সংবাদ

ফেনীতে অফিস সহকারীর জালিয়াতি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ৯২ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

ফেনীতে অফিস সহকারীর জালিয়াতি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ৯২ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
ফেনীর বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় । ছবি : সংগৃহীত

ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই ৯২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা অবশেষে কেটেছে। জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের তৎপরতায় এসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুলতানা নাসরিন কান্তার সার্বিক সহযোগিতায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গত সোমবার ৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের চরম উদাসীনতায় ৯২ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। গত ডিসেম্বরের শেষে শিক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বাবদ সংগৃহীত ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে। কিন্তু মিহির সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গত কয়েক মাসেও সেই টাকা জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেননি প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

সম্প্রতি ফেনীর অন্যান্য স্কুলের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র না আসায় বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, মানবিকে ১৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ২৫ জন এবং অনিয়মিত ৩৭ জনসহ মোট ৯২ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা। প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বোর্ড ফি পরিশোধ না করায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়নি।

বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার স্কুলে জরুরি সভায় বসেন শিক্ষকরা। তারা স্কুলের কোচিং তহবিলের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে দিয়ে দ্রুত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরপর প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা বোর্ডে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করেন।

প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অফিস সহকারী মিহির বেশ কিছু দিন ধরে বলছিল যে জমা ভাউচারটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে যে টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করবে, তা আমরা ভাবতে পারিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে সে মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, বোর্ড কর্তৃপক্ষ জরিমানা আদায়ের শর্তে প্রবেশপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর ইউএনও সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ‘৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধান শিক্ষককেও এই গাফিলতির ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


ফেনীতে অফিস সহকারীর জালিয়াতি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল ৯২ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের সেই ৯২ জন শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা অবশেষে কেটেছে। জেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের তৎপরতায় এসব শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় শুরু হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুলতানা নাসরিন কান্তার সার্বিক সহযোগিতায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গত সোমবার ৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এর আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের চরম উদাসীনতায় ৯২ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। গত ডিসেম্বরের শেষে শিক্ষার্থীদের বোর্ড ফি বাবদ সংগৃহীত ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মিহির চন্দ্র শীলকে। কিন্তু মিহির সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। গত কয়েক মাসেও সেই টাকা জমা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেননি প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম।

সম্প্রতি ফেনীর অন্যান্য স্কুলের পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র এলেও বালিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র না আসায় বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ জন, মানবিকে ১৬ জন, ব্যবসায় শিক্ষায় ২৫ জন এবং অনিয়মিত ৩৭ জনসহ মোট ৯২ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা। প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, বোর্ড ফি পরিশোধ না করায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র ইস্যু করা হয়নি।

বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার স্কুলে জরুরি সভায় বসেন শিক্ষকরা। তারা স্কুলের কোচিং তহবিলের ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রধান শিক্ষকের হাতে দিয়ে দ্রুত বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এরপর প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন কুমিল্লা বোর্ডে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে দেখা করেন।

প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘অফিস সহকারী মিহির বেশ কিছু দিন ধরে বলছিল যে জমা ভাউচারটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে যে টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করবে, তা আমরা ভাবতে পারিনি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে সে মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, বোর্ড কর্তৃপক্ষ জরিমানা আদায়ের শর্তে প্রবেশপত্র দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সদর ইউএনও সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, ‘৯২ জন শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধান শিক্ষককেও এই গাফিলতির ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত