দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৬১টি জেলায় এ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোজাম্মেল আজম, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চান্দু, সহসম্পাদক আশরাফ সিদ্দিকী শাহীন, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ফারুক হোসেনসহ স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৯ হাজার ১৬১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার একটি বড় অংশই ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া। আক্রান্তদের ৮১ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি এবং ২০২৪ সালে পরিকল্পিত বড় পরিসরের ক্যাম্পেইনটি দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সময়মতো না হওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত সারাদেশে বড় পরিসরে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন চলবে। এই কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা প্রদান করেছে।
মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আবু সাঈদ বলেন, ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী কোনো শিশু থাকলে তাকে অবশ্যই নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে হাম-রুবেলার টিকা দিতে হবে। শিশুর জ্বর এবং শরীরে দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন