বাউল শিল্পী পাগল হাসান-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১৮ এপ্রিল। দিনটি ঘিরে তার শিল্পী-বন্ধু ও স্বজনরা আয়োজন করেছিলেন ‘স্মৃতিতে পাগল হাসান’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র-এ অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন তার ঘনিষ্ঠ শিল্পী, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক ও ভক্তরা।
পাশাপাশি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজ
গ্রামেও আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ
মাহফিল। ‘আসমানে যাইও না রে
বন্ধু’ গানটির মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই
শিল্পী ২০২৪ সালের ১৮
এপ্রিল সুনামগঞ্জের ছাতকের সুরমা সেতু এলাকায় সড়ক
দুর্ঘটনায় মারা যান। তার
আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
আয়োজকদের
অন্যতম জুয়েল মোর্শেদ জানান, বন্ধুদের উদ্যোগেই প্রতি বছর পাগল হাসানকে
স্মরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া
হয়েছে। গত বছর তার
গ্রামের বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিল স্মরণানুষ্ঠান,
যেখানে অংশ নিয়েছিলেন আসিফ
আকবর, পারভেজ ও কিশোর পলাশ।
এবারের আয়োজনে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রকাশ করা হবে পাগল
হাসানের একটি অপ্রকাশিত গান।
জানা
গেছে, তার মৃত্যুর পর
প্রায় ২০টির মতো অপ্রকাশিত গান
পাওয়া গেছে, যা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ
করা হবে তার ইউটিউব
চ্যানেলে। ইতোমধ্যেই তার কিছু গান
নতুনভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে
‘মাদুলি’, ‘দশ দুয়ারি মাইয়া’
এবং লালন ব্যান্ড-এর
সঙ্গে কোলাবোরেশনে ‘বাগানের মালি’।
আয়োজকরা
জানান, পাগল হাসানের গান
থেকে প্রাপ্ত আয় তার পরিবারের
কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দুই সন্তানের
ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা
প্রকাশ করেন। বন্ধুদের ‘পাগল হাসান ট্রাস্ট
প্ল্যান’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের
মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত
হচ্ছে। এতে উপদেষ্টা হিসেবে
রয়েছেন আসিফ আকবর ও
ধ্রুব গুহসহ অনেকে। সদস্য হিসেবে আছেন কিশোর পলাশ,
রাজিব হোসেন, সুমন কল্যাণ ও
জুয়েল মোর্শেদ।
এছাড়া
আগামী ২ জুন পাগল
হাসানকে স্মরণ করে একটি বিশেষ
উৎসব আয়োজনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে সুনামগঞ্জ
জেলা শিল্পকলা একাডেমি-তেও তার স্মরণে
আরেকটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মাত্র ৩৩
বছরের জীবনে পাগল হাসান অসংখ্য
মরমি গান রচনা ও
পরিবেশন করেছেন। তার জনপ্রিয় গানের
মধ্যে রয়েছে—‘আসমানে যাইও না রে
বন্ধু’, ‘জীবন খাতায় প্রেমকলঙ্কের
দাগ’, ‘দুই দিনের সংসারী’,
‘কইরো ঘৃণা যায়–আসে
না’ ও ‘জানতাম যদি
তোমার পিরিত কচুপাতার পানি’। স্বল্প
সময়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে
যাওয়া এই শিল্পীকে স্মরণে
নানা আয়োজন আবারও প্রমাণ করে—পাগল হাসান
আছেন, থাকবেন তার গানেই।

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাউল শিল্পী পাগল হাসান-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১৮ এপ্রিল। দিনটি ঘিরে তার শিল্পী-বন্ধু ও স্বজনরা আয়োজন করেছিলেন ‘স্মৃতিতে পাগল হাসান’ শিরোনামের বিশেষ অনুষ্ঠান। রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র-এ অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন তার ঘনিষ্ঠ শিল্পী, সংগীত পরিচালক, প্রযোজক ও ভক্তরা।
পাশাপাশি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার নিজ
গ্রামেও আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ
মাহফিল। ‘আসমানে যাইও না রে
বন্ধু’ গানটির মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই
শিল্পী ২০২৪ সালের ১৮
এপ্রিল সুনামগঞ্জের ছাতকের সুরমা সেতু এলাকায় সড়ক
দুর্ঘটনায় মারা যান। তার
আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।
আয়োজকদের
অন্যতম জুয়েল মোর্শেদ জানান, বন্ধুদের উদ্যোগেই প্রতি বছর পাগল হাসানকে
স্মরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া
হয়েছে। গত বছর তার
গ্রামের বাড়িতে আয়োজন করা হয়েছিল স্মরণানুষ্ঠান,
যেখানে অংশ নিয়েছিলেন আসিফ
আকবর, পারভেজ ও কিশোর পলাশ।
এবারের আয়োজনে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি প্রকাশ করা হবে পাগল
হাসানের একটি অপ্রকাশিত গান।
জানা
গেছে, তার মৃত্যুর পর
প্রায় ২০টির মতো অপ্রকাশিত গান
পাওয়া গেছে, যা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ
করা হবে তার ইউটিউব
চ্যানেলে। ইতোমধ্যেই তার কিছু গান
নতুনভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে
‘মাদুলি’, ‘দশ দুয়ারি মাইয়া’
এবং লালন ব্যান্ড-এর
সঙ্গে কোলাবোরেশনে ‘বাগানের মালি’।
আয়োজকরা
জানান, পাগল হাসানের গান
থেকে প্রাপ্ত আয় তার পরিবারের
কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার দুই সন্তানের
ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা
প্রকাশ করেন। বন্ধুদের ‘পাগল হাসান ট্রাস্ট
প্ল্যান’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের
মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত
হচ্ছে। এতে উপদেষ্টা হিসেবে
রয়েছেন আসিফ আকবর ও
ধ্রুব গুহসহ অনেকে। সদস্য হিসেবে আছেন কিশোর পলাশ,
রাজিব হোসেন, সুমন কল্যাণ ও
জুয়েল মোর্শেদ।
এছাড়া
আগামী ২ জুন পাগল
হাসানকে স্মরণ করে একটি বিশেষ
উৎসব আয়োজনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আজ বিকেলে সুনামগঞ্জ
জেলা শিল্পকলা একাডেমি-তেও তার স্মরণে
আরেকটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। মাত্র ৩৩
বছরের জীবনে পাগল হাসান অসংখ্য
মরমি গান রচনা ও
পরিবেশন করেছেন। তার জনপ্রিয় গানের
মধ্যে রয়েছে—‘আসমানে যাইও না রে
বন্ধু’, ‘জীবন খাতায় প্রেমকলঙ্কের
দাগ’, ‘দুই দিনের সংসারী’,
‘কইরো ঘৃণা যায়–আসে
না’ ও ‘জানতাম যদি
তোমার পিরিত কচুপাতার পানি’। স্বল্প
সময়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে
যাওয়া এই শিল্পীকে স্মরণে
নানা আয়োজন আবারও প্রমাণ করে—পাগল হাসান
আছেন, থাকবেন তার গানেই।

আপনার মতামত লিখুন