নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে নতুন মামলায় হয়রানি বা গ্রেফতার না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে এদিন আইভীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এ বিষয়ে আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘নতুন দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন বেআইনি এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুলসহ নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে এই আদালত সাধারণত সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
আইভীর আইনজীবীর তথ্যমতে, ওই পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট থেকে আইভী জামিন পান, সেদিনই (গত বছরের নভেম্বর) আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং তা মঞ্জুর হয়। এই পাঁচ মামলার এজাহারে আইভীর নাম ছিল না। পৃথক এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আবারও আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
ফের চেম্বার আদালত চলতি বছরের ৫ মার্চ শুনানি নিয়ে আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
সোমবার আপিল বিভাগে আইভীর ৫ মামলার শুনানি রয়েছে বলে সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা হত্যার অভিযোগে দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখাতে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ আবেদন করে বলে রিট আবেদন থেকে জানা যায়।
রিটের তথ্য অনুসারে, একটি মামলায় ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গত সপ্তাহে রিটটি করা হয়।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে নতুন মামলায় হয়রানি বা গ্রেফতার না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে এদিন আইভীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এ বিষয়ে আইভীর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ‘নতুন দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন বেআইনি এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুলসহ নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে এই আদালত সাধারণত সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
আইভীর আইনজীবীর তথ্যমতে, ওই পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট থেকে আইভী জামিন পান, সেদিনই (গত বছরের নভেম্বর) আরও পাঁচ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং তা মঞ্জুর হয়। এই পাঁচ মামলার এজাহারে আইভীর নাম ছিল না। পৃথক এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আবারও আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
ফের চেম্বার আদালত চলতি বছরের ৫ মার্চ শুনানি নিয়ে আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।
সোমবার আপিল বিভাগে আইভীর ৫ মামলার শুনানি রয়েছে বলে সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা হত্যার অভিযোগে দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখাতে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ আবেদন করে বলে রিট আবেদন থেকে জানা যায়।
রিটের তথ্য অনুসারে, একটি মামলায় ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গত সপ্তাহে রিটটি করা হয়।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন