ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) বাঘমারা ছাত্রাবাসে মোটরসাইকেলের তেল আনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপকে পদ থেকে এবং নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানকে নিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন এমবিবিএস ৬১তম ব্যাচের আমানুল্লাহ মুয়াজ ও মীর হামিদুর। মুয়াজ বর্তমানে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে জুনিয়রদের দিয়ে মোটরসাইকেলের তেল আনা নিয়ে ৬১তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী মুয়াজ ও হামিদুরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে হামিদুর তার কক্ষে ডেকে নিয়ে মুয়াজকে থাপ্পড় মারেন। পরে ক্ষুব্ধ মুয়াজ রড দিয়ে হামিদুরের মাথায় আঘাত করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই হামিদুরের অনুসারী নাফিউল হাতুড়ি দিয়ে মুয়াজের মাথায় আঘাত করেন। পুলিশ নাফিউলকে হাতেনাতে আটক করেছে।
এ ঘটনায় আহত মুয়াজের বড় ভাই ডা. আহমদ শফি বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিদের মধ্যে রুতাপ, নাফিউল, হামিদুরসহ অন্য শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজ একাডেমিক কাউন্সিল জরুরি সভা ডেকে সাত দিনের জন্য সব ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে। গত শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া অ্যানাটমি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন