুন নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। নিয়ম অনুযায়ী কাজ শেষ করে হস্তান্তরের পর বিল পাওয়ার কথা থাকলেও গত ১৬ মার্চই পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় পুরবী, তটনী, গেজেটেড ও নন-গেজেটেড অফিসার কোয়ার্টারের দরজা-জানালা, সিলিং ফ্যান, বেসিন স্থাপন, টাইলস ও রং করার কথা। কিন্তু কোয়ার্টারগুলোর বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সংস্কারের নামে নামমাত্র কাজ করা হয়েছে।
তটনী কোয়ার্টারের আনসার কমান্ডার আবুল খায়ের বলেন, ‘আমাদের কোয়ার্টারে কোনো বেসিন লাগানো হয়নি। শুধু নতুন ফ্যান দেওয়া হয়েছে আর মেঝে ঢালাই ও রং করা হয়েছে।’
গেজেটেড অফিসার কোয়ার্টারের রাঁধুনি ফুলি বেগম জানান, তার ভবনের রান্নাঘরে কোনো টাইলস লাগানো হয়নি, শুধু একটি নতুন দরজা লাগানো হয়েছে।
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দুখু মিয়া বলেন, ‘ভবনগুলোর কাজ এখনো চলছে। বিল তোলা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’
অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে ঠিকাদার আনিসুর রহমান বলেন, ‘অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে বিল তোলা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে অফিসে যোগাযোগ করেন।’
আরেক ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন বাবুও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে খাদিজা ট্রেডার্স নামের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ফয়জার রহমান অভিযোগ করেন, উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার এর আগেও জামানতের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
উলিপুর উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল প্রদানের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বিল দেওয়া হয়েছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়। কাজ সঠিক হচ্ছে কি না, তা দেখুন। সমস্যা থাকলে আমরা ঠিক করে দেব।’
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক মাহমুদুল হাসান এবং জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি।
আপনার মতামত লিখুন