যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তৎপর রয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত হিশাম সালেহ আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) অভিযোগ আনা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
তবে তদন্ত সূত্র, প্রতিবেশী ও বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে আসছে।
মূল কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহের সঙ্গে বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতা।স্থানীয় ফক্স ১৩ টাম্পা বে ও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিশাম জামিলের রুমমেট ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন, গৃহস্থালির খরচ ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। প্রতিবেশীদের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওই বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, হিশাম মানসিকভাবে অস্বাভাবিক ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। তার বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ (প্রি-মেডিটেটেড) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার আগে থেকেই নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা পুলিশের।
গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কয়েকটি কারণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা। লিমন ও হিশাম একসঙ্গে ভাড়া ও অন্যান্য খরচ ভাগ করে নিতেন।
আর্থিক অনিয়ম কিংবা বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধ থেকেও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে অনুমান করছেন অনেকে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিতকরণ তথ্য মিলেনি।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরেও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম বলছে, হিশামের একতরফা আকর্ষণ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও কারণ হতে পারে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে তার ঠিক কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিতর্কিত রাজনৈতিক বা বিশ্বাসজনিত কারণও থাকতে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কারণ, লিমন ও বৃষ্টি- দুজনেই ছিলেন মেধাবী গবেষক। তাদের গবেষণার বিষয় কিংবা সামাজিক অবস্থান নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তারা।
তবে হত্যার কারণ যাই হোক না কেন, জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ গত শুক্রবার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে স্যান্ড কি পার্ক এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই আর দ্য এসেনশিয়ালস’-এর কর্মীরাও তল্লাশি অভিযানে যোগ দিয়েছেন। মুঠোফোনের তথ্যসহ সাম্প্রতিক কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে অনেকে ধারণা করছে, হিশামই দুজনকে হত্যা করে থাকতে পারে। যার পেছনে কিছু কারণ তো আছেই। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে হিশামের মৃত্যুদণ্ড অথবা প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি প্রাক্-বিচার শুনানি (প্রি-ট্রায়াল) পর্যন্ত জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল ওই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা অনেক তথ্য গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করছে না। হত্যার সঠিক কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা ও বৃষ্টির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায়, তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তারাও বিষয়টি মনিটরিং করছেন।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তৎপর রয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত হিশাম সালেহ আবুঘরবেহের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হত্যার (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) অভিযোগ আনা হলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
তবে তদন্ত সূত্র, প্রতিবেশী ও বিশ্ববিদ্যালয়সংশ্লিষ্টদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ সামনে আসছে।
মূল কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহের সঙ্গে বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতা।স্থানীয় ফক্স ১৩ টাম্পা বে ও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিশাম জামিলের রুমমেট ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আবাসন, গৃহস্থালির খরচ ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে টানাপড়েন চলছিল। প্রতিবেশীদের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওই বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
তদন্তকারী সূত্র জানিয়েছে, হিশাম মানসিকভাবে অস্বাভাবিক ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে। তার বিরুদ্ধে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ (প্রি-মেডিটেটেড) হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ ঘটনার আগে থেকেই নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা পুলিশের।
গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কয়েকটি কারণকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা। লিমন ও হিশাম একসঙ্গে ভাড়া ও অন্যান্য খরচ ভাগ করে নিতেন।
আর্থিক অনিয়ম কিংবা বকেয়া টাকা নিয়ে বিরোধ থেকেও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে অনুমান করছেন অনেকে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিতকরণ তথ্য মিলেনি।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের জের ধরেও হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম বলছে, হিশামের একতরফা আকর্ষণ বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও কারণ হতে পারে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে তার ঠিক কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিতর্কিত রাজনৈতিক বা বিশ্বাসজনিত কারণও থাকতে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। কারণ, লিমন ও বৃষ্টি- দুজনেই ছিলেন মেধাবী গবেষক। তাদের গবেষণার বিষয় কিংবা সামাজিক অবস্থান নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তারা।
তবে হত্যার কারণ যাই হোক না কেন, জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ গত শুক্রবার টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে স্যান্ড কি পার্ক এলাকায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উই আর দ্য এসেনশিয়ালস’-এর কর্মীরাও তল্লাশি অভিযানে যোগ দিয়েছেন। মুঠোফোনের তথ্যসহ সাম্প্রতিক কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তবে অনেকে ধারণা করছে, হিশামই দুজনকে হত্যা করে থাকতে পারে। যার পেছনে কিছু কারণ তো আছেই। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে হিশামের মৃত্যুদণ্ড অথবা প্যারোল ছাড়া আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। বর্তমানে তিনি প্রাক্-বিচার শুনানি (প্রি-ট্রায়াল) পর্যন্ত জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল ওই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা অনেক তথ্য গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করছে না। হত্যার সঠিক কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা ও বৃষ্টির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার না হওয়ায়, তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তারাও বিষয়টি মনিটরিং করছেন।

আপনার মতামত লিখুন